Tag: Pakistan-Linked Espionage Probe

  • Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই বাঙালি এক নৌসেনাকর্মীকে পাকিস্তানে তথ্যপাচারের (Pakistan-Linked Espionage Probe) অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই)। শুধু ওই নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী। ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর আওতায় দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তদের কয়েকজন পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত স্থাপনা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করে থাকতে পারেন। এখনও পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬

    দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন, একের পর এক ঘটনায় তা প্রকাশ্যে আসতেই অভিযানে নামে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও তল্লাশি চালানো হচ্ছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তিশগড়ে। মূলত ‘এনক্রিপ্টেড’ প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    গ্রেফতার দু’জন

    পুলিশের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কর্মী প্রদীপ মুখার্জিকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি তিনি শেয়ার করেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অন্নম সাই বরপ্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার আধিকারিকদের জন্য চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তিনি পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠিয়েছিলেন। দু’জনকেই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

    ১০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান

    তদন্ত শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA) এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়, কিছু ব্যক্তি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও পাচার করছিলেন। এরপর ১ অক্টোবর শুরু হয় ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’। অভিযানে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাত, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ় এবং বিহারে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল তল্লাশি চালায়। স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এবং নৌসেনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তদন্তকারীরা ১৮ জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

    বিশাখাপত্তনমে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

    বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-যোগ থাকা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মামলায় বিদেশি এজেন্ট এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে নৌ-প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই মামলা পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিশাখাপত্তনমের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের মধ্যে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল একটি পৃথক গুপ্তচরবৃত্তির মামলা দায়ের করে। ২০২৩ সালের মে মাসে সেটিও এনআইএ-এর হাতে যায়। ওই মামলায় ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংক্রান্ত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল। সিম কার্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।

    ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণ

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনআইএ (NIA) জানায়, ওই পৃথক মামলায় প্রতারণার মাধ্যমে সিম কার্ড, ওটিপি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগে এক অভিযুক্তকে বিশেষ আদালত সাজা দিয়েছে। তবে বর্তমান ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর সঙ্গে আগের মামলাগুলির কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র এখনও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮ জনকে ঘিরে চলা বর্তমান তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

     

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share