Tag: Pakistan Missile

  • Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান একটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! হরিয়ানার সিরসার আকাশে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও সবচেয়ে তীব্র’ পাল্টা হামলা চালায় ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে ডিসকভারির (Discovery) দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’-এ এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিতিন গোখলে। ১৫ অগাস্ট রাত ৯টায় তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়।

    দিল্লিকে লক্ষ্য করেই কি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র?

    তথ্যচিত্রে নিতিন গোখলে বলেন, “রাত প্রায় ১টা ৩০ বা ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান একটি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেটির লক্ষ্য ছিল দিল্লি। হরিয়ানার সিরসার কাছে সেটিকে আটকানো হয়।” এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১০ মে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ডিপো, বিমানবন্দর এবং সামরিক ছাউনিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য দিল্লি ছিল বলে জানায়নি। ১০ মে সকালে সিরসার একটি মাঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিরসায় মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি ইউনিট ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Barak-8 surface-to-air missile) ব্যবহার করে ওই হামলা নিষ্ক্রিয় করেছিল।

    সিরসার হামলাই বদলে দেয় ভারতের কৌশল

    গোখলের দাবি, ভারতের রাজধানীকে লক্ষ্য করে এই হামলা ভারতকে ‘চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত’ চালানোর সংকেত দেয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনাকে। তাঁর কথায়, “এ বার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনাকে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার।” এর পরেই পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুরের এই পর্যায়কে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রথম বড় আকারের আঘাতগুলির অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে।

    একের পর এক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা

    প্রথম দফায় পাকিস্তানের রফিকি, সুক্কুর, রহিম ইয়ার খান এবং নূর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় সারগোধা, ভোলারি এবং জাকোবাবাদকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মোট ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এয়ার মার্শাল অবদেশ ভারতী বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল আঘাতকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত রাখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আমরা চাইলে তোমাদের যেখানে খুশি আঘাত করতে পারি এবং এর কোনও জবাব তোমাদের কাছে নেই।”

    তথ্যচিত্রে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে আজারবাইজানের লাচিনে পাকিস্তান-তুরস্ক-আজারবাইজান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস হামলায় রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

    ‘১,২০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট, ২০০ কিলোমিটার ভিতরে’

    ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং তথ্যচিত্রে বলেন, “আমরা প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে এবং তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি।” তাঁর দাবি, ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগিয়েছিল এবং “আমাদের সমস্ত অস্ত্র সঠিক জায়গায় পৌঁছেছিল।” এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ব্রহ্মোস-এ’ ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos-A) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এপি সিং বলেন, “ব্রহ্মোসের আক্রমণের গতি অত্যন্ত বেশি। ফলে সেটিকে আটকানোর সম্ভাবনা কম। অন্য কম গতির অস্ত্রের তুলনায় এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র।”

    পাকিস্তানের তরফেই প্রথম আসে যুদ্ধবিরতির আবেদন

    ভারতের পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয় বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিতিন গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে জানান, পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে চাইছে।ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। বরং পাকিস্তানের ডিজিএমওকে নির্ধারিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়।

    অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয় যে পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। বিদেশ মন্ত্রকও তাঁকে জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দুই দেশের হটলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই সমস্যা মেরামত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়।

    ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর, এ বার তো থামুন’

    রাজীব ঘাই জানান, প্রথা অনুযায়ী যিনি ফোন করার অনুরোধ করেন, তিনিই প্রথম কথা বলেন। ফলে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা প্রথমে কথা শুরু করেন। ঘাইয়ের দাবি, পাকিস্তানের ডিজিএমও খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এত ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছেন, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমরা এখানেই এটা থামাতে পারি।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানান, পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতির আবেদন করার পর ভারত সেই অনুরোধ মেনে নেয়। ডোভালের কথায়, “ওরা যখন অনুরোধ করল এবং বারবার বলল, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আপনারা যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন, এ বার যুদ্ধবিরতি হোক’, তখন আমরা তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছিলাম। আমরাও খুব স্পষ্ট ছিলাম যে এই সংঘাতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” শেষ পর্যন্ত ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়।

    ভারতের বার্তা—সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না

    অপারেশন সিঁদুর শেষ হলেও ভারতের তরফে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, “ভারতের উদারতা বা ভারতের বেশি সহনশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠিন আঘাত হানতে পারে, তার পরিণতি যা-ই হোক না কেন।” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ডিসকভারির এই তথ্যচিত্রে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১০ মে-র রাতের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি প্রতিরোধমূলক অভিযান ছিল না; বরং তার পরেই ভারত পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর পাল্টা আঘাত হানে।

LinkedIn
Share