Tag: Pakistan Terror Network

  • Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Assam STF)। পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shahzad Bhatti Network)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি-অপরাধচক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর নির্দেশে কাজ করত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপ ও স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল।

    একযোগে তিন জেলায় অভিযান

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF) জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যোগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশও। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ধুবড়ি জেলার বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রামূল ইসলাম (২৬), চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান (২২), এবং বরপেটা জেলার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হুসেনকে (৫৪)।

    কী কী কাজে যুক্ত ছিল এই নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)?

    তদন্তকারীদের (Assam STF) দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক শুধু জঙ্গি নিয়োগই নয়, অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেল গড়ে তোলার কাজও করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

    এসটিএফের (Assam STF) দাবি, এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছে- খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পঞ্জাব সার্বভৌমত্ব অ্যালায়েন্স, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান,  তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (টিটিএইচ)। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের দায়ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান স্বীকার করেছিল।

    অসমে কীভাবে সামনে এল এই চক্র?

    অসমে এই নেটওয়ার্কের (Shahzad Bhatti Network) কার্যকলাপ প্রথম সামনে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। ওই তদন্তে গত ২২ মে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরেই আরও তথ্য হাতে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কী কী উদ্ধার হয়েছে?

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও ডেবিট কার্ড। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত সামগ্রী খতিয়ে দেখে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    নাশকতার পরিকল্পনা!

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF)-এর পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পেগু জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছিল যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত এই নেটওয়ার্ক দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। প্রথমে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে স্লিপার সেল গড়ে তোলার পর চলতি বছরে অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই নেটওয়ার্ক নিজেদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ নয়। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত জঙ্গি ও অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

  • ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি বড়সড় অভিযানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তান-সমর্থিত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করে সেটিকে ধ্বংস করেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের মাধ্যমে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল। “গ্যাং বাস্ট অপারেশন ২.০”-এর আওতায় একাধিক রাজ্য থেকে ৯ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং উত্তরপ্রদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরও।

    দিল্লির ঐতিহাসিক মন্দিরে রেকি, ছবি যায় পাকিস্তানে…

    সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত দিল্লির ওই ঐতিহাসিক মন্দির এলাকায় রেকি চালিয়েছিল। মন্দির চত্বর ও আশপাশের ছবি তুলে তা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, মন্দিরে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল। শুধু মন্দির নয়, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি ব্যস্ত ধাবাতেও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকায় এই হামলা সফল হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, জনবহুল জায়গাকে টার্গেট করে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।এছাড়াও হরিয়ানার হিসারের একটি সামরিক শিবিরও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই সেনা ছাউনির আশপাশের ভিডিও তৈরি করে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি থানাকেও টার্গেট তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

    পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের অংশ

    বৃহস্পতিবার এই ৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মডিউলটির সঙ্গে আইএসআই এবং হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা দিল্লির যে মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার সঠিক নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তৎপর। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ জোগান আসছিল, কারা স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং আর কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরা যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    এপ্রিল-মে মাসে আরও জঙ্গির ধরপাকড়

    বৃহস্পতিবারই উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও পাকিস্তান-যোগ থাকা একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করার দাবি করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বরাবাঁকির বাসিন্দা দানিয়াল আশরাফ ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ মিশ্র। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ছক কষছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। ধৃতরা হল তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান এবং সমীর খান। অভিযোগ, তারা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ওই দু’জনের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত ‘হাইব্রিড টেরর’ মডিউলের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও গ্যাংস্টারদের ব্যবহার করে হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

LinkedIn
Share