Tag: Pan masala

  • Pan Masala Packaging: প্লাস্টিকের প্যাকেটে পানমশলা বিক্রি বন্ধ! প্যাকেজিংয়ে নতুন নিয়ম, বিক্রি করতে হবে কাচ বা টিনের পাত্রে

    Pan Masala Packaging: প্লাস্টিকের প্যাকেটে পানমশলা বিক্রি বন্ধ! প্যাকেজিংয়ে নতুন নিয়ম, বিক্রি করতে হবে কাচ বা টিনের পাত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পান মশলার প্যাকেজিং (Pan Masala Packaging) নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI New Rules)। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পান মশলা প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং ধাতব স্তর ব্যবহার করা যাবে না। এই সংশোধনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংক্রান্ত প্যাকেজিং বিধি, ২০১৮-তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজিং উপকরণের তালিকায় পান মশলাকে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

    কী দিয়ে তৈরি হবে পানমশলার প্যাকেট

    এফএসএসএআই জানিয়েছে, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে। যেমন, ধাতব টিন ক্যান বা কাচের ছোট পাত্র। সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত কাগজ, পেপারবোর্ড, সেলুলোজ বা প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি প্যাকেজিংয়েও আপত্তি নেই। সংশোধিত নীতিতে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি, ১৯৮৬ সালের পরিবেশ (রক্ষা) আইন মেনে এ বার থেকে পানমশলা প্যাকেটজাত করতে হবে। নীতি সংশোধনীর খসড়া চলতি বছর ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চেয়েছিল তারা। ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্যাকেজিং-য়ে ব্যবহার করা যাবে না কী কী

    প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত ৭ অগাস্ট এফএসএসএআই-এর মূল প্যাকেজিং নীতিমালায় সংশোধন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর পানমশলার প্যাকেটে আর ব্যবহার করা যাবে না পলিথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিয়েস্টার ও পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC)। অন্যান্য সিন্থেটিক পলিমার, কো-পলিমার এবং ল্যামিনেটের স্তর রাখাও যাবে না। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং ধাতব প্রলেপযুক্ত যে কোনও অভ্যন্তরীণ স্তরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ পানমশলাই বহুস্তরীয় বা প্লাস্টিকের ছোট পাউচে বিক্রি করা হয়। ফলে কেন্দ্র সরকারের এই কড়া নির্দেশের পর প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে প্যাকেজিংয়ের পুরো পরিকাঠামো রাতারাতি বদলাতে হবে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কাচ বা টিনের পাত্রে রূপান্তরের ফলে পানমশলা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উৎপাদন, পরিবহণ এবং সামগ্রিক প্যাকেজিংয়ের খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। যা আগামী দিনে বাজারে পানমশলার বিক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • Sin Tax: দেশজুড়ে চর্চা, এই পণ্যগুলি কিনলে বইতে হবে বাড়তি ‘পাপের বোঝা’! কী এই ‘সিন ট্যাক্স’?

    Sin Tax: দেশজুড়ে চর্চা, এই পণ্যগুলি কিনলে বইতে হবে বাড়তি ‘পাপের বোঝা’! কী এই ‘সিন ট্যাক্স’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৭ সালে চালু হয় পণ্য ও পরিষেবা কর, যাকে বলা হয় জিএসটি। ৮ বছর পর বুধবার, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জিএসটি কাউন্সিল করের স্ল্যাব পুনর্বিন্যাস করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন নতুন জিএসটি হার ঘোষণা করেছেন। নতুন জিএসটি কর হারের ঘোষণা হওয়া ইস্তক দেশে একজোড়া শব্দবন্ধ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। তা হচ্ছে ‘সিন ট্যাক্স’ (Sin Tax)।

    জিএসটি কাউন্সিলের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বার থেকে দু’টি হারে জিএসটি কার্যকর হবে— ৫ এবং ১৮ শতাংশ। ১২ এবং ২৮ শতাংশের যে জিএসটি স্তর ছিল, তা তুলে দেওয়া হল। এছাড়া, কিছু পণ্যকে রাখা হয়েছে ৪০ শতাংশ হারের বিশেষ তালিকায়। এই বিশেষ কর হারের তালিকাকে বলা হচ্ছে ‘সিন অ্যান্ড লাক্সারি ট্যাক্স’ (Sin Tax) আর সেই তালিকায় থাকা পণ্যগুলিকে বলা হচ্ছে ‘সিন অ্যান্ড লাক্সারি গুডস’।

    ‘সিন ট্যাক্স’-এর বাংলা অর্থ করলে বোঝায় ‘পাপের কর’। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক ও নীতিগতভাবে এই শব্দটি একটি নির্দিষ্ট গুরুত্ব বহন করে। কারণ, মনে করা হয়, ব্যক্তি বা সমাজের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে—এমন জিনিসগুলিকে এই করের আওতায় আনা হয়। অর্থাৎ, ‘সিন ট্যাক্স’-এর আওতায়। সাম্প্রতিক সময়ে জিএসটি কাউন্সিলের সভায় এই ‘সিন ট্যাক্স’-এর প্রাসঙ্গিকতা ফের একবার উঠে এসেছে, বিশেষত এই করের মাধ্যমে রাজস্ব তৈরি এবং এই করের আওতায় থাকা জিনিসগুলি কীভাবে যেকোনও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতবর্ষের (India) ক্ষেত্রে ‘সিন ট্যাক্স’ (Sin Tax) কিভাবে কাজ করে, তা বোঝা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়েই আমাদের প্রতিবেদন।

    ‘সিন ট্যাক্স’ আরোপিত করা হচ্ছে এমন কতগুলি পণ্য

    শুরুর কথাতেই যেমন বলা হয়েছে, নাগরিকদের স্বাস্থ্য, সমাজ বা পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হয় এমন পণ্য ও পরিষেবার উপর আরোপিত একটি করকেই ‘সিন ট্যাক্স’ (Sin Tax) বলা হয়। এগুলি সাধারণভাবে বেশিরভাগটাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অথবা সামাজিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সমাজের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এবার কয়েকটি উদাহরণ সহ বোঝা যাক—যেমন, ‘সিন ট্যাক্স’-এর আওতায় পড়ছে তামাক, সিগারেট, মদ্যপান, পান মসলা, জুয়া, যেকোনও ধরনের বাজি। এর পেছনে উদ্দেশ্য হল—এই করের আওতায় থাকা জিনিসগুলি যাতে মানুষ কম ব্যবহার করেন এবং সেগুলির প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যায়, সেইজন্যই সরকার এগুলির ওপর বেশি কর আরোপ করছে, জিএসটি বেশি নিচ্ছে।

    বর্তমানে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপরে সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ জিএসটি রয়েছে

    দেশে বর্তমানে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপরে সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। ভারতে সিগারেটের উপরে মোট ৫২ শতাংশ কর চালু রয়েছে। বিড়ির উপরে ২২ শতাংশ কর বর্তমানে চালু রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ভারত। সেই অনুযায়ী, তামাকজাত পণ্যে ৭৫ শতাংশ কর আরোপ করতে পারে ভারত সরকার। ৪০ শতাংশ জিএসটি হওয়ায় এই করের হার ৬৪ শতাংশ হবে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—দাম যত বাড়বে, তত মানুষ এগুলি কিনতে চাইবেন না। বলা হচ্ছে, ভারতবর্ষের মতো দেশে জনস্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ আজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে—তামাক ব্যবহার, অ্যালকোহল সেবন এবং জীবনযাত্রা-সম্পর্কিত নানা স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে কী বলা হল?

    একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে—তামাক ব্যবহারের ফলে ভারতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এও জানিয়েছে যে, প্রতিবছর শুধুমাত্র তামাক ব্যবহারের কারণেই ভারতে প্রায় ১৩.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারতের নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহার করেন। তামাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবেও ভারত সারা পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

    ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তামাক সেবন করে

    ২০১৬-১৭ সালের ‘গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ইন্ডিয়া’-র তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ভারতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তামাক (Sin Tax) ব্যবহার করেন। ভারতে তামাক ব্যবহারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন হল ‘ধোঁয়াবিহীন তামাক’। এর মধ্যে পড়ে—খৈনি, গুটখা, পান তামাক, জর্দা ইত্যাদি। আর ধোঁয়াযুক্ত তামাকের মধ্যে পড়ে—বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা ইত্যাদি। এই ধরনের ‘সিন ট্যাক্স’ আরোপ করে মোদি সরকার অতিরিক্ত তামাক সেবনকে রুখতে চাইছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব সুরক্ষিত করতে চাইছে।

    এক নজরে ‘সিন অ্যান্ড লাক্সারি গুডস’-এর তালিকা

    ১) তামাকজাত পণ্য, ২) গুটখা, ৩) পানমশলা, ৪) জর্দা, ৫) অন্যান্য তামাকজাত পণ্য, ৬) সিগারেট, ৭) সিগার/চুরুট, ৮) মিষ্টি যুক্ত ঠান্ডা পানীয়, ৯) কোল্ড ড্রিঙ্কস, ১০) ক্যাফিন যুক্ত কোল্ড ড্রিঙ্কস, ১১) লাক্সারি গাড়ি, ১২) ১২০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্যাপাসিটির পেট্রল গাড়ি, ১৩) ১৫০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্যাপাসিটির ডিজেল গাড়ি, ১৪) ৩৫০ সিসির উপরে মোটরবাইক, ১৫) ইয়ট, ১৬) হেলিকপ্টার, প্রাইভেট এয়ারক্রাফট, ১৭) কয়লা, লিগনাইট, পিট, ১৮) অনলাইন গ্যাম্বলিং ও গেমিং সার্ভিস

LinkedIn
Share