মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন আরজিকরকাণ্ডের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। ৫৯৪ দিন পর সামনে এসে সাংবাদিকদের জানালেন মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবি। আরজিকরে নিজের মেয়েকে হারানোর পর অন্তরাল থেকেই ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিলেন। অবশেষে রাজনৈতিক ময়দানে সম্মুখ সমরে তিনি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পানিহাটি (Panihati BJP Candidate) বিধানসভা আসনটি। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথকে (Ratna Debnath)। বুধবার দলের তৃতীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘অভয়া’র বাব-মা।
“অভয়ার মা” থেকে রত্না দেবনাথ
একসময় গোটা রাজ্যের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন শুধু “অভয়ার মা” বা “তিলোত্তমার মা” হিসেবে। তবে সেই পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নিজের নামেই সামনে আসতে চলেছেন তিনি—রত্না দেবনাথ। আর মুখ ঢেকে নয়, এবার প্রকাশ্যেই লড়াই লড়বেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েই তিনি সামনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এবার আর মুখ ঢেকে নয়, সরাসরি লড়াই হবে।” তিনি আরও জানান, আদালত তাঁর নাম প্রকাশের অনুমতিও দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, অভয়ার বাবা-মাকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দিয়েছে আদালত। ফলে তাঁদের নাম প্রকাশ বা মুখ দেখানো নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা নেই। অভয়ার বাবা জানান, এই বিষয়ে তাঁরা মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এখন তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান। তাঁদের কাছে আদালতের নির্দেশের কপিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আদালত থেকে নির্বাচনী ময়দান (Panihati BJP Candidate)
সাধারণত, ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় নাম, ঠিকানা, বাবা মায়ের নাম প্রকাশ করা যায় না। গত দেড় বছরে ন্যায় বিচারের লড়াইতে নিজের নাম আর মুখকে আড়ালে রেখেই আন্দোলনে ছিলেন। এবার আইনি জটিলতা এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath), আদালতের নির্দেশের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তিনি জনতা জনার্দনের দরবারে বিচার চাইতে এসেছেন। বিজেপি প্রার্থী (Panihati BJP Candidate) হয়ে তিনি বলেন, “মেয়ের বিচার এবং রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। পানিহাটির মানুষ আমার সঙ্গে আছেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
এই হাই-প্রোফাইল বিজেপি প্রার্থীকে (Panihati BJP Candidate) নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রত্না দেবনাথের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছেন, “রত্না দেবী (Ratna Debnath) কেবল একজন মা নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদের প্রতীক। পানিহাটিতে তাঁকে জেতানো মানেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইকে জয়ী করা।” শুভেন্দু আরও যোগ করে বলেন, “আদালত তার কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই অপশাসনের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকেছে বিজেপি (Panihati BJP Candidate)। এখন রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করে বিজেপি সেই প্রতিবাদের স্বরকেই বিধানসভায় নিয়ে যেতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এই আসনে কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করায় লড়াই এবার ত্রিমুখী এবং বেশ কঠিন হতে চলেছে। পানিহাটির সাধারণ মানুষ এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।
