Tag: Pedro Sanchez

  • Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনে পরপর দু’টি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Spain)। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন যাত্রী। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর (Train Crash) পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠন সিএসআইএফ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত, নিরপেক্ষ, কঠোর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা। দুর্ঘটনার জেরে রেলপথের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

    দায় এড়ানোর চেষ্টা, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএসআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করার পরিবর্তে পরিবহণমন্ত্রী রেলকর্মীদের উপর দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছেন। রেল পরিকাঠামোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা আদিফের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মীকে সম্ভাব্য বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দোষী বিবেচনা না করার এবং নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার আইনি অধিকার বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরেই আদিফের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিএসআইএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    বুধবার কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাটিকে ২০১৩ সালের পর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ফের ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল এবং কেন ফের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে (Spain)।

    পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস সানচেজের

    প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পদক্ষেপ করবে সরকার। মাদ্রিদের দক্ষিণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে স্পেনে ঘটে যাওয়া দু’টি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার কারণ পরস্পরের থেকে আলাদা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সানচেজ। তবে দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুতগতির রেল পরিষেবার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যদি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করব। এক বছরে এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এদিকে, আগামী মাসে নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল বিরোধী দল পিপলস পার্টি। দুর্ঘটনার শোকের আবহে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

    দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গত জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আর একটি রেল দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সিএসআইএফের দাবি, রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকারের বক্তব্য, জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত থেকে আলাদাভাবে সাম্প্রতিক ঘটনার অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যে সমস্ত ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর জারি

    স্পেনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর তোলেদোর উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যাত্রা করে থাকলে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ করা উচিত (Spain)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Train Crash) জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে +34650339008 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া cons.madrid@mea.gov.in-এ ইমেল পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনায় কোনও ভারতীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদনও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

     

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

LinkedIn
Share