মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার রাজনৈতিক হিংসায় বলি পরিবারগুলির (Bengal Political Violence) একজন সদস্যকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ২০০১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার (Suvendu Adhikari)।
বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন প্রকাশ কবে (Bengal Political Violence)
নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে চাকরির জন্য আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোথায়, কোন সালে, কত তারিখে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কোন সদস্য চাকরির আবেদন করছেন, নিহতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণও জমা দিতে হবে।
এরপর শুরু হবে পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার কারণে হয়েছিল কি না, আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখবে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্তের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জেলাশাসক পরিবারের মনোনীত একজন সদস্যের চাকরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পুলিশে হোমগার্ড অথবা কনস্টেবল পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হত। তৃণমূল সরকারের আমলে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োগের নজির রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগও হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যেককে চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী বলছে সরকার
সরকারের যুক্তি, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বহু ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে গোটা পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বাম আমলে তৃণমূল কর্মী কিংবা মাওবাদীদের হাতে নিহত সিপিএম নেতা ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়ম মেনে (Bengal Political Violence) আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিজেপি সরকারে থাকলেও আমরা দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতে কোনও সরকার এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং শাসক দল রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গত ২৫ বছরে অন্তত ৪৫০ জন বিজেপি নেতা ও কর্মী খুন হয়েছেন।”
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন(Suvendu Adhikari), “রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হিংসার শিকার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার যেন এই সুবিধা পান। কোনও রকম দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না (Bengal Political Violence)।”
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে যোগ করেছে নয়া মাত্রা। উপকৃত পরিবারগুলির মুখে কবে হাসি ফোটে, এখন সেটাই দেখার।
