Tag: Pete Hegseth

  • US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে কংগ্রেসে (US Midterm Elections) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগামী দিনে নতুন আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

    নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে (Democrats) বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।

    প্রশ্ন হল, এরপর কী? নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত একতরফা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রথম ১০০ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা।

    কী রয়েছে পরিকল্পনায়? (US Midterm Elections)

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিল আনা, ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর প্রস্তাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের সমস্ত প্রস্তাব সহজে আইনে পরিণত করতে পারবেন না। এর পিছনে রয়েছে দু’টি সাংবিধানিক বাধা।

    প্রথমত, সেনেটে কোনও বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত ৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেনেটের মোট আসন ১০০টি। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ৬০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে তাঁদের রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় ও কর সংক্রান্ত বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা কিছু বিলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা

    নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তমূলক ক্ষমতা এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি নথি তলব করতে পারবেন, সাক্ষীদের হাজিরার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “যাঁরা আমেরিকার মানুষের অর্থ চুরি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

    ডেমোক্র্যাট দলের একাংশ বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে (US Midterm Elections)।

    গত মাসে মেইনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই এই সমস্ত সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।”

    তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প?

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের জন্য ইমপিচমেন্টের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। তবে এই বিষয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে হলে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

    কমলা হ্যারিস এবং হিলারি ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্র্যাট নেত্রীরা অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, এই বিষয়ে শক্তি ব্যয় না করে দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিশানায় পরিণত হতে পারেন। তাঁকে অভিশংসনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব এনেছেন বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি। ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন-সহ বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে জেফ্রিস একাধিকবার জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা পিট হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন।

    গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    তবে হেগসেথ কিংবা ট্রাম্প—কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে তিনি সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট (US Midterm Elections) করেননি।

    নতুন কংগ্রেসের আগে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

    নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলেও নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারির আগে শপথ নেবেন না। তার আগে বর্তমান কংগ্রেসের সদস্যরা ৯ নভেম্বর থেকে আবার অধিবেশনে বসবেন। তাঁদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস করানো। কারণ ওই দিনই বর্তমান সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থ বরাদ্দের বিল পাস না হলে মার্কিন সরকারের একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এমনটা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ-বরখাস্তেও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগের প্রস্তাব সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে তবেই কার্যকর হয়।

    ফলে সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে (Democrats) নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

    গত সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট নেতা চাক শুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই, কারণ ট্রাম্প যাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে তাঁর পছন্দের চরম রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বয়স অবসরের সাধারণ বয়সসীমার অনেকটাই বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স টমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো।

    তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিচারপতি আলিটো। বিচারপতি টমাসও দায়িত্বে থেকে যেতে চান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (US Midterm Elections)।

    রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই তাঁদের অবসরের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদেরই।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প চাইলে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারবেন। কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে রদবদলের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

    সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নয়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক (Democrats) নিয়োগ এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে হোয়াইট হাউসকে। আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্ষমতার ভারসাম্য (US Midterm Elections) কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের সেবু শহরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় গত এক বছরে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও পর্যালোচনা করেন দুই (India US Defence Framework) দেশের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনাথ লেখেন, “আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত-মার্কিন দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামোর অগ্রগতি আমরা পর্যালোচনা করেছি। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। অবাধ, উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।”

    বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিট হেগসেথও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি খুশি। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামোর এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছি এবং সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।”

    তিন দফায় প্রতিরক্ষা কাঠামো নবীকরণ (Rajnath Singh)

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয় ২০০৫ সালের ২৮ জুন। তার আগে ১৯৯৫ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রথম কাঠামোটির মেয়াদ ছিল দশ বছর। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ৩ জুন নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়।

    ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের সময় তৃতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের পক্ষে রাজনাথ এবং আমেরিকার পক্ষে হেগসেথ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করাই এই কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য।

    আসিয়ান বৈঠকে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা

    তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার সেবু শহরে পৌঁছন রাজনাথ। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দু’দিনের আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিন্ন সমস্যাগুলি নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গেও একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    সফর সম্পর্কে রাজনাথ সিং জানান, ভারতের ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি (Rajnath Singh) বলেন, “এই সফরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করব। এই আলোচনাগুলি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

    আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের গুরুত্ব

    ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সংগঠনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সহযোগিতার সর্বোচ্চ মঞ্চ। এর সম্প্রসারিত বিন্যাসে আসিয়ানের ১১টি সদস্য দেশের পাশাপাশি আটটি সহযোগী দেশ অংশগ্রহণ করে।

    আসিয়ানের সদস্যদেশগুলি হল ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে এবং ভিয়েতনাম। আটটি সহযোগী দেশ হল ভারত, আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

    ১৯৯২ সালে আসিয়ানের সঙ্গে (India US Defence Framework) সংলাপ-সহযোগী দেশ হিসেবে যুক্ত হয় ভারত। ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর ভিয়েতনামের হ্যানয়ে প্রথম সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সাল থেকে এই মঞ্চের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসছেন। আসিয়ান সদস্যদেশ এবং আটটি সহযোগী দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই বার্ষিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    ২০২৬ সালে এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করছে ফিলিপিন্স। পাশাপাশি, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের কার্যচক্রে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতিত্ব করছে ভারত ও মালয়েশিয়া।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মঞ্চে ভারতের (Rajnath Singh) অংশগ্রহণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই বৈঠক ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

  • JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ইরান যুদ্ধের (Iran War) অগ্রগতি নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট সঠিক নয় বলেই আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। তাঁর মতে, যুদ্ধে আমেরিকার সাফল্য সম্পর্কে পেন্টাগনের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রকাশ করেছে ‘দ্য আটলান্টিক’।

    ভ্যান্সের সন্দেহ (JD Vance)

    প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের দাবি, আট সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নিরাপদে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার। গোপন বৈঠকে ভান্স বারবার এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। ভ্যান্সের সন্দেহ, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে বড় ঘাটতি রয়েছে, এ তথ্য লুকিয়ে রেখেছে পেন্টাগন। তিনি ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বর্তমান অস্ত্রসঙ্কট ভবিষ্যতে চিন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

    পেন্টাগনের দাবি

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই তার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার একটুও কমেনি। তবে ভ্যান্স মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এখনও তার বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশ ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম ইরানি নৌযানও এখনও হুমকি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (JD Vance)।

    সমালোচকদের অভিযোগ

    সমালোচকদের অভিযোগ, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বাস্তব পরিস্থিতি জানানোর বদলে ট্রাম্প যা শুনতে চান, তাই বলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফক্স নিউজে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে হেগসেথ ট্রাম্পের মনোভাব অনায়াসেই বুঝতে পারেন (Iran War)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার আগেই ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “এতে ব্যাপক প্রাণহানি হবে এবং অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তবে এখন ভ্যান্স অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছেন, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্ক এবং ২০২৮ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রাখছেন।

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত

    এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, ইরানের বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে ইরানের (JD Vance)। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ছ’ঘণ্টাব্যাপী এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শপথ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এটাই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সামনে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষা (Iran War) বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্তা জুলস হার্স্ট।

    হেগসেথের বক্তব্য

    উদ্বোধনী বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হল ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকানের বক্তব্য।” কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংঘাতে ফেডারেল অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হার্স্ট জানান, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগটাই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে। খরচের পুরো হিসেব পরে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যদিও সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি (JD Vance)।

    প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দাবি

    অর্থের বিষয়টি শুনানির বড় আলোচ্য বিষয় ছিল। হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি (Iran War)। হেগসেথ বলেন, “বাজেট প্রস্তাবটি সময়ের জরুরির বিষয়টি প্রতিফলিত করে।” জেনারেল কেইন বলেন, “১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ঐতিহাসিক অগ্রিম বিনিয়োগ, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখবে।” ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রায়ই ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চালানো ‘ব্যয়বহুল পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট জন গারামেন্ডি বলেন, “আপনি প্রথম দিন থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণকে মিথ্যে বলে আসছেন, এবং প্রেসিডেন্টও তাই (JD Vance) করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার আর একটি যুদ্ধে একেবারে কাদায় আটকে গিয়েছেন (Iran War)”।

     

  • India-US Relationship: শুল্কযুদ্ধের আবহে স্বাক্ষরিত ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি, আগামীদিনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা

    India-US Relationship: শুল্কযুদ্ধের আবহে স্বাক্ষরিত ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি, আগামীদিনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুল্ক-সংঘাত, নয়া ভিসা-নীতির আবহেই নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত-আমেরিকা। নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দশ বছরের জন্য হওয়া এই চুক্তি ভারত ও আমেরিকাকে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার প্রশ্নে আরও কাছাকাছি এনে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে ৷ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসথের৷

    ভারত ও আমেরিকার মজবুত সম্পর্ক 

    শুক্রবার এক্স পোস্টে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ এ কথা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালমপুরে শুক্রবার আসিয়ান প্রতিরক্ষা সম্মলনের ফাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে হেগসেথের বৈঠক হয়। সেখানেই সই হয় দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। তার পরে এক্স পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থাভাজন হেগসেথ লিখেছেন, ‘‘আমি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে ১০ বছরের আমেরিকা-ভারত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত করেছি।’’ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের দাবি, ওই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এটি দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এর মাধ্যমে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এখন ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আরও বেশি করে সমন্বয় করে চলেছি ৷ আগের থেকে আরও বেশি পরিমাণে তথ্য় ভাগ করে নিচ্ছি ৷ প্রযুক্তিগত দিক থেকে আদান-প্রদানও বেড়েছে ৷ অতীতে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক কখনও এতটা মজবুত হয়নি ৷’’

    সম্পর্ক আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

    সম্প্রতি ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর৷ তারপর থেকে ভারত ও আমেরিকার তরফে সেই সম্পর্ককে আবারও আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে ৷ ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন৷ দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে মুখোমুখি বৈঠকও হতে চলেছে দিন কয়েকের মধ্যে ৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল৷ সরকারি সূত্রের খবর, মালয়েশিয়ায় রাজনাথ-হেগসেথ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জিই অ্যারোস্পেসের এফ৪০৪ ইঞ্জিনের সরবরাহ। এই ইঞ্জিনের সরবরাহে দেরি হওয়ায় ভারতীয় বায়ুসেনাকে চুক্তির সময়সীমা অনুযায়ী তেজস যুদ্ধবিমান দিতে সমস্যায় পড়েছে রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)।

    ভারত-মার্কিন সখ্য জরুরি

    আমেরিকার সঙ্গে এই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি আগেও করেছে ভারত ৷ ২০১৫ সালে হওয়া দশ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াতেই এবার নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হল দুটি দেশ৷ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ তিনি মনে করেন, এমনিতেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গভীর সমন্বয় আছে৷ এই চুক্তি সেই সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। সোশাল মিডিয়ায় করা পোস্টে রাজনাথ লেখেন, ‘‘ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সমঝোতাকে নতুন দিশা দেখাবে এই চুক্তি ৷ আমাদের পারস্পরিক সমঝোতা যে আগামী দশকে আরও বেশি মজবুত হতে চলেছে সেটা এই চুক্তি থেকেই স্পষ্ট ৷ আগামিদিনে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তিই হতে চলেছে প্রতিরক্ষা ৷ ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকা যাতে মুক্ত ও অবাধ কিন্তু নিয়মবদ্ধ ভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সখ্য জরুরি ৷’’

    চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    রাজনাথ সিং ও হেগসেথের সাক্ষাৎ কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই নতুন চুক্তি ভারত–মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে শক্তিশালী করবে, যা দ্বিপাক্ষিক সামরিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে। নতুন চুক্তির মূল কাঠামো তিনটি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে গঠিত। উভয় দেশের মিলিতভাবে লজিস্টিক সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেনা বাহিনীর সরঞ্জাম ব্যবহার সহজতর হবে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও প্রযুক্তির যৌথ উৎপাদন এবং উন্নয়নকে উৎসাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভারতের স্বদেশী প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আধুনিকীকরণকে সহায়তা করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তি ভারতের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ইন্টারঅপারেবিলিটি বা মিলিত কার্যক্ষমতাও বাড়াবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশ একে অপরের সেনা ঘাঁটি, লজিস্টিক সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবে, যা দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় এবং কৌশলগত প্রস্তুতিতে এক বড় দিক পরিবর্তন আনবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই চুক্তি চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষভাবে দক্ষিণ চিন সাগর ও ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের আক্রমণাত্মক নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে।

LinkedIn
Share