Tag: PFI

PFI

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকের বেলথাঙ্গাডির একটি আদালত ২০১৫ সালের একটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা মামলায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (SDPI Riyaz) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ ফারাঙ্গিপেটেকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের (Cow Slaughter Beef Case) পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। মামলাটি ২০১৫ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায় দায়ের হয়েছিল। ওই ধারায় বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার মতো কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। রায়ের পর ম্যাজিস্ট্রেট রামালিঙ্গাপ্পা রিয়াজকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর বক্তৃতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

    ২০১৫ সালের বিক্ষোভ থেকে মামলার সূত্রপাত (SDPI Riyaz)

    পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার এক বিক্ষোভ সভায় রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। গোরক্ষার নামে মুসলিমদের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে প্রকাশ্যে গরু জবাই করে গরুর মাংস বিক্রির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থার নথি অনুযায়ী, বকরি ইদ উপলক্ষে বেলথাঙ্গাডি বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রকাশ্যে গরুর মাংস বিতরণ করা হবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সেই কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০১৫ সালের ওই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ২৯৫এ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। বিচারের সময় পুলিশ নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করে। তদন্তকারী আধিকারিক রবি বিএস মামলার তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। আদালতে সরকারি আইনজীবী আশিথার সওয়াল, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে ওই বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এবং তা সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ।দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, রিয়াজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন বা সরকারি পক্ষ সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এরপরই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পিএফআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার রাজনৈতিক নেতা রিয়াজ বর্তমানে এসডিপিআইয়ের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। এসডিপিআই নিজেকে একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে এবং দলটি নিষিদ্ধ নয়। তবে বিভিন্ন তদন্তে এসডিপিআইয়ের মাধ্যমে পিএফআইয়ের প্রাক্তন সদস্যদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।পিএফআইকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ করে। সরকারি নথিতেও বেলথাঙ্গাডির ২০১৫ সালের মামলায় পিএফআইয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের উল্লেখ রয়েছে।

    আরও কয়েকটি মামলায় নাম জড়িয়েছিল রিয়াজের

    ২০১৯ সালে মেঙ্গালুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভের সময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে লোকজনকে সংগঠিত করার অভিযোগও রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠে। সেই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিহারে একটি জনসভা বানচাল করার কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা রিয়াজের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে রিয়াজ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন (SDPI Riyaz)।

    গরু জবাইয়ের হুমকি নিয়ে বিতর্ক

    প্রকাশ্যে গরু জবাই ও গরুর মাংস বিক্রির হুমকির অভিযোগ ঘিরে রিয়াজের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এসডিপিআই সদস্যদের পক্ষ নেওয়ার কারণেও তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দলটির দাবি ছিল, ওই ঘটনায় উপস্থাপিত প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও রিয়াজের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করেছেন। তবে ২০১৫ সালের বক্তৃতা মামলায় আদালতের রায়টি নির্দিষ্ট অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সেই সময়কার ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঘটনায় বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা প্রয়োগের প্রশ্ন (Cow Slaughter Beef Case) ওঠে না, মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায়ই হয়েছিল। পরবর্তীকালে কার্যকর হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (SDPI Riyaz)।

     

  • BJP: “কংগ্রেস সভাপতি পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমার ভাষায় কথা বলছেন”, তোপ বিজেপির

    BJP: “কংগ্রেস সভাপতি পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমার ভাষায় কথা বলছেন”, তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের ভাষায় কথা বলছেন।” খাড়গের আরএসএস সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দে করতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করল বিজেপি (BJP)। শুক্রবার খাড়গে বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী, আরএসএসের (RSS) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। কারণ দেশের অধিকাংশ আইনশৃঙ্খলা সমস্যা বিজেপি-আরএসএসের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারি কর্মচারীদের সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে দিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের উত্তরাধিকারের অপমান করেছেন।

    খাড়গের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির প্রতিক্রিয়া (BJP)

    খাড়গের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “আমরা খাড়গের আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। আজ তিনি আরএসএসের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া, মুসলিম লিগ এবং জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের ভাষার মতো।” তাঁর মতে, এমন আপত্তিকর মন্তব্য করার আগে আরএসএস এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানা উচিত ছিল কংগ্রেস সভাপতির। তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেডকর, জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধী সংঘ সম্পর্কে কী বলেছেন, খাড়গের তা জানা ও বোঝা উচিত ছিল।” সম্বিত বলেন, “১৯৩৪ সালে ওয়ার্ধায় সংঘের একটি শিবির পরিদর্শন করার পর মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে সংগঠনে শৃঙ্খলা এবং অস্পৃশ্যতার অনুপস্থিতি দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন। ১৯৩৯ সালে পুনেতে সংঘের একটি শিবির পরিদর্শনের পর আম্বেডকর বলেছিলেন যে সংগঠনে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মধ্যে সম্পূর্ণ সমতার পরিবেশ দেখে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।”

    গান্ধী-নেহরু-ইন্দিরা-প্রণবের আসএসএস প্রশস্তি

    তিনি (BJP) বলেন, “১৯৬২ সালের ভারত–চিন যুদ্ধের পর জওহরলাল নেহরু ১৯৬৩ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সংঘকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সংঘ অংশগ্রহণ করেছিল। এসব নথিভুক্ত ইতিহাস।” বিজেপির এই নেতা বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে কাপূর কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আরএসএসের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক ছিল না এবং এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ও সর্বসাধারণের ডোমেইনে রয়েছে।” তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধী ও নেহরু থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও প্রণব মুখোপাধ্যায় – সকলেই সংঘের প্রশংসা করেছেন। মল্লিকার্জুন খাড়গের উচিত আরএসএসের (RSS) ইতিহাস এবং দেশের ইতিহাস পড়া। সংঘ সম্পর্কে কংগ্রেসের বহু নেতার কী মন্তব্য ছিল, সেটাও তাঁর জানা ও বোঝা উচিত (BJP)।”

  • Murshidabad Unrest: মুর্শিদাবাদকাণ্ডের নেপথ্যে বাংলাদেশিদের হাত! চাঞ্চল্যকর তথ্য কেন্দ্রের রিপোর্টে

    Murshidabad Unrest: মুর্শিদাবাদকাণ্ডের নেপথ্যে বাংলাদেশিদের হাত! চাঞ্চল্যকর তথ্য কেন্দ্রের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অশান্তির আগুনে জ্বলছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad Unrest) বিস্তীর্ণ অংশ। এই হিংসার নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। বিস্ফোরক এই তথ্য উঠে এল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রাথমিক তদন্তে। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, হিংসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বাংলার পুলিশ। যদিও সরকারিভাবে এই রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রের তরফে কিছু বলা হয়নি।

    উসকানিমূলক বক্তব্য (Murshidabad Unrest)

    এর আগে ৯ এপ্রিল সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইন বিরোধী সমাবেশে বেশ কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য রাখা হয়। তার কিছু ভিডিও এসে পৌঁছায় ওই সংবাদ মাধ্যমের কাছে। জঙ্গিপুরের পিডব্লুডি মাঠে এই সমাবেশ হয়েছিল। আয়োজক ছিল ইমাম মোয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন। তাকে সমর্থন করেছিল অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্ট অফ ইন্ডিয়া-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।

    এসডিপিআইয়ের জড়িত থাকার ইঙ্গিত

    সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তকারীরা বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছেন। তাতে মুর্শিদাবাদের হিংসায় এসডিপিআইয়ের জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, এসডিপিআইয়ের সদস্যরা গত বেশ কয়েকদিন ধরে ওয়াকফের নামে এলাকার মুসলিম যুবকদের উসকানি দিচ্ছিল। এসডিপিআইয়ের সদস্যরা প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবক ও কিশোরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বলছিলেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবক ও কিশোরদের বলা হয় যে, সরকার ওয়াকফের নামে মুসলমানদের কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নেবে। ফলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করতে হবে। শনিবার মুর্শিদাবাদের এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় ইজাজ আহমেদের। বিক্ষোভ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাঁর পরিবারেরও দাবি, মুর্শিদাবাদে উসকানিমূলক প্রচার চালাচ্ছে এসডিপিআই।

    পিএফআইয়ের প্রভাব!

    পুলিশের মতে, এক সময় পশ্চিমবাংলায় সিমির ঘাঁটি ছিল এই মুর্শিদাবাদই। সিমির যোগ ছিল জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে। সিমির লোকজন অবশ্য পরে কট্টরপন্থী সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেয়। তার পর বদলে যায় মুর্শিদাবাদের ছবি। বস্তুত, পিএফআইয়ের ঘাঁটিতে পরণিত হয় মুর্শিদাবাদ। ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইউএপিএর অধীনে পাঁচ বছরের জন্য পিএফআইকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সূত্রের খবর, এই সিমি ও পিএফআইয়ের এই লোকজনও এসডিপিআইয়ের সঙ্গে জড়িত। মুর্শিদাবাদে এসডিপিআই বেশ শক্তিশালী। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে দুস্কৃতীরা প্রাথমিকভাবে সহায়তা পেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (MHA) পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ (Murshidabad Unrest) ও অন্যান্য সংবেদনশীল জেলার কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন ১২ এপ্রিল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় সম্ভাব্য সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়। তিনি রাজ্য প্রশাসনকে অন্যান্য সংবেদনশীল জেলাগুলোয়ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন। তার পর থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব ও পুলিশের ডিজির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এছাড়াও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মুর্শিদাবাদে বিএসএফের প্রায় ন’কোম্পানি, অর্থাৎ কমপক্ষে ৯০০ জন সদস্য মোতায়েন করেছে। এই ন’টি কোম্পানির মধ্যে ৩০০ বিএসএফ সদস্য স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য সরকারের অনুরোধে পরে অতিরিক্ত কোম্পানিগুলিও পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি আগেই জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ, তবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ডিজিপি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে মোতায়েন থাকা বিএসএফের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উত্তেজনা অব্যাহত

    প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের সময় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভের জেরে মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় অগ্নিসংযোগ, পাথর ছোড়া এবং সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটে। আধিকারিকদের বক্তব্য, হিংসাকবলিত এলাকাগুলিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, নতুন করে কোনও ঘটনা ঘটেনি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা (Murshidabad Unrest)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মুর্শিদাবাদের তিনটি সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সতর্কতামূলকভাবে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সহায়তায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের জড়িত থাকার বিষয়টি, পরে যাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় ঘাসফুল নেতৃত্ব।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় ব্যর্থতা, রেলওয়ে সম্পত্তিতে হামলা এবং হিংসার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে (Murshidabad Unrest)।

  • PFI: ‘নিষিদ্ধ সংগঠন মানহানির মামলা করতে পারে না’, পিএফআই-এর আবেদন খারিজ কেরল হাইকোর্টে

    PFI: ‘নিষিদ্ধ সংগঠন মানহানির মামলা করতে পারে না’, পিএফআই-এর আবেদন খারিজ কেরল হাইকোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির ভারত প্রকাশন মিডিয়া হাউস লিমিটেডের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল কেরলের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (PFI)। এই প্রকাশনী সংস্থার অধীনেই রয়েছে অর্গানাইজার পত্রিকা। গত ২৬ নভেম্বর কেরল হাইকোর্ট এই মামলা খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি পিভি কুনহিয়কৃষ্ণাণ নিজের রায়ে জানিয়েছেন যে পিএফআই বা পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া হল একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। তাই এরা কোনও রকমের মানহানির অভিযোগ দায়ের করতে পারে না। কারণ, এই সংগঠনের আইনি সত্ত্বা বলে কিছু নেই। প্রসঙ্গত, ভারত প্রকাশনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়। এই ভারত প্রকাশনের অধীনেই বের হয় অর্গানাইজার ও পাঞ্চজন্য পত্রিকা।

    ২০১৭ সালে করা হয় মানহানির মামলা

    পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (PFI) অর্গানাইজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবরের জন্য ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মানহানির মামলা করে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাই তারা আদালতে মামলা করতে পেরেছিল তখন। সে সময়ে ভারতে চালু ছিল ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বা আইপিসি। প্রসঙ্গত, আইপিসির ৪৯৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী মানহানির মামলা করেছিল পিএফআই। কিন্তু বিচারক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যেহেতু নিষিদ্ধ এই সংস্থা, তাই এই মানহানির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই। 

    ২০২২ সালে নিষিদ্ধ করা হয় পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াকে (PFI)

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করা হয়েছে কেরল হাইকোর্টের (Kerala High Court) রায়ে। প্রসঙ্গত ওই দিনই পপুলার ফ্রন্ড অফ ইন্ডিয়া এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলিকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • PFI: কুখ্যাত পিএফআই গ্যাংস্টার মোহাম্মদ গাউস নিয়াজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গ্রেফতার

    PFI: কুখ্যাত পিএফআই গ্যাংস্টার মোহাম্মদ গাউস নিয়াজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোস্ট-ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার মোহাম্মদ গাউস নিয়াজি গ্রেফতার। আরএসএস কর্মীকে হত্যার অভিযোগে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। তিনি পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার বা পিএফআই-এর (PFI) কুখ্যাত নেতা হিসেবে পরিচিত। নিয়াজির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এবং নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুতে আরএসএস নেতা রুদ্রেশকে হত্যার জন্য প্রধান অভিযুক্ত। কিন্তু সে ধরার আগেই সরকারকে এড়িয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন দেশে জায়গা বদল করে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাসস্থান স্থাপন করে আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে গ্রেফতার হল আজ।

    গুজরাট এটিএস তথ্য দিয়েছিল (PFI) 

    গুজরাট অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস) এই পিএফআই (PFI) নেতা নিয়াজির গতিবিধিকে ট্র্যাক করার জন্য বিশেষ নেতৃত্ব দিয়েছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পাকড়াও করতে সুবিধা হয়। সেই সময়ে আরএসএস নেতা রুদ্রেশের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে নিয়াজিকে গ্রেফতারের জন্য তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ দেখা গিয়েছিল। কুখ্যাত এই নেতা নিয়াজিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেফতার করার পর তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, তাকে প্রথমে মুম্বাইতে নিয়ে আসা হবে। এরপর তাকে আদালতে তোলা হবে।

    কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল

    আরএসএস নেতা রুদ্রেশ একজন দুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁকে দিনের আলোতে খুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। বেঙ্গালুরুতে শিবাজি নগরের আরএসএস শাখার সঙ্ঘ চালক ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিবাজি নগর শাখার বিজেপির সম্পাদক ছিলেন। দলের কাজ সেরে নিজের বাইকে করে ফিরছিলেন বাড়িতে। এরপর শহরের প্রাণ কেন্দ্র এমজি রোডে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সামনে কালো পালসারে করে আসা দুই পিএফআই (PFI) দুষ্কৃতী তাঁর উপর আক্রমণ করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর কোপ মেরে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছিল। এরপর খুনের প্রতিবাদে কমার্শিয়াল রোডের থানার সামনে আরএসএস সমর্থকরা ব্যাপক প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করে।      

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Arif Mohammed Khan: নিষিদ্ধ পিএফআই-এর সঙ্গে অলিখিত জোট রয়েছ বামেদের, বিস্ফোরক কেরলের রাজ্যপাল

    Arif Mohammed Khan: নিষিদ্ধ পিএফআই-এর সঙ্গে অলিখিত জোট রয়েছ বামেদের, বিস্ফোরক কেরলের রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের রাজ্যপাল (Arif Mohammed Khan) আরিফ মহম্মদ খান বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং বেআইনি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে সম্পর্ক থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন। এদিনই সাংবাদিক সম্মেলনে তিরুবনন্তপুরমে গভর্নর বলেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটা প্রমাণ দিচ্ছে যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে যথেষ্ট যোগাযোগ রেখে চলেছেন বামপন্থী ছাত্র নেতারা। এ প্রসঙ্গে ২৭ জানুয়ারি তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি (Arif Mohammed Khan)। এবং দাবি করেন যে ৭ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারা গেছে যারা ওই বিক্ষোভে হাজির  ছিল এবং তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

    বিক্ষোভকারীদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন রাজ্যপাল

    কালো পতাকা নিয়ে এসএফআই-এর সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে, সে সময় রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং বিক্ষোভকারীদের (Arif Mohammed Khan) সামনাসামনি হন। এসময় উত্তেজনা যথেষ্ঠ বেড়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নও তুলতে দেখা যায় সেদিন আরিফ মহম্মদ খানকে। এছাড়াও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন রাজ্যপাল। প্রসঙ্গত, পিএফআই এবং এসএফআই-এর হাতে কেরলের অসংখ্য বিজেপি-আরএসএস কর্মী খুন হয়েছেন। সমাজে বিভাজন, উস্কানি, জঙ্গি কার্যকলাপের কারণে পিএফআইকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্র।

    রাজভবনের সঙ্গে কেরল সরকারের সংঘাত চলছেই

    সাম্প্রতিক সময়ে কেরলের রাজভবনের (Arif Mohammed Khan) সঙ্গে কেরল সরকারের সংঘাত সামনে এসেছেবিভিন্ন ইস্যুতে। কেরালা ত্রিশূরে গভর্নর আরিফ মহম্মদ খান সমালোচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পীনারাই বিজয়নের। এবং তাঁকে ভন্ড বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিচ্ছেন বামপন্থী ছাত্র নেতাদের তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য। এবং একই সঙ্গে নিজের (মুখ্যমন্ত্রীর) নিরাপত্তার বিষয়টিও ভালোমতো বন্দোবস্ত করছেন তিনি।

    আরও পড়ুন: প্রয়াত জৈন সন্ত আচার্য বিদ্যাসাগর মহারাজ, শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Death Sentence: ১৫ পিএফআই সদস্যকে ফাঁসির সাজা, বিজেপি নেতা খুনের মামলায় কঠোর কেরলের আদালত

    Death Sentence: ১৫ পিএফআই সদস্যকে ফাঁসির সাজা, বিজেপি নেতা খুনের মামলায় কঠোর কেরলের আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের বিজেপি নেতাকে খুনের মামলায় ১৫ জনকে ফাঁসির সাজা শোনাল সে রাজ্যের একটি আদালত। ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা প্রত্যেকেই নিষিদ্ধ সংগঠন ‘পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া’ বা পিএফআইয়ের সদস্য। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কেরল বিজেপির ওবিসি শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শ্রীনিবাসন বাড়িতেই খুন হয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়।

    আদালতের রায়

    আলাপুঝার ভেল্লাকিনারে থাকতেন রঞ্জিত শ্রীনিবাসন। ২০২১-এর ১৯ ডিসেম্বর রাতে, তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল আসামীরা। শ্রীনিবাসনের মা, স্ত্রী এবং কন্যার সামনেই হামলাকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে এই ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০ জানুয়ারি, ১৫ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল মাভেলিকারার অতিরিক্ত দায়রা আদালত। মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি শোনালেন অতিরিক্ত জেলা জজ ভিজি শ্রীদেবী। আদালত জানিয়েছে, আসামীদের মধ্যে আটজন সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। বাকি আসামীদের এই অপরাধের ষড়যন্ত্রে সামিল থাকার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত এই আটজন হল – নিজাম, আজমল, অনুপ, মহম্মদ আসলাম, সালাম, আব্দুল কালাম, সফরউদ্দিন, মুনশাদ, জাজিব, নওয়াজ, শেমির, নাজির, জাকির হুসেন, শাজি এবং শামনাজ। 

    আরও পড়ুন: “বাড়িতে ঢুকলে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে চেপে ধরবেন”, উস্কানি দিলেন তৃণমূল নেত্রী অর্পিতা

    ঘটনার তদন্ত

    আলাপুঝার সহকারী পুলিশ সুপার এনআর জয়রাজ এই ঘটনার তদন্ত করেন। ১,০০০টিরও বেশি নথি এবং ১০০টিরও বেশি অন্যান্য প্রমাণ-সহ চার্জশিট দাখিল করে তাঁর নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল। সেই সব প্রমাণের মধ্যে ছিল আঙ্গুলের ছাপ, ফরেন্সিক অনুসন্ধান রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়ে অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র ইত্যাদি। পিএফআই-এর মূল সংগঠন এসডিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক কেএস শানের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হত্যা বলে দাবি পুলিশের। ঘটনাটি বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধের সমান বলে আদালতে সওয়াল জবাবে জানিয়েছিল পুলিশ। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • ISIS Love: আফগানিস্তানে গ্রেফতার আরও এক, কেন কেরলের যুবকদের মধ্যে বাড়ছে আইসিস-প্রীতি?

    ISIS Love: আফগানিস্তানে গ্রেফতার আরও এক, কেন কেরলের যুবকদের মধ্যে বাড়ছে আইসিস-প্রীতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিস-প্রীতির (ISIS Love) জেরে ফের গ্রেফতার কেরলের এক বাসিন্দা। বর্তমানে সে আফগানিস্তানে ছিল। আফগান গোয়েন্দা সংস্থা গ্রেফতার করে তাকে। আফগানিস্তানে বসেই সানাউল ইসলাম নামের ওই যুবক ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং সিরিয়া (আইসিস) নিয়ন্ত্রণ করত।

    কেরলের আইসিস যোগ…

    আফগানিস্তান প্রশাসনের তরফে সানাউলের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আইসিসে (ISIS Love) যোগ দিতে তাজিকিস্তান হয়ে সে আফগানিস্তানে গিয়েছিল বলেও দাবি তালিব প্রশাসনের। এর ঠিক এক মাসে আগেই কেরল থেকে এনআইএ আদালত রিয়াজ আবু বক্করকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতে ষড়যন্ত্র করার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। এবার প্রকাশ্যে এল আরেক কেরল যুবকের আইসিস-প্রীতির উদাহরণ। গত বছর জুলাইয়েও এনআইএ কেরলে আইসিস মডিউলের একজনকে গ্রেফতার করেছিল। ভারতের ধর্মীয় স্থানে নাশকতার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে।  

    কেরলের যুবাদের আইএস-প্রীতি কেন?

    ২০১৭ সালে কেরল পুলিশ জানিয়েছিল, সে রাজ্যের প্রায় ১০০ জন যোগ দিয়েছে আইসিসে। প্রশ্ন হল, কী কারণে আইসিস-প্রীতি বাড়ছে কেরলের যুবকদের? জানা গিয়েছে, কেরলের যে তরুণরা আইসিসে যোগ দিয়েছে, তাদের সিংহভাগই মপলা মুসলমান, যারা বিশ্বাস করে তারা আরব ব্যবসায়ীদের বংশধর কিংবা উচ্চবর্ণের ধর্মান্তরিত হিন্দু। এই মুসলমানদের বাস মূলত মালাপূরম, কালিকট এবং কান্নুরে।

    আরও পড়ুুন: ‘সন্দেশখালির ঝড় সারা বাংলায় আছড়ে পড়বে’, বারাসতে বললেন মোদি

    অর্থের টোপ দিয়ে মগজধোলাই!

    সাতের দশক থেকে কেরলের বহু মানুষ মধ্য প্রাচ্যে চলে যাচ্ছেন রোজগারের ধান্ধায়। সেখান থেকেই তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন ভরতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে। তাছাড়া, এই অঞ্চলে সৌদি আরব থেকেও প্রচুর মুদ্রা ঢোকে। সেই মুদ্রার টোপ গিলে এ রাজ্যের তরুণদের একাংশ সৌদি এবং সালাফি পণ্ডিতদের কাছ থেকে ধর্মীয় নীতিকথা শিখছে। কেরলে আইসিসের (ISIS Love) মাথারা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সফল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তারা নিয়োগ করছে তরুণদের। করছে মগজধোলাই।

    কেরলে একাধিক আইএস মডিউল সক্রিয়

    কেরলে আইসিসের অনেকগুলি মডিউল রয়েছে। এর মধ্যে আবদুল রশিদের কাসারগড় মডিউল এ রাজ্যের ২৪ জনকে আফগানিস্তানের মতো আইএসআইএস কলোনিগুলিতে পাঠিয়ে দিতে সফল হয়েছে। এই মডিউলে রয়েছে ধর্মান্তরিত যুবতী সোনিয়া সেবাস্টিয়ান এবং তার মুসলমান স্বামীও। তারাও পালিয়েছে আফগানিস্তানে। কান্নুরের আরও একটি মডিউল কেরলের ৪০-৫০ জন তরুণকে মৌলবাদে দীক্ষিত করেছে। এরাও পরে যোগ দিয়েছে আইসিসে (ISIS Love)। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার (পিএফআই) মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে বলে খবর।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • PFI: হিন্দু নেতাদের খুন করতে প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছিল পিএফআই?

    PFI: হিন্দু নেতাদের খুন করতে প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছিল পিএফআই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পিএফআইকে (PFI)। তার পরেও মহারাষ্ট্রের পুনের (Pune) কন্ধোয়া এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছিল পিএফআই। খবর পেয়ে রবিবার ব্লু বেলস নামের ওই স্কুলের দুটি তলা বন্ধ করে দিয়েছে এনআইএ। জানা গিয়েছে, পিএফআইয়ের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে মুসলিম তরুণদের দক্ষিণপন্থী তথা হিন্দু নেতা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ওপর আক্রমণ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।

    পিএফআই (PFI)…

    চলতি মাসের ১৬ তারিখে ওই বেসরকারি স্কুলে হানা দেয় এনআইএ। চালানো হয় খানাতল্লাশি। এর পরেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ওই দুটি তলায়। পরের দিন খবরটি ট্যুইট করে জানায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বেসরকারি ওই স্কুলটির চার ও পাঁচতলায় প্রশিক্ষণ শিবির চলছিল। এই শিবিরে মুসলিম তরুণদের কট্টরপন্থার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তাদের জঙ্গি তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হত। কীভাবে হিন্দু নেতাদের খুন করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হত।

    ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছে পিএফআই (PFI)। জানা গিয়েছে, সেই মিশন সফল করতেই চালানো হচ্ছিল প্রশিক্ষণ শিবির। যারা এই মিশনের বিরোধিতা করছে, তাদের কীভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে, সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হত। ২০২২ সালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পিএফআইকে। পিএফআইয়ের পক্ষে সওয়াল করে সুর চড়ায় নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস। এ দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরেও লুকিয়ে-চুরিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআই।

    আরও পড়ুুন: দায়রা আদালতেও ধাক্কা, ‘মোদি’ অবমাননা মামলায় জেলে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী?

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পুনের ওই এলাকা থেকে প্রচুর আপত্তিজনক লিফলেট, পোস্টার উদ্ধার হয়। তার পরেই জানা যায়, বন্দুক ছাড়াও অন্যান্য অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হত বেসরকারি ওই স্কুলের প্রশিক্ষণ শিবিরে। এদিকে, কর্নাটকের শিবমোগা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে তদন্তকারী সংস্থা, তাদের মধ্যে দু জনের ক্ষেত্রে ইসলামিক স্টেটের ভূমিকা প্রকাশ্যে এসেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, এই দুজন ২৫টিরও বেশি নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এনআইএ জানিয়েছে, বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে ক্রিপ্টোকারেন্সি পেমেন্ট ব্যবহার করত পিএফআই (PFI)।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

     
     
LinkedIn
Share