Tag: Plastic Notes

  • Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে পলিমার (প্লাস্টিক-ভিত্তিক) ১০ ও ২০ টাকার নোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিয়মিতভাবে এই নোট চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আরবিআই অ্যাক্ট, ১৯৩৪-এর আওতায় ১০ ও ২০ মূল্যমানের মোট ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) পিস পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে ছাপানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি পিস ১০ টাকার, এবং ১০০ কোটি পিস ২০ টাকার নোট ছাপা হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা এই প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    কাগজের নোট কি তুলে নেওয়া হবে?

    লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই পলিমার নোট বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বর্তমানে এই প্রকল্প একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে?

    ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে উদ্বেগেরও কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পলিমার নোট নিয়মিতভাবে চালু হওয়ার পরেই এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নগদ লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক ব্যবস্থা। ফলে পলিমার নোট চালু হলেও ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উপর তাৎক্ষণিক কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    কীভাবে হবে পরীক্ষা?

    পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পলিমার নোটগুলিকে বিভিন্ন জলবায়ু ও ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হবে।

    মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে, সেগুলি হল—

    • ● নোটের স্থায়িত্ব
    • ● ভাঁজ পড়লে ক্ষয়ক্ষতি
    • ● ছিঁড়ে যাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা
    • ● দৈনন্দিন ব্যবহারে কার্যকারিতা
    • ● সাধারণ মানুষের মতামত

    ভারতের তীব্র গরম, আর্দ্রতা, ধুলো এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিতে নোট কতটা কার্যকর থাকে, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

    পরীক্ষার আগেই শুরু প্রস্তুতি

    কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কয়েক সপ্তাহ আগেই, ১৭ জুলাই, আরবিআইয়ের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। সংস্থাটি ৬৮ হাজার রিম অপাসিফায়েড পলিমার সাবস্ট্রেট শিট কেনার জন্য বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের কাছ থেকে দরপত্রের আহ্বান করে। এই শিটগুলিতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত থাকবে, যাতে টেক্সচার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাবস্ট্রেটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়।

    কেন পলিমার নোট?

    প্রথমদিকে, পলিমার নোট তৈরির খরচ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ২০% থেকে ২৪% বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলির আয়ু ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পুরোনো নোট ধ্বংস করার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।উল্লেখ্য, নোট মুদ্রণের জন্য বার্ষিক ব্যয় বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাই বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো বেশি ব্যবহৃত নোটে পলিমার প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভারতে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

  • RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের মধ্যেও দেশে কাগজের নোটের চাহিদা কমেনি। তবে এবার ভারতের কাগজের মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহারের ১০ টাকা এবং ২০ টাকার কাগজের নোটগুলো শীঘ্রই ‘প্লাস্টিক’ বা পলিমার নোটে (Plastic Notes) রূপান্তরিত হতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) তাদের এক দশক পুরনো এই পরিকল্পনাটি পুনরায় বাস্তবায়নের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এই খবরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (RBI)?

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাটনা ও মুম্বইতে অনুষ্ঠিত আরবিআই-এর শেষ দুটি বোর্ড বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত দুটি প্রধান কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্লাস্টিক কারেন্সির দিকে ঝুঁকছে:

    ১. উৎপাদন খরচ হ্রাস:

    সাম্প্রতিক সময়ে কাগজের নোট (Plastic Notes) ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে নোট ছাপানোর খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায়। পলিমার নোটের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

    ২. দীর্ঘস্থায়িত্ব বা শেল্ফ লাইফ:

    সাধারণ কাগজের নোট (Plastic Notes) দ্রুত ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন জরাজীর্ণ ও নোংরা নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে আরবিআই-কে। ১০ এবং ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় বলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। প্লাস্টিকের নোট সহজে ছিঁড়বে না, জলেও নষ্ট হবে না। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন সচল থাকবে।

    এটি কি ক্রেডিট কার্ডের মতো শক্ত হবে?

    না, প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট (Plastic Notes) বলা হলেও এগুলো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো শক্ত কোনও প্লাস্টিক নয়। এটি মূলত একটি অত্যন্ত পাতলা, নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট দিয়ে তৈরি। এটি কাগজের নোটের মতোই হালকা হবে এবং সহজেই ভাঁজ করে পকেটে বা মানিব্যাগে রাখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই এই পলিমার নোটের সফল ব্যবহার চলছে।

    প্রাথমিক পাইলট প্রজেক্ট ও এটিএম-এর প্রস্তুতি

    আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে একবারে এই নোট চালু করা হবে না। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) নির্দিষ্ট কিছু শহরে ১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে ২০১২ সালেও ভারত সরকার কোচি, মহীশূর, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলা—এই পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সে সময় এটিএম (ATM) মেশিনগুলো এই নোট চেনা বা গণনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং আধুনিক এটিএমগুলো যাতে খুব সহজেই এই প্লাস্টিক নোট লেনদেন করতে পারে, তার সম্পূর্ণ পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইউপিআই (UPI)-এর বিপ্লবের পর, কাগজের নোটের এই ‘প্লাস্টিক বা পলিমার’ রূপান্তর ভারতের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী অন্যতম বড় সংস্কার হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share