Tag: Platelet Shortage

  • West Bengal Dengue: পুজোয় ডেঙ্গির চোখরাঙানি, রক্ত ও প্লেটলেটের আকাল রুখতে আগাম প্রস্তুতি রাজ্যের

    West Bengal Dengue: পুজোয় ডেঙ্গির চোখরাঙানি, রক্ত ও প্লেটলেটের আকাল রুখতে আগাম প্রস্তুতি রাজ্যের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাঙালির প্রাণের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গির চোখ রাঙানি রয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ মারাত্মক। উৎসবের দিনগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তের হয়রানি বাড়িয়ে দেয়। কর্মী সঙ্কটের জেরে একদিকে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আরেকদিনে সমস্যা বাড়ায় রক্তের আকাল। পুজোর দিনগুলোতে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অনেক সময়েই রক্ত পাওয়া যায় না। বিশেষত ডেঙ্গির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্লেটলেটের মতো উপাদান পাওয়া আরও মুশকিল হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে বিগত কয়েক বছরের এই হয়রানির ছবি এবার পাল্টে দেওয়ার জন্য আগাম কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর‌। নিবিড় যোগাযোগেই এবার ডেঙ্গি ‘অসুর’-কে বধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা?

    স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশেষত সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, শহরের তুলনায় গ্রামে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। রাজ্যের ১৪টি পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ন’হাজার ছাড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলায় ক্রমশ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। ফলে, আগামী কয়েক মাস জরুরিভিত্তিতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ চলছে।
    তবে গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকেই পুজোর মরশুমে বাড়তি পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।‌ স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, গত কয়েক বছরে দূর্গাপুজোর দিনগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা নিয়ে অনেক সময়েই জটিলতা দেখা যেত। অভিযোগ পাওয়া যেত, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোগী ও তাঁর পরিজনদের ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আবার রক্তের আকাল নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছিলো। বিশেষত অষ্টমী, নবমীর পুজোর রাতে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের অভাব এবং তার জন্য রোগীর পরিবারের ভোগান্তির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এবার তাই আগাম প্রস্তুতি।
    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যু মিছিল যাতে শুরু না হয়, সে নিয়ে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর। প্রথম থেকেই রোগ চিহ্নিত করার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে যাতে বাড়তি বিপদ তৈরি না হয় তাই আগাম প্রস্তুতি। ডেঙ্গি আক্রান্তের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্তের যাতে সঙ্কট না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    ডেঙ্গি রোগীর হয়রানি রুখতে কোন পরিকল্পনা রাজ্যের?

    উৎসবের মরশুমে নিবিড় যোগাযোগেই এবার ডেঙ্গি ‘অসুর’-কে কাবু করতে চায় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    কলকাতার সঙ্গে জেলার হাসপাতালের যোগাযোগ!

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল বিশেষত জেলার হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে অনেক সময়েই রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। সেক্ষেত্রেও যাতে রোগীর কোনো অসুবিধা না হয়, সেই জন্য হাসপাতালগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখবে‌‌। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরে বেড়ানোর হয়রানি কমবে।

    হাসপাতালের নিজেদের মধ্যে আগাম পরিকল্পনা!

    দূর্গা পুজোর সময়ে অনেক স্বাস্থ্য কর্মী এবং চিকিৎসক ছুটিতে থাকেন। তাই আগাম বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মী দায়িত্বে থাকবেন, সে সম্পর্কে আগেই পরিকল্পনা করা হবে। নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি হবে। যাতে রোগীর কোনো সমস্যা না হয়‌। নিজেদের মধ্যে উৎসবের দিনগুলোর দায়িত্ব ভাগ নিয়ে আগেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে।

    স্বাস্থ্য ভবনের জরুরি নম্বরের সাহায্য!

    উৎসবের দিনগুলোতেও ডেঙ্গি রোগীর হয়রানি কমাতে স্বাস্থ্য ভবন চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ভবনের জরুরি নম্বর দেওয়া থাকবে। তাঁদের সঙ্গে রোগীর পরিবার ও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সাহায্য পাবেন।

    কোথায় কী প্রয়োজন তার আগাম তালিকা তৈরি!

    ডেঙ্গি প্রবণ এলাকা মোটামুটি সনাক্ত করা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের রিপোর্ট থেকেই আন্দাজ করা গিয়েছে, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সেই‌মতো সেই সমস্ত এলাকার হাসপাতালেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সেখানে প্রয়োজনীয় রক্ত রয়েছে কিনা, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির চিকিৎসায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটাও দেখা হচ্ছে।

    কেন রক্ত নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি চিকিৎসায় অত‌্যন্ত প্রয়োজনীয় হলো প্লেটলেট। অর্থাৎ রক্ত হলেই চলবে না। রক্তের উপাদান ভাগ করে রাখতে হবে। লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং প্লেটলেট, এই তিনটে উপাদানে রক্তকে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হয়। রক্তের একটি নির্দিষ্ট উপাদান প্লেটলেট। এটাই ডেঙ্গির চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময়ে রাজ্য জুড়ে রক্তের আকাল দেখা যায়। বিশেষত উপাদান ভাগ করা রক্তের আরও বেশি আকাল হয়। গত কয়েক বছরে এই সময়ে রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট থাকে। তাই প্লেটলেটের চাহিদাও হয় মারাত্মক। তবে, সেই মতো ব্লাড ব্যাঙ্কে প্লেটলেট পাওয়া যায় না। সময় মতো রক্তের জোগান দিতে না পারার জেরে, বড় বিপদ ও ঘটে যায়। তাই রক্ত বিশেষত উপাদান ভাগ করা রক্তের জোগানের দিকে বাড়তি নজরদারি।

    কীভাবে রক্তের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা হয়েছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন ব্লাড ব্যাঙ্কে কতখানি রক্ত মজুত রয়েছে, সেই নিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়মিত চাহিদা কোথায়, কতখানি সেটাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যাতে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জোগান বজায় রাখ যায়। তাছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের উপাদান বা কম্পোনেন্ট ভাগ করার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। যাতে প্লেটলেটের চাহিদা পূরণ হয়।
    পাশপাশি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এমন বিশেষ কিছু আধুনিক যন্ত্র রাখা হয়েছে, যাতে রক্তদাতার থেকে রক্ত সংগ্রহ করে দ্রুত রক্তের উপাদান বিভাজন করে, প্লেটলেট আলাদা করা যায়‌। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতেও প্লেটলেটের সমস্যা হবে না।
    তাছাড়া, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, কোথায় ঘাটতি আছে সেটা যেমন স্পষ্ট হবে, তেমন রোগীর পরিজনদের ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে। এতে হয়রানি ও সময়ের অপচয় কমবে। চিকিৎসাও দ্রুত করা যাবে।

LinkedIn
Share