Tag: PM Modi Bengal Visit

  • PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’

    ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর

    প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।

    রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী

    আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন

    যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

  • PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৭ তারিখ মালদহ ও ১৮ তারিখ হুগলির সিঙ্গুরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। কোটি কোটি টাকার রেল প্রকল্পের সূচনা করবেন মোদি। যা ভারত তথা বাংলার রেল মানচিত্রে নিয়ে আসবে বড় বদল। নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাংলায় আসা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়েছেন, কেবল মালদায় ৩,২৫০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস হবে। হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ সূচনা করা হবে।

    বঙ্গ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal) লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আগামীকালের অনুষ্ঠানে বালুরঘাট–হিলি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে অত্যাধুনিক মালবাহী ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, শিলিগুড়ির লোকো শেডের উন্নয়ন এবং জলপাইগুড়িতে বন্দে ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করা হবে।” পাশাপাশি, ৪টি নতুন অমৃত ভারত ট্রেনেরও শুভ সূচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মালদা স্টেশনে দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করবেন। এর পর পৌনে ২টো নাগাদ সাহাপুর মালদা বাইপাস সংলগ্ন মাঠে মোদির সভা রয়েছে। সেখানে ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। ধূপগুড়ি-ফালাকাটা (৩১ডি) জাতীয় সড়কের কিছু অংশের সংস্কার ও চার লেনের শিলান্যাস করবেন মোদি। যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে এই সংস্কার এবং নতুন চার লেনের রাস্তা।

    সিঙ্গুরে রবিবার

    রবিবার ১৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in Bengal) সরকারি সভা রয়েছে হুগলির সিঙ্গুরে। সেখান থেকে ৮৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বালাগড়ে বর্ধিত বন্দর গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রোড ওভার ব্রিজও। বিজেপি নেতৃত্বের কথায় ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন রাজ্য সফর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন। তাঁর এই সফর এই উন্নয়নের যাত্রায় আরও একটি সংযোজন। বাংলার জনগণের উপকারের জন্য তিনি ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছেন।”

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা

    শুধু প্রকল্প উদ্বোধনই আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতেও অংশ নেবেন বলে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে নিয়ে তিতিবিরক্ত। তাঁরা চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার। নিজের পোস্টে এই বিষয়টা স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল বিজেপির সমাবেশে আমি মালদা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় আছি। প্রতিদিনই তৃণমূলের অপশাসনের কোনও না কোনও নতুন উদাহরণ সামনে আসছে। তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তিতিবিরক্ত এবং এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করতে তাঁরা প্রস্তুত। মানুষ চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার।’

  • PM Modi at Fort William: যৌথ সেনা কমান্ডারদের সম্মেলনের সূচনা, বিজয় দুর্গে আড়াই ঘণ্টা আলোচনা মোদির

    PM Modi at Fort William: যৌথ সেনা কমান্ডারদের সম্মেলনের সূচনা, বিজয় দুর্গে আড়াই ঘণ্টা আলোচনা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ স্তরের সম্মেলন শুরু হল কলকাতায়। অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম দেশের তিন বাহিনী যৌথ সেনা কমান্ডাররা সম্মেলনে অংশ নিলেন। ‘যৌথ সেনাপতি সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at Fort William)। সোমবার ফোর্ট উইলিয়ামে (বর্তমান নাম বিজয় দুর্গ) তিনদিনব্যাপী সেনা সম্মেলনে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। মোট আড়াই ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি। বক্তব্য-বৈঠক শেষে দুপুর ২ টো নাগাদ কলকাতা থেকে আকাশপথে বিহারের উদ্দেশে রওনা দেন নরেন্দ্র মোদি।

    বিজয় দুর্গে বিশেষ বৈঠকে মোদি

    কলকাতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজয় দুর্গে (সাবেক ফোর্ট উইলিয়াম) তিন দিনের এই কনফারেন্সের উদ্বোধন করেছেন মোদি (PM Modi at Fort William)। আগামী ১৭ তারিখ পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। থাকবেন ভারতের তিন সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান, সেনার উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্তারা। রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী মোদি কলকাতা পৌঁছোন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা রওনা দেন রাজভবনে। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা এবং উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দলীয় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও মোদিকে দেখতে ভিড় ছিল বিজেপি সমর্থকদের। ভিড় দেখে গাড়ি থামিয়ে হাত নেড়ে জনসংযোগ সারেন মোদি। সেখান থেকে তাঁর ২৪ গাড়ির কনভয় পৌঁছয় রাজভবনে। সেখানেই রাত্রিবাস করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজনাথ সিংও। তিনি রাত কাটান ফোর্ট উইলিয়ামে।

    যৌথ সেনাপতি সম্মেলনের উদ্বোধনে মোদি

    সকালে রাজভবন থেকেই যোগ দেন সম্মেলনে। সূত্রের খবর, সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে রাজভবন থেকে বেরোন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi at Fort William)। সাড়ে ৯টায় ঢোকেন বিজয় দুর্গে। সেখানে যৌথ সেনাপতি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টা মোদি বিজয় দুর্গেই ছিলেন। চলতি সম্মেলনের বিষয়বস্তু ভারতের সশস্ত্রবাহিনীর সংস্কার, রূপান্তর এবং পরিবর্তন। আগামী তিন দিন ধরে সেখানে ভারতীয় সেনার লক্ষ্য এবং কর্মপন্থা নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই সম্মেলনে এদিন ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (সিডিএস) অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা সচিব-সহ আরও বেশ কয়েকটি মন্ত্রকের সচিবেরা।

    মোদির এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ

    উল্লেখ্য, বিজয় দুর্গে মোদির (PM Modi at Fort William) এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। একদিকে অশান্ত বাংলাদেশ। অন্যদিকে চিন সীমান্ত। তার মধ্যে আবার নেপালে পালাবদল। পরিবর্ত পরিস্থিতিতে ‘তিন ফ্রন্টে’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনার স্ট্র্যাটেজি কী হবে, কতটা প্রস্তুত বাহিনী, তা এদিন খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সুপারস্পাই’ অজিত ডোভালের এই বৈঠকে থাকাও ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছে সমর বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিরক্ষা আধিকারিকের কথায়, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সামরিক কাঠামোয় গভীর সংস্কার, প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ এবং বহু-মাত্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া। জানা যাচ্ছে, সেনার আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামোগত সরলীকরণ নিয়েও এদিন আলোচনা হয়।

    সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সম্মেলন সেনার তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ চিন্তাভাবনামূলক ফোরাম, যা দেশের শীর্ষ অসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ধারণাগত ও কৌশলগত স্তরে মতামত বিনিময়ের জন্য আয়োজন করা হয়েছে ৷ অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপটে, এই বছরের সম্মেলন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ৷ এবারের সম্মেলনে সংস্কার, রূপান্তর, পরিবর্তন এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে ৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, “তিনদিনের এই সম্মেলন সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে ৷ যা ক্রমবর্ধমান জটিল ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় ৷” শেষ সম্মলিত সেনা সম্মলেন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে ভোপালে।

    চতুর্থবার রাজ্যে এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    চলতি বছরে এই নিয়ে চতুর্থবার রাজ্যে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পুজোর আগে ভোটমুখী বঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে এলেও তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে ঢাক-ঢোল নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। দলের কর্মী-সমর্থকদের এই উৎসাহ দেখে গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান মোদিও। কয়েকদিন আগেই মেট্রোর নতুন রুটের উদ্বোধনে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার ফের শহরে মোদি। সোমবারই তিনি কলকাতা থেকে বিহারে যান। সেখানে তিনি ₹৩৬,০০০ কোটিরও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেন এবং জনসভায় ভাষণ দেন। পাশাপাশি, উত্তর বিহারের বহুপ্রতীক্ষিত বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালেরও উদ্বোধন করেন।

LinkedIn
Share