Tag: pm modi speech

pm modi speech

  • PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে দেশ’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তিগুলিকে সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশ নিয়ে মোদি বলেন, সত্য ও মানবতার পাশে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্যেরই।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভগবান রামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকা এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা। তাঁর মতে, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা এবং চিরন্তন সত্যের মিথ্যার বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের প্রাণশক্তির অংশ।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা

    বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ গ্রহণ করা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে, যারা জাতীয় সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।

    মোদি বলেন, “সত্য ও মানবতার পাশে যখন আমরা দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দেশের অগ্রগতির প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    ভগবান রামের আদর্শে সত্য, ন্যায় ও সহনশীলতার শিক্ষা

    বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান রামের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যাভিষেকের পরিস্থিতি হোক বা বনবাসের কঠিন সময়—রামচন্দ্র সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে কখনও সরে যাননি।

    সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে মোদি বোঝানোর চেষ্টা করেন, অনুকূল ও প্রতিকূল—উভয় পরিস্থিতিতেই নিজের কর্তব্য ও আদর্শে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ভগবান রাম। তাঁর মতে, সংকটের মধ্যেও ন্যায় ও সত্যের পথ অনুসরণ করাই রামের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান রাম দয়া, করুণা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর সাংস্কৃতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাকেই উৎসবের মূল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসান’, উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা মোদির

    মোদি বলেন, ভগবান রামের আদর্শকে জীবন্ত রাখা, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস—এই বিষয়গুলি ভারতের কাছে শুধুমাত্র উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের প্রাণশক্তি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজয়া দশমীকে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্যের মতো মূল্যবোধের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    ‘সমুদ্র সামনে, লঙ্কা দূরে’, বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছনোর বার্তা

    ভগবান রামের জীবন থেকে সাফল্যের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথে বাধা এলেই যাত্রা থেমে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, “সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে, কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট।”

    রামের লঙ্কা অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বোঝান, কঠিন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোই সাফল্যের অন্যতম শর্ত। ভগবান রাম মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন, জনসাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উপলব্ধ সম্পদকে একত্রিত করে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাফল্যের মৌলিক সূত্র হল নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখা, নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা।

    এই বার্তাকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সংকল্পের পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক চাপের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নজর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে প্রতিবাদকারীরা।

    অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজধানী-সহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এই প্রতিবাদ দেশের অগ্রগতি চায় না, এমন বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় পরিচালিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ‘নেশন ফার্স্ট’ আহ্বান এবং দেশের অগ্রগতির বিরোধী শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিজয়া দশমীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় ঐক্য, ভগবান রামের আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, তবু চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও আলোচনায় আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা ছিল—দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ভগবান রামের জীবন ও আদর্শকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কঠিন বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।

  • PM Modi: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ‘সুস্থ বার্ধক্যের’ বার্তা, যোগচর্চার মাধ্যমে মানব সম্ভাবনা ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ‘সুস্থ বার্ধক্যের’ বার্তা, যোগচর্চার মাধ্যমে মানব সম্ভাবনা ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (Yoga Day)। এই উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক শক্তি এবং জীবনধারাজনিত রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি বলেন, “বয়স বাড়লেও যেন মানুষের সম্ভাবনা ও কর্মক্ষমতা কমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই যোগচর্চাকে জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (PM Modi)

    এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম ছিল ‘যোগা ফর হেল্দি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing) । এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই থিমকে শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্য সীমাবদ্ধ ভাবা উচিত নয়। বরং সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি আজীবন সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ বছর বয়সে ২০ বছরের তুলনায় আরও বেশি নমনীয় হওয়া, ৫০ বছরে ৩০ বছরের তুলনায় আরও বেশি উদ্যমী থাকা এবং ৭০ বছরে ৫০ বছরের তুলনায় জীবনধারাজনিত রোগের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য পূরণে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।” তিনি (PM Modi) এও বলেন, “নিয়মিত যোগচর্চা শরীরকে নমনীয় রাখে, শক্তির মাত্রা বাড়ায় এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি মানুষকে নিজের শরীর ও মনের প্রতি আরও সচেতন হতে শেখায়, যা সুস্থ জীবনযাপনের ভিত তৈরি করে।”

    একতার বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বর্তমানে যোগ বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে একতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভৌগোলিক সীমারেখা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য অতিক্রম করে যোগ আজ একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলা থেকে সৌরাষ্ট্র—আজ গোটা দেশ যেন যোগের শক্তিতে উজ্জীবিত।” ২১ জুন বিশ্বের দীর্ঘতম দিনগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কারণে এই দিনটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম সম্মিলিত উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে।” বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যোগ মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে (Yoga Day), সবাইকে একসূত্রে বাঁধে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আমি সমগ্র মানবজাতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”

    অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা

    পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রাজ্য শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহান যোগসাধক লাহিড়ী (শ্যামাচরণ লাহিড়ী) মহাশয়ের মতো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত। তাঁদের সাধনাভূমিতে সম্মিলিত যোগাভ্যাস এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।” আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। বলেন, “আজ যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয় উদ্যোগ।”

     

LinkedIn
Share