Tag: PM Modi

PM Modi

  • Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে জ্বালানি পরিষেবার প্রসারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার (India Australia Relation) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Albanese Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, ভারতের যত মানুষ গত এক দশকে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিষেবার আওতায় এসেছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত বড় পরিসরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (UNGA) পার্শ্ববৈঠকে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন আলবানিজ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

    উজ্জ্বলা থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বেড়েছে জ্বালানি পরিষেবার পরিধি

    আলবানিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতে যত মানুষ জ্বালানি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত মানুষকে এভাবে সংযুক্ত করার নজির নেই।” মূলত ভারতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া সৌভাগ্য যোজনা-র মাধ্যমে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)-র আওতায় ২০২৬ সালের আগস্টে উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। PM-KUSUM প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১.৭৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত কৃষি পাম্প-সহ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে, আলবানিজ

    আলোচনায় ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। গত এক দশকে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি দেশ হয়েছে। এর ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি-এর সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছে ভারত।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা

    পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়াও ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    ‘আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে’

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আলবানিজ। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক “ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে”। তবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আলবানিজ জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দু’বার ভারত সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু’বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে মোদিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথাও স্মরণ করেন তিনি। হালকা মেজাজে আলবানিজ বলেন, কোনও রাজনৈতিক সম্মেলনে নেতাদের জন্য যতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, “মোদির স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান না দেখলে সেই উচ্ছ্বাসের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন।” তিনি জানান, ডিসেম্বরে আমেরিকায় আয়োজিত নির্ধারিত জি২০ বৈঠকের পর তিনি মুম্বই সফর করবেন। সেখানে ব্যবসা-কেন্দ্রিক ‘গুড ডে নমস্তে’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের শেষে চেন্নাইয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। রাজনীতি ও ক্রিকেটের বাইরেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আলবানিজ। কমনওয়েলথের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলবানিজের কথায়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনাকে এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সরকারই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FlyDubai FZ1073) বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

    এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    মাচ্ছরের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদির, দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদন

    বৃহস্পতিবার ইউপিএসসির শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত পাইলটের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানান তিনি।

    মোদি বলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য গোটা বিশ্ব গর্বিত। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদি জানান, মাচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তিনি।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে সহ-পাইলটের সংঘর্ষ বাধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলট মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।

    এরপর বিমানটির উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন—আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন।

    ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

    আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের কথা মাথায়

    ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বাইরের মানুষ ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রায় ১৭৪ জনকে নিয়ে উড়ছিল বিমানটি। ফলে পরিস্থিতি সামান্য অন্যরকম হলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করায় বিমানে থাকা প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা পায়।

    রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কুর্নিশ

    ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি জানান, গুরুতর বিপদের মধ্যেও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আহত অবস্থাতেও অন্যদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    রাজনাথ, বিড়লা, যোগী থেকে খড়্গে—প্রশংসা সর্বত্র

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর বিমানে থাকা সকলের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছেন।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ক্যাপ্টেনের সাহস, কর্তব্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। গুরুতর আহত হয়েও অন্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আচমকা বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যাওয়ার পরও মাচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, এই সাহসিকতা ভারতীয় বিমানচালকের দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শিবরাজ সিং চৌহানও একইভাবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ক্যাপ্টেন, বিমানের ক্রু এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা সকলের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

    কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর?

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট। এর আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    এই দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতাই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

    তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

    ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের ভিতরে কীভাবে এই হামলা ঘটল, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি হামলা চালানোর সুযোগ পেলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা এবং পাইলটদের ককপিটে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনাটির নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

    আপাতত নজর ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সুস্থতার দিকে

    একদিকে ভয়াবহ মাঝআকাশের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত আরোগ্যের দিকে নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশবাসীকে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা—দলমত নির্বিশেষে মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

    একটি উড়ন্ত বিমানে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম সংকটে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাই এফজেড ১০৭৩-এর এই ঘটনা শুধু বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলছে না, চরম বিপদের মধ্যেও পাইলটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

  • PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র (PM Modi)। রাজ্যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার কলকাতায় বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের উদ্যোগে (Development Investment Jobs) আয়োজিত ওড়িশার অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুক সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে ৭৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার নতুন পরিকাঠামো প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ (PM Modi)

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত মন্ত্রীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন হোক, বিনিয়োগ হোক কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ এক সময় ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র ছিল। এবার সেই পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।”

    পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ভারতকে দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পের ঐতিহ্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে যুক্ত করা গেলে দুই রাজ্যই উপকৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

    এদিনের অনুষ্ঠানে অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুকে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। দেশের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেই ধাতু ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির উপর জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে শিল্প করিডর গড়ে উঠলে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়বে। কেন্দ্রের পূর্বমুখী নীতির বাস্তবায়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (PM Modi)।

    বঙ্গে চলেছে ‘জঙ্গলরাজ’

    পশ্চিমবঙ্গের কয়লা শিল্প নিয়েও এদিন সরব হন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কয়লা ক্ষেত্র বেআইনি খননকারী এবং কয়লা মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আগের সরকারগুলির আমলে এই ক্ষেত্রে জবাবদিহির অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    রেড্ডি বলেন, “বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা ক্ষেত্র মাফিয়া এবং বেআইনি খননকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কলকাতায় কোল ইন্ডিয়ার সদর দফতর থাকা সত্ত্বেও এই বাস্তবতার অভিজ্ঞতা সকলেরই রয়েছে (Development Investment Jobs)। খননের কোনও অনুমতি ছিল না, অথচ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন চলত। দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষের প্রাণ গিয়েছে, কিন্তু কোনও জবাবদিহি ছিল না। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের জঙ্গলরাজ চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য বিশেষভাবে কাজ করছি (PM Modi)।”

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, কয়লা ও খনি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেআইনি খনন বন্ধ করা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার রোধ এবং খনি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব যাতে যথাযথভাবে রাজ্য সরকারের কোষাগারে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    রাজ্য সরকারের রাজস্ব

    তিনি বলেন, “আগে কয়লা থেকে যে রাজস্ব আদায় হত, তা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে অন্যত্র চলে যেত। এখন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং কঠোর জবাবদিহির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো হচ্ছে। বহু বেআইনি কারবারি ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে। এর ফলে কয়লা ক্ষেত্র থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব বাড়বে।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঠানো প্রশাসনিক প্রতিবেদনে বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন থাকত না। তিনি দাবি করেন, খুন ও আত্মহত্যার মতো অপরাধের তথ্য চাওয়া হলেও, কোনও কোনও প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা শূন্য দেখানো হত। তবে তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে অনুষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (PM Modi)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সমন্বয়ে জোর

    রাজ্যের কয়লা ও খনি ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করার কথাও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগ আনা, শিল্পের প্রসার এবং রাজ্যের শ্রমশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে (Development Investment Jobs) সাধারণ মানুষ এবং শিল্পমহলের সহযোগিতাও চান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পূর্ব ভারতকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই কেন্দ্রের লক্ষ্য (PM Modi)।

     

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজস্থানের পুর নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi for Rajasthan)। তাঁর দাবি, এই ফলাফল রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন। সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজস্থানের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ বিজেপিকে পুর নির্বাচনে (BJP’s Victory in Rajasthan Polls) বিপুল জয় এনে দেওয়ার জন্য। এটি মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়ের প্রমাণ।” মোদি আরও বলেন, এই নির্বাচনী রায়ের মাধ্যমে রাজস্থানের মানুষ ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা সুশাসন ও উন্নয়নের নীতির পাশে রয়েছেন। এই জনসমর্থন রাজ্যকে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি আনার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও জানান তিনি। বিজয়ী প্রার্থী এবং দলের কর্মীদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

    অমিত শাহের অভিনন্দন

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন এই ফলাফল। শাহের দাবি, কংগ্রেসের ‘অপশাসন ও দুর্নীতি’ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে বিজেপি সরকার উন্নয়নের গতি বাড়িয়েছে। রাজস্থানের মানুষ যে সমর্থন দিয়েছেন, তা ‘বিকশিত রাজস্থান’ গড়ার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে জয় বিজেপির

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। মোট ১০,২৪৫টি ওয়ার্ডের ফলাফলে বিজেপি জয় পেয়েছে ৪,১৭৯টি আসনে। কংগ্রেস পেয়েছে ৩,৬১৩টি আসন, আর নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে। চারটি পুরনিগম—জয়পুর, কোটা, উদয়পুর এবং ভিলওয়াড়ায় বোর্ড গঠনের পথে বিজেপি। অন্যদিকে বিকানের পুরনিগমে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। তবে আজমের, যোধপুর, ভরতপুর, আলওয়ার ও পালি-সহ বেশ কয়েকটি পুরসভা ও পুরনিগমে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন প্রায় নিশ্চিত

    জয়পুর পুরনিগমে বিজেপি পেয়েছে ৭৮টি আসন, কংগ্রেসের দখলে এসেছে ৫৩টি, আর নির্দলরা জিতেছেন ১৫টি ওয়ার্ডে। ফলে জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন কার্যত নিশ্চিত। অন্যদিকে যোধপুর পুরনিগমে বিজেপি ও কংগ্রেস—দুই দলই ৪৪টি করে আসন পেয়েছে। ফলে সেখানে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থনই বোর্ড গঠনে নির্ণায়ক হতে পারে। রাজ্যের ৪৭টি পুর পরিষদের মধ্যে বিজেপি ১২টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে ৮টি পুর পরিষদে। বাকি ২১টি পুর পরিষদে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া রাজ্যের ২৫২টি পুরসভার মধ্যে বিজেপি ৬৬টিতে, কংগ্রেস ৩৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রায় ১২১টি পুরসভায় বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে ব্রিকস (BRICS)। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর। রবিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উন্মুক্ত অধিবেশনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।”

    চিনকে শুভেচ্ছা মোদির (BRICS)

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি নয়াদিল্লি সম্মেলন সফল করার জন্য সদস্য দেশগুলির নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের দলগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নয়াদিল্লি সম্মেলনকে সফল করে তোলার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে এবং আপনাদের দলগুলিকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করি।”

    এর আগে রবিবার সকালে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ভারত মণ্ডপমে আরও একটি ফলপ্রসূ সকাল। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রধানদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”

    রবিবার ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নির্মাণ” শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় (BRICS)।

    অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ব্রিকসের মঞ্চের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

    সবাই ব্রিকসের সহযোগিতার অংশীদার হয়ে উঠুন

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা চাই আমাদের উদ্যোগপতি, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরাও এর সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠুন।”

    গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বেড়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির। কারণ এখানে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং সমাধান শুধু তাদের জন্য তৈরি করা হয় না, তাদের সঙ্গে নিয়েই তৈরি করা হয়।”

    ব্রিকসের শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হই। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, আমাদের সহযোগিতা যেন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে।”

    এদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে “ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ” করার আহ্বান জানান।

    জিনপিং বলেন, ব্রিকসের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি “সক্রিয়, স্থিতিশীল ও ইতিবাচক শক্তি” হয়ে ওঠা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিকে ব্রিকসের আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার নয়াদিল্লি ছেড়ে চিনে ফিরে যান জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন তিনি।

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। দুই প্রতিবেশী দেশের (BRICS) মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন (Gala Dinner)।

    নৈশভোজের আসরে রাষ্ট্রনেতারা (PM Modi)

    নৈশভোজে যোগ দিতে প্রথমে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে আসেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

    ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বাসে করে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, শিবরাজ সিং চৌহান ও কিরেন রিজিজু-সহ অন্য মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে রওনা দেন।

    নৈশভোজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

    নৈশভোজ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নবরস—অভিন্ন অনুভূতির মহাবিশ্ব” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ছিল ব্রিকসের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান “এক ছন্দ, বহু সংস্কৃতি”। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির শিল্পীরা যৌথভাবে এই সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে একত্রিত করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল ব্রিকস পরিবারের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের ভাবনাকে তুলে ধরা।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতভাবে ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

    মোদি-জিনপিং বৈঠক

    শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জিনপিং।

    জিনপিং বলেন, “দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি।”

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এবং আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    তিনি জানান, ১২ বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় নয়াদিল্লি সফর। এই সময়ে দুই দেশের দুই নেতা ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের অভিন্ন দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জিনপিং। তিনি বলেন, “দুই দেশ ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের অংশ। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের স্বার্থকে ভিত্তি করে উচ্চমানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মোদির

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    তিনি বলেন, “আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    মোদি আরও বলেন, “এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। আবারও আপনাকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত-চিন বৈঠকের আগে ব্রিকস দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পরমাণু নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা যাতে সম্পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর ব্রিকসের দায়িত্ব চিনের

    জিনপিং ঘোষণা করেন, আগামী বছর চিন ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং (PM Modi) উনিশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

    চিনের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বলেন, “চিন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐকমত্য তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে।”

    তিনি আরও (BRICS) বলেন, “আমরা একসঙ্গে ব্রিকস সহযোগিতার তৃতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করব।”

    উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (Gala Dinner) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা হল “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ” (PM Modi)।

     

     

  • PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব প্রণয়নের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শাসন ও শক্তিশালীকরণ’ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে ব্রিকসের (BRICS 2026) সদস্য দেশগুলি এই প্রস্তাবগুলিকে একটি সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথকে ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’য় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

    সামনের সারিতে গ্লোবাল সাউথ (PM Modi)

    মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের সম্মুখভাগে রয়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান এখনও পিছনের সারিতে। তাঁর কথায়, “গ্লোবাল সাউথ আজ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সামনের সারিতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে। আমাদের এই ‘সুবিধাভোগের পিরামিড’কে ‘অংশীদারির মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর থাকবে, প্রতিটি সদস্যের অংশীদারি থাকবে এবং মানব উন্নয়ন প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্যেই আমি প্রস্তাব করছি, আমরা যৌথভাবে বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি। আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে ব্রিকসের সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

    প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংস্কার রূপরেখায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—প্রতিনিধিত্ব, সাড়াদানের সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়ন।

    প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাবভিত্তিক আলোচনা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারও বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো উচিত বলে জানান তিনি। মোদির কথায়, “যে দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।”

    সাড়াদানের সক্ষমতার প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলি তখনই মানবজাতির আস্থা অর্জন করতে পারবে, যখন তারা বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে সক্ষম হবে। তিনি (PM Modi) বলেন, “আমাদের সম্মিলিত সাড়ার গতি, ব্যাপ্তি এবং শেষ প্রান্তে তার প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে।”

    সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

    বিশ্ব বাণিজ্যে সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে একটি জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে বিপদসংকেত পাঠানো, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

    বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন তৈরির ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার পরিসর, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলি শুধু ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করছে না, ভবিষ্যতের নিয়মকানুনও নির্ধারণ করছে।

    মোদি বলেন, “গ্লোবাল সাউথকে নিয়মগ্রহীতা থেকে নিয়মপ্রণেতায় রূপান্তর করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি আরও জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের আলোচনার দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে ব্রিকস।

    ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রসংঘের নির্ধারিত দিন হওয়ায় এই দিনেই বিশ্ব দক্ষিণকে কেন্দ্র করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত।”

    ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে রাখা হয়েছে।

    প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিকস ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ-সহ একাধিক বিষয় ব্রিকসের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

    বর্তমানে ব্রিকস (BRICS 2026) গোষ্ঠীতে ১১টি দেশ রয়েছে। দেশগুলি হল—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

     

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

LinkedIn
Share