Tag: PM Modi

PM Modi

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সময়ের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (Modi on World Environmental Day) উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বহু বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবন পরিবেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশের গর্ব। দেশের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করে চলেছে।’’ তিনি বিশেষভাবে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড, স্নো লেপার্ড, স্লথ বিয়ার এবং চিতাবাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ লক্ষ হেক্টর নতুন বনাঞ্চল যুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের গভীর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই বার্তা ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতিফলন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    কবে থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস

    প্রতিবছর ৫ ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশনস-এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল যাদের মূল উদ্দেশ্য়। অতিরিক্ত শিল্পায়ন, প্লাস্টিকের ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শাহি বার্তা

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। সৌরশক্তি, ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং লক্ষ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতের বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধির হার বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) প্রকৃতি রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। গত ৬ বছরে তারা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে এবং সেগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং সুস্থ ভারত গড়ে তুলতে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।

    পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

    আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বছরভর বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন সকালে সল্টলেকের নলবনে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ‘একটি গাছ মায়ের নামে ২০২৬’। নলবনে এ দিন বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজির ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা। বৃক্ষরোপণের পরে নলবন ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যেও “এক পেড় মা কে নাম”

    প্রধানমন্ত্রীর “এক পেড় মা কে নাম” প্রকল্পের আদলে রাজ্যেও শুরু হচ্ছে বড়সড় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, এবার সেই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে গাছ লাগানোর বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে মোট প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা ও কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপণ করা হবে। ব্লক স্তরে ১০০টি করে এবং পুরসভা এলাকায় ২০০টি করে চারাগাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এছাড়া প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ১ হাজারটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সমন্বয় টিমও গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

  • PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক নজির গড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দেশের প্রধান (Longest Serving Head of Government) হয়ে কাজ করার রেকর্ড গড়তে চলেছেন তিনি। আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) একটানা দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করবেন।

    নেহরুর রেকর্ড ভাঙবেন মোদি

    ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ১০ জুন, ২০২৬-এ মোদির টানা দায়িত্বকাল দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিনে। এর ফলে তিনি নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করবেন। নেহরু ১৯৫২ সালের ১৩ মে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এর আগেই ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই মোদি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) দীর্ঘতম টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের ছবি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের প্রতিচ্ছবি। নেহরুর সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার সময় দেশের জনসংখ্যা ১৩১ কোটির বেশি ছিল, যা বর্তমানে ১৪৬ কোটিরও বেশি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরও কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ৫৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল, সেখানে ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা দাঁড়ায় ৭৪৪-এ। একইভাবে ভোটারের সংখ্যা প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ১৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ৮৩ কোটিরও বেশি হয়।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও পার্থক্য

    রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নেহরু ও মোদির সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। নেহরুর সময় কংগ্রেসের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৮৯টির মধ্যে ৩৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিপরীতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত বহু আঞ্চলিক দল, জোট রাজনীতি এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে পরিচালিত হয়েছে। মোদি আরও একটি অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি প্রথম অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী যিনি টানা দুইবার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠন করেছেন। পাশাপাশি নেহরুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

    দুই যুগের প্রযুক্তিগত পার্থক্য

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনামলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আইআইটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২৩, আইআইএমের সংখ্যা ১৩ থেকে ২১ এবং এআইআইএমএসের সংখ্যা ৭ থেকে ২৩-এ উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দুই যুগের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। নেহরু এমন এক সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন, যখন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক মাধ্যম বা তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে মোদির শাসনকাল কেটেছে ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবিড় নজরদারির মধ্যে।

    নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্বীকৃতি

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর মোদি ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সম্মিলিত দায়িত্বকাল ৮,৯৩০ দিন অতিক্রম করে দেশের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত সরকারপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে আগেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনিই গুজরাটের সবথেকে বেশি সময় ধরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী। সবথেকে বেশি সময় মুখ্যমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীও মোদিই। একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যার জন্ম স্বাধীনতার পর। ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।

    মোদির একাধিক রেকর্ড

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম অ-কংগ্রেসী নেতা, যিনি লোকসভায় সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। অ-কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দুইবারের মেয়াদ পূরণ করে, তৃতীয় মেয়াদে দেশ সামলাচ্ছেন। এই বছর ডিজিটাল মাধ্যমেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি পার করেছে। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার থেকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা বেশি। ইন্সটাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা পার করেছে ১০০ মিলিয়ন। তিনিই বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান, যার ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০৬.৪ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছাপ পড়েছে। বিশ্লেষকের মতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত এক নতুন রাজনৈতিক ধারায় প্রবেশ করেছে, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মেও পড়বে।

  • PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ জুন রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Day)। এই মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নয়া রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার সবুজ (PM Modi) সঙ্কেত মেলার পর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যব্যাপী বিশাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পদ্ম-শিবির।

    ২০ জুনের গুরুত্ব (PM Modi)

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জেলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। জেলাস্তরে ইতিমধ্যেই রাজ্য দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ পদাধিকারীদের নিজের নিজের এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২০ জুন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গ তথা ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। রাজ্যবাসীর কাছে সেই গৌরবময় অতীত তুলে ধরতেই এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজেপির বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্ম শিবির বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে প্রায় ফিকে হয়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতার আগুন উসকে দেবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “গোটা রাজ্যে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে। আমরা বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই রাজ্যের অবদান তুলে ধরব।” তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে রাখতে যাঁরা আত্মত্যাগ ও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, এই দিনটিতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে তাঁদের।

    রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি

    জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্য বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের (PM Modi) ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রচার কর্মসূচিও চালাবে গেরুয়া শিবির। এই কর্মসূচির মূল (West Bengal Day) লক্ষ্যই হল পিএম আবাস যোজনা, পিএম-কিষান, জল জীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য ও সুবিধা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া। প্রবীণ এক পদ্ম নেতা জানান, রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের মাধ্যমে দল বাংলার নিজস্ব পরিচিতি ও কৃষ্টিকে সম্মান জানাবে। রাজ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বঙ্গবাসীর সচেতনতাও বাড়ানো হবে। এদিন, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাও জানানো হবে।

    মমতা জমানায় বিস্তর জলঘোলা

    শুভেন্দুর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলেন তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১ বৈশাখ রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়েছিল। সেই সময় লোকভবনে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি ২০ জুন রাজভবনে (বর্তমান লোকভবন) আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়েছিল (PM Modi)। প্রাক্তন রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা লিখেছিলেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের একমাত্র দিন হতে পারে ২০ জুন। পদ্ম নেতাদের এহেন দাবি উপেক্ষা করে তৃণমূল ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে। রাজ্যে পালাবদলের পর নয় সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে ২০ জুন, ১ বৈশাখ নয়। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এবার থেকে ২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, ২০ জুনের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজোও দেবেন। পরে তিনি (West Bengal Day) ভাষণ দেবেন জনসভায়। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সেদিন কলকাতায় আয়োজিত মূল কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এ রাজ্যে গঠিত হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। তৃণমূলকে গোহারা হারিয়ে বিজেপি জিততেই দিল্লিতে রীতিমতো বাঙালি পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবী পরে জনসমক্ষে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। নির্বাচনের আগে একাধিকবার দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে বাংলায় এসেছিলেন তিনি। রাজ্যে পদ্ম-সরকার গঠিত হওয়ার পর আর বাংলায় আসেননি প্রধানমন্ত্রী। তাই ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘মন কি বাতে’র ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন। এই গল্পগুলির মধ্যে (Mann Ki Baat) ছিল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগও।

    ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য (PM Modi)

    এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্প্রিন্টার গুরিন্দর বীর সিং এবং অনিমেষ কুজুরের প্রশংসা করেন। তাঁরা পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে মাত্র দু’দিনের মধ্যে একাধিকবার জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্রীড়াবিদরা তাঁকে জানিয়েছেন, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি। অনেকের ধারণা ছিল যে, ভারতীয়রা স্প্রিন্ট ইভেন্টে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না, কিন্তু তাঁরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশংসা করেন। বলেন, “তাঁদের এই সাফল্য অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে।”

    জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের (Astronomy) প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বেঙ্গালোর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোস্যাইটি, অ্যাস্ট্রো কেরালা, বিগ ব্যাং অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব (রাজকোট), জ্যোতির্বিদ্যা পরিসংস্থা এবং আইএসএএসি-এর মতো সংস্থাগুলির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, এই সব সংস্থা শিক্ষার্থীদের মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।ছুটির সময় তরুণদের জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্লাবে যোগ দিতে এবং তারামণ্ডল দর্শনে উৎসাহিত করেন।

    গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স

    উত্তরপ্রদেশে একটি খালে আটকে পড়া গাঙ্গেয় ডলফিন (Gangetic Dolphin)-কে উদ্ধারের অভিযানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ডলফিনটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী জানান, নমামি গঙ্গে (Namami Gange) কর্মসূচির আওতায় তৈরি ভারতের প্রথম গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স এই উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (Mann Ki Baat)। চিকিৎসার পর ডলফিনটিকে রাপ্তি নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ডলফিন সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।”

     

  • SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রায়  ৮১ কোটি নাগরিকের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) বৈঠকে (CCEA) আগামী ৫ বছরের জন্য অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) নামক একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৫,৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “এটি বর্তমান রেশন ব্যবস্থার কোনও বিকল্প বা প্রতিস্থাপন নয়; বরং এর লক্ষ্য হলো খাদ্যশস্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং সামগ্রিক বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করা।”

    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যসমূহ (SARTHAK-PDS)

    কেন্দ্র সরকারের (Union Cabinet) এই প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে আর্থিক ভাবে সহায়তা এবং রেশন দোকানদার পরিচালকদের কমিশন সংশোধন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা

    ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র বড় গুদাম থেকে বিভিন্ন জেলা ও ন্যায্য মূল্যের দোকানে (Fair Price Shops) খাদ্যশস্য পরিবহনের বিপুল খরচ বহন করতে অনেক রাজ্যই সমস্যায় পড়ত। নতুন প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে এই আন্তঃরাজ্য পরিবহনের খরচে আর্থিক সহায়তা দেবে।

    রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি

    রেশন দোকান পরিচালনাকারীদের (FPS Dealers) মার্জিন বা কমিশন বাড়ানো এবং সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে রেশন পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বাধাহীন হয়।

    প্রযুক্তির ব্যবহার তিনটি প্রধান স্তম্ভ (Three Pillars)

    কেন্দ্রীয় কেবিনেট (Union Cabinet) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML), ব্লকচেইন এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পুরো ব্যবস্থাকে মূলত তিনটি স্তম্ভের (SARTHAK-PDS) ওপর দাঁড় করানো হয়েছে-

    • ১. নির্মল (Nirmal): এটি হলো একটি এআই-চালিত রিয়েল-টাইম রেশন উপভোক্তা রেজিস্ট্রি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভুয়ো রেশন কার্ড বা কারচুপি সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে।
    • ২. আশা (Asha): এটি মূলত সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিবারণ এবং ফিডব্যাক নেওয়ার জন্য একটি বহুভাষিক এআই প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ও চ্যাটবটের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
    • ৩. সক্ষম (Saksham): এটি খাদ্যশস্যের জোগান বা সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। প্রতিটি রেশনের বস্তায় কিউআর কোড (QR Code) থাকবে এবং পরিবহনকারী গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং থাকবে, যার ফলে রেশনের চাল-গম মাঝপথে চুরি বা অন্য কোথাও পাচার হওয়া আটকানো যাবে।

    রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা

    সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য পরিবহনের দূরত্ব ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমাবে। এই নতুন সার্থক-পিডিএস (SARTHAK-PDS) প্রকল্পের অধীনে আগের দুটি প্রকল্পকে—অর্থাৎ রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা এবং ‘স্মার্ট পিডিএস’ (SMART PDS) প্রযুক্তি সংস্কারকে—একত্রিত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’-সহ অন্যান্য খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

    ভারতের জনবণ্টন ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণার (Union Cabinet) সরাসরি বিবরণ দেখতে আপনি এই “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের লজিস্টিকস ও টেকনোলজি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

  • PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বীর সাভারকরের (Veer Savarkar) জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাভারকরের অদম্য সাহস এবং দেশপ্রেম চিরকাল দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে।” একই সঙ্গে তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ওপর দেওয়া বিশেষ জোরের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর সাভারকারের জন্মদিনে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বীর সাভারকরের জয়ন্তীতে তাঁকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি। তাঁর অসীম সাহস ও গভীর দেশপ্রেম প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে। এর পাশাপাশি তাঁর অসামান্য বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।”

    ‘অস্ত্র ও শাস্ত্রের উপাসক’, সাভারকরের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব (PM Modi)

    শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বীর সাভারকরের (Veer Savarkar)  বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ২৮ মে, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তী। তাঁর ত্যাগ, বীরত্ব এবং সংকল্প আমাদের অনবরত প্রেরণা দিয়ে চলেছে। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। তিনি একাধারে যেমন অস্ত্রের উপাসক ছিলেন, তেমনই ছিলেন শাস্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক।” প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “সাভারকর কেবল একজন নির্ভীক সংগ্রামীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী কবি এবং দূরদর্শী সমাজ সংস্কারক, যিনি সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা ও ভেদাভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।”

    আন্দামানের ‘কালাপানি’ স্মৃতি রোমন্থন

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেলুলার জেলে তাঁর সফরের আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করেন। যেখানে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা বীর সাভারকরকে কঠোর ‘কালাপানি’ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছিল, জীবনের ২৫টি বছর জেল খেটেছেন । তাঁর ত্যাগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, “আমি সেই দিনটির কথা কখনই ভুলতে পারব না, যখন আমি আন্দামানের সেই ঐতিহাসিক কারাগারে গিয়েছিলাম যেখানে বীর সাভারকরজি কালাপানির নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছিলেন। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং সুবিস্তৃত। তাঁর নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল স্বভাব কখনোই দাসত্বের মানসিকতার কাছে মাথা নত করেনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সর্বস্ব ত্যাগ ও অবদানকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।”

    চন্দ্রনাথ বসুর হিন্দুত্বে প্রভাবিত

    উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালের ২৮ মে মহারাষ্ট্রের নাসিকে জন্মগ্রহণ করেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর, যিনি দেশবাসীর কাছে ‘বীর সাভারকর’ (Veer Savarkar) নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং লেখক। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ‘হিন্দুত্ব’ (Hindutva) শব্দটির প্রবক্তা হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং হিন্দু মহাসভার অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন।

    লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল

    বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পুনের ফার্গুসন কলেজে অধ্যায়নকালেও এই ধারা বজায় রাখেন। উনিশ শতকের বাঙালি চন্দ্রনাথ বসুর ১৮৯২ সালে লেখা “হিন্দুত্ব” গ্রন্থের দ্বারা ব্যাপক ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বীর সাভারকার। একজন মারাঠার রক্তে গতি স্রোত বইয়ে দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ বসু। সেই সঙ্গে হিন্দুত্বের মধ্যে জাতীয়তাবাদী নেতা লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে আইন পড়ার সময় তিনি ‘ইন্ডিয়া হাউস’ এবং ‘ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটি’-র মতো বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে তাঁর রচিত ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ বইটি তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ভারতের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর ত্যাগের কথা দেশজুরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে আপমার দেশবাসী।

    “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়

    সভারকার স্বয়ং দয়ানন্দ সরস্বতী, স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ সমাজ সংস্কার এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করেছিলেন। কিন্তু সাভারকর হিন্দু জাতীয়তাবাদের আরও কঠোর ও রাজনৈতিক একটি ধারণা তৈরি করেন। কারাগারে থাকার সময় সাভারকরের চিন্তাধারা ধীরে ধীরে হিন্দু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের দিকে চলে যায়। পরে তিনি পুরো জীবন এই ধারণা প্রচারে ব্যয় করেন। রত্নগিরি জেলে থাকাকালে তিনি “হিন্দুত্বের অপরিহার্যতা” নামে একটি বই লেখেন।

    এই বইয়ে তিনি “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়, বরং ভারতের প্রতি অনুগত মানুষের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করতেন হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সবাই একই সাংস্কৃতিক পরিবারের অংশ। তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি “হিন্দু রাষ্ট্র” গঠন করা উচিত, যা পুরো ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে বিস্তৃত হবে।

    সাভারকর হিন্দু সমাজের অনেক পুরোনো রীতি ও কুসংস্কারের সমালোচনা করতেন। তিনি মনে করতেন এসব কারণে হিন্দু সমাজের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে ধর্ম হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বর্ণপ্রথার বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৩১ সালে লেখা এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, কঠোর বর্ণব্যবস্থা অতীতের এমন একটি প্রথা যা বাতিল করে দেওয়া উচিত। আজ দেশজুড়ে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে হিন্দুত্বের জয় গান ধ্বনিত হচ্ছে সারা দেশব্যাপী।

  • PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে দামি বা শক্তিশালী অস্ত্র কিন্তু কোনও পরমাণু বোমা বা মিসাইল নয়। সেই অদৃশ্য অস্ত্রের নাম হল— ‘সেমিকন্ডাক্টর চিপ’। আপনার হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সুপারকম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক যুদ্ধবিমান কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ি— চিপ ছাড়া আজ পুরো পৃথিবী অচল। আর এই চিপ তৈরির বিশ্বযুদ্ধে এবার এক ঐতিহাসিক চাল চালল ভারত। কি সেই মাস্টার স্ট্রোক?

    মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফর শুধু একটি সাধারণ কূটনৈতিক সফর ছিল না। এটি ছিল ভারতের ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট। এই সফরেই সই হল এমন এক চুক্তি, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং প্রযুক্তির মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে। ভারতের টেক জায়ান্ট ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ (Tata Electronics) চুক্তি স্বাক্ষর করল ডাচ প্রযুক্তি জায়ান্ট এএসএমএল (ASML)-এর সঙ্গে। এএসএমএল কোনও সাধারণ কোম্পানি নয়। এটি হল সেমিকন্ডাক্টর জগতের এমন এক একচেটিয়া সম্রাট বা মনোপলি, যার সবুজ সংকেত ছাড়া তাইওয়ানের টিএসএমসি বা আমেরিকার ইন্টেল (Intel)-ও এক পা নড়তে পারে না।

    নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ

    মে ২০২৬-এ ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) গিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডস সফরে। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক নেদারল্যান্ডস সফর। এই সফরে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছয়। দুই দেশ যৌথভাবে গ্রহণ করে ‘ভারত-নেদারল্যান্ডস স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রোডম্যাপ (2026–2030)’। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ, যার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) পরিমাণ প্রায় ৫৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এই ২০২৬-২০৩০ রোডম্যাপের মূল ভিত্তি কিন্তু শুধু সাধারণ বাণিজ্য নয়, এর কেন্দ্রে রয়েছে— ক্রিপ্টো, এআই, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সেমিকন্ডাক্টর’। ভারতের ‘ইন্ডিয়ান সেমিকন্ডাক্টর মিশন’ (ISM) এবং ডাচ ‘সেমিকন কম্পিটেন্স সেন্টার’-এর মধ্যে কৌশলগত জোট গড়ার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ে এই সফরেই। যার লক্ষ্য— চিপ তৈরির গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য চূর্ণ করে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন তৈরি করা।

    এএসএমএল আসলে কী?

    এএসএমএল এর সম্পূর্ণ নাম ‘Advanced Semiconductor Materials Lithography’। নেদারল্যান্ডসের ভেলধোভেন (Veldhoven)-এ সদর দফতর অবস্থিত এই কোম্পানিটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব বেশি না জানলেও, অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা এনভিডিয়ার মতো ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো এই এসএমএল-এর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেন? কারণ, চিপ তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রক্রিয়া হলো ‘লিথোগ্রাফি’। একটি সিলিকন ওয়েফারের ওপর আলোর সাহায্যে কোটি কোটি বা বিলিয়ন বিলিয়ন ন্যানো-স্কেলের সার্কিট খোদাই করার পদ্ধতিই হলো লিথোগ্রাফি। আর এই কাজের জন্য যে মেশিনের প্রয়োজন হয়, তাকে বলা হয় EUV (Extreme Ultraviolet) এবং DUV (Deep Ultraviolet) লিথোগ্রাফি মেশিন।

    পৃথিবীর সবচেয়ে অ্যাডভান্সড চিপ (যেমন ৩ ন্যানোমিটার বা ২ ন্যানোমিটার চিপ, যা আইফোন বা এআই সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় EUV মেশিনের বাজারে ASML-এর একচেটিয়া ১০০% মনোপলি রয়েছে! দুনিয়ায় অন্য কোনও কোম্পানি এই মেশিন তৈরি করতে পারে না। এক একটি মেশিনের দাম ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একটি আস্ত বোয়িং বিমানের চেয়েও দামি। এই মেশিন ছাড়া তাইওয়ানের TSMC-ও অচল। তাই চিপের দুনিয়ায় রাজত্ব করতে গেলে এএসএমএল (ASML)-এর আশীর্বাদ অপরিহার্য। আর ভারত ঠিক এই জায়গায়ই নিজের খুঁটি পুঁতে দিল।

    ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার কারখানা হচ্ছে

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই সফরের ঠিক মাঝখানেই, ১৬ মে ২০২৬ তারিখে দ্য হেগ শহরে এক ঐতিহাসিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভারত গৌরব টাটা গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠান ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ এবং ডাচ জায়ান্ট ‘ASML’ ভারতের প্রথম কমার্শিয়াল সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব স্থাপনের জন্য স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করে। গুজরাটের ধোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিক্স প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা প্রায় ৯১,০০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার (১২ ইঞ্চি) কমার্শিয়াল চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাব বা কারখানা তৈরি করছে। এই মেগা প্রজেক্টে টাটার প্রযুক্তিগত পার্টনার ছিল তাইওয়ানের PSMC। কিন্তু চিপ তৈরির আসল হাতিয়ার অর্থাৎ লিথোগ্রাফি টুলস এবং হোলিস্টিক সলিউশনস সরবরাহ করার দায়িত্ব এবার অফিশিয়ালি কাঁধে নিল এসএমএল।

    এই চুক্তির ফলে কী সুবিধা হবে?

    প্রথমত, ধোলেরা ফ্যাবে এসএমএল -এর বিশ্বমানের অ্যাডভান্সড লিথোগ্রাফি যন্ত্রপাতি বসানো হবে, যা চিপ উৎপাদনের গতি এবং গুণমান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে ২৮ ন্যানোমিটার, ৪০ ন্যানোমিটার, ৫৫ ন্যানোমিটার এবং ৯০ ন্যানোমিটারের চিপ তৈরি হবে, যা অটোমোবাইল (গাড়ি), মোবাইল ডিভাইস, ডিফেন্স এবং এআই (AI) সেক্টরের গ্লোবাল চাহিদা মেটাবে। তৃতীয়ত, এটি কেবল যন্ত্র কেনার চুক্তি নয়। এসএমএল এবং টাটা যৌথভাবে ভারতে লিথোগ্রাফি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করবে এবং ভারতীয় তরুণদের এই উচ্চ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ ট্রেনিং দেবে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের সিইও রণধীর ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসএমএল-এর এই গভীর প্রযুক্তিগত সহায়তা ভারতকে গ্লোবাল কাস্টমারদের কাছে একটি বিশ্বস্ত এবং স্থিতিস্থাপক সাপ্লাই চেন পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

    ঐতিহাসিক মাইলফলক

    প্রশ্ন হল, ভারত হঠাৎ সেমিকন্ডাক্টরের পেছনে লাখ কোটি টাকা কেন ঢালছে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে গ্লোবাল জিওপলিটিক্স বা ভূ-রাজনীতিতে। বর্তমানে পৃথিবীর ৯০ শতাংশেরও বেশি উন্নত চিপ তৈরি হয় তাইওয়ানে। কিন্তু চিনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে তাইওয়ানকে নিয়ে সবসময় যুদ্ধকালীন মেঘ ঘনিয়ে থাকে। যদি চিন কোনওদিন তাইওয়ান দখল করে নেয়, তবে পুরো পৃথিবীর টেকনোলজি থমকে যাবে। কূটনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘তাইওয়ান রিস্ক’।

    আমেরিকা এবং ইউরোপ তাই চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাকুল। তারা এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র চাইছে যার বিশাল বাজার আছে, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আছেন এবং স্থিতিশীল গণতন্ত্র আছে। ভারত ঠিক এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে ভারত সরকার প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইনসেনটিভ বা পিএলআই (PLI) স্কিম ঘোষণা করেছে চিপ প্রস্তুতকারীদের জন্য।

    এসএমএল (ASML)-এর সিইও ক্রিস্টোফ ফুকে নিজেই স্বীকার করেছেন, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর বাজারকে অবহেলা করা অসম্ভব। তাই তাইওয়ানের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে চিপের বিকল্প গ্লোবাল হাব বানানোর এই আন্তর্জাতিক খেলায় টাটা- এসএমএল চুক্তি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    একসময় বলা হত, ভারত কেবল সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে, হার্ডওয়্যার বা ম্যানুফ্যাকচারিং করা ভারতের কম্ম নয়। কিন্তু আজ টাটা, পিএসএমসি এবং খোদ এএসএমএল-এর এই ত্রিবেণী সঙ্গম প্রমাণ করে দিল— ভারত এবার চিপ ডিজাইনের পাশাপাশি চিপ উৎপাদনেও বিশ্বনেতা হতে প্রস্তুত। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছেন, তা আর কেবল কাগজে বা স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে ধোলেরার মাটিতে।

  • India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) রবিবার ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কিছু বোকা মানুষের মন্তব্য” কখনও আমেরিকার (India-US Relation) প্রকৃত চরিত্রকে তুলে ধরে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে গোটা দেশের মানসিকতা বলে মনে করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বোকা কথা বলে। এগুলোর অনেকই ট্রোল বা বট অ্যাকাউন্ট থেকেও হতে পারে।”

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত

    রুবিও আরও বলেন, “এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। বিশ্বের সব দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ খারাপ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে থাকে। কিন্তু কয়েকজনের বক্তব্য দিয়ে পুরো আমেরিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি দেশ। একইসঙ্গে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভারতকে ভালোবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। যদি তিনি ভারতকে গুরুত্ব না দিতেন, তাহলে আমাকে এখানে পাঠাতেন না।”

    ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মার্কো রুবিও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পরমাণু সহযোগিতা এবং মাদক পাচার রুখতে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদিক সম্মেলনও করেন তাঁরা। সেখানেই চিন ও ভারত সফরের তুলনা করতে গিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাঁর কথায়, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।”

    পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন!

    এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটি থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রুবিও বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। সেই উদ্বেগ তাদের সবসময়ই রয়েছে।”

    অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক

    রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গেও এক মেগা বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। উল্লেখ্য, রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব হওয়ার পাশাপাশি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) দায়িত্বেও রয়েছেন। ফলে দুই দেশের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে লিখেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ট্রাস্ট’ (TRUST বা Transforming the Relationship Utilising Strategic Technology) উদ্যোগ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রকল্পটির তদারকি সরাসরি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (অজিত ডোভাল ও মার্ক রুবিও) অফিস থেকে করা হচ্ছে। এর অধীনে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত আধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করছে:

    • ● সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): দুই দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই প্রযুক্তির আদানপ্রদান।
    • ● কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও মহাকাশ: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং স্পেস বা মহাকাশ গবেষণায় যৌথ কোলাবোরেশন।
    • ● গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়োটেকনোলজি: ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ এবং জৈবপ্রযুক্তি।
    • ● এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ: এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ভারতে মার্কিন প্রযুক্তির এআই সিস্টেমের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

    নজরে ইন্দো-প্যাসিফিক ও সন্ত্রাসবাদ দমন

    বৈঠকের পর ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকেও এক্স-এ এক পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার বিষয়ে দুই এনএসএ-ই নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের আসল ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি। আগামিকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘কোয়াড’ (QUAD Foreign Ministers’ Meeting) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে এই মেগা সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন আমেরিকার মার্কো রুবিও ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা।

LinkedIn
Share