Tag: PM Modi

PM Modi

  • PM Modi: “ভারত শান্তি চাইলেও, পাকিস্তান চিরকাল ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে”, সাক্ষাৎকারে বললেন মোদি

    PM Modi: “ভারত শান্তি চাইলেও, পাকিস্তান চিরকাল ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে”, সাক্ষাৎকারে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত সব সময় শান্তি চেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান (Pakistan) তার বদলে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে।” এক মার্কিন পডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানোর অভিযোগেও পাকিস্তানকে দুষেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি প্রচেষ্টা সম্মুখীন হয়েছে তার প্রতিবেশীর শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার। যার জন্য দেশটি পুরো বিশ্বের জন্য অশান্তির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার (PM Modi)

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের সময়ই। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন লেক্স ফ্রিডম্যান। ঘণ্টা তিনেকের ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় রবিবার। সেখানে তিনি জানান, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার সময় পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানকে। ইসলামাবাদের সঙ্গে যাতে নতুনভাবে সম্পর্ক শুরু করা যায়, তাই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পাকিস্তানকে। কিন্তু শান্তি ফেরানোর প্রতিটি চেষ্টার বদলে অপর প্রান্ত থেকে মিলেছে বিরোধিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা।

    শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতা

    লাহোর সফরের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) জানান, ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি মহৎ প্রচেষ্টা শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে প্রতিহত হয়েছে।” ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ না বেছে নেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্তও করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশভাগ একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক পর্ব ছিল। তবে ভারত দেশভাগকে মেনে নিয়ে এগোতে শুরু করে।” কিন্তু পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ বেছে নেয়নি বলেও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, তারা (পাকিস্তান) নিজেদের মতো করে থাকবে, আমাদেরও আমাদের মতো করে থাকতে দেবে। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এগোয়নি। বার বার তারা ভারতের বিরুদ্ধে গিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে (Pakistan)।”

    প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস

    প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মোদির (PM Modi) এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে যখন কোয়েটা-পেশোয়ার ট্রেনে বালোচ বিদ্রোহীরা প্রাণঘাতী হামলা ও পণবন্দি প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য আরও জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ শান্তির পক্ষে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আশা করি তাদের (পাকিস্তানের) শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা শান্তির পথ বেছে নেবে। আমি বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও শান্তি চান। কারণ তাঁরাও এই বিবাদ ও অস্থিরতার মধ্যে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই অবিরাম চলতে থাকা সন্ত্রাসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, যেখানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, এমন কী নিরীহ শিশুরাও মারা যাচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করতে বার বার চেষ্টা করেছেন তিনি।

    প্রশ্ন যখন সন্ত্রাসবাদ

    সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নেও পাকিস্তানকে বেঁধেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এর জন্য শুধু ভারতই নয়, গোটা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশ্বের যেখানেই জঙ্গি হামলা হোক না কেন, কোনও না কোনওভাবে তার যোগসূত্র মেলে পাকিস্তানে। ৯/১১ হামলার ঘটনাই দেখুন না, ওই হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেন। তিনি কোথা থেকে এলেন? তিনি পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদী মানসিকতা পাকিস্তানের গভীরে গেঁথে রয়েছে এবং গোটা বিশ্ব আজ বুঝতে পারছে (Pakistan)।” ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস থেকে (PM Modi) ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের সামান্য যোগসূত্রটুকুও ছিঁড়ে যায়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ হয় ওই মাসে। তার পরেই পাক সরকার ভারতের হাই কমিশনারকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। পাকিস্তানও তার নবনিযুক্ত হাই কমিশনারকে নয়াদিল্লিতে পাঠায়নি।

    ভারত-চিন সম্পর্ক

    পডকাস্টে, ভারত-চিন সম্পর্ক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে চলা সীমান্ত বিরোধের কথা স্বীকার করে নেন। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তবে, প্রেসিডেন্ট শি-জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার সাম্প্রতিক বৈঠকের পর সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। আমরা এখন ২০২০ সালের আগের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছি।” তাঁর বিশ্বাস, আস্থা গঠনের প্রচেষ্টা অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে।

    প্রসঙ্গত, মোদির (PM Modi) এই সাক্ষাৎকার যখন সম্প্রচারিত হচ্ছে, তখন ভারতের বার্ষিক বহুপাক্ষিক সম্মেলন রাইসিনা ডায়লগে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে হাজির শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীও। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে শান্তি প্রচেষ্টার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং উভয় পক্ষ আলোচনার (Pakistan) টেবিলে এলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে (PM Modi)।”

  • PM Modi: ‘‘আরএসএসের কাছে থেকেই পেয়েছি জীবনের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ’’, ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘আরএসএসের কাছে থেকেই পেয়েছি জীবনের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ’’, ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার নয়াদিল্লিতে বিখ্যাত মার্কিন পডকাস্টার ফ্রিডম্যানকে সাক্ষাৎকার দেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর জীবন, দর্শন, রাজনৈতিক যাত্রা এবং প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) হওয়ার ঘটনা। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গভীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, সাক্ষাৎকারের পরে ফ্রিডম্যান (Fridman Podcast) জানান, এটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী কথোপকথন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবনে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয়বার পডকাস্টের সাক্ষাৎকার। প্রথমবার তিনি এই ধরনের পডকাস্টে অংশগ্রহণ করেন চলতি বছরেই নিখিল কামাথের সঙ্গে। রবিবারের সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর জীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গভীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

    জনসেবাই হল ভগবানের সেবা, শেখায় আরএসএস, পডকাস্টে বললেন মোদি

    তিনি (PM Modi) বলেন, ‘‘আমার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল আরএসএস।’’ তাঁর মতে, ‘‘আরএসএস-এ যোগ দিয়ে আমি জীবনের নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পাই। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলাম যে এই সময়টা আমি সন্ত-মহাত্মাদের সঙ্গে কাটাতে পারতাম। যেটা আমার জীবনে একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিকতার দিক রচনা করতে পেরেছিল। আমি এখান থেকেই জীবনের শৃঙ্খলা বুঝতে পেরেছিলাম এবং উদ্দেশ্যও বুঝতে পেরেছিলাম।’’ তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে বুঝতে হলে এর কর্মপদ্ধতিকে জানতে হবে। দেশই আমাদের কাছে সবকিছু, জনসেবাই হল ভগবানের সেবা। এটাই শেখায় সংঘ।’’

    তরুণ বয়সে আমার হিমালয় যাত্রা জীবনকে নতুন গতি দিয়েছিল

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), তাঁর জীবনের বিভিন্ন বিষয়গুলিকে আলোচনা করেন। তিনি জানান, উপবাসের তাৎপর্য সম্পর্কে। এই উপবাসের ব্রত কীভাবে জীবনে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাপরায়ণতা শেখায় তাও তিনি বলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘তরুণ বয়সে আমার হিমালয় যাত্রা জীবনকে নতুন গতি দিয়েছিল এবং ব্যক্তিত্বেরও পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।’’ একইসঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর রাজনৈতিক ও আদর্শের কর্মকাণ্ডেরও কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ, দেশের বিবিধতা, মহাত্মা গান্ধী এবং নানা আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপরেও তিনি কথা বলেন।

    কীভাবে জুড়লেন আরএসএস-র সঙ্গে?

    শৈশবে তিনি কীভাবে আরএসএস-র সঙ্গে জুড়লেন সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামে একটা শাখা চলত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের। যেখানে আমরা প্রতিদিন নিয়মিত খেলা করতাম এবং দেশাত্মবোধক গান গাইতাম। এই গানগুলি আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এগুলি আমার ভিতরে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সবচেয়ে বড় কথা আরএসএস আমার মধ্যে একটি কর্তব্যবোধকে জাগিয়ে তুলেছিল। তুমি যাই করো তার জন্য একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকতে হবে। যদি তুমি পড়াশোনা করো তাহলে সেই ভাবেই পড়াশোনা করো। যাতে তুমি যথেষ্ট শিখতে পারো এবং দেশকে কিছু দিতে পারো। যখন তুমি শারীরিক অনুশীলন করবে তখন তুমি সেটা এমন ভাবে করো যেন তোমার শরীর শক্তিশালী হয় এবং তা দেশের কাজে লাগে। এটাই আমাদের শেখানো হত। আজকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একটি মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠন ১০০ বছরে পা দিতে চলেছে। এমন বৃহৎ সংগঠন পৃথিবীর কোথাও দেখা যায় না। কোটি কোটি মানুষ এই সংগঠনের সঙ্গে জুড়েছেন কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে বোঝা অত সহজ নয়।’’

    আরএসএস-এর সেবা কাজ

    তিনি আরও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো সংগঠনের কাছ থেকে জীবনের মূল্যবোধ শিখতে পেরে আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন বলেন, ‘‘নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়েও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ সমাজসেবা করে। একজন সত্যিকারের স্বয়ংসেবককে শুধুমাত্র তাঁর পোশাক বিধি দেখে অথবা তাকে সংঘের বৈঠকগুলিতে দেখে বোঝা যায় না। তাঁদেরকে আমরা বুঝতে পারি সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান দেখেই।’’ এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন সেবা ভারতীর উদাহরণ। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একটি শাখা হল সেবা ভারতী। এই সেবা ভারতী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং বস্তি এলাকাগুলিতে কীভাবে সেবা কাজ চালাচ্ছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সেবা ভারতী বর্তমানে ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি প্রকল্প চালাচ্ছে এবং এই সমস্ত প্রকল্পগুলি দেশজুড়ে চলছে। কোনও রকম সরকারি সহায়তা ছাড়াই। স্থানীয় মানুষজনদের সহায়তায় এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জীবনের কর্তব্যবোধ, প্রভৃতি নানা বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’

    শিক্ষাক্ষেত্রে আরএসএস

    শিক্ষা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ভূমিকা সম্পর্কে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আরএসএস সব সময় মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেয়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অনুসরণ করে আমাদের বৈদিক ঋষিরা এবং স্বামী বিবেকানন্দ ঠিক যেভাবে শিক্ষাদান করতে বলেছিলেন সেই পদ্ধতিকে। সংঘের স্বয়ংসেবকরা তৈরি করেছেন বিদ্যা ভারতী, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে এবং বর্তমানে সারা দেশে ৭০ হাজারেরও বেশি স্কুল চালাচ্ছে এই সংগঠন। এর মাধ্যমে ৩০ লাখেরও বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন আরও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং সন্তদের জীবনের সঙ্গে মিশতে পেরে আমি জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমাকে খুব সাহায্য করেছিলেন স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ।’’ নিজের জীবনে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন ও স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

  • PM Modi: ‘‘স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে’’, মার্কিন পডকাস্টারকে বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে’’, মার্কিন পডকাস্টারকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে! মার্কিন জনপ্রিয় পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে আলোচনায় এমনটাই জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। রবিবারই মোদির (PM Modi) সঙ্গে ফ্রিডম্যানের পডকাস্ট শো-কে ব্রডকাস্ট হয়। সেখানেই তাঁর জীবনে স্বামীজির প্রভাবের কথা তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলায় গ্রামের পাঠাগারে নিয়মিত যেতাম আমি। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে পড়াশোনা করতাম। স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘স্বামীজির লেখা এবং স্বামীজির জীবনী পড়ে উপলব্ধি করি, জীবনে সত্যিকারের পরিপূর্ণতা ব্যক্তিগত সাফল্যে নয়, অন্যের প্রতি স্বার্থহীন সেবার মাধ্যমে।’’

    বড় হয়েছি প্রচুর কষ্টের মধ্যে!

    মুখোমুখি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন বললেন নিজের শৈশবের ছোট গল্পগুলোকে। জানালেন কীভাবে দারিদ্রতার মধ্য়ে দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর জীবনের অভাব কখনও তাঁর কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি বলেই দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তাঁর কথায়, ‘‘প্রচুর কষ্টের মধ্য়ে বড় হতে হলেও, কখনও বঞ্চনা শিকার হতে হয়নি আমাকে। মানুষের স্নেহেই কেটে গিয়েছিল জীবনের অর্থাভাব।’’

    সাদা চক দিয়ে জুতো পরিষ্কার করতাম!

    এরপর তিনি (PM Modi) আরও বলেন, ‘‘ছেলেবেলায় আমার কাকা আমাকে একটা সাদা রঙের জুতো দিয়েছিল। অন্যদের কাছে জুতো পরিষ্কারের সামগ্রী থাকলেও, আমার কাছে তা ছিল না। তাই স্কুলের ফেলে দেওয়া চকগুলোকে দিয়ে সেই সাদা জুতো ঝাঁ চকচকে রাখার চেষ্টা করতাম। অর্থাভাবকে কখনওই আমি সংগ্রাম হিসাবে দেখিনি।’’ রবিবারের সন্ধ্যায় মার্কিন পডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনায় একের পর বড় চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুনিয়া খ্যাত মার্কিন পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্য়ানের সঙ্গে মুখোমুখি বসলেন ১৪০ কোটির দেশের প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন আর্টিফিশিয়াল রিসার্চার ফ্রিডম্য়ানের সঙ্গে আলোচনা বসে নিজের শৈশব থেকে রাজনীতি, সব পর্বই তুলে ধরলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গুজরাটের ভাটনগরে জন্ম হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির। তাঁর শৈশব কেটেছে অত্যন্ত দারিদ্রতার সঙ্গেই। এই আবহে জারি থেকেছে পড়াশোনা। এরপর কিশোর বয়স থেকেই জুড়েছে আরএসএস-র কাজে। এদিন মার্কিন পডকাস্টারের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় ছেলেবেলার সেই দিনগুলির কথাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • PM Modi: এপ্রিলের প্রথমেই শ্রীলঙ্কা সফরে মোদি, স্বাক্ষর হবে একাধিক মউ, উদ্বোধন করবেন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের

    PM Modi: এপ্রিলের প্রথমেই শ্রীলঙ্কা সফরে মোদি, স্বাক্ষর হবে একাধিক মউ, উদ্বোধন করবেন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী এপ্রিল মাসের গোড়ায় শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। গতকাল শনিবার এমনটাই জানানো হয়েছে কলম্বোর তরফে। যদিও নয়াদিল্লি এবিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, এপ্রিল মাসের শুরুতেই দ্বীপরাষ্ট্র সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গিয়েছে, এই সফরে শ্রীলঙ্কার পূর্ব ত্রিঙ্কোমালি জেলার সামপুরে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনও করবেন মোদি। এই সফরে শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয়ে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করারও কথা রয়েছে।

    কী বললেন শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী?

    নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। শনিবার পেশ করা হয় শ্রীলঙ্কার বাজেট। সেই বাজেট অধিবেশনেই এমনটাই জানালেন শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন,‘‘আমরা ভারতের সঙ্গে বরাবরই মিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। সরকার গঠনের পরেই আমাদের প্রথম কূটনৈতিক সফর হয়েছিল ভারতের উদ্দেশেই। এবার সেদেশের প্রধানমন্ত্রী এপ্রিল নাগাদ শ্রীলঙ্কায় আসছেন।’’ প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর গত বছরই প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী অনুরাকুমার দিশানায়েকে। সেই সফরে একাধিক বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয় দিল্লি এবং কলম্বোর মধ্যে। শ্রীলঙ্কার প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই সফরে সেই সমঝোতা আরও পাকাপোক্ত হতে চলেছে।

    ক্ষমতায় আসার পরে মোদির চতুর্থ শ্রীলঙ্কা সফর

    ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্মত হয়েছিল এনটিপিসি। জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে সেই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরই উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসেন ২০১৪ সালে। ঠিক তার পরের বছরেই অর্থাৎ ২০১৫ সালে তিনি প্রথম শ্রীলঙ্কা সফর করেন। এরপর ২০১৭ ও ২০১৯ সালেও তিনি শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলেন এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ শ্রীলঙ্কা সফর হতে চলেছে।

  • PM Modi: কেন্দ্রের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি, মোদির নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের সঙ্গী ভারত

    PM Modi: কেন্দ্রের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি, মোদির নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের সঙ্গী ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মরিশাসে (Modi in Mauritius) ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ভারত। সেখানে সিভিল সার্ভিস কলেজ ও এরিয়া হেল্থ সেন্টার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুটি প্রতিষ্ঠান তৈরির ক্ষেত্রেই ভারতের বড় ভূমিকা আছে। বিভিন্ন দেশে ভারত উন্নয়নের পথে কীভাবে সঙ্গী হচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার মিলেছে মরিশাসের এই প্রজেক্টে। বিশ্ববাসীর কল্যাণে বারবার প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের সঙ্গী হয়েছে ভারত। এবার সেই পথির পথিক হল মরিশাস।

    সিভিল সার্ভিস কলেজ উদ্বোধন

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বুধবার মরিশাসের পোর্ট লুইসে অটল বিহারি বাজপেয়ী সিভিল সার্ভিস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেছেন। যা ভারতের অনুদান সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এই সিভিল সার্ভিস কলেজ এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ভারত-মরিশাস (Modi in Mauritius) বন্ধুত্বের প্রমাণ। সে দেশের প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য সেবার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভারত যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা এই প্রকল্পটির মাধ্যমেই বোঝা যায়। এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সকলের জন্য সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সবসময় দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর ইচ্ছাতেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সহায়তায় একাধিক প্রধান উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হয়েছে।

    ভুটানে হাসপাতাল

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের সঙ্গী হিসেবে ভারতের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একাধিক দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নির্মাণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত। ভুটানে গিয়াল্টসুয়েন জেতসুন পেমা ওয়াংচুক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটাল তৈরির ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য করেছিল ভারত। সেই প্রজেক্টের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। মূলত মা ও সদ্যোজাত সন্তানের জন্যই তৈরি এই হাসপাতাল। ২০২৪-এ সেই হাসপাতাল উদ্বোধন করেন মোদি।

    বাংলাদেশে সহায়তা

    ২০২৩ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আখাউরা-আগরতলা ক্রস বর্ডার রেল লিঙ্ক, খুলনা-মোংলা পোর্ট রেল লাইন, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্বোধন হয়েছিল ওই বছর। তার আগে ২০২২ সালে জয়নগর-কুরথা রেলওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন মোদি। সঙ্গে ছিলেন নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। এটাই ছিল ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রথম রেল যোগাযোগ।

    দ্বীপরাষ্ট্রগুলির উন্নতিতে পাশে ভারত

    ২০২১ সালে সেশেলস-এর প্রেসিডেন্ট রামকালওয়ানের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বিল্ডিং উদ্বোধন করেন মোদি (PM Modi)। সেই প্রকল্পে ৩৫ লক্ষ ডলার সাহায্য করেছিল ভারত। এছাড়া ২০২০ সালে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী যুগনাথের সঙ্গে যৌথভাবে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের বিল্ডিং উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাঁরা মেট্রো এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কায় জাফনা কালচারাল সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মোদি। শ্রীলঙ্কাকে চরম আর্থিক সঙ্কটের সময় ভারত অনেক সাহায্য করেছে। ওই বছরই আফগান পার্লামেন্টের উদ্বোধন করেন তিনি। ২০১৬ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আফগান-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ ড্যাম (সলমা ড্যাম) উদ্বোধন করেছিলেন, যা আফগানিস্তানে ভারতীয় সহায়তায় নির্মিত হয়।

    প্রতিবেশী প্রথম নীতি

    ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিবেশী (Neighbor First) সব দেশের সরকার প্রধানরা ভারতে আসেন। মোদিও প্রধানমন্ত্রী পদে বসে প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেন। তার এ সফর থেকে বোঝা গিয়েছিল, ভারতের বিদেশনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি গুরুত্ব থাকবে সবচেয়ে বেশি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নীতিকে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নাম দেয় নয়াদিল্লি। ভারত সরকার চেয়েছিল আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মলদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে। ভৌগোলিকভাবে যারা ভারতের চেয়ে দূরে (সে আমেরিকাই হোক বা নাইজেরিয়া) তাদের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘরের কাছের পড়শিদের (শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল প্রভৃতি) সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত বেশি গুরুত্ব দেবে এবং তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে– এটাই হল ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’-এর সার কথা। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশনীতির মূল স্তম্ভ এটাই। প্রতিবেশী প্রথম এই নীতিতেই চলে ভারত। প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে সবসময় ভারত সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছে।

  • Dandi March Day: “ডান্ডি মার্চ আজও অনুপ্রাণিত করে”, ৯৫তম বার্ষিকীতে লবণ সত্যাগ্রহকে স্মরণ মোদির

    Dandi March Day: “ডান্ডি মার্চ আজও অনুপ্রাণিত করে”, ৯৫তম বার্ষিকীতে লবণ সত্যাগ্রহকে স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডান্ডি মার্চ অর্থাৎ লবণ সত্যাগ্রহ (Dandi March Day) ছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঔপনিবেশিক ভারতে অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন। ২০২৫ সালের ১২ মার্চ পালন করা হচ্ছে ৯৫তম ডান্ডি মার্চ। লবণ সত্যাগ্রহ নামেও পরিচিত ডান্ডি অভিযান। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক শুরু হয়েছিল ডান্ডি পদযাত্রা। এই পদযাত্রাটি আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে শুরু হয়েছিল এবং গুজরাটের ডান্ডি গ্রাম পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

    ডান্ডি-মার্চকে স্মরণ প্রধানমন্ত্রী মোদির

    ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ থেকে ১৯৩০ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী ডান্ডি মার্চ (Dandi March Day) ছিল ব্রিটিশ লবণের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক কঠোর অভিযান। বুধবার, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ডান্ডি মার্চে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “আজ আমরা ঐতিহাসিক ডান্ডি মার্চের সকল অংশগ্রহণকারীদের শ্রদ্ধা জানাই, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অমোঘ অধ্যায়। মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক পরিচালিত এই মার্চ দেশব্যাপী আত্মনির্ভরতা এবং স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনকে উজ্জীবিত করেছিল। ডান্ডি মার্চের অংশগ্রহণকারীদের সাহস, ত্যাগ এবং সত্য ও অহিংসার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি আজও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।”

    ডান্ডি মার্চ-এক শক্তিশালী অবস্থান

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও এক্স-এ লিখে ডান্ডি মার্চকে (Dandi March Day) ঐতিহাসিক বলে সম্মান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ডান্ডি মার্চ দিবসে, আমরা মহাত্মা গান্ধীর উপনিবেশ বিরোধী সাহসী অবস্থানকে সম্মান জানাই। তাঁর ঐতিহাসিক লবণ মার্চ একটি আন্দোলনকে জন্ম দেয় যা ভারতের স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ডান্ডি মার্চের ৯৫তম বার্ষিকীতে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক্স-এ বলেছেন, “১৯৩০ সালের এই দিনে, গান্ধীজি লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ডান্ডি মার্চ শুরু করেছিলেন। এই সাহসী পদক্ষেপটি হাজার হাজার মানুষকে একত্রিত করে, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

  • PM Modi: এনিয়ে ২১টি দেশের! এবার মরিশাসের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত মোদি

    PM Modi: এনিয়ে ২১টি দেশের! এবার মরিশাসের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) ‘গ্র্যান্ড কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অ্যান্ড কি অফ দ্য ইন্ডিয়ান ওশান’ সম্মানে ভূষিত করল মরিশাস (Mauritius Highest National Award)। প্রসঙ্গত, এটাই হল মরিশাসের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান। মঙ্গলবার, ১১ মার্চ মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম এই সম্মান প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর আগেও বিভিন্ন দেশে সফরে গিয়ে সেই সব দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ নিয়ে ২১টি দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    এই সম্মান ভারত ও মরিশাসের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধনের, বললেন মোদি

    বর্তমানে মরিশাস সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মঙ্গলবারই পোর্ট লুইসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি মোদি এবং রামগুলাম। সেখানেই সম্মান প্রদানের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সে সময় গোটা সভাঘর করতালিতে ফেটে পড়ে। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী রামগুলাম জানান, ১৯৯২ সালের ১২ মার্চ মরিশাস প্রজাতন্ত্রে পরিণত হওয়ার পর, পঞ্চম বিদেশি নাগরিক হিসেবে এই সম্মান পাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রথম যে বিদেশি নাগরিক হিসেবে এই সম্মান পেয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মরিশাসের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান প্রদানের জন্য মরিশাসের জনগণ এবং সেই দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিনীতভাবে এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি। এই সম্মান ভারত ও মরিশাসের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধনের।’’

    ভোজপুরী ভাষায় প্রবাসীদের সম্বোধন, প্রশংসা করলেন মাখনার

    মরিশাসে এদিন প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে বড় অংশই ছিল বিহারের বাসিন্দা। তাই নিজের বক্তব্যের কিছুটা অংশ ভোজপুরি ভাষায় তিনি রাখেন। বিহারের জনপ্রিয় খাবার মাখনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ব্যক্ত করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে মোদি (PM Modi) বলেন, ‘‘বিহারের প্রধান খাবার মাখনা, বিশ্বব্যাপী খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যখন বিশ্ব খাবারের তালিকা স্থান পাবে মাখনা।’’ মোদি যখন এমন বক্তব্য রাখেন তখন করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা হল। ভোজপুরি ভাষায় জনতার উদ্দেশে মোদি জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আপনারা সবাই ভালো আছেন তো! আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পেরে খুব আনন্দিত।’’ এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি বিহারের সঙ্গে আপনাদের মানসিক সংযোগ বুঝতে পারি। বিশ্বের অন্যান্য অংশে যখন শিক্ষার আলো পৌঁছায় নি তখন একমাত্র বিহারের নালন্দাই বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান ছিল। মরিশাসে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষ এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাই এখানে একটি মিনি ইন্ডিয়া তৈরি হয়েছে।’’

  • PM Modi: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশন, মরিশাসে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে

    PM Modi: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশন, মরিশাসে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi)। মঙ্গলবার মরিশাসে (Mauritius) পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে মহিলারা বিহারের ঐতিহ্যবাসী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা গীত গবাই পরিবেশন করে স্বাগত জানান। গীত গবাই হল একটি ঐতিহ্যবাহী ভোজপুরী সঙ্গীত পরিবেশনা। ভিন দেশে ‘দেশীয়’ অভ্যর্থনা পেয়ে যারপরনাই আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী।

    মরিশাসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “মরিশাসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি গভীরভাবে অভিভূত। তাঁদের ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের প্রতি গভীর সংযোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ইতিহাস ও হৃদয়ের এই বন্ধন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে।” ট্যুইট-বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মরিশাসে স্মরণীয় সংবর্ধনা। এর মধ্যে অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ, যা ‘গীত গবাই’ পরিবেশনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। মরিশাসের সংস্কৃতিতে ভোজপুরী ভাষার সমৃদ্ধি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

    ভারত মাতার জয়ধ্বনি

    এদিন মরিশাসের হোটেলে পৌঁছানোর পর, ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। হোটেলের কর্মীরাও ভারত মাতার জয়ধ্বনি দেন। ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। ২০১৬ সালে গীত গবাই অন্তর্ভুক্ত হয় ইউনেস্কোর তালিকায়। স্বীকৃতি পায় এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। সঙ্গীতজ্ঞদের মতে, গীত গবাই জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে (PM Modi)। এটি দেবতাদের স্তব ও আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয়। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগোলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মালা পরিয়ে স্বাগত জানান।

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “মরিশাসে অবতরণ করলাম। আমার বন্ধু, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী ডঃ নবীনচন্দ্র রামগোলামের এই বিশেষ স্বাগত জানানোয় আমি কৃতজ্ঞ। এই সফরটি আমার জন্য একজন মূল্যবান বন্ধুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের একটি দারুণ সুযোগ।” তিনি আরও লেখেন, “আজ, আমি প্রেসিডেন্ট ধরম গোখুল, প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগোলামের  সঙ্গে সাক্ষাৎ করব এবং সন্ধ্যায় একটি কমিউনিটি প্রোগ্রামে ভাষণ দেব।” এদিন রামগোলামের সঙ্গে ছিলেন মরিশাসের (Mauritius) উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধী দলনেতা, বিদেশমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সচিব, গ্র্যান্ড পোর্ট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন এবং আরও অনেকে (PM Modi)।

  • PM Modi in Mauritius: রামায়ণের যুগ থেকে ভারত-মরিশাস সম্পর্ক, দু-দিনের সফরে দ্বীপরাষ্ট্রে মোদি

    PM Modi in Mauritius: রামায়ণের যুগ থেকে ভারত-মরিশাস সম্পর্ক, দু-দিনের সফরে দ্বীপরাষ্ট্রে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে মরিশাসে (Mauritius) পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Mauritius)। ১২ মার্চ মরিশাসের জাতীয় দিবসে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেবেন মোদি। মঙ্গলবার ভোরে মরিশাসের স্যার সিউওসাগুর রামগুলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম। মরিশাসে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। ভারত ও মরিশাসের মধ্যে শক্তিশালী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে মোদির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রামগুলাম এটিকে তাঁর দেশের জন্য বিশেষ সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, যে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

    মরিশাসে একগুচ্ছ কর্মসূচি

    মরিশাসের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক। দুই দেশের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক মেলবন্ধন রয়েছে। আর রয়েছে ভারত মহাসাগর। মরিশাস যেন ‘মিনি ইন্ডিয়া’। ১২ মার্চ সেদেশের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবারই দু-দিনের সফরে দ্বীপরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন মোদি (PM Modi in Mauritius)। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম, উপপ্রধানমন্ত্রী, মুখ্য বিচারক, স্পিকার, বিরোধী দলনেতা-সহ মরিশাসের ২০০ জন পদাধিকারিক মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির মরিশাস সফর, তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, মরিশাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের আর্থিক সহায়তায় ২০টির বেশি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মোদি। নরেন্দ্র মোদির এই মরিশাস সফরে ভারত ও মরিশাসের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উন্নয়নে অংশীদারিত্ব, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং দু দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মতো একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    মোদির সঙ্গে মরিশাসের সম্পর্ক

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi in Mauritius) সঙ্গে মরিশাসের সম্পর্ক বহু দিনের। তখনও তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীও হননি। মরিশাস সফরে গিয়ে সবার মন জয় করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই মরিশাস সফরের কথা এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন মোদি। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, একশো বছরেরও বেশি আগে ভারতের বহু নাগরিক শ্রমিক হিসেবে মরিশাসে যান। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তুলসীদাসের রামায়ণ, হনুমান চালিশা। হিন্দি ভাষা মরিশাসের অন্যতম ভাষা হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালের ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মরিশাসের মোকাতে ছিলেন মোদি। সেখানে ‘ইন্টারন্যাশনাল রামায়ণ কনফারেন্স’-এ যোগ দিয়েছিলেন। সেইসময় বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোদি। ভারত ও মরিশাসকে এক সূত্রে বাঁধতে রামায়ণ কীভাবে সেতুর কাজ করেছে, ওই কনফারেন্সে তা তুলে ধরেছিলেন মোদি।

    ভারত-মরিশাস সম্পর্ক

    মরিশাসের সঙ্গে সেই সুপ্রাচীন কাল থেকেই ভারতের আত্মিক সম্পর্ক। দুদেশের সম্পর্কের সেতু রামায়ণ। আজও সেদেশে সমান জনপ্রিয় তুলসীদাসের রামায়ণ এবং হনুমান চালিশা। মরিশাসের অন্যতম প্রধান ভাষা হিন্দি। এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের জনসংখ্যা ১৩ লক্ষেরও বেশি। যা কিনা এই দ্বীপের জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। উল্লেখ্য ১৯৭৬ সাল থেকে মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট দুদেশের সংস্কৃতির প্রচারের জন্য একটি যৌথ মঞ্চ হিসেবে আজও কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশা কুটনীতিকদের। প্রসঙ্গত চিনা হুমকির কথা মাথায় রেখে ভারত মহাসাগরের বুকে মরিশাসে ভারত একটি বন্দরও গড়ে তুলেছে। সেখানকার পোর্ট লুইসে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য মোতায়নও রাখবে নয়া দিল্লি।

    মরিশাসের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক

    সিঙ্গাপুরের পর মরিশাস ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারও বটে। বর্তমানে মরিশাস-ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন, নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স কর্পোরেশন, টেলিকমিউনিকেশনস কনসালটেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড, ইন্ডিয়ান অয়েল (মরিশাস) লিমিটেড, মহানগর টেলিফোন (মরিশাস) লিমিটেড, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (মরিশাস) সহ ১১ টি ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রয়েছে সেদেশে। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ গবেষণা সহ একাধিক প্রকল্পে মরিশাসকে সহযোগিতা করছে ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং মরিশাস রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন কাউন্সিল যৌথ উপগ্রহ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষরও করেছে। বর্তমানে মরিশাসে সাড়ে ৮৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যায়ে ভারতের সহযোগিতায় গড়ে উঠছে মেট্রো এক্সপ্রেস প্রকল্প, সুপ্রিম কোর্ট বিল্ডিং তৈরি, নতুন হাসপাতাল সহ একাধিক প্রকল্প। কোভিডের সময়ও মরিশাসকে ভ্যাকসিন দিয়ে সাহায্য করেছিল ভারত।

  • ICC Champions Trophy: শুভেচ্ছা বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে অবসর জল্পনায় জল রোহিতের

    ICC Champions Trophy: শুভেচ্ছা বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে অবসর জল্পনায় জল রোহিতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনই খেলা ছাড়ছেন না, বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেট। এটাই তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাট। খেলতে পারেন ২০২৭ বিশ্বকাপেও। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (ICC Champions Trophy) জিতে অবসরের জল্পনায় জল ঢাললেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। সেরা ছেলেদের হাতেই রেখে যাবেন ভারতীয় ক্রিকেটের দায়িত্ব, ম্যাচ শেষে শুভমন গিলকে পাশে নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা কিং কোহলির (Virat Kohli)। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতল ভারত। রোহিত শর্মারা জেতার পরেই শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা

    ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এক্স মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “একটা অসাধারণ খেলা। একটা অসাধারণ ফল। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেশে নিয়ে আসায় ক্রিকেট দলকে নিয়ে গর্বিত। গোটা প্রতিযোগিতায় সকলে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। এই সাফল্যের জন্য দলের প্রত্যেককে অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্রিকেট প্রেমের কথা আগেও চোখে পড়েছে। এবারও রোহিতদের সাফল্য উচ্ছ্বসিত মোদি।

    ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল

    চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (ICC Champions Trophy) জয়ের কৃতিত্ব দলের সকলকে ভাগ করে দিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার জন্য ভারতীয় দলকে হৃদয় থেকে শুভেচ্ছা। ভারত একমাত্র দল যারা তিন বার এই প্রতিযোগিতা জিতল। এই ইতিহাস তৈরি করার জন্য দলের ক্রিকেটার, ম্যানেজমেন্ট, সাপোর্ট স্টাফদের ধন্যবাদ। ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।” আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah) টুইটারে দলের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “একটি অত্যন্ত দৃঢ়সংকল্পিত নিউজিল্যান্ড (India vs New Zealand) দলের বিরুদ্ধে ভারতের অসাধারণ পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। পুরুষদের ক্রিকেটে পরপর দুটি আইসিসি ট্রফি জয়ের জন্য অধিনায়ক রোহিত শর্মাকেও অভিনন্দন, গত বছরের টি২০ বিশ্বকাপের পর।”

    আগ্রাসী ক্রিকেটই পছন্দ রোহিতের

    সঞ্চালক ইয়ান বিশপের প্রশ্নের উত্তরে রোহিত বললেন, “দারুণ লাগছে জিততে পেরে। গোটা প্রতিযোগিতা জুড়েই আমরা ভালো খেলেছি। ফাইনালেও জেতার অনুভূতিটা বাকিগুলোর থেকে আলাদা। যে ভাবে খেলেছি সেটা বাড়তি তৃপ্তি দিচ্ছে। আগ্রাসী ক্রিকেটই পছন্দ।” এদিন এক সময় টানা উইকেট পড়লেও যে ভাবে কেএল রাহুল শেষ পর্যন্ত থেকে ম্যাচ বার করে দিয়েছেন তার প্রশংসা করেছেন রোহিত। একইসঙ্গে বোলার বরুণ চক্রবর্তীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। রোহিতের কথায়, “কেএলের মানসিকতা নিয়ে কী আর বলব। চাপে পড়লে কখনও সেটা দেখাতে ভালোবাসে না। আজ একাই ম্যাচটা শেষ করে এল। চাপের মুখে ঠিক যে শটটা খেলতে হবে সেটাই খেলে। বাকিদের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেয়। আজ যে রকম হার্দিককে খোলা মনে খেলতে দিল। আর, বরুণের মধ্যে আলাদা একটা ব্যাপার রয়েছে। এ ধরনের পিচে খেলতে গেলে ওর মতো বোলারদেরই দরকার।” কৃতজ্ঞতা জানালেন দুবাইয়ের দর্শকদেরও। রোহিত বললেন, “যাঁরা মাঠে এসে আমাদের সমর্থন করেছেন তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখানকার দর্শকরা বরাবরই অসাধারণ। দুবাই আমাদের ঘরের মাঠ নয়। কিন্তু সমর্থকদের জন্যই এটা ঘরের মাঠ হয়ে উঠেছিল।”

    চাপের মুখে খেলার জন্য মুখিয়ে তরুণরা

    মিনি বিশ্বকাপ জেতার পর বিরাট কোহলি বলেন, “এই জয়ের অনুভূতি অসাধারণ। আমরা অস্ট্রেলিয়া সফরের পর ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। একগুচ্ছ তরুণদের সঙ্গে খেলতে পেরে দারুণ লাগছে। ওরা ভালো ছন্দে রয়েছে। টিম ইন্ডিয়াকে সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছে। এতদিন ধরে খেলার পরও চাপের মুখে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকি। খেতাব জেতার জন্য পুরো টিম বিভিন্ন ম্যাচে নানাভাবে এগিয়ে এসেছে। এই ধরণের টুর্নামেন্ট এলে দলের সকলে জেতার কথাই ভাবে। আমাদের দলগত প্রচেষ্টার ফলে এই ট্রফি জিতলাম।” দলে একগুচ্ছ তরুণ ক্রিকেটার, এরাই ভারতের ভবিষ্যত। বিরাট বললেন, “দলের তরুণদের সঙ্গে আমি আমার অভিজ্ঞতা বরাবর শেয়ার করি। কীভাবে এতগুলো বছর ধরে আমি খেলেছি, কোন পরিস্থিতিতে কী করি, সবই ওদের সঙ্গে শেয়ার করি।”

    অবসরের ভাবনা জাদেজার!

    রোহিত-কোহলি (Rohit-Kohli) ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (ICC Champions Trophy) আগে অবসরের জল্পনা চলছিল রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়েও। দুবাইয়ে ১০ ওভার বল করেছেন জাডেজা। মাত্র ৩০ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। টম লাথামকে আউট করেন জাডেজা। তার পরেই দেখা যায়, কোহলি গিয়ে জাডেজাকে জড়িয়ে ধরেছেন। দু’জনের মধ্যে কিছু কথা হয়। সেই দৃশ্য নজরে পড়ে দর্শকদের। তার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর আগে খেলা চলাকালীন অশ্বিন ও স্মিথকেও জড়িয়ে ধরেছিলেন কোহলি। তারপরই তাঁরা অবসরের কথা জানান। তাই এদিন কোহলি-জাদেজা আলিঙ্গনেও বাড়ে জল্পনা। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েছেন জাদেজা। ভারতের টেস্ট দলে নিয়মিত খেলেন তিনি।

LinkedIn
Share