Tag: PM Modi’s Australia visit

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

LinkedIn
Share