Tag: Police Recruitment Board

  • Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং থানাগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে বড়সড় উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশে বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার পদ খালি রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর অভাবে একাধিক থানা সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নিয়োগ নয়, পুলিশের গাড়ি, থানার পরিকাঠামো, মহিলা থানা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিষেবায় পুলিশের পৌঁছনোর সময় কমানো—একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    প্রতি এক লক্ষে পুলিশ মাত্র ১০৬ জন!

    রাজ্যে পুলিশের লোকবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট কম বলেই দাবি করেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা অন্তত ২০০-তে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৪৩ হাজার শূন্যপদ পূরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পুলিশ পদ তৈরি করার সম্ভাবনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের জট কেটে গিয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।”

    মহিলা থানা ও সাইবার অপরাধে বাড়তি গুরুত্ব

    নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু। তবে শুধু তদন্ত নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সাইবার প্রতারণার ভয়াবহতা বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ হয়তো পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, নাতনিকে ডাক্তার করবেন বলে। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব টাকা চলে গেল।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় আসছে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন’

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করার জন্য সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ২০০ সদস্যের একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে ‘অর্জুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ৮০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দিনে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আমফানের সময় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ তুলে পুরনো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।” নতুন বাহিনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চার হাজার পুরনো পুলিশ গাড়ি বদলের পরিকল্পনা

    রাজ্য পুলিশের যানবাহনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ গাড়ি বদলানো প্রয়োজন। একসঙ্গে এতগুলি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পুরনো গাড়ি সরিয়ে নতুন গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”

    প্রতিটি থানায় ৪টি করে ‘১১২’ গাড়ি

    জরুরি পরিষেবায় পুলিশের ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে জরুরি ফোন পাওয়ার প্রায় ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলকাতায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাল হওয়ায় সাড়া দ্রুত মিললেও রাজ্যের বহু এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় পুলিশের গড় রেসপন্স টাইম প্রায় তিন ঘণ্টা। এই সময় কমাতে প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা নম্বর ‘১১২’-এর জন্য চারটি ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।” পরবর্তী বাজেটে থানাপিছু আরও দু’টি গাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    দুর্নীতিতে কড়া বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন শাখার কাজেও আরও নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন এবং পকসো আইনের আওতায় আসা অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।”

    পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা বাড়ল

    পুলিশ বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মাসে পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন তিনি। পুজোর মাসেই ৩৮ শতাংশ ডিএ-সহ আগাম বেতন দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ বছর চাকরি সম্পূর্ণ করা নিচুতলার পুলিশকর্মীদের নিজস্ব জেলা অথবা সংলগ্ন জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ঝাড়গ্রামের এক কনস্টেবলকে ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এসিবি অনেককে ধরছে, তার মধ্যে ঝাড়গ্রামে এক কনস্টেবলও ৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরা পড়েছে। এই লোভগুলো সম্বরণ করতে হবে।”

    নিয়োগ থেকে পরিকাঠামো—পুলিশ ব্যবস্থায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

    সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে ৪৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, অন্যদিকে পুরনো গাড়ি বদল, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহিলা থানা ও সাইবার ইউনিটকে শক্তিশালী করা এবং ‘১১২’ পরিষেবার রেসপন্স টাইম কমানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকার কতটা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ করে।

LinkedIn
Share