Tag: Presidency jail

Presidency jail

  • Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে কোনও বিশেষ সুবিধা বা পৃথক বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই জেলের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

    আদালতে ‘লাইফ থ্রেট’-এর দাবি শান্তনুর

    বৃহস্পতিবার ইডি হেফাজত শেষে শান্তনুকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। শুনানির সময় শান্তনুর আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বহু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলেই রয়েছেন। আদালতে শান্তনুর আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেলের লাইফ থ্রেট রয়েছে। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করেছেন। বর্তমানে জেলে থাকা কিছু অভিযুক্ত তাঁর তদন্তের জেরেই গ্রেফতার হয়েছিল। ফলে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে রাখলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” এই কারণে তাঁকে ‘গ্রেড ওয়ান’ বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দিয়ে পৃথক সেলে রাখার আবেদন জানানো হয়। আইনজীবীরা দাবি করেন, জেলবিধি মেনেই এই আবেদন করা হয়েছে।

    প্রবল বিরোধিতা ইডির

    তবে ইডির আইনজীবীরা সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কোন ভিত্তিতে শান্তনুকে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইডির আইনজীবী আদালতে বলেন, “জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট থেকেই বোঝা উচিত আদৌ এমন কোনও পরিস্থিতি রয়েছে কি না।” শুনানির পর আদালত শান্তনুকে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। যদিও প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়নি, তবে সেই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশও দেয়নি। ফলে আপাতত সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

    প্রেসিডেন্সি জেলে কীভাবে রাখা হয়েছে শান্তনুকে

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পৌঁছনোর পর প্রথমে শান্তনুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর নিয়ম মেনে তাঁর নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাঁকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পাঠানো হয়, যেখানে অন্য বন্দিরাও রয়েছেন। সংশোধনাগার সূত্রে দাবি, তাঁর জন্য কোনও আলাদা কক্ষ, বিশেষ খাবার বা অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়নি। জেলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্য বন্দিদের মতোই তাঁকেও খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম এবং অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।

    কোনও বিশেষ সুবিধা নয়…

    জেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুরুতে কিছুটা মানসিক চাপে ছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে সংশোধনাগারের পরিবেশ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর। একইসঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখছে জেল কর্তৃপক্ষ। তবে সংশোধনাগার প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও বন্দিকেই অযথা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না এবং এই ক্ষেত্রেও সেই নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।

    কী এই ‘সোনা পাপ্পু’ মামলা?

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর কলকাতা পুলিশও তাঁর বর্ধিত দায়িত্বের মেয়াদ বাতিল করে। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় আর্থিক তছরুপ এবং তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের সূত্রে ১৯ এপ্রিল শান্তনুর বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাড়িতে অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। জানা যায়, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় সেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইডির একাধিক তলব এড়িয়ে যাওয়ায় শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। অবশেষে ১৪ মে তিনি ইডি দফতরে হাজির হন। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সেই রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    তোলাবাজি ও বিদেশে সম্পত্তির অভিযোগ

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ‘সোনা পাপ্পু’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শান্তনু। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এছাড়াও তদন্তকারীদের সন্দেহ, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুবাইয়ে সম্পত্তি থাকতে পারে। সেই সম্পত্তির উৎস, বিদেশে অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

    প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা

    একসময় কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং ইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

  • 5G Jammer in Jail: বন্দিদের মধ্যে মোবাইলের রমরমা! কেন্দ্রের পরামর্শে রাজ্যের জেলগুলিতে বসছে ৫জি জ্যামার

    5G Jammer in Jail: বন্দিদের মধ্যে মোবাইলের রমরমা! কেন্দ্রের পরামর্শে রাজ্যের জেলগুলিতে বসছে ৫জি জ্যামার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দিদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তির আধুনিক জ্যামার (5G Jammer in Jail) বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য কারা দফতর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের  (Home Ministry) পরামর্শে রাজ্যের জেলগুলিতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলে বাংলাদেশি জঙ্গিদের কার্যকলাপের সন্ধান পাওয়ার পর রাজ্যের কারা ও কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জেলের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য অত্যাধুনিক জ্যামার প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়।

    কেন জ্যামার লাগানোর চিন্তা

    রাজ্যের কারা দফতর সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানকার জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট খোঁজখবর নেওয়ার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে কিছু বিশেষ পরামর্শ পাঠানো হয় রাজ্যের কাছে। সেই পরামর্শে বলা হয়, জেলের মোবাইল ফোনের ব্যবহার ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তির জ্যামার (5G Jammer in Jail) বসাতে হবে। তার পরেই রাজ্যের প্রায় সব জেলে জ্যামার বসানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কারা দফতর। বর্তমানে জেলে যে সব জ্যামার রয়েছে, সেগুলির প্রযুক্তি টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক আটকানোর জন্য। ফলে পুরোনো জ্যামারে টু-জি ফোনের নেটওয়ার্ক ‘ব্লক’ করা যায়। কিন্তু এখন ফোনে ব্যবহার করা হয় ফোর-জি এবং ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক। ফলে জেলের জ্যামারগুলি সে ভাবে কাজে লাগছে না। সেই পরিস্থিতি সাপেক্ষেই জেলে জ্যামারের ‘প্রযুক্তিগত চরিত্র’ বদলাচ্ছে রাজ্যের কারা দফতর। 

    আরও পড়ুন: বিশ্বের আধ্যাত্মিক হৃদয় মহাকুম্ভ, প্রয়াগরাজের মহাতীর্থে মিশল ইউরোপ থেকে আমেরিকা

    কীভাবে লাগানো হবে জ্যামার

    প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের জেলগুলিতে অত্যাধুনিক জ্যামার না থাকায় বাংলাদেশি জঙ্গিরা জেলের ভিতর থেকে নানা নাশকতার ছক কষছে পশ্চিমবঙ্গে। যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হয় রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬০টি জেল রয়েছে। তবে একসঙ্গে সব জেলে জ্যামার বসানো সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে এই কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্সি জেল (Presidency Jail) এবং দমদম সেন্ট্রাল জেলে (Dum Dum Central Jail) ‘টাওয়ার হারমোনিয়াস কল ব্লকিং সিস্টেম’ নামের অত্যাধুনিক জ্যামার বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে এটি পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে চালু করা হবে। পরে রাজ্যের অন্যান্য জেলেও আধুনিক জ্যামার বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তি চালু হলে সংশ্লিষ্ট জেল এবং তার আশপাশের এলাকায় মোবাইল পরিষেবা ব‍্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলের সরকারি আধিকারিক বা আশপাশের এলাকার কিছু নম্বর যাতে ‘ছাড়’ পায়, তার বন্দোবস্ত আগে থেকে রাখা হবে। তবে তা নির্দিষ্ট কিছু মোবাইল নম্বরের জন্য।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Victoria Memorial: জেলখানার জমিতেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল!

    Victoria Memorial: জেলখানার জমিতেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় যাঁরা থাকেন বা কলকাতায় যাঁরা ঘুরতে যান, তাঁদের মধ্যে কেউ ভিক্টোরিয়া (Victoria Memorial) ঘুরতে যাননি, এমনটা হতেই পারে না। কলকাতায় ভ্রমণ পিপাসুদের মূল কেন্দ্রবিন্দুই হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। শহরজোড়া কংক্রিটের ভিড়ের মাঝখানে যেন স্নিগ্ধতায় মোড়া পরিবেশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এক সৌধ। একবার এসে পৌঁছালে চোখ সরানো যায় না। শ্বেত পাথরের তৈরি এই স্মৃতিসৌধটি বর্তমানে একটি জাতীয় সংগ্রহশালা এবং কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে বানানো এই মেমোরিয়াল গড়ে ওঠার পিছনে আছে অনেক ইতিহাস ও অজানা তথ্য।

    কেন ও কীভাবে গড়ে উঠল এই ইমারত?

    ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা। গোটা ভারতের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আজকের মহানগরী। আর সেই সময় ভারতের সম্রাজ্ঞী ছিলেন রানী ভিক্টোরিয়া। ১৮৫৭ থেকে ১৯০১ সালের ২২ জানুয়ারি মৃত্যুদিন পর্যন্ত তাঁর শাসনকাল চলেছিল। তাঁর মৃত্যুর পরেই ভারতীয় উপনিবেশে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি সৌধ নির্মাণ করা হবে বলে তখনকার ব্রিটিশরাজের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  আর এমনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেই স্মৃতিসৌধটি হবে আগ্রার তাজমহলের আদলে। রানীর মৃত্যুর পরেই তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন এক বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানেই তিনি এই তাক লাগানো সৌধের (Victoria Memorial) নির্মাণের কথা তুলে ধরেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তাজমহলের আদলে এটি তৈরি হবে এবং প্রচুর ফুলের গাছ ও জলাধার থাকবে এই সৌধকে ঘিরে, যা দেখতে কলকাতায় ভিড় জমাবে মানুষ এবং যা তাজমহলকেও টেক্কা দেবে। এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয় ১৯০১ সালে। এর পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৯০৬ সালে এর সম্পূর্ণ নকশা তৈরি করা হয় এবং নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এর  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজা পঞ্চম জর্জ। ভিক্টোরিয়া পঞ্চম জর্জের বোন ছিলেন। ভিক্টোরিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁরই রাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবা সপ্তম এডওয়ার্ড যেহেতু বেঁচে ছিলেন, তাই তিনি ততদিন রাজা হতে পারেননি। পঞ্চম জর্জ ভারতীয়দের প্রতি ব্রিটিশদের বিদ্বেষমূলক মনোভাব মেনে নিতে পারেননি। তাঁরই রাজত্বকালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

    ভিক্টোরিয়া গড়ে উঠতে কত বছর সময় লেগেছিল? কে এর নকশা তৈরি করেছিল?

    ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হওয়ার পর ১৯১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর (Victoria Memorial) নির্মাণকার্য শুরু হয় এবং তা শেষ হতে প্রায় এগারো বছর সময় লাগে। এরপরেও সম্পূর্ণরূপে এই নির্মাণকার্যটি শেষ হয় ১৯২১ সালে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে কুড়ি বছর সময় লেগেছিল এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল গড়ে উঠতে। তৎকালীন ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্ট-এর প্রেসিডেন্ট স্যার উইলিয়ম এমার্সন এর নকশা তৈরি করেন। ভিক্টোরিয়া সংলগ্ন বাগানটির নকশা তৈরি করেছিলেন লর্ড রেডেসডেল ও স্যার জন প্রেইন। এই সমস্ত নির্মাণকার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মার্টিন অ্যান্ড কোং কে। এই কোম্পানির কর্ণধার ছিলেন দুজন যথা স্যার থমাস অ্যাকুইনাস এবং স্যার রাজেন মুখার্জি। রাজেন মুখার্জিকে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে সেই সময় নাইট উপাধি দেওয়া হয় এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য। 

    জায়গাটি কার বা কাদের ছিল? তৈরিতে মোট কত খরচ হয়েছিল?

    শুনলে হয়তো একটু অবাক লাগতে পারে, বর্তমানে আমরা যে স্থানে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে (Victoria Memorial) দেখতে পাই, সেটি মূলত ছিল প্রেসিডেন্সি জেলের জমি। সেই সময়কার প্রধানত রাজনৈতিক বন্দিদের এই জেলে রাখা হত।  ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জেলটিকে এই স্থান থেকে আলিপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে আলিপুরে সেই জেলটি অবস্থিত।ব্রিটিশদের সিদ্ধান্তে এই স্মৃতিসৌধ গড়ে উঠতে দেশের টাকাই খরচ করা হয়েছিল, ব্রিটিশদের খরচ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। তৈরি করার জন্য তৎকালীন জমিদার, রাজা, ধনী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, অভিজাত ব্যক্তিদের কাছে থেকে লর্ড কার্জন অর্থ প্রদানের আবেদন জানান। এই আদেশ খণ্ডন করার সাহস কারও ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে সবার উদ্যোগে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Partha Chatterjee: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে এখনও মূল্যবান আংটি! জেল সুপারকে তলব আদালতের

    Partha Chatterjee: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে এখনও মূল্যবান আংটি! জেল সুপারকে তলব আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেলের মধ্যে থাকা অবস্থাতেও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে রূপোর আংটি। তা নিয়ে বুধবার আদালতে ইডি দাবি করে, পার্থ এতটাই প্রভাবশালী যে ‘জেল কোড’ ভেঙে আংটি পরে জেলে ঘুরলেও তা নিয়ে বলার কেউ নেই। এ নিয়ে আদালতে চলে বাদানুবাদ। পার্থর ওই আংটিকাণ্ডের জেরে এবার প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে তলব করলেন বিচারক। আগামী ২৬ এপ্রিল সুপারকে লিখিত জবাব-সহ হাজির হতে হবে আদালতে। 

    ইডির দাবি  

    নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) গ্রেফতার হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) বর্তমানে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রয়েছেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বুধবার জেল থেকেই আদালতে হাজিরা দেন পার্থ। ভার্চুয়ালি শুনানিপর্বের শুরুতেই ইডির আইনজীবী বিচারকের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে পার্থকে বলা হয় হাতের দু’পাশ দেখানোর জন্য। বিচারকও পার্থকে সামনে এসে হাতের দুপাশ দেখানোর জন্য বলেন। পার্থ এগিয়ে এসে হাতের দুপাশ দেখাতেই, ইডির আইনজীবী বিচারককে বলে উঠলেন, ‘হাতের রিংটা দেখলেন? দেখুন কতটা পাওয়ারফুল হলে জেলেও রিং পরে আছেন।’ ইডির আইনজীবীর প্রশ্ন, ‘একজন অভিযুক্ত কি জেলে কোনও অলংকার পরে থাকতে পারে? সব তো খুলে রাখতে হয়। পার্থ এতটাই পাওয়ারফুল যে তাঁকে জেলেও আংটি পরতে দেওয়া হচ্ছে।’

    আরও পড়ুন: রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তীতে কলকাতায় অমিত শাহ! নববর্ষের পর ফের জনসভা বাংলায়

    পার্থর যুক্তি

    পার্থর আইনজীবী আদালতে পাল্টা যুক্তি দেন, ‘পার্থবাবু কীভাবে জানবেন, জেল কোডে কী বলা আছে। তাহলে তো পার্থবাবু আইনের সব জানবেন।’ যদিও পার্থর দাবি, শরীরের কারণেই আংটি খোলেননি তিনি। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর জেলের সুপারকে ডেকে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সূত্রের খবর, শুনানি শেষেই পার্থ হাত থেকে আংটি খুলে দেন।

    সুপারকে তলব

    এই ঘটনার জেরে জেল সুপারকে তলব করল আদালত। কেন পার্থ জেলে থাকা অবস্থাতেও হাতে আংটি পরে রয়েছেন, তা সবিস্তারে লিখিত আকারে নিয়ে আসতে হবে তাঁকে। আইন বলছে, কোনও কয়েদির হাতে আংটি বা অন্য কোনও অলঙ্কারসামগ্রী রয়েছে কি ন্‌ তা দেখার দায়িত্ব সুপারের। কিন্তু পার্থর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম সঠথভাবে পালিত হয়নি বলেই মনে করছে আদালত। সে ক্ষেত্রে আদালত জানতে চায়, জেল সুপার কি জেল কোড জানেন না? নাকি কর্তব্যপালনে অপারগ হয়েছিলেন সুপার? লিখিত আকারে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সুপারকে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Tea Stall:  বাহাত্তর বছরের চায়েওয়ালার জীবন যুদ্ধের কাহিনী জানলে চমকে উঠবেন

    Tea Stall: বাহাত্তর বছরের চায়েওয়ালার জীবন যুদ্ধের কাহিনী জানলে চমকে উঠবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্কঃ এভাবেও ঘুরে দাঁড়ানো যায়। চাঁপদানী ফাঁড়ির সামনে অর্জুন টি স্টলের (Tea Stall) মালিক বছর বাহাত্তরের অর্জুন রাজভর তার জ্বলন্ত প্রমাণ। যে সময় মানুষ অবসর জীবন কাটান, সেই বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।  ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত তাঁর চায়ের দোকানে (Tea Stall)  ভিড় লেগে থাকে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাঁর এই চায়ের দোকান।

    কীভাবে গড়ে উঠল এই অর্জুন টি স্টল? Tea Stall

    দোকানের মালিক  অর্জুনবাবুর বাড়ি  চাঁপদানীর ফেসুয়াবাজারে। এই দোকান তৈরি হয়েছে মাসখানেক আগে। তৈরি করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই চায়ের দোকানের (Tea Stall)  পিছনে রয়েছে এক লম্বা ইতিহাস। আসলে এই চায়ের দোকানের মধ্য দিয়েই এক জন যাবজ্জীবন কয়েদিকে তার মেয়াদ পূর্ন হবার পর নতুন ভাবে পথ চলার পথ খুলে দেন জেলা প্রবেশন অফিসার মনোজ রায়। অতীত আর মনে রাখতে চাননা অর্জুনবাবু। একসময় তিনি একটি কারখানার গাড়ির চালক হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু, ছেলের অসুখকে কেন্দ্র করে কিছু অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেটা ২০০৪ সাল। খুনে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়। ঠাঁই হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। প্রায় ১৭ বছর সংশোধনাগারে কাটিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। সংশোধনাগারে তাঁর ভালো আচরণের জন্য জেলা প্রবেশন অফিসারের সুনজরে পরে যান তিনি। সেই অফিসার মনোজ রায় জেলাশাসকের কাছে দরবার করে আইনগত ভাবে অর্জুনকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেন। আর তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী নিয়ে অর্জুনবাবু বলেন, পুরোনো দিনের কথা আর মনে রাখতে চাইনা। কিছু ভুল করেছিলাম। তার শাস্তি পেয়েছি। শাস্তি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তাঁর আরও সংযোজন, যাঁরা শাস্তি দিলেন তাঁরাই আবার আমায় সাহারা দিয়েছেন। এরজন্য আমি সরকারি আধিকারিক দের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। শুধু যে ভালোভাবে তিনি দোকান চালাচ্ছেন তা নয়, দোকানে মাইনে দিয়ে দু জন কর্মচারীও রেখেছেন তিনি। জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে সকলেই কুর্ণিশ জানাচ্ছেন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

  • Jyotipriya Mallick: বালিশ-চাদরের পর এবার মোবাইল দাও! বালুর বায়নাক্কায় অতিষ্ঠ জেল কর্তৃপক্ষ

    Jyotipriya Mallick: বালিশ-চাদরের পর এবার মোবাইল দাও! বালুর বায়নাক্কায় অতিষ্ঠ জেল কর্তৃপক্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি যে জেলবন্দি, তা বোধহয় ভুলেই গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)! তাই বালিশ-চাদরের পর এবার মন্ত্রিমশাই বায়না করছেন মোবাইল ফোনের। প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার এই তৃণমূল নেতার মোবাইলের আবদারে অতিষ্ঠ জেল কর্তৃপক্ষ। বিরোধীদের একাংশের মতে, বন্দি হলেও, তিনি যে মন্ত্রী, জ্যোতিপ্রিয় বোধহয় তাই বোঝাতে চাইছেন জেল কর্তৃপক্ষকে।

    পার্থর সঙ্গে দেখা করতে রাজি নন

    এই প্রেসিডেন্সি জেলেই বন্দি রয়েছেন নিয়োগ কেলেঙ্কারিকাণ্ডে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা মানিক ভট্টাচার্য। জ্যোতিপ্রিয়র সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রয়েছেন পার্থ। তবে দলীয় এই সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন না রেশন বণ্টন কেলেঙ্কারিতে ইডির হাতে ধৃত জ্যোতিপ্রিয়। সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশে শোয়ার জন্য খাট পেয়েছেন পার্থ। আর মেঝেতে ঘুমোতে হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয়কে (Jyotipriya Mallick)। প্রথম প্রথম তো রাতে ঘুমোতেই পারছিলেন না মন্ত্রী। এখন অবশ্য মানিয়ে নিয়েছেন পরিস্থিতির সঙ্গে।

    জ্যোতিপ্রিয়র আবদার 

    প্রেসিডেন্সি সংশোধানাগারের সুপার জানান, মন্ত্রী কখনও মোবাইল ফোন চাইছেন, কখনও আবার চাইছেন বালিশ-চাদর। গত রবিবার জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছিলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল নয়, তিনি মৃত্যু পথযাত্রী। বাঁদিক প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রী এসব দাবি করলেও, চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন, দিব্যি সুস্থ রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। জ্যোতিপ্রিয় প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিলেন পয়লা বাইশ ওয়ার্ডে  ঢুকতে। অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তাঁকে রাখা হয় ওই ওয়ার্ডের সাত নম্বর সেলে। জেলে ঢোকানোর সময় তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, “আমি এই সেলে থাকব? আমি রাজ্যের মন্ত্রী। জেল রাজ্য সরকারের আওতায়। আমি এই সেলে থাকব না। আমার শরীরের বাঁদিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাকে এসএসকেএমে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।”

    আরও পড়ুুন: ফের এক গোল চিনকে! স্কুল শিক্ষায় বেজিংকে পিছনে ফেলল মোদির ভারত?

    শেষমেশ অনেক বোঝানোর পর তিনি ঢুকে পড়েন সেলে। মোবাইল ফোন পেতে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর নাম নেন জ্যোতিপ্রিয়। প্রভাব খাটাতেই তিনি এটা করছেন বলে জেল সূত্রের খবর। তবে মন্ত্রীর এসব ‘কৌশল’ কাজে লাগেনি। মন্ত্রিমশাইকে দিন কাটাতে হচ্ছে মোবাইল ছাড়াই। জেল সূত্রে খবর, বুধবার রাতের দিকে ফের একপ্রস্ত নাটক করতে দেখা যায় সাত নম্বর সেলের বন্দিকে। রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে বলা হয় খাবার খেয়ে নিতে। প্রথমে রাজি হননি মন্ত্রিমশাই। শেষমেশ রাত আড়াইটে নাগাদ খাবার এবং ওষুধ খান জোতিপ্রিয় (Jyotipriya Mallick)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Manik Bhattacharya: টানা ছ’ ঘণ্টা জেরা, মানিকের বিরুদ্ধে ১০০ পাতার নয়া এফআইআর সিবিআইয়ের  

    Manik Bhattacharya: টানা ছ’ ঘণ্টা জেরা, মানিকের বিরুদ্ধে ১০০ পাতার নয়া এফআইআর সিবিআইয়ের  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে (Manik Bhattacharya) ঘণ্টা ছয়েক ধরে জেরা করে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বেরলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। মঙ্গলবার রাতেই মানিকের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ পাতার এফআইআর দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, নকল নথি বানানো, নথি জাল করা, জালিয়াতি সহ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মানিক ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের নামেও দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। তবে জেরায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে মানিক সহযোগিতা করছেন না বলেই তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।

    মানিকের বিরুদ্ধে এফআইআর

    বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআয়ের তরফে জানানো হয়, মানিকের (Manik Bhattacharya) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এদিন মানিককে দীর্ঘক্ষণ জেরাও করা হয়েছে। মামলাটি নিয়ে অনেক কিছু বলেছেন তিনি। সব কিছু ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। এর পরেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ওই ভিডিও ফুটেজ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও সিবিআইকে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

    প্রেসিডেন্সি জেলে সিবিআই

    এদিন সকালে ফের একবার মানিককে জেরা করতে প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছান তদন্তকারীরা। প্রাথমিকে নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে মানিককে জেরা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই মতো মঙ্গলবার রাতেই ঘণ্টা দুয়েক ধরে জেরা করা হয় তাঁকে। ওই রাতেই দায়ের হয় এফআইআর। এদিকে, এদিন সিবিআইয়ের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমাদের সরকারি আধিকারিকরা অত্যন্ত দক্ষ। ভাল কাজের জন্য ধন্যবাদ।”

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে কাউন্সেলিং পর্বে ডিজাইনড কোরাপশন (Manik Bhattacharya) হয়েছে বলে মঙ্গলবারই বলেছিল আদালত। তার পরেই আদালত চেয়েছিল, সিবিআই নতুন করে এফআইআর রুজু করে তদন্ত করুক। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল, এদিনই জেলে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক সিবিআই। তিনি বলেছিলেন, “২০২০ প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এটা নতুন ধরনের দুর্নীতি। আজই মানিক ভট্টাচার্যকে প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন সিবিআইয়ের দক্ষ দুই অফিসার।” সন্ধে ৬টার মধ্যে মামলাকারীদের আইনজীবী দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আজই প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের।

    আরও পড়ুুন: ভোট ‘সন্ত্রাসের শিকার’! আক্রান্ত মহিলাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেল বিজেপির পরিষদীয় দল

    ২০২০ সালের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয়েছিল কাউন্সেলিং। পরের বছর জুলাই মাসে কাউন্সেলিংয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদ। সেখানে চতুরতার সঙ্গে ড্রাফট লেখা হয়েছিল। হোম ডিস্ট্রিক্ট ফাঁকা না দেখিয়ে, প্রেফার্ড ডিস্ট্রিক্টকে পছন্দ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কাউন্সেলিং পর্বে প্রার্থীদের বলা হয় ‘লাস্ট চান্স’। যদিও সেবারই তাঁরা প্রথম সুযোগ পাচ্ছিলেন। এখানেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে, পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     
     
  • Manik Bhattacharya: বুধবার সকালেও ফের প্রেসিডেন্সি জেলে সিবিআই, আবারও মানিককে জেরা শুরু

    Manik Bhattacharya: বুধবার সকালেও ফের প্রেসিডেন্সি জেলে সিবিআই, আবারও মানিককে জেরা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার রাতে এক দফা জেরা-পর্ব হয়েছিল। এবার বুধবার সকালেই দ্বিতীয় দফায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে (Manik Bhattacharya) জেরার জন্য কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছলেন সিবিআই আধিকারিকেরা। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ আবারও প্রেসিডেন্সি জেলে যান তদন্তকারীরা। পোস্টিং-দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়েই তাঁকে জেরা করা হবে বলে সিবিআই সূত্রের খবর। আজ কি মানিককে হেফাজতে নেবে সিবিআই? বাড়ছে জল্পনা।

    এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরেই প্রাথমিক নিয়োগকাণ্ডের (Primary TET Scam) নতুন মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাটার্যকে রাতেই জেরা করার নির্দেশ সিবিআইকে দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)। সেই মতো মঙ্গলবার রাতেই প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছে যায় সিবিআই আধিকারিকের দল। প্রায় দু’ঘণ্টার ওপর সময় ধরে জেলবন্দি মানিককে করা হয় জেরা। 

    জেরায় চার সদস্যের সিবিআই টিম

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রেসিডেন্সি জেলে (Presidency Jail) পৌঁছয় সিবিআইয়ের ৪ সদস্যের টিম। ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন একজন এসপি পদমর্যাদার অফিসার। ছিলেন, দু’জন ইন্সপেক্টর। বিচারপতির নির্দেশ ছিল, গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। সেই মোতাবেক, এদিন সিবিআই টিমে ছিলেন একজন ভিডিয়োগ্রাফি এক্সপার্টও। সূত্রের খবর, জেলের ভিতর ইন্টারোগেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে (Manik Bhattacharya)। সেখানেই এসপি কল্যাণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে মানিককে জেরা করছেন দু’টি পৃথক মামলার তদন্তকারী আধিকারিক মলয় দাস, ওয়াসিম আক্রম। প্রায় আড়াই ঘণ্টা জেলে ছিল সিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে যান তাঁরা।

    কী নিয়ে নতুন মামলা?

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘পোস্টিং’ নিয়ে দুর্নীতির (Teacher Posting Scam) অভিযোগ তুলে একটি মামলা করেন সুকান্ত প্রামাণিক। তাঁর দাবি, ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের বলা হয়েছিল নিজের জেলায় কোনও শূন্যপদ নেই। অভিযোগ, কাউন্সেলিং-এর ঠিক ১৭ দিন পরই চার জেলায় ৪০০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। গতকাল, এই মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। শুনানি চলছিল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) এজলাসে। কাদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল, টাকার লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটাই জানতে চায় আদালত। সেখানেই বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, প্রাথমিকের নিয়োগে এটা পরিকল্পিত ভাবে দুর্নীতি হয়েছে। মানিক ছক কষে এই দুর্নীতি ‘ডিজাইন্ড কোরাপশন’ করেছেন। মানিক এই মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি। তিনি নির্দেশ দেন, প্রয়োজনে মানিককে হেফাজতেও নিতে পারে সিবিআই। এমনকী, এই মামলায় আর্থিক দুর্নীতির দিক উঠে আসলে, তার তদন্তে ইডি-কে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।

    আরও পড়ুন: ছক কষেই দুর্নীতি! জেলে গিয়ে মানিককে জেরা করার নির্দেশ সিবিআই-ইডিকে

    ‘ডিজাইন্ড কোরাপশন’ ঠিক কী?

    ২০২০ সালের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয়েছিল কাউন্সেলিং। পরের বছর জুলাই মাসে কাউন্সেলিংয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদ। সেখানে চতুরতার সঙ্গে ড্রাফট লেখা হয়েছিল। হোম ডিস্ট্রিক্ট ফাঁকা না দেখিয়ে, প্রেফার্ড ডিস্ট্রিক্টকে পছন্দ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কাউন্সেলিং পর্বে প্রার্থীদের বলা হয় ‘লাস্ট চান্স’। যদিও সেবারই তাঁরা প্রথম সুযোগ পাচ্ছিলেন। এখানেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে, পর্যবেক্ষণ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly)। তিনি জানান, যে মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েছেন মানিক (Manik Bhattacharya), সেই মামলার সঙ্গে এই নতুন মামলার কোনও যোগ নেই। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, তদন্ত চালিয়ে গেলেও, মানিকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না সিবিআই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kuntal Ghosh: অভিষেক-কুন্তল মামলায় অর্ধেক তদন্ত বাকি, হাইকোর্টে জানাল সিবিআই

    Kuntal Ghosh: অভিষেক-কুন্তল মামলায় অর্ধেক তদন্ত বাকি, হাইকোর্টে জানাল সিবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক – কুন্তলের (Kuntal Ghosh) চিঠি সম্পর্কিত তদন্ত প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ হয়েছে বলে হাইকোর্টে দাবি করল সিবিআই (CBI)। বুধবার প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ওই মামলায় এখনও তাঁদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। যা শুনে আদালত সিবিআইকে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘‘সত্য খুঁজতে আর কত দিন সময় লাগবে?’’

    সিবিআইকে প্রশ্ন আদালতের

    এদিন বিচারপতি অমৃতা সিন্‌হার বেঞ্চে প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তলের চিঠি সম্পর্কিত তদন্ত কতটা এগিয়েছে সিবিআই-এর কাছে তা জানতে চায় আদালত। তখনই  সিবিআই  জানায়, ইতিমধ্যে অভিষেক এবং কুন্তলের (Kuntal Ghosh) চিঠি সংক্রান্ত মামলায় দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ বাকি আছে। তাই তাদের কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এর পাল্টা হিসেবে বিচারপতি বলেন, ‘‘সত্য খুঁজতে আর কত দিন সময় লাগবে? এই তদন্তের অগ্রগতি কোথায়? অভিযুক্ত সব তথ্য স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু তদন্ত তো সঠিক পদ্ধতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার!’’ 

    সিবিআই-এর নির্দেশ

    সিবিআই এদিন আদালতকে জানায়, প্রেসিডেন্সি জেলের একটি সিসিক্যামেরার ফুটেজ না পাওয়াতেই তদন্তে দেরি হচ্ছে। তারপরই আদালত নির্দেশ দেয় জেল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ওই ফুটেজ জমা দিতে হবে। সিবিআইয়ের টেকনিক্যাল টিম রেজিস্ট্রার জেনালেরের কাছে বসে তাদের টিম এনে সেই ফুটেজ কপি করবে। রাজ্যের তরফে এদিন আদালতে জানানো হয়েছে, ২৫ দিন সময় লাগবে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে। এরপর এই মামলায় সার্বিক তদন্ত কতদূর এগিয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে সিবিআইকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ফের মণীশ জৈনকে তলব সিবিআই-এর

    ইডিকে নির্দেশ আদালতের

    পরে কুন্তলের মামলায় প্রেসিডেন্সি জেলকে বিচারপতি নির্দেশ দেন, ‘‘কুন্তল ঘোষের উপর নজর রাখবেন জেল সুপার। তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করবেন। আদালত চাইলেই সেই ফুটেজ পেশ করতে হবে।’’ বুধবার প্রাথমিকের নিয়োগ মামলা নিয়ে ইডিকেও বিচারপতি সিন্‌হার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বিচারপতি জানতে চান, ‘‘তদন্তে যুক্ত ইডি অফিসাররা দক্ষ তো?’’ এর জবাবে ইডি বলে, ‘‘নিশ্চয়ই! তারা যোগ্য।’’ শুনে বিচারপতি সিন্‌হা ইডিকে নির্দেশ দেন,  এক মাস পরে নিয়োগের তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

     

  • Recruitment Scam: কুন্তলের চিঠি কাণ্ডে প্রেসিডেন্সি জেল সুপারকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআই-এর

    Recruitment Scam: কুন্তলের চিঠি কাণ্ডে প্রেসিডেন্সি জেল সুপারকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) ধৃত কুন্তল ঘোষের চিঠি নিয়ে প্রেসিডেন্সি জেল সুপারকে তলব করল সিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজাম প্যালেসের সিবিআই দফতরে পৌঁছন সুপার দেবাশিস চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও শুরু হয়েছে। কুন্তলের চিঠি প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। 

    জেল সুপারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    সূত্রের খবর, সিবিআই সুপারের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারেন। জেলে বসেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) ধৃত এবং বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। চিঠি পাঠানো হয়েছিল নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছেও। বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল সাম্প্রতিক সময়ে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েক বার দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের বড় নেতাদের নাম বলানোর জন্য তাঁকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকেরা। প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারের মাধ্যমেই হেস্টিংস থানায় অভিযোগ করেছিলেন কুন্তল। বিতর্কিত এই চিঠির বিষয়ে তখন থেকে তদন্তকারীদের নজরদারির আওতায় ছিল জেল সুপারের ভূমিকা।

    আরও পড়ুন: মণিপুরে অশান্তির নেপথ্যে বিদেশিদের হাত! কেন্দ্রীয় তদন্ত চাইছে আদিবাসী সংগঠন

    একাধিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআই-এর

    এর আগেও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আঙুলে আংটি থাকার ইস্যুতে জেল সুপারকে তলব করেছিল বিশেষ সিবিআই আদালত। সেই মতো আদালতে সশরীরে হাজিরাও দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সির সুপার দেবাশিস চক্রবর্তী। এবার সিবিআই দফতরে গেলেন তিনি। নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। চিঠি লেখার আগে কুন্তল কী বলে সুপারের কাছ থেকে অনুমতি চেয়েছিলেন কিংবা সেই চিঠি কার হাত দিয়ে তিনি পাঠিয়েছিলেন, এরকম একাধিক বিষয়ে তদন্তকারীরা সুপারের কাছ থেকে জানতে চাইতে পারেন বলে অনুমান।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share