Tag: President Murmu

President Murmu

  • President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সময় নেই”। ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের (TMC) এক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Murmu) দফতর। এর আগে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখে দলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রথমবার অনুরোধের পর দলটি নাকি পরের সপ্তাহে আর একটি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবটিও নাকচ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃতীয়বার আবেদন করেছে তৃণমূল।

    রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ (President Murmu)

    এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী কল্যাণ সম্মেলনে মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, প্রশাসন যে জায়গাটি অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছে, তা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে। তাই সবাই আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে এখানে অনেক মানুষ সম্মেলনে পৌঁছতে পারেননি।  কারণ অনুষ্ঠানটি এত দূরে আয়োজন করা হয়েছিল।” রাষ্ট্রপতির (President Murmu) ইঙ্গিত, “প্রশাসন হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেছে, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।”

    ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি এও জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি যখন কোনও জায়গায় যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও সেখানে থাকা উচিত।” নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কি ইচ্ছাকৃত ছিল?” বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরব হন। এক্স হ্যান্ডেলে  প্রধানমন্ত্রী একটি পোস্টে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। তৃণমূল (TMC) সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) পদকে যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

    মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এহেন (TMC) মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন মন্তব্য না করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরলেও, অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি উপেক্ষা করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আদিবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।  বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। নবম  আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের ভেন্যু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে  লিখেছেন, “সংবিধানিক মর্যাদা ও আদিবাসী সম্মানের প্রতি দৃষ্টান্তহীন আক্রমণ। স্পষ্টতই তৃণমূল সরকারের  শাসনের পতনের চিহ্ন।” বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।” মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলকে নিশানা করলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি কত নম্রভাবে বলেছেন, মমতা আমার বোনের মতো। আর মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করছেন।” রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো হল না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন সবাই কত খুশি হয়েছিলেন। এ রাজ্যের আদিবাসীরাও আনন্দিত হন। আজ সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।”

  • President Murmu: “শৌচাগারে জল নেই, রাস্তায় আবর্জনা” রাষ্ট্রপতি সফর ইস্যুতে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব শাহি মন্ত্রকের

    President Murmu: “শৌচাগারে জল নেই, রাস্তায় আবর্জনা” রাষ্ট্রপতি সফর ইস্যুতে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব শাহি মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Minister of Home Affairs) অমিত শাহের মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে দোষারোপের খেলা চলাকালীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের সময় কথিত ত্রুটির বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির অপমানের কারণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরও কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    কেন মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না (President Murmu)?

    রাষ্ট্রপতির (President Murmu) রাজ্য সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নে ব্যাপক সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদের অপব্যবহার করছে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু বাংলায় তাঁর যোগদানের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এই বলে যে মুখ্যমন্ত্রী কেন তাঁর সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র সচিব (Minister of Home Affairs) চারটি বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এগুলি হল, ১) রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং বিদায় জানাতে কেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজিপি উপস্থিত ছিলেন না? ২) রাষ্ট্রপতির জন্য তৈরি শৌচাগারে জল ছিল না। ৩) প্রশাসন যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা আবর্জনায় ভরা। ৪) দার্জিলিং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন।

    জরুরি সরকারি কাজ ছিল

    কেন তিনি রাষ্ট্রপতির (President Murmu) অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তার ব্যাখ্যায় মমতা বলেন, “আমার আগে থেকে নির্ধারিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক এবং জরুরি সরকারি কাজ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। আমাদের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই, যা বিজেপি রঙ চড়িয়ে প্রচার করছে। কেন ছোটখাটো প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নজিরবিহীন রাজনীতি করা হচ্ছে?”

    মমতা আরও বলেন, “বিজেপি বাংলা-বিরোধী। তারা বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। তারা আদিবাসী আবেগকে হাতিয়ার করে আমাদের সরকারকে আক্রমণ করছে, কিন্তু বাংলার মানুষ জানে আমরা আদিবাসী ভাই-বোনদের উন্নয়নের জন্য কতটা কাজ করেছি।”

    আমি জানি না তিনি বিরক্ত কিনা

    প্রথা অনুযায়ী, যখন কোথাও রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যান, তখন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল পদত্যাগ করেছেন, তাই তিনিও আসতে পারেননি। রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। সম্ভবত রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না, এবং সেই কারণেই তাদের এখানে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে… আমি জানি না তিনি বিরক্ত কিনা, এবং সেই কারণেই স্থানটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যাই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।” এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে মমতার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় শুরু হয়েছে।

  • President Murmu: “মাঠে ৫ লাখ মানুষের জায়গা হতে পারত”, সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে সহযোগিতা করেননি মমতা!

    President Murmu: “মাঠে ৫ লাখ মানুষের জায়গা হতে পারত”, সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে সহযোগিতা করেননি মমতা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার, ৭ মার্চ শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং প্রটোকল লঙ্ঘন নিয়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu)। অনুষ্ঠানের স্থান শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনায় সরাসরি আক্রমণ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, “লজ্জাজনক ঘটনা।”

    সারা দেশের মানুষকে দুঃখ দিয়েছে (President Murmu)

    রাষ্ট্রপতির (President Murmu) সমালোচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অনুষ্ঠান পরিচালনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে মোদি বলেন, “গণতন্ত্র এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী লোকেরা রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী দেখে গভীরভাবে হতাশ হবেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, যিনি নিজেও একটি উপজাতি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন, যে বেদনা প্রকাশ করেছেন, তা সারা দেশের মানুষকে দুঃখ দিয়েছে।”

    রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য বলেছেন, “এটি বাংলার সাংবিধানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার প্রমাণ।” তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ এবং মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

    স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ

    আন্তর্জাতিক সাঁওতাল এই সম্মেলনটি প্রথমে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ওই জায়গাটি অত্যন্ত ‘জনাকীর্ণ’ (congested) এবং সেখানে নিরাপত্তা বা যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। এরপর অনুষ্ঠানটি বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে একটি ছোট মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রপতির সরেজমিনে তদন্ত

    নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি (President Murmu) নিজেই বিধাননগরের সেই পুরনো জায়গাটি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন মাঠটি বিশাল এবং যাতায়াতে কোনও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল এই জায়গাটি জনাকীর্ণ। কিন্তু আমি খুব সহজেই এখানে আসতে পারলাম। আমার মনে হয়, এখানে অন্তত ৫ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারত। আমি জানি না প্রশাসনের মাথায় কী ছিল যে তারা সাঁওতাল ভাই-বোনদের জন্য এমন এক জায়গায় অনুষ্ঠান ঠিক করল যেখানে অনেকেই পৌঁছতে পারেননি।”

    আমিও বাংলার মেয়ে!

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি (President Murmu) বলেন, “মমতা দিদি আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। কিন্তু আমি জানি না কেন আমাকে এখানে আসতে (আসল ভেন্যুতে) বাধা দেওয়া হল। তিনি কি আমার ওপর কোনও কারণে রেগে আছেন? সেই কারণেই কি ভেন্যু বদলে দেওয়া হল? যাই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।”

    চায় না সাঁওতালরা ঐক্যবদ্ধ হোক

    রাষ্ট্রপতি (President Murmu) ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সেখানে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও বড় মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।” তাঁর আক্ষেপ, “কিছু মানুষ চায় না সাঁওতালরা ঐক্যবদ্ধ হোক বা শক্তিশালী হোক। আজ অনেক সাঁওতাল ভাই বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।”

    অসহযোগিতার অভিযোগ

    রাষ্ট্রপতির (President Murmu) অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ছোট জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল যাতে সাধারণ মানুষ এবং সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সেখানে বড় সংখ্যায় উপস্থিত হতে না পারেন। তিনি এই পুরো বিষয়টিকে সাঁওতাল সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি অসম্মান হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন।

  • PM Modi: চরম সহযোগিতা ও অসৌজন্য! ‘লজ্জাজনক-নজিরবিহীন’, রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পর মমতাকে আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: চরম সহযোগিতা ও অসৌজন্য! ‘লজ্জাজনক-নজিরবিহীন’, রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পর মমতাকে আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি যখন রাজ্য প্রশাসনের অব্যবস্থা এবং তাঁকে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, তার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। মোদির (PM Modi) সাফ কথা, “রাষ্ট্রপতি (President Murmu) জি, যিনি নিজেও একটি উপজাতি সম্প্রদায়ের, যে বেদনা ও যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন, তা ভারতের জনগণের মনে প্রচণ্ড দুঃখের সঞ্চার করেছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)  এই ঘটনাকে ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে “লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতির অবমাননা করেছে, তা কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। একজন রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যখন প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানের স্থান সংকুচিত করা হচ্ছে, তখন বোঝা যায় রাজ্যে গণতন্ত্রের কী করুণ দশা! গণতন্ত্র এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী সকলেই হতাশ।”

    প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)  অভিযোগ করেন যে, সাংবিধানিক প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের শীর্ষ মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর সরকারের কোনও প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না। মোদি বলেন, “মমতা দিদি সবসময় সংবিধান রক্ষার কথা বলেন, কিন্তু আজ তিনি নিজেই সংবিধানকে পদদলিত করেছেন।”

    আদিবাসী আবেগ ও রাজনীতি

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ভয় পেয়েছে। তারা চায় না সাঁওতাল এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি কথা বলুক। এই কারণেই শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন করে সেটিকে একটি ছোট মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিজেই সেই আসল ভেন্যুতে গিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে রাজ্য সরকার মিথ্যে বলেছিল।”

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি প্রশ্ন

    রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন— “মমতা কি আমার ওপর রেগে আছেন?”— সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)  বলেন, “একজন রাষ্ট্রপতির মুখে এই ধরনের কথা শোনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য সরকার আদিবাসী উন্নয়ন নয়, বরং বিভাজনের রাজনীতি করছে।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়ে আরও বলেন, “এই ইস্যুটিকে বিজেপি জাতীয় স্তরে নিয়ে যাবে। বাংলা আজ দেখল কীভাবে একজন মহান নেত্রীকে এবং আমাদের রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা করা হল। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”

    তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি

    তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে বা প্রশাসনিক কোনও ত্রুটির কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন উপস্থিত ছিলেন না, তা দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁর কিছু পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।

    শিলিগুড়ির সাঁওতাল সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন এবং একে রাষ্ট্রপতির পদের অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যা নিয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল।

  • President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বুধবার শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের সংসদের বাজেট অধিবেশন (Budget Session)। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এই অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগে সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “গত এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রাপথে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।”

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য (President Murmu)

    রাষ্ট্রপতি জানান, গত দশ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচ থেকে উঠে এসেছেন এবং দরিদ্রদের জন্য প্রায় চার কোটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ।” সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ কোটি নাগরিক রয়েছেন, যেখানে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ কোটি।” তিনি বিআর আম্বেদকরের আদর্শের কথা স্মরণ করে সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান। কর্মসংস্থানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত–গ্রাম আইন’ গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে (President Murmu)। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে প্রথম ব্যাচের মহিলা ক্যাডেটদের স্নাতক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।”

    মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বর্তমানে তা মাত্র আটটি জেলায় সীমাবদ্ধ। আগে যেসব অঞ্চল মাওবাদী সমস্যায় দীর্ণ ছিল, সেখানে এখন শান্তি ফিরছে। গত এক বছরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছেন (President Murmu)।” জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ‘অপারেশন সিঁদুরে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি দৃঢ় ও আপসহীন। প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতে সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্রে’র ওপর কাজ করছে।” রেল উন্নয়নের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারতীয় রেল শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পৌঁছতে চলেছে।” তিনি দিল্লি–আইজল রাজধানী এক্সপ্রেস এবং কামাখ্যা–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন-সহ নতুন রেল পরিষেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে (Budget Session)।”

    রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। ২৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করা হবে এবং ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (President Murmu)।

  • Republic Day 2026: ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট, ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো,  সাধারণতন্ত্র দিবসে ঝলমলে কর্তব্যপথ

    Republic Day 2026: ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট, ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো, সাধারণতন্ত্র দিবসে ঝলমলে কর্তব্যপথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে (Kartvya Path) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026)। এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় পতাকা তেরঙ্গা উত্তোলন করেন। জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ এবং উপস্থিত সমস্ত বিশিষ্ট ব্যক্তি জাতীয় পতাকাকে অভিবাদন জানান। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐক্য, অগ্রগতি ও সামরিক শক্তির মহা প্রদর্শনী। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন।

    সব ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভারতের বার্তা

    কর্তব্য পথে (Kartvya Path) অনুষ্ঠিত এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের থিম ছিল “বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর”। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং তিন বাহিনীর প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। এ বছর একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে কর্তব্য রেখা বরাবর দর্শক গ্যালারিগুলির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে। বিমানচালনা, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী অগণিত তরুণ-তরুণীর কাছে এই মুহূর্ত এক শক্তিশালী বার্তা—আজকের সাহস আর শুধু স্থল, জল বা আকাশেই সীমাবদ্ধ নয়, তা পৌঁছে গেছে কক্ষপথেরও অনেক দূরে।

    “আত্মনির্ভর ভারত”-এর চেতনা

    গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ছিল বিশেষ। কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট। এতে রাফায়েল, সুখোই-৩০, পি-৮আই, সি-২৯৫, মিগ-২৯, অ্যাপাচি, এলইউএইচ, এএলএইচ এবং এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিভিন্ন ফর্মেশনে আকাশে শক্তি প্রদর্শন করে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ছয়টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার গতিতে একযোগে উড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি একটি সি-১৩০ এবং দুটি সি-২৯৫ বিমানও আকাশে দেখা যায়। কুচকাওয়াজে প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন, যেখানে “বন্দে মাতরম” এবং “আত্মনির্ভর ভারত”-এর চেতনা তুলে ধরা হয়। প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি এই কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সরকারি প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

    নারী শক্তির প্রদর্শন

    প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) এ বছরের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো দেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হয়, যা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন দিক তুলে ধরে। পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন ব্যাক্ট্রিয়ান উটও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে। ভৈরব ব্যাটালিয়ন প্রথমবারের মতো তাদের সাহসিকতার প্রদর্শন করে, আর মহিলা অগ্নিবীররা বিমান বাহিনীর মার্চিং ব্যান্ডে অংশ নিয়ে বিশেষ নজর কাড়েন। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর মহিলা সদস্যদের ট্যাবলোও ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সহকারী কমান্ড্যান্ট নিশি শর্মা, অপূর্ব গৌতম হোরে, লক্ষিতা এবং হার্দিকের নেতৃত্বে এই ট্যাবলোতে নারী শক্তির দৃঢ় উপস্থিতি তুলে ধরা হয়।

  • Republic Day 2026 : কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত! প্রতিকূল পরিবেশেও স্থির, সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভাংশুকে অশোক চক্র প্রদান রাষ্ট্রপতির

    Republic Day 2026 : কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত! প্রতিকূল পরিবেশেও স্থির, সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভাংশুকে অশোক চক্র প্রদান রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে প্রদর্শিত বিরল সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ, ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে (Shubhanshu Shukla) প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান অশোক চক্র প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) এই সম্মান শুধু এক সৈনিকের কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চরম প্রতিকূল পরিবেশে অসাধারণ সাহস, মানসিক দৃঢ়তা এবং মিশনের সাফল্যের প্রতি অটল নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন শুভাংশু শুক্লা—যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

    শুভাংশুকে কেন অশোক চক্র

    কর্তব্যপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) মহামঞ্চে সোমবার নজির গড়লেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পেলেন দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান ‘অশোক চক্র’। সাধারণত সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বীরত্বের জন্য অশোক চক্র প্রদান করা হয়। মহাকাশ অভিযানের জন্য একজন কর্মরত বায়ুসেনা অফিসারকে এই সম্মান প্রদান ভারতের জাতীয় পরিষেবার ধারণার বিবর্তনকেই তুলে ধরছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার নতুন দিগন্তে দেশ যখন এগিয়ে চলেছে।

    শুভাংশুর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা

    একজন দক্ষ পরীক্ষামূলক পাইলট ও ভারতের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশচারী হিসেবে পরিচিত শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla) দেশের মানব মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রভাগে রয়েছেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও সীমিত কক্ষপথের পরিবেশে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত শুক্লার এই মিশনে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন হয়েছিল চরম মানসিক স্থিতি ও মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। অভিযানের সময় কক্ষপথে জটিল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখেও তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শন করেন, যার ফলে ক্রুদের নিরাপত্তা ও মিশনের লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়। পুরস্কার প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি শুভাংশু শুক্লার সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি গ্রহণে প্রস্তুত এমন মানুষদের হাত ধরেই ভারতের মহাকাশযাত্রা এগিয়ে চলেছে।

    তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা শুভাংশু

    ২০২৫ সালে অ্যাক্সিয়ম (Axiom 4) মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন শুক্লা। উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পা রেখে ইতিহাস গড়েন তিনি। কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত ও প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁর নির্ভুল নেতৃত্ব, শান্ত মস্তিষ্ক ও কর্তব্যবোধ এই সম্মানের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। মহাকাশে অবস্থানের সময় বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পন্ন করেন শুক্লা। কৃষিক্ষেত্রেও অনন্য পরীক্ষা চালিয়ে সফলভাবে মেথি ও মুগ ডালের চাষ করেন শূন্য মহাকর্ষে যা ভবিষ্যতের মহাকাশ কৃষি গবেষণার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর সাহসিকতা ও অবদান শুধু ভারত নয়, বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায়ও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর কীর্তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

     

     

     

     

     

  • President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৫ জানুয়ারি। ফি বছর ভারত এই দিনটি পালন করে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে। গণতন্ত্রের উদ্‌যাপন এবং প্রতিটি নাগরিককে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত (National Voters Day) করতেই পালিত হয় এই দিনটি। সরকারি এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দিনটি ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবেও চিহ্নিত (President Murmu)। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা হল নির্বাচন কমিশন। এখনও পর্যন্ত কমিশন ১৮টি লোকসভা নির্বাচন এবং ৪০০-রও বেশি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

    রাজ্যসভার নির্বাচন (President Murmu)

    এছাড়াও রাজ্যসভার নির্বাচন, যেখানে রাজ্য বিধান পরিষদ রয়েছে, সেখানে তার নির্বাচন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি ও দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের নির্বাচন, এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলির নির্বাচনও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনটি একটি বহুসদস্য সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আরও দু’জন নির্বাচন কমিশনার (President Murmu)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এ বছরের জাতীয় ভোটার দিবসের মূল থিম হল “আমার ভারত, আমার ভোট”, এবং ট্যাগলাইন “ভারতীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রে নাগরিক”। কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন (President Murmu)।

    অনুষ্ঠানে থাকছেন যাঁরা

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন। কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল থাকবেন সম্মানীয় অতিথি হিসেবে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় ভোটার দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় নয়াদিল্লিতে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, সদ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তরুণ ভোটারদের হাতে ভোটার পরিচয়পত্র (এপিক কার্ড) প্রদান এবং অসাধারণ কাজের জন্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সম্মান জানানো হয় (National Voters Day)। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিভাগে সেরা নির্বাচনী অনুশীলন পুরস্কার দেন। এর মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস, উদ্ভাবনী ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি, আদর্শ আচরণবিধির বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার (President Murmu)।

    উল্লেখযোগ্য অবদান

    এই পুরস্কারগুলি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্ভিস সংগঠনগুলিকেও তাঁদের কাজের জন্য সম্মানিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে দুটি প্রকাশনার উদ্বোধন করা হবে- ‘২০২৫: উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের এক বছর’ এবং ‘চুনাও কা পর্ব, বিহার কা গর্ব’, যেখানে বিহারে সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার বিবরণ রয়েছে। এই উপলক্ষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে কমিশনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নানা দিক তুলে ধরা হবে। এই প্রদর্শনীতে ভোটারদের কল্যাণে সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার দিকগুলিও তুলে ধরা হবে (President Murmu)।

    জাতীয় ভোটার

    জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ যে কোনও গণতন্ত্রের সফল পরিচালনার মূল ভিত্তি। এটি সুস্থ ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত। ভারতে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করে যে, প্রতিটি যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি, তালিকাভুক্ত প্রত্যেককে স্বেচ্ছায় ভোটদানে উৎসাহিত করাও কমিশনের দায়িত্ব। জাতীয় ভোটার দিবস এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। এটি ভোটার রেজিস্ট্রি ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে ও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করে।

    ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ

    এই দিনটি দেশের সমস্ত ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। নয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তিকরণ এই উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সারা দেশে প্রায় ১১ লক্ষ ভোটকেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবস উদ্‌যাপন করা হয় (President Murmu)। জেলা স্তরে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও), রাজ্য স্তরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকায় বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ও নতুন ভোটারদের সংবর্ধনা জানান (National Voters Day)। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ২০১১ সাল থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা দিবস, অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারিকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে। সারা দেশে এটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। এর সঙ্গে থাকে সিম্পোজিয়াম, সাইকেল র‍্যালি, মানবশৃঙ্খল, লোকশিল্প অনুষ্ঠান, মিনি-ম্যারাথন, প্রতিযোগিতা ও সচেতনতা সেমিনারের মতো নানা কর্মসূচি। এর অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে, যাতে নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে (President Murmu)।

    পুরস্কার কর্মসূচি

    এছাড়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও ভোটার সচেতনতার ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা উদ্‌যাপনের জন্য একটি পুরস্কার কর্মসূচিও জাতীয় ভোটার দিবসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় ও রাজ্য- উভয় স্তরেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর সেরা নির্বাচনী জেলাগুলিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিতর্ক, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীরা অঙ্কন, নাটিকা, গান, চিত্রাঙ্কন ও প্রবন্ধ রচনায় অংশ নিতে পারে। এই উদ্যোগগুলি তরুণ মনকে দায়িত্বশীল ভোটার হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই সমস্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য হল সচেতন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (President Murmu)।

    ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি

    সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান হল নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মসূচি, যা ২০০৯ সালে শুরু হয়। এটি সারা দেশে ভোটার শিক্ষা, সচেতনতা ও সাক্ষরতার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ১৬তম জাতীয় ভোটার দিবসের প্রাক্কালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর উদ্যোগের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি করা, অর্থাৎ সব যোগ্য ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া (National Voters Day)। বিহারে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা চলছে। বিহারের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে একটি আপিলও দায়ের হয়নি, যা এর পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে (President Murmu)।”

    এসআইআর

    এসআইআর পরবর্তী বিহারের নির্বাচন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ১৯৫১ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে ৬৭.১৩ শতাংশ। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন ৭১.৭৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও উদ্ভাবনের বছর হিসেবে উদ্‌যাপন করেছে। প্রায় ৩০টি বড় উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ছিল সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি, যার আওতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৫,০০০-এরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার ও সুপারভাইজারকে দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ইসিআইনেট অ্যাপ চালু করা, যেখানে সব ভোটার পরিষেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল জমা দেওয়ার সুবিধা, এবং ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোটারের সংখ্যা ১,২০০-এ সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত।

    জ্ঞানেশ কুমার

    জ্ঞানেশ কুমার বৈশ্বিক স্তরে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডিইএর সভাপতিত্ব ভারতের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে ৭০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশ নেন (President Murmu)। নিজের বার্তায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, “ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।” তিনি ঘোষণা করেন, তরুণদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে তারা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্পষ্ট ধারণা পায় (National Voters Day)। তিনি বলেন, “দেশসেবার প্রথম ধাপ হল ভোটদান।” ১৮ বছর পূর্ণ করা প্রত্যেক নাগরিককে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় ভোটার দিবস

    জাতীয় ভোটার দিবস ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। ২০১১ সালে সূচনার পর থেকে এই বার্ষিক উদ্‌যাপন দেশের অন্যতম বৃহত্তম নাগরিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের থিম আরও একবার এই বার্তাই জোরদার করে—প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ভোটার নিবন্ধনের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলেই জানানো (National Voters Day) হয়েছে কমিশনের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (President Murmu)।

     

  • Rashtriya Ekta Divas: দেশবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন জানেন?

    Rashtriya Ekta Divas: দেশবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার মর্যাদার সঙ্গে দেশজুড়ে পালিত হল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের (Sardar Patel) ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ (Rashtriya Ekta Divas) হিসেবে পরিচিত। এদিন এই উপলক্ষে হয়েছে ‘রান ফর ইউনিটি’ও। যা দেশবাসীর মনে ফের একবার জাগিয়ে তুলল দেশপ্রেম, ঐক্য, অখণ্ড ভারত এবং আত্মনির্ভরতার সেই অদম্য চেতনাকে, যে স্বপ্ন একদিন দেখেছিলেন ভারতের লৌহমানব প্যাটেল। এদিন দিল্লিতে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গুজরাটের নানদিয়ায় ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’তেও হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। স্বাধীন ভারতের স্থপতি এই মহান ব্যক্তিত্বকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করল তামাম ভারত, যিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশীয় রাজ্যকে একসূত্রে গেঁথে দিয়েছিলেন।

    প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতির (Rashtriya Ekta Divas)

    দিল্লির প্যাটেল চকের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্দার প্যাটেলকে। প্যাটেলের প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে স্যাক্সেনা। তাঁরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এই ‘লৌহ মানবে’র কৃতিত্বের গাথা। তাঁদের মতে, ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে সার্বভৌম ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’

    এদিন কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি হয় ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’তে (Sardar Patel)। ১৮২ মিটার উঁচু প্যাটেলের এই মূর্তিটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীকে দেন রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ। লৌহমানবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি অঙ্গীকার করছি যে, দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেকে নিবেদিত রাখব। আমি দেশবাসীর মধ্যেও এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দূরদৃষ্টি ও কঠোর পরিশ্রম যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে, তার চেতনায় আমি এই শপথ গ্রহণ করছি। আমার দেশ যেন অভ্যন্তরীণভাবে নিরাপদ থাকে, সে জন্যও আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করব (Sardar Patel)।”

    একতা প্যারেড

    এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল একতা প্যারেড। এটি পরিচালনা করেন মহিলা বাহিনীর সদস্যরা। এটি ভারতের শক্তি, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় চরিত্রের প্রতীক (Rashtriya Ekta Divas)। প্যারেডটির নেতৃত্ব দেন গুজরাট ক্যাডারের আইপিএস কর্তা সিমরন ভরদ্বাজ। এটি প্যাটেলের আজীবন সমর্থিত শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও জনসেবার আদর্শকে প্রতিফলিত করে। এই ভারতীয় সিভিল সার্ভিসকে দেশকে শক্ত ভিত্তি দেওয়ার ‘ইস্পাত কাঠামো’ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন তিনি।

    ‘ঐক্যের প্রধান চালিকাশক্তি’

    প্যাটেলকে ‘ঐক্যের প্রধান চালিকাশক্তি’ বলে উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জয়ন্তীতে ভারত তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ভারতকে (Sardar Patel) একীভূত করার পেছনে তিনি ছিলেন মূল চালিকাশক্তি, যিনি স্বাধীনতার পর দেশের ভাগ্যগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং জনসেবার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা তাঁর স্বপ্ন—একতাবদ্ধ, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর ভারতের—পক্ষে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পরের অস্থির বছরগুলিতে কীভাবে সর্দার প্যাটেলের সাহস ও প্রশাসনিক দূরদৃষ্টি ভারতকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে সময় বিভাজনের হুমকি আমাদের সদ্য স্বাধীন দেশের আত্মাকে নাড়িয়ে দিচ্ছিল, সেই সময় সর্দার প্যাটেলের দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমই নিশ্চিত করেছিল যে ভারত এক ও অভিন্ন থাক (Rashtriya Ekta Divas)।”

    অমিত শাহের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তাঁর জন্মবার্ষিকীতে, জাতীয় ঐক্য, অখণ্ডতা এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের প্রতীক লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলজিকে কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “সর্দার সাহেব দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা মজবুত করেছিলেন এবং কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি ও বঞ্চিতদের সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেশকে স্বনিযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—দেশের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হল কৃষকের সমৃদ্ধি। সর্দার সাহেব যে দেশকে ন্যায় ও ঐক্যের নীতিতে বেঁধে গড়ে তুলেছিলেন, সেই দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব (Rashtriya Ekta Divas)।”

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

    প্রসঙ্গত, ১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাটের নাডিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহচর প্যাটেল তাঁর কৌশলগত মেধা ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য “ভারতের লৌহমানব” অভিধায় ভূষিত হন (Sardar Patel)। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে এক জাতিতে পরিণত করার দুরূহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা ও দৃঢ় সংকল্প ভারতকে একটি একক, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাঁর দূরদৃষ্টি আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি স্থাপন করে বই কি (Rashtriya Ekta Divas)!

  • President Murmu: তিনজন নয়া রাজ্যপাল-উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: তিনজন নয়া রাজ্যপাল-উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনজন নয়া রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu)। ১৪ জুলাই, সোমবার নিয়োগ করা হয় তাঁদের। এঁদের মধ্যে বাংলা থেকে রয়েছেন একজন। তিনি প্রাক্তন অধ্যাপক আসীম কুমার ঘোষ (Prof Ghosh)। তাঁকে দেওয়া হয়েছে হরিয়ানার রাজ্যপালের দায়িত্ব। গোয়ার রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করা হয়েছে পুসাপতি অশোক গজপতি রাজুকে। আর লাদাখের উপরাজ্যপাল করা হয়েছে কবিন্দর গুপ্তকে। হরিয়ানার বর্তমান রাজ্যপাল বন্দারু দত্তাত্রেয়র জায়গায় যাচ্ছেন অসীম। ২০২১ সাল থেকে হরিয়ানার রাজ্যপাল রয়েছেন দত্তাত্রেয়। গোয়ার রাজ্যপাল রয়েছেন পিএস শ্রীধরন পিল্লাই। তাঁর জায়গায় বসানো হচ্ছে পুসাপতি অশোক গজপতি রাজুকে।

    অসীম কুমার ঘোষ (President Murmu)

    প্রাক্তন অধ্যাপক অসীম কুমার ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রবীণ বিজেপি নেতা। শিক্ষাবিদ হিসেবেও তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। নানা সময়ে তিনি অলঙ্কৃত করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক, রাজ্য সভাপতি ও সহ-সভাপতি এবং ত্রিপুরার পর্যবেক্ষকের পদ। সাম্প্রতিক কালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন তিনি। তবে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে প্রবীণ চিন্তক হিসেবে জায়গা পেতেন তিনি। এহেন এক শিক্ষাবিদকেই বসানো হল হরিয়ানার রাজ্যপাল পদে (President Murmu)।

    অশোক গজপতি রাজু

    পুসাপতি অশোক গজপতি রাজু টিডিপির একজন প্রবীণ নেতা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম রাজ পরিবারের সদস্য। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী। অন্ধ্রপ্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে টিডিপি এনডিএ সঙ্গ ছাড়লে পদত্যাগ করেন রাজু। তিনি বিজয়নগরম থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন সাতবার।

    কবিন্দর গুপ্ত

    প্রবীণ বিজেপি নেতা কবিন্দর গুপ্তকে দেওয়া হল লাদাখের উপরাজ্যপালের পদ। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পরপর তিনবার জম্মুর মেয়র হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। প্রবীণ এই বিজেপি নেতা ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের শেষ উপমুখ্যমন্ত্রী। এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে (Prof Ghosh) জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। সেই লাদাখেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁকে (President Murmu)।

LinkedIn
Share