Tag: PSL

  • PSL 2026: ‘পিএসএল খেলতে এলে বিপদ হবে’! বিদেশি ক্রিকেটারদের সতর্কবার্তা পাক জঙ্গিদের, কী করবেন স্মিথ-ওয়ার্নাররা?

    PSL 2026: ‘পিএসএল খেলতে এলে বিপদ হবে’! বিদেশি ক্রিকেটারদের সতর্কবার্তা পাক জঙ্গিদের, কী করবেন স্মিথ-ওয়ার্নাররা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বিপাকে পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL 2026)। এবার পিএসএল-এ এল জঙ্গি হামলার হুমকি। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর তরফ থেকে বিদেশি ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বার্তা তারা যেন এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট দুর্বল এবং এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই হুমকির ফলে শুধু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই নয়, গোটা টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    বিদেশি ক্রিকেটারদের হুমকি

    ‘তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান’-এর নেতা জামাত উল আহরার ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ান’-কে বলেছেন, “আমরা বিশ্বের বাকি সব ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে দিতে চাই। দয়া করে আপনাদের দেশের ক্রিকেটারদের পাকিস্তান সুপার লিগ খেলতে পাঠাবেন না। যদি কারও সঙ্গে কিছু হয়, তা হলে আমাদের কোনও দায় থাকবে না। খেলতে এলে বিপদ হবে।” আহরার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কিছুতেই যাতে পাকিস্তান সুপার লিগ না হয়, সেটা নিশ্চিত করবেন তাঁরা। আহরার বলেন, “যাতে পাকিস্তান সুপার লিগ না হয়, তার সব চেষ্টা আমরা করব। সেই কারণে ক্রিকেটারদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। কেউ খেলতে আসবেন না।”

    ওয়ার্নার ও স্মিথের মতো তারকারা কী আসবেন?

    পাকিস্তান সুপার লিগে এবার খেলা বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথের মতো তারকা রয়েছেন। ওয়ার্নার করাচি কিংসের অধিনায়ক। স্মিথ রয়েছেন মুলতান সুলতানসে। তা ছাড়া মার্নাস লাবুশেন, মইন আলি, ডেভন কনওয়ে, অ্যাডাম জাম্পার মতো ক্রিকেটারও রয়েছেন এবারের লিগে। তাঁদের প্রত্যেককে সতর্ক করেছেন আহরার। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা পাকিস্তান সুপার লিগ। ফাইনাল ৩ মে। পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট দেখা গিয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা ছয় শহরের বদলে দুই শহরে হবে। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হবে খেলা। তার মাঝেই এ বার আর এক সমস্যায় পাকিস্তানের লিগ।

    ক্রিকেটের বিরোধিতা নয়

    টিটিপি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে তারা ক্রিকেটের বিরোধিতা করছে না। বরং তাদের বক্তব্য, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল নয়, তখন এত বড় আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। এই যুক্তি সামনে রেখেই তারা বিদেশি খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, পাকিস্তান সুপার লিগে প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নামী ক্রিকেটাররা অংশ নেন, যা টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ায়। কিন্তু এ ধরনের হুমকিতে ক্রিকেটাররা আশঙ্কিত। অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

    পিএসএল-এ অনিশ্চয়তার আবহ

    অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, আন্তর্জাতিক মানের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। অতীতেও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সফলভাবে পিএসএল (PSL 2026) সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এবারও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা সক্ষম হয়, সেটাই এখন দেখার। সব মিলিয়ে, টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও, এই হুমকির জেরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। শেষ পর্যন্ত পিএসএল নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে কি না, বিদেশি ক্রিকেটাররা অংশ নেবেন কি না,এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।

    বাংলাদেশের দ্বিচারিতা!

    নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বাংলাদেশ। শেষপর্যন্ত প্রতিযোগিতা বয়কট করে তারা। সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান সুপার লিগও। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে লিগে। বিদেশি ক্রিকেটারদের হুমকি দিয়েছে একটি জঙ্গি সংগঠন। এই পরিস্থিতিতে সেখানে তাদের ক্রিকেটারদের পাঠানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পিএসএল। সেখানে ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। একটি বিবৃতিতে সে দেশের বোর্ড বলেছে, “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান সুপার লিগে ক্রিকেটারদের যোগ দেওয়ার বিষয়ে দেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে গেলে নিরাপত্তার কোনও সমস্যা হবে না। ইসলামাবাদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তেই ক্ষোভ ফেটে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। নিরাপদ ভারতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলেও জঙ্গি হুমকির মাঝেই পাকিস্তানে ক্রিকেটারদের পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।

    পিএসএল নিয়ে উদ্বেগ, আইপিএল নিয়ে নো-টেনশন

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হোক বা রাজনৈতিক মঞ্চ, ভারত বনাম পাকিস্তানের লড়াইটা সর্বত্রই। সেই লড়াইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও প্রকাশ পায়। প্রায়শই পিএসএল না আইপিএল, কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ সেরা, সেই নিয়ে সমর্থকরা তর্ক, বিতর্কে জড়ান। এমনকী এবারে তো আইপিএল এবং পিএসএল ফের একবার একদম একই সময়ে আয়োজিত হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহগুলির দিকে তাকালে বোঝাই যায় যে কোন দলের মান, কদর ঠিক কতটা। বিদেশি ক্রিকেটাররাও  আইপিএল-এ দল না পেয়ে পিএসএল-এ যোগ দেন। আবার আইপিএল-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ এলেই পিএসএল ছেড়ে দেন। অতীতে কর্বিন বশ পিএসএলের চুক্তি ছেড়ে আইপিএলে যোগ দিয়েছিলেন। এ বছরে ইতিমধ্যেই ব্লেসিং মুজারাবানি, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকাও এমনটা করেছেন।

  • PSL 2026: ‘পেট্রল শর্টেজ লিগ’! জ্বালানি সঙ্কটের কোপ পিএসএলে, জারি একাধিক নিষেধাজ্ঞা, সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    PSL 2026: ‘পেট্রল শর্টেজ লিগ’! জ্বালানি সঙ্কটের কোপ পিএসএলে, জারি একাধিক নিষেধাজ্ঞা, সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট পাকিস্তানে। সমস্যায় পাকিস্তান ক্রিকেট লিগ। ছয় শহরের বদলে দুই শহরে লিগ আয়োজন করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। দর্শকশূন্য মাঠে হবে খেলা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের লিগকে খোঁচা দিয়েছে আইসল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। এক্স হ্যান্ডলে আইসল্যান্ড বোর্ড লিখেছে, “পিএসএল এগিয়ে আসছে। লক্ষ লক্ষ ক্রিকেট ভক্তেরা মুখিয়ে রয়েছেন। আমরা বরাবর ভাবতাম, পিএসএল কথার অর্থ কী। এ বার বুঝেছি। পিএসএল মানে পেট্রল শর্টেজ লিগ।” আইসল্যান্ড বোর্ডের এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। বেশির ভাগই এই পোস্টকে মজার ছলে দেখছেন।

    ফাঁকা গ্যালারি, দুই শহরে খেলা

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ঘোষণা করেছে, এবারের পিএসএল দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে। ভেন্যু স্রেফ লাহোর ও করাচি। ২৬ মার্চ থেকে টুর্নামেন্ট শুরুর কথা থাকলেও, পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে পরিকল্পনা। মূল কারণ জ্বালানি সঙ্কট। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে একাধিক দেশে প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তান সরকারও নাগরিকদের চলাচল কমাতে বলেছে। স্কুল বন্ধ, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু, ছুটি বাড়ানো—এই আবহে ক্রিকেট আয়োজন। শুধু তাই নয়, অনেকের সওয়াল—আসল ‘ভিলেন’ জ্বালানি সঙ্কট? নাকি আঞ্চলিক সংঘাত? অর্থাৎ, তলে তলে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি বিগড়ে দিয়েছে? কারণ যাই হোক না কেন, মোদ্দা বিষয়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইমেজের প্রশ্নে ধাক্কা খেয়েছে পিএসএল।

    প্রাইভেট স্টেডিয়াম লিগ

    শুধু পেট্রল শর্টেজ লিগ নয় অনেকে আবার বলেছেন “পিএসএল নয়, এবার এটা ‘প্রাইভেট স্টেডিয়াম লিগ’ হয়ে গেল।” কেউ আবার লেখেন, ‘খেলা হবে, কিন্তু দেখবে কে? টিভিই একমাত্র ভরসা!’ আরও এক ইউজার বলছেন, ‘জ্বালানি নেই, তাই দর্শক নেই। এমন অজুহাত আগে শুনিনি!’ অন্য এক পোস্টে শ্লেষ, ‘যুদ্ধ চলছে ঠিকই। কিন্তু ট্রোলিংয়ে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন!’ নেটভুবনে এইসব মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি যতই গুরুতর হোক, রসিকতায় ভাটা পড়েনি একটুও।

    পিএসএল ছেড়ে আইপিএল-এ

    এরই মধ্যে আরেক বিপত্তি। বিদেশি ক্রিকেটাররা মাঝপথে দল ছাড়ছেন। লক্ষ্য—আইপিএল (IPL 2026)। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার দাসুন শনকা (Dasun Shanaka) লাহোর কালান্দার্স ছেড়ে যোগ দিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসে। এর আগে ব্লেসিং মুজারাবানি (Blessing Muzarabani) কলকাতা নাইট রাইডার্সে সই করেন। অর্থাৎ, লিগ পাল্টানোর খেলা থামার নাম নেই। একই ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এই নিয়ে তড়িঘড়ি কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নকভি। স্পষ্ট বার্তা, ‘যারা নিয়ম ভেঙে সরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেও হয়েছে, এবারও হবে!’

  • IPL 2026: পাকিস্তানের লিগ থেকে নাম তুলে আইপিএলে! মুস্তাফিজুরের বিকল্প মুজারাবানি, হর্ষিতের চোটে ধাক্কা কেকেআর-এর

    IPL 2026: পাকিস্তানের লিগ থেকে নাম তুলে আইপিএলে! মুস্তাফিজুরের বিকল্প মুজারাবানি, হর্ষিতের চোটে ধাক্কা কেকেআর-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প পেয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুক্রবার বিকল্প হিসেবে সই করানো হল জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার ব্লেসিং মুজারাবানিকে। কেকেআরের (IPL 2026)  ডাক পেয়েই পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে নাম তুলে নিয়েছেন মুজারাবানি। ১৭ তারিখ, মঙ্গলবার কলকাতায় আসছেন তিনি। তবে, মুস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প খুঁজে পাওয়ার দিনই ফের ধাক্কা খেল কেকেআর। অলৌকিক কিছু না হলে আসন্ন আইপিএলে হর্ষিত রানাকে পাওয়া যাবে না। ফলে বোলিং বিভাগ অনেকটাই কমজোরি হয়ে গেল তাঁদের।

    হর্ষিতের চোট বাদ পুরো সিজন থেকে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ চোট পান হর্ষিত। সেই চোট এখনও সারেনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রোপচার হয় হর্ষিতের। আইপিএলের মধ্যে তিনি সুস্থ হতে পারবেন না। ২০২৪-এ কেকেআরের ট্রফিজয়ী মরসুমে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন হর্ষিত। তিনি ১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। এর পর ভারতের সব ফরম্যাটের দলেই খেলে ফেলেছেন। কোচ গৌতম গম্ভীরের পছন্দের ক্রিকেটার তিনি। ২০২৫ মরসুমের আগে তাঁকে চার কোটি টাকায় ধরে রাখা হয়েছিল। গত বছর ১৩টি ম্যাচে ১৫টি উইকেট নিয়েছিলেন। কেকেআর এখনও বিকল্প ক্রিকেটারের নাম ঠিক করে উঠতে পারেনি। এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে ভারতীয়দের মধ্যে আকাশ দীপ, বৈভব অরোরা, উমরান মালিক এবং কার্তিক ত্যাগী রয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে ব্লেসিং মুজারাবানি এবং মাথিশা পাথিরানা রয়েছেন।

    পাকিস্তান লিগ নয়, আইপিএল-ই লক্ষ্য

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল খেলেছিলেন জিম্বাবোয়ের মুজারাবানি। দল সুপার এইট থেকে বিদায় নিলেও তিনি ১৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ৮৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০৬টি উইকেট রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়ান তিনি। ফলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মাথিশা পাথিরানার পাশাপাশি দ্বিতীয় বিদেশি জোরে বোলার হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। পিএসএলে প্রথমে কোনও দল পাননি তিনি। পরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড সই করায় মুজারাবানিকে। শামার জোসেফের জায়গায় সই করানো হয় তাঁকে। অতীতে লাহোর কলন্দর্সের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মুজারাবানির। তিনি ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার পিএসএলে সুযোগ পাওয়া কোনও ক্রিকেটার আইপিএলে সুযোগ পেয়ে দল ছাড়লেন। গত বছরের মতো এ বছরও আইপিএলের সময় পিএসএল হবে। গত বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নিয়েছিল করবিনশ বশকে। তাঁকে নিয়েছিল পেশওয়ার জালমি। পিএসএল থেকে নাম তোলায় তাঁকে এক বছর নির্বাসিত করা হয়েছে। মুজারাবানির ক্ষেত্রেও তেমন শাস্তি হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • T20 World Cup: ‘পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটার নয়, এশিয়া কাপ থেকেও নিষেধাজ্ঞা’— পিসিবিকে কড়া বার্তা আইসিসির

    T20 World Cup: ‘পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটার নয়, এশিয়া কাপ থেকেও নিষেধাজ্ঞা’— পিসিবিকে কড়া বার্তা আইসিসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) পাকিস্তান খেলবে কি না, তা নিয়ে আগামী শুক্রবার বা সোমবার পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এ কথা জানিয়েছেন। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। তাঁদের মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে। বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি পাক প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করেছেন নকভি। তারপরই আরও সময় চায় পাকিস্তান। যদিও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

    ‘বয়কট বয়কট’ নাটকই সার!

    দীর্ঘ টালবাহানা, বিতর্ক, অজুহাতের পর আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে লিটন দাসদের এবার আর দেখা যাবে না। তার পরিবর্ত হিসেবে খেলবে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশকে একাধিকবার নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাফ জানিয়ে দেয়, ভারতের মাটিতে তারা খেলতে নারাজ। ফলে আইসিসিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, ‘হয় খেলো, নাহলে এসো’। আর তারপরই ঘোষণা হয়ে যায় স্কটল্যান্ডের নাম। এদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ‘বয়কট বয়কট’ নাটকই সার! পিঠ বাঁচাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণাও করে দিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাক বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, দল ঘোষণার অর্থ এই নয় যে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রাজি পাকিস্তান। এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শাহবাজ শরিফের সরকার।

    প্রধানমন্ত্রীর নাম বিভ্রাট! কী লিখলেন নকভি

    সোমবারই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন নকভি। বৈঠক শেষে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আইসিসির অবস্থান এবং গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করব।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’’ সঙ্গে শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিয়েছেন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও। নকভির এক্স পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রথমে তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম সম্ভবত ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ নওয়াজ শরিফ’ লেখা হয়। পরে সংশোধন করে ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ’ লেখেন তিনি।

    আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ!

    বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নাম প্রত্যাহার করবে না পাকিস্তান। আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে পারে পিসিবি। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারে তারা। ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের বিরুদ্ধে খেলবে তারা। ভারতের বিরুদ্ধে নাকি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করতে পারেন শাহিনরা। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। কিন্তু সেই ম্যাচে না-ও নামতে পারে পাকিস্তান। যদিও তাতে আখেরে ক্ষতিই হবে তাদের। কারণ ভারতকে ওয়াকওভার দিলে বাবরদের সুপার ১২-তে ওঠা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ‘নাটকে’র এখানেই ইতি নয়। বাংলাদেশের প্রতি দরদ ঠিক কতখানি উথলে উঠছে, তা ম্যাচ জিতলেই বোঝাতে চায় পাকিস্তান। কীভাবে? টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রতিটি জয় বাদ পড়া বাংলাদেশকে উৎসর্গ করার পরিকল্পনা তাদের। এছাড়া কালো ব্যান্ড বেঁধে আইসিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করতে পারে তারা।

    পাকিস্তানের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আইসিসি

    পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ভাল ভাবে নেয়নি জয় শাহের আইসিসি। নকভিরা বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে আইসিসি। আইসিসির সব সদস্য দেশই পাকিস্তানের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ মূল সমস্যার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। প্রয়োজনে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন সাসপেন্ড করে রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে আইসিসি। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে আইসিসি একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে নিষিদ্ধ করা। সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল করা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার জন্য এনওসি না দেওয়া হতে পারে।

    পিসিবির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআই

    বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি ছাঁটাই করে দেওয়ার পর পাকিস্তানও জানিয়েছে, তারা খেলবে কি না ভেবে দেখবে। পিসিবির এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআইও। ভারতীয় বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান কোনও কারণ ছাড়াই হস্তক্ষেপ করছে। বাংলাদেশকে উস্কানি দিচ্ছে। সকলে জানে এক সময় বাংলাদেশের মানুষের উপর বর্বরতা চালিয়েছে পাকিস্তান। এখন আবার তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলাম। তা-ও ওরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের পুরো সূচি বদলে ফেলা অসম্ভব। সে কারণেই পরিবর্ত হিসাবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’’ উল্লেখ্য, আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশ ২-১৪ ব্যবধানে হেরে যায় বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর দাবি নিয়ে ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজেদের ভোট ছাড়া শুধু পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ের আগে থেকেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান।

     

     

     

     

LinkedIn
Share