Tag: Psychological Health

  • Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সবকিছুই সামলে নিতে পারে। অফিসের চাপ থেকে ব্যক্তিগত জীবনের নানান বঞ্চনা। অধিকাংশ সময়েই সে নিয়ে কথা বলা হয় না। বরং নিজের না পাওয়া নিয়ে কথা বলাই যেন একধরনের দূর্বলতার প্রকাশ। পুরুষ মানেই, সে সবকিছু পারবে। ব্যর্থতা যেন লজ্জা। সমাজে পুরুষের এমন এক ইমেজ। নিজের না পাওয়া কিংবা হেনস্থার কথা প্রকাশ করতেও তাই অধিকাংশ পুরুষের কুন্ঠাবোধ হয়। আর এই সমস্যা ভাগ করতে না পারার জন্য বিপদ বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের ১৫ থেকে ২১ তারিখ ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইক (International Men’s Health Week) পালন হয়। সপ্তাহ জুড়ে পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে নানান কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে, পুরুষদের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে নিজের সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে না পারার ঘটনা।

    সমস্যা ভাগ করতে না পারার জেরেই কেন বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারত সহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশেই পুরুষদের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হলো একাকিত্ব‌। এই সমস্যা মানসিক হলেও, শারীরিক ক্ষেত্রেও এর গভীর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের হৃদরোগের সমস্যা উর্ধ্বমুখী। ভারতে পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদরোগ। কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের জেরেই কম বয়স থেকেই হৃদরোগের সমস্যা দেখা যায়। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে না। এর ফলে, মানসিক চাপ, বিষন্নতা, রাগ হয়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা তৈরি হয়। এগুলো আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে পুরুষদের আত্মহত্যা!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে উদ্বেগজনক হারে পুরুষদের আত্মহত্যা বাড়ছে। নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে না পারার জেরেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে একাকিত্ব, অবসাদ ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনাও বাড়ছে। অনেক সময়েই পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানান জটিলতায় তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু সেই সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে পারছেন না। যার ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে। সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, শারীরিক পরীক্ষা না করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, উপসর্গ দেখা দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো অবহেলা করা হচ্ছে।‌ পরিবারের সদস্যেরাও রোগের উপসর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। বড় বিপদ আটকানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

    ভারতীয় পুরুষদের কোন চার রোগের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন?

    ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইকে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে চারটি রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে হৃদরোগ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ কম বয়সী ভারতীয় পুরুষেরা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখলে এই বিপদ আটকানো সহজ হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। পরিবারের ছেলে সব সামলে নেবে, সব পারবে, এই চিন্তার বদল জরুরি। অতিরিক্ত প্রত্যাশা মানসিক চাপ তৈরি করছে। তবে এর পাশপাশি খাদ্যাভাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত পরিমাণ তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। বরং স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত থাকা জরুরি।‌ তাহলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা। তাই ভারতীয় পুরুষদের ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেশি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অন্যান্য সংক্রমণের নেপথ্যে অন্যতম কারণ ধূমপানের অভ্যাস। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতের ছেলেদের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস গড়ে উঠছে। আধুনিক জীবনে ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি হয়ে উঠছে ধূমপান। কিন্তু এই ভ্রান্ত ধারণার বদল জরুরি‌। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কখনোই আধুনিক জীবনের অংশ হতে পারে না। ধূমপানের অভ্যাস কখনোই ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি নয়। বরং যে অভ্যাস না থাকলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব, সেটা মেনে চলার মধ্যেই বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ পায়।

    মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    ভারতীয় পুরুষদের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সচেতনতা জরুরি। এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর যে হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তাতে ভারতীয় পুরুষদের মানসিক চাপ ও অবসাদের বিষয়ে সচেতনতা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে ধারণা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। সবটা একটা সামলে নিতে হবে, এই ভাবনার পরিবর্তে পরিবারে সকলের সঙ্গে বিষয়টি ভাগ করে নিতে হবে, এটা বোঝাও জরুরি। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের আত্মহত্যার অন্যতম অত্যাধিক মানসিক চাপ।

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। সময় মতো চিকিৎসা শুরু না করলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে বলেও জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় প্রৌঢ়দের মধ্যে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। বার্ধক্যজনিত কারণে প্রস্টেট গ্রন্থিতে অনেক সময়েই নানান সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই সেই উপসর্গকে পুরুষেরা বিশেষ গুরুত্ব দেন না। এর ফলে সমস্যা থাকলে তা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই ভারতীয় পুরুষদের এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাহলে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share