Tag: Public Examinations Act

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা আলোচনা, সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধ এবং একাধিক বিতর্কের পর বুধবার লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হল সরকারি পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল (Public Examination Amendment Bill 2026), ২০২৬। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিল নিয়ে আলোচনা চলে। বুধবার ফের আলোচনা শুরু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) পাশ হয়।

    আরও কঠোর শাস্তি

    নতুন সংশোধনী (Public Examination Amendment Bill 2026) অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে জড়িতদের ন্যূনতম কারাদণ্ড তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে দশ বছর পর্যন্ত। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

    সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাজা দশ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জরিমানা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

    পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্যও কড়া নিয়ম

    যে সব সংস্থা পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ জরিমানা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    বিশেষ তদন্তকারী দল ও দ্রুত বিচার

    বিলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ক্ষমতা কেন্দ্রকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক

    বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন কোনও হিংসা নয়, বরং দেশের তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি প্রতীক; দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ঠুর এবং তরুণদের স্বাধীনভাবে ভাবার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সময় শাসক দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তব্যের একটি শব্দের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা রাহুলকে ভাষা ও অভিযোগের ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দেন।

    সরকারের পাল্টা জবাব

    জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধীরা রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। দেশের যুব সমাজকে অপমান করে সংসদীয় ভাষার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর অভিযোগও খারিজ করেন তিনি। জিতেন্দ্র সিং বলেন, কোথাও গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোনও মন্ত্রীর নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক আধিকারিক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?

    গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি চাকরি ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হওয়ার পর এবার বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) রাজ্যসভায় তোলা হবে।

  • Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন (Anti Paper Leak Bill) আনার পথে হাঁটল কেন্দ্র। সোমবার, ২৭ জুলাই, লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই (Modi Government) সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমানে চালু আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, জনপরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রয়োজন।

    লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ (Anti Paper Leak Bill)

    এদিন বিল পেশের সময়ই লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিরোধী দলগুলির সদস্যরা নিট ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর আইনের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রায় দু’বছর আগে প্রণীত আইনে আরও সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

    বিলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন জনপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অসাধু উপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনকে আরও শক্তিশালী করে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থাও করা হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অসাধু উপায়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)। জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।

    কোটি টাকা জরিমানা

    শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই ধরনের সংস্থার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং চার বছরের জন্য জনপরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের যে ব্যয় হয়েছে, তার আনুপাতিক অংশও ওই সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে আট বছরের জন্য তাদের জনপরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (Modi Government)। দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও এই সংশোধনী বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে বর্তমানে চালু আইনে নতুন দু’টি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন ধারাগুলির মাধ্যমে তদন্ত এবং বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)।

    তদন্ত চালানো হবে সহজ

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিলে, সেই তদন্ত রেফারেন্স পাওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে বহু বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা সরকারের। এছাড়া আন্তঃরাজ্য বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চালানো সহজ হবে। চালু আইনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের বিধান ছিল, তবে নতুন সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথক বিশেষ দল গঠনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারের বক্তব্য

    সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই কঠোর শাস্তি, সময়ে তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য (Modi Government)। এই বিলটি এমন একটি সময়ে লোকসভায় আনা হয়েছে, যখন নিট-সংক্রান্ত বিতর্ক দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার পরপরই সরকার আরও কঠোর সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

    বিরোধী দলগুলির দাবি

    বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (Anti Paper Leak Bill)। এখন সংশোধনী বিলটি সংসদের পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে কার্যকর হবে (Modi Government) নতুন বিধানগুলি।

     

LinkedIn
Share