Tag: Quad Delhi Meet

  • Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। একইসঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাল চার দেশ। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোসেমিৎসু মোতেগি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং শক্তিসম্পদ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে কোয়াড গোষ্ঠী ৷

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি

    মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করেন ৷ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনও পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে কোয়াড দেশগুলি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কোয়াড। গুরগাঁওয়ে অবস্থিত ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারি ও তথ্য ভাগাভাগির উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “কমন অপারেশনাল পিকচার” তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়। আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য ৷

    পহেলগাঁও হামলার কড়া নিন্দা

    যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড দেশগুলি “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের” বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার উল্লেখ করে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে “দৃঢ় ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ”-এর দাবি জানানো হয়েছে।

    দক্ষিণ চিন সাগর ও সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ

    কোয়াড দেশগুলি দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে “বিপজ্জনক ও জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ”, জলকামান ব্যবহার, জাহাজে ধাক্কা মারা, নৌ চলাচলে বাধা এবং বিতর্কিত অঞ্চলের সামরিকীকরণের বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea) মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ও মায়ানমার প্রসঙ্গ

    বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোয়াড দেশগুলি কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু-মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান জানায়। অন্যদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অর্থনীতি, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে জোর

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কোয়াড দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) নিয়ে নতুন কাঠামো গঠনের ঘোষণা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া “কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ” চালু করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রযুক্তি, এআই ও আন্ডারসি কেবল

    বৈঠকে ৫জি, ৬জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো ও নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” হিসেবে আন্ডারসি কেবল নেটওয়ার্কের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াডের সহায়তায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে আন্ডারসি কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দেশ। পাপুয়া নিউ গিনির ভূমিধস ও মায়ানমারের ভূমিকম্পে যৌথ ত্রাণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোয়াড দেশগুলি জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের বার্তা

    বৈঠকের শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনার বেশির ভাগ অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক মত বিনিময়ের অনেকটা জুড়ে ছিল বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিত ৷ আমরা চারজনই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী গণতান্ত্রিক দেশ ৷ আমরা সুরক্ষিত এবং বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছি ৷” একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেকগুলি দিক ও মাত্রা রয়েছে ৷ কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকে সেই বিষয়গুলির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ আগামী দিনে বিশ্বে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আগামী দিনে, অর্থনৈতিক কাজকর্ম হোক বা শক্তিসম্পদের বাণিজ্য বা সমুদ্রে বাণিজ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোয়াড গোষ্ঠীর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ৷”

LinkedIn
Share