Tag: Rafale Killer Claim

  • Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নৌসেনার প্রাক্তন পাইলট পিয়ের-অঁরি শুয়ে (Pierre-Henri Chuet)-কে চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। পিয়ের-অঁরি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) রাফাল যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। পিয়ের-অঁরি সেই সময় দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান বায়ুসেনার চিনা নির্মিত ‘জে-১০সি’ ও ‘জেএফ-১৭’ যুদ্ধবিমান এবং ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘‘রাফাল-কিলার’’ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ভারত ও ফ্রান্স— দুই দেশই তাঁর সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

    কী অভিযোগ উঠেছে পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘‘ল্য কানার অনশেনে’’ (Le Canard Enchaîné) এবং মিডিয়াপার্ট (Mediapart)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, পিয়ের-অঁরি চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছিলেন। দ্বৈত ফরাসি-কানাডীয় নাগরিক পিয়ের-অঁরি ২০২১ সাল পর্যন্ত ফরাসি নৌবাহিনীর নৌ-বিমান শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ফ্রান্সের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ (Charles de Gaulle) থেকে সুপার এতেনদার এবং রাফাল-এম (Rafale M) যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছেন। অভিযোগ, তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০১৯ সালের অগাস্টে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অন্তত দু’বার চিন সফর করেন। সেই সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা টেস্ট ফ্লাইং অ্যাকাডেমি অফ সাউথ আফ্রিকা (TFASA)-র মাধ্যমে চিনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

    কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রথম সফরে বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণের প্রযুক্তি (Carrier Landing Technology) নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় সফরে আরও বিস্তৃতভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা, নৌবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ, ল্যান্ডিং সিগন্যাল অফিসারদের (LSO) ভূমিকা, ‘ই-২সি’ হকআই নজরদারি বিমান এবং সিরিয়ায় পশ্চিমা সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআই (DGSI) ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে পিয়ের-অঁরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালায়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া, জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি শক্তির কাছে তা সরবরাহ করার মতো একাধিক অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে মুক্ত রয়েছেন।

    কী বলছেন পিয়ের-অঁরি?

    পিয়ের-অঁরি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি মাত্র দু’টি তিন দিনের সেমিনার পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “২০১৯ সালের সফরটি ভালোভাবে শেষ হয়নি। এরপর আর কখনও চিনে যাইনি।”

    ২০২৩ সাল থেকেই নজরে ছিলেন

    পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে চিনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে। পরে ২০২৫ সালেও বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য পারিজ়িয়াঁ (Le Parisien)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রক ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্যারিসের প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ পাঠায়। এরপরই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়।

    অপারেশন সিঁদুরে কী বলেছিলেন তিনি?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন পিয়ের-অঁরি। ১০ মে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের একটি জে-১০সি যুদ্ধবিমান পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতীয় একটি রাফাল ভূপাতিত করেছে। যদিও সেই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। পরবর্তী ভিডিওগুলিতে তিনি জে-১০সি ও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশংসা করে সেগুলিকে ‘‘রাফাল-কিলার’’  বলে উল্লেখ করেন।

    ভারত ও দাসো অ্যাভিয়েশনের জবাব

    ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন (Dassault Aviation)-এর প্রধান নির্বাহী এরিক ট্রাপিয়ে পাকিস্তানের দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় রাফাল ধ্বংস হওয়ার দাবি সঠিক নয়। ভারতও সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করলেও, বারবার জানিয়েছে যে হারানো বিমানগুলির মধ্যে কোনও রাফাল ছিল না। এছাড়া ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য পাঁচ মাসের একটি ব্রিজ সাপোর্ট প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করে। সেই নথি থেকেই ইঙ্গিত মেলে যে, ফ্রান্স থেকে কেনা সবকটি ৩৬টি রাফালই ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে রয়েছে।

    পশ্চিমী দেশগুলির উদ্বেগ বাড়ছে

    পিয়ের-অঁরি একমাত্র নন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রাক্তন এফ-৩৫ পাইলটকেও চিনা সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) নেটো এবং অন্যান্য পশ্চিমী দেশের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে সংবেদনশীল সামরিক দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এখনও দোষী সাব্যস্ত নন পিয়ের-অঁরি

    ফরাসি আইনে কাউকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা মানেই তিনি দোষী— এমন নয়।  এর অর্থ, তদন্তকারী বিচারকের মতে মামলাটি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এখন তদন্তের ভিত্তিতে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, এই মামলা আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হবে কি না।

LinkedIn
Share