মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc Rally)। সেই সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ বলে দাবি করল (Ramlila Maidan) বিজেপি। সমাবেশে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও করেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।
এদিনের সমাবেশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। ভাই রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তিনিও। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রাহুলের অভিযোগের উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের তুলনায় এনডিএর ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই কারণেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দেগে দিয়েছেন।
সমাবেশে হাজির মমতাও (INDIA Bloc Rally)
দিল্লির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মমতাও। তিনি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং নবীন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিজেপি কার্যত বাংলাকে লুট করেছে। নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?” একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।
বিরোধীদের সমাবেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। রাহুলের বক্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে লোকসমাগম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপি এই সমাবেশের দিকে নজর রেখেছিল এবং রাহুলের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোটা অনুষ্ঠানকে সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।
সম্বিতের দাবি, রামলীলা ময়দানের আয়তন ১০ থেকে ১২ একর। সেখানে প্রায় ২৮ হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চ ও তার সামনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিলে মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল।তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গা মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট ঘেরাটোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তোলা একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ছবি দেখিয়েই সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে নিজের হিসাব তুলে ধরবেন (INDIA Bloc Rally)।
কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির
রাহুলকে নিশানা করে সম্বিত বলেন, “রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখছেন, অথচ সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে রয়েছে। রামলীলা ময়দানও কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভরাতে পারেনি। এই সমাবেশ পুরোপুরি ব্যর্থ।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা যে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করেছিল, সেই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় গেলেন? তাঁর কথায়, “১০ লাখ মানুষ কোথায়? তাঁদের দেখান। এই ধরনের কৌশল করে কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়। এখানে ‘পি’ অর্থ ঘাম এবং ‘এম’ অর্থ পরিশ্রম। ঘাম ঝরিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। এতগুলি রাজনৈতিক দল ও পতাকা একত্রিত করেও তাঁরা ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেননি।”
সমাবেশে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ছবিতে ভিড় বেশি দেখানোর এই কৌশল আসলে দৃশ্যের কারসাজি। রাহুলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাহুলজি, হিন্দুস্তান আপনার পূর্বপুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই দেশ দেশের মানুষের। এখানে একজন চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আর সেটাই আপনাদের অস্বস্তির কারণ।”
শুধু সমাবেশের ভিড় নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন সম্বিত। তাঁর পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ও ব্যাঙ্ককের ছাপ থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কখনও দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন কি না। তাঁর দাবি, রাহুল কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বললেও কোথায় কেনাকাটা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে উপস্থিত সকলেই অবগত বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।
সম্বিতের নিশানায় মমতাও
মমতা, রাহুল ও তাঁদের সহযোগী বিরোধী নেতাদেরও আক্রমণ শানান সম্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষের জবাবে সম্বিত জানান, তাঁকে কী নামে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য বিজেপি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তথাকথিত ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লিতে এই সমাবেশের (Ramlila Maidan) আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভবিষ্যতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে জেলের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা (INDIA Bloc Rally) এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।









