Tag: Ram Mandir

Ram Mandir

  • Ram mandir: রামমন্দিরে ইসলামিক স্লোগান দিয়ে নমাজ পড়ে গ্রেফতার তিন কাশ্মীরি মুসলমান

    Ram mandir: রামমন্দিরে ইসলামিক স্লোগান দিয়ে নমাজ পড়ে গ্রেফতার তিন কাশ্মীরি মুসলমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকালে অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram mandir) কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা কর্মীরা তিন কাশ্মীরি মুসলিমকে গ্রেফতার করেছে। কঠোর নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে ঢুকে মন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে ওই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের (Kashmiri Muslims) নামাজ পড়তে দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের হিন্দু মন্দির প্রাঙ্গণের ভেতরে ইসলাম ধর্মের বিশেষ নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখেই বেশ সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    সীতা রসোই এলাকায় আটক (Ram mandir)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জন পুরুষ (Kashmiri Muslims) এবং একজন মহিলা। প্রত্যেকেই কাশ্মীরি পোশাক পরে ডি ১ গেট দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে (Ram mandir)  প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন মূল মন্দির থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে সীতা রসোই এলাকার কাছে বসে নমাজ পড়তে শুরু করে। তবে, নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাটি দেখতে পেয়েই তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    ইসলাম ধর্মীয় স্লোগান দেন

    নমাজ পড়া প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হল বছর পঞ্চান্নর আবু আহমেদ শেখ। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা। মহিলার নাম সোফিয়া, যদিও তৃতীয় যুবকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা কর্মীরা যখন তাদের থামায় তখন তিনজন ইসলাম ধর্মীয় স্লোগান দেন। তাঁদের এই কর্মকাণ্ডের পিছনে কোন বড় ধরনের নাশকতা মূলক কাজের ইঙ্গিত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৃহত্তর উদ্দেশ্য বা নেটওয়ার্ক জড়িত

    অভিযুক্তদের কাছে কাজু এবং কিশমিশের মতো জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, যা সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ জঙ্গিরা প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের সময় বেঁচে থাকার জন্য এই জাতীয় শুকনো ফল সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় (Ram mandir) পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে তাদের উদ্দেশ্য, ভ্রমণের বিবরণ এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর উদ্দেশ্য বা নেটওয়ার্ক জড়িত কিনা তা নির্ধারণের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    জেলা প্রশাসন বা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট (Ram mandir) এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি (Kashmiri Muslims) করেনি। এই ঘটনা আবারও রাম মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেছে, যেখানে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম লালার অভিষেকের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। মন্দিরটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা চব্বিশ ঘন্টা পাহারা দেওয়া হয়। পুলিশ ইউনিট থেকে প্রায় ২০০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    অস্ত্র এবং ড্রোন-বিরোধী কেন্দ্র গড়া হবে

    বিগত মাসগুলিতে, রামমন্দিরকে (Ram mandir) ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা হুমকি এসেছে নানা মহল থেকে।, যার মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, ফোন কল এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে বোমা মারার হুমকি। অযোধ্যায় এখন একটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের (এনএসজি) হাব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্র এবং ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থায় সজ্জিত পুলিশ, সিআরপিএফ, এসএসএফ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের জন্য ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সহায়তা কেন্দ্রও গড়া হবে। আসন্ন মকর সংক্রান্তি উদযাপনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে মন্দির নগরীতে প্রচুর জনসমাগম হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। আর তাই সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।

    কতটা কঠিন ছিল রামমন্দির?

    উল্লেখ্য, রাম মন্দির ভারতের অন্যতম ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্র। ৫০০ বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় আন্দোলনের পর এই মন্দির ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মন্দির নির্মাণ হলেও বাবরের উত্তরসূরীদের মনে শান্তি নেই। সব সময় হিন্দু আস্থার কেন্দ্রে ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন রাম মন্দির নিয়ে উস্কানি এবং বোমা মারার হুমকি দিয়েছে। বাবর যে শ্রী রামের মন্দির ভেঙে মসজিদ বানিয়েছিলেন, এ কথা এখন সত্য। তাই ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে নয়, এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ারই সময় আমাদের।

  • Ram Mandir: ৫০০ বছরের সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী করসেবক ভক্তদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবে ট্রাস্ট

    Ram Mandir: ৫০০ বছরের সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী করসেবক ভক্তদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবে ট্রাস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের (Ram Mandir) জন্য ৫০০ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী করসেবক এবং ভক্তদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust)। সেইসঙ্গে প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে যেখানে প্রভু শ্রী রাম এবং তাঁর ভাইদের বাসনো হয়েছিল, সেখানে একটি মন্দিরও নির্মিত হবে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার, মন্দিরের মহন্ত নৃত্য গোপাল দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিনের সভায় রাম জন্মভূমি মন্দিরে ভগবান রামের প্রাণ-প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকী সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও করা হয়।

    কর সেবকদের গুলি করেছিল মুলায়ম সিং (Ram Mandir)

    ১৯৯০ সালের ২ নভেম্বর অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust) দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালীন, মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি সরকারের নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক করসেবকের ওপর গুলি চালিয়েছিল। বাবরি মসজিদে পৌঁছাতে গেলে পুলিশের গুলিতে অসংখ্য কর সেবক নিহত হয়েছিলেন। যদিও মুলায়ম সিং যাদব ২৮ জন কর সেবকের মৃত্যুর কথা জানালেও, হিন্দু সংগঠনের দাবি এই মৃত্যুর সংখ্যাটি অনেক বেশি।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    রাম মন্দির ট্রাস্ট (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust) জানিয়েছে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠা দ্বাদশীর অনুষ্ঠানগুলি অঙ্গদ টিলায় অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে শ্রী রাম কথা পাঠ, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে। আগামী ২৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে মণ্ডল পুজো এবং শ্রী রামচরিতমানসের একটি সঙ্গীতময় অখণ্ড পারায়ণের আয়োজনও করা হবে। এদিন ভজন সন্ধ্যা পরিবেশন করবেন প্রখ্যাত গায়ক শ্রী অনুপ জালোটা, শ্রী সুরেশ ওয়াডেকর এবং শ্রীমতী তৃপ্তি শাক্য। এছাড়াও, কথ্যক নৃত্যনাট্য সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। একই ভাবে এই অনুষ্ঠানে কবি সম্মেলনেরও আয়োজন করা হবে। এখানে কবিরা প্রভু শ্রী রামের গুণাবলীর প্রশংসায় যুক্ত কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করবেন।

    আরও একটি ঘোষণায়, ট্রাস্ট জানিয়েছে যে রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণে জড়িত প্রায় ৪০০ কর্মীকে হিন্দু নববর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হবে। উল্লেখ্য গত ২৫ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোধ্যার রাম মন্দিরের উপরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ধর্মধ্বজ উত্তোলন করেন। এই কাজ ছিল রাম মন্দিরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার উপলক্ষ্যে বিশেষ কর্মকাণ্ড।

  • India slams Pakistan: “জ্ঞান দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই”, রাম মন্দির ইস্যুতে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India slams Pakistan: “জ্ঞান দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই”, রাম মন্দির ইস্যুতে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় ধর্মধ্বজ প্রতিস্থাপনের পর থেকেই তেলেবেগুনে জ্বলছে পাকিস্তান। এতটাই যে, প্রতিবেশি দেশ রাম মন্দির নিয়ে কটাক্ষ করে বিবৃতি দিয়েছে। এর উত্তরে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিষয়ে নাক না গলিয়ে, নিজেদের ‘মানবাধিকার সংক্রান্ত ভয়াবহ রেকর্ড’-এর দিকে নজর দিক পাকিস্তান।

    বিবৃতি জারি পাক বিদেশমন্ত্রকের

    মঙ্গলবার, রাম মন্দিরের চূড়ায় ধর্মধ্বজ উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অনুষ্ঠানটি ছিল রাম মন্দির নির্মাণের সমাপ্তি উপলক্ষে। ওই অনুষ্ঠানের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজধর্মের উল্লেখ করে বলেন ভগবান রাম কোনও ভেদাভেদ করতেন না। সেই ভাবনা নিয়েই চলছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার, রাম মন্দিরের উদ্বোধনকে কটাক্ষ করে পাকিস্তান। এক বিবৃতি জারি করে পাক বিদেশমন্ত্রক এই ঘটনাকে ‘ইসলামফোবিয়া’ এবং ‘ঐতিহ্যের অপবিত্রতা’ বলে আক্রমণ করে। সেখানে বলা হয়, “আমরা রাম মন্দিরের উদ্বোধনের নিন্দা জানাই। বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। ভারতে ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্য একটি বড় হুমকি। এর মাধ্যমে ভারত মুসলমানদের প্রান্তিক করার চেষ্টা করছে।” এই বিষয়ে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও রাষ্ট্রসংঘের কাছেও আর্জি রাখে।

    ‘অহেতুক জ্ঞান দেবেন না’, পাল্টা ভারত

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। পাকিস্তানকে তুলোধনা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক পাল্টা বিবৃতির মাধ্যমে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার সহ নানান বিষয় নিয়ে পাল্টা ইসলামাবাদের দিকে তোপ দাগে দিল্লি। শেহবাজ শরিফের দেশকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাফ বার্তা, ‘অহেতুক জ্ঞান দেবেন না।’ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের বক্তব্যকে খণ্ডন করে বলেন, “আমরা পাকিস্তানের করা মন্তব্যগুলি দেখেছি এবং তাদের প্রাপ্য অবজ্ঞা সহ প্রত্যাখ্যান করছি। সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মান্ধতা, নিপীড়ন এবং পদ্ধতিগত দুর্ব্যবহারের গভীর কলঙ্কিত রেকর্ড সহ একটি দেশ হিসেবে, পাকিস্তানের অন্যদের জ্ঞান দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।” পাকিস্তানকে পাল্টা সতর্ক করে দিল্লির সাফ কথা, “‘ভণ্ডামিতে ভরা ধর্মোপদেশ’ দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের মানবাধিকার সংক্রান্ত ভয়াবহ রেকর্ডের দিকে মনোনিবেশ করা।”

  • Ram Mandir: অযোধ্যার রাম মন্দিরের শিখরে উড়ল ধর্মধ্বজা, আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী

    Ram Mandir: অযোধ্যার রাম মন্দিরের শিখরে উড়ল ধর্মধ্বজা, আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বিবাহ পঞ্চমী’র শুভক্ষণে ধ্বজা (Dharma Dhwaj) উড়ল অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ram Mandir) চূড়ায়। এই বিবাহ পঞ্চমীতেই মিলন হয়েছিল শ্রী রাম ও মা সীতার। অভিজিৎ মুহূর্তে সম্পন্ন হয় আচার। ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার মন্দিরের শিখরে ধ্বজারোহণ সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আরএসএসের সরকার্যবাহ মোহন ভাগবত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং হাজার হাজার ভক্ত। এদিন প্রধানমন্ত্রী এবং ভাগবত যখন যৌথভাবে ১৯১ ফুট উঁচু শিখরের ওপর ১০ ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমকোণী ত্রিভুজাকৃতির ধর্ম-ধ্বজা উন্মোচন করলেন, তখনই শঙ্খধ্বনিতে ভরে উঠল চারদিক, হল ঘণ্টাধ্বনিও, অযোধ্যা মুখরিত হল জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে। গেরুয়া রংয়ের এই ধ্বজাটি একাধিক অর্থ বহন করে। এটি দীপ্তিময় সূর্য ভগবান রামের সূর্যবংশীয় বংশধারা এবং তাঁর অটল প্রভাকে নির্দেশ করে, ঋষি কশ্যপের সৃষ্ট হাইব্রিড কোভিদার বৃক্ষ প্রাচীন জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক এবং ওঁ চিহ্ন চিরন্তন আধ্যাত্মিক সত্তা এবং সনাতন ঐতিহ্যের মৌলিক দর্শন তথা রামরাজ্যের চেতনার প্রতিফলন।

    ধর্ম–ধ্বজ উত্তোলন (Ram Mandir)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্ম–ধ্বজ উত্তোলন শুধু স্থাপত্যগত সমাপ্তির চিহ্ন নয়, বরং এটি ঐক্য, সহনশীলতা ও সভ্যতাগত গৌরবের পুনরুত্থানের উদ্‌যাপনকারী এক সাংস্কৃতিক ঘোষণা। এদিন অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী রামলালার গর্ভগৃহে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি সপ্তমন্দির পরিদর্শন করেন, যেখানে মহর্ষি বশিষ্ঠ, মহর্ষি বিশ্বামিত্র, মহর্ষি অগস্ত্য, মহর্ষি বাল্মীকি, দেবী অহল্যা, নিষাদরাজ গুহ এবং মাতা শবরীকে উৎসর্গীকৃত মন্দিরসগুলি রয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী নিয়ে যান শেষাবতার মন্দিরে। অযোধ্যার প্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই গিয়েছিলেন তিনি। ত্রিবর্ণ পতাকা নাড়ানো ভক্তদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, মন্দিরের দিকে অগ্রসর হওয়া (Dharma Dhwaj) প্রধানমন্ত্রীর রোডশোটি জাতীয় ও আধ্যাত্মিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনীতে (Ram Mandir) পরিণত হয়।

    অনন্য স্থাপত্যশৈলী

    অযোধ্যার এই রাম মন্দির ভারতের বহুবর্ণের মন্দির-পরম্পরার এক অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই মন্দিরের নাগরা শৈলীর শিখর উত্তর ভারতের প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের প্রতিনিধিত্ব করে। মন্দিরকে ঘিরে থাকা ৮০০ মিটার দীর্ঘ প্রাচীরে দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যের নান্দনিকতা যুক্ত হয়েছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক মিলনকে প্রতিফলিত করে। মন্দিরের দেয়ালে বাল্মীকি রামায়ণের ৮৭টি নিপুণভাবে খোদিত শিলাচিত্র অঙ্কিত রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে ৭৯টি ব্রোঞ্জনির্মিত সাংস্কৃতিক দৃশ্য স্থাপন করা হয়েছে, যা ভারতীয় সভ্যতার এক বিস্তৃত মুক্ত-আকাশ গ্যালারি তৈরিতে সাহায্য করে। এই মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যশৈলী রাম মন্দিরকে কেবল একটি উপাসনাস্থলেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং এটিকে এক জীবন্ত ভারতীয় ঐতিহ্যের জাদুঘরে পরিণত করেছে।

    ধ্বজারোহণ পর্ব

    এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ শুক্ষক্ষণে শুরু হয় ধ্বজারোহণ পর্ব। নীচ থেকে ধীরে ধীরে মন্দিরের শিখরে পৌঁছয় ন্যায়ের এই ধ্বজা। এই পুরো পর্বটা প্রধানমন্ত্রী ধ্বজার দিকে তাকিয়েছিলেন আবেগঘন চোখে। ধ্বজারোহণ পর্ব শেষ হতেই হাতজোড় করে নমস্কার করেন প্রধানমন্ত্রী। ধ্বজার উদ্দেশে নিবেদন করেন পুষ্পার্ঘ্য। এর পরেই ভাষণ দেন তিনি (Dharma Dhwaj)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্ষতে আজ প্রলেপ পড়ল। বহু শতকের যন্ত্রণার অবসান। শতাব্দীর সঙ্কল্প আজ পূর্ণতা পেল। আজ সেই যজ্ঞের সমাপ্তি, যার আগুন জ্বলছিল ৫০০ বছর ধরে। সেই যজ্ঞ এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত হয়নি বিশ্বাস থেকে।” তিনি বলেন, “আজ অযোধ্যা শহর ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনার আরও এক শীর্ষবিন্দুর সাক্ষী থাকল। আজ সমগ্র ভারত, সমগ্র বিশ্ব, রামনামে (Ram Mandir) আচ্ছন্ন। প্রতিটি রামভক্তের হৃদয়ে রয়েছে অতুলনীয় তৃপ্তি, সীমাহীন কৃতজ্ঞতা, অপরিসীম আনন্দ।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অযোধ্যা তথা ভারত এবার অধ্যাত্মবাদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মহাসঙ্গম দেখবে।” তিনি বলেন, “প্রাণ যায়ে পর বচন না যায়ে…বার্তাও দেবে এই ধর্মধ্বজ। এই নিশান এই বার্তাও দেবে যে এই সমাজ দাঁড়াবে দরিদ্রদের পাশে।”

    রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা

    প্রসঙ্গত, গত বছর ২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল অযোধ্যার রাম মন্দিরে। যদিও তখনও মন্দির নির্মাণের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছিল না। প্রায় দু’বছর পর শেষ হয়েছে মন্দির নির্মাণের কাজ। এই বিষয়টি দ্বিতীয় প্রাণপ্রতিষ্ঠা বলেও অভিহিত করেছেন (Dharma Dhwaj) পুরোহিতদের একাংশ। কারণ ধ্বজারোহণের পর মন্দিরে ৪৪টি দরজাই ধর্মীয় আচারের জন্য খুলে দেওয়া হবে (Ram Mandir)।

  • PM Modi: প্রস্তুত রামনগরী, মঙ্গলে মন্দিরের চূড়ায় গৈরিক ধ্বজ উত্তোলন করবেন মোদি

    PM Modi: প্রস্তুত রামনগরী, মঙ্গলে মন্দিরের চূড়ায় গৈরিক ধ্বজ উত্তোলন করবেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামনগরী (Ram Mandir) অযোধ্যা আবারও এক জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর, রাম মন্দিরের চূড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একটি বিশেষ গৈরিক পতাকা উত্তোলন করবেন। শহর জুড়ে প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। রাস্তাঘাট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শহরের নানা জায়গায় নতুন স্টপ এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। স্যানিটেশনের কাজ করতে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দলগুলিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    রাম মন্দির ও শহর জুড়ে উৎসবের আলো

    অযোধ্যা শহর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির ছবিসহ পোস্টার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানো হয়েছে। ফলে রামভক্তদের উত্তেজনার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাম মন্দিরের প্রবেশপথে লেখা আছে, “জাতি পতি পুছে নাহি কোই, হরি কা ভাজে সো হরি কা হোই।” এর অর্থ— জাতপাত, বর্ণকে উপেক্ষা করে শ্রী রামের ভক্তির চেতনাকে আরও শক্তিশালী করো। ধ্বজ উত্তোলনকে ঘিরে রাম মন্দির এবং শহর জুড়ে উৎসবের আলো, সাজসজ্জা এবং উচ্চতর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ভাবে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি অযোধ্যার জন্য আরও একটি মাইলফলক মুহূর্ত হতে চলেছে। রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে আযোধ্যায়। এবার উল্লেখযোগ্য ভব্য সমাপন লক্ষ্য করা যাবে বলে মনে করেছেন অনেক রামভক্ত। স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার এবং দর্শনার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

    কঠোর নিরাপত্তা

    অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। এলাকার সকল সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিট সবসময় নজরদারি করছে। পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, “সীমান্তের কাছাকাছি বস্তি এলাকা এবং অস্থায়ী বসতিগুলিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এমন কি সন্দেহজনক লোকজনের পরিচয়পত্র কঠোরভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে, অযোধ্যা জুড়ে দোকানদার, পরিবহন পরিচালক, খাবারের দোকান এবং হোটেলের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি হয়েছে।”

    শাশ্বত শক্তি, ঐশ্বরিক তেজ, গুণে সম্পন্ন ধব্বজ

    রামমন্দির (Ram Mandir) কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, গৈরিক ধ্বজ উত্তোলনের অনুষ্ঠানটিকে বিশেষভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করা হবে। মূল মন্দিরের পাশাপাশি মহাদেব, গণেশ, হনুমান, সূর্যদেব, মা ভগবতী, মা অন্নপূর্ণা এবং শেষাবতারের মন্দিরগুলিকে দারুণ ভাবে সুসজ্জিত করা হয়েছে। অযোধ্যা, কাশী এবং দক্ষিণ ভারতের ১০৮ জন আচার্য, বিশিষ্ট কাশী পণ্ডিত গণেশ্বর শাস্ত্রীদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনায় আচার অনুষ্ঠানগুলি সম্পাদন করা হবে। অনুষ্ঠানের সময় সূর্যের প্রতীক -শাশ্বত শক্তি, ঐশ্বরিক তেজ, গুণ এবং জ্ঞানের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করা হবে। ভগবান রামের সঙ্গে   অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত এই গুণগুলি।প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারী রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠায় যোগদান করেছিলেন। তিনি এবারেও সাধু, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ট্রাস্ট সদস্যদের উপস্থিতিতে আচার অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬,০০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Trinidad-Tobago: ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তৈরি হবে অযোধ্যার আদলে রাম মন্দির

    Trinidad-Tobago: ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তৈরি হবে অযোধ্যার আদলে রাম মন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং প্রগতিকে বৃদ্ধি করতে এবার ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে (Trinidad-Tobago) রাম মন্দিরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ওই দেশের সরকার। এই সিদ্ধান্ত হিন্দু আস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজের জন্য এই রাম মন্দির হবে আরও এক গভীর অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। ক্যারিবীয় দেশের স্থানীয় হিন্দু সংগঠন এবং সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই মন্দির হবে ধর্ম, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার অন্যম পীঠস্থান। মর্যাদাপূর্ণ পুরুষোত্তম ভাগবান রাম চন্দ্রের (Ram Mandir) আদর্শ এবং ধর্মচিন্তাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আরও এক প্রায়োগিক দিক বলে মনে করেছেন রাম ভক্তগণ।

    দুই দ্বীপপুঞ্জে হিন্দুর জন্য ধর্মকেন্দ্র (Trinidad-Tobago)

    পৃথিবীর পশ্চিম গোলার্ধে হিন্দুধর্মের সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে রাম মন্দির প্রধান পীঠস্থানে পরিণত হবে। এই বছর শুরুতে অযোধ্যা থেকে রামলালার মূর্তি নিয়ে আসার জন্য সাধু-সন্ত সমাজের সঙ্গে কথা বলেন ওই দেশের মন্ত্রী ব্যারি পদরথ। এবার তাঁর মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভারত সরকারের কাছে সবরকম সহযোগিতার প্রার্থনা করেছেন। উল্লেখ্য ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোকে (Trinidad-Tobago) রামায়ণের দেশ বলা হয়। তবে ভারতের বাইরে বিশ্বের আরেক প্রান্তে হিন্দু সভ্যতার স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যকে তুলে বিশেষ ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন মন্ত্রী পদরথ। তিনি বলেন, “রাম লালাকে (Ram Mandir) ঘিরে এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা পূর্ণ সমর্থন করে সবরকম কাজ করবো। ইতিমধ্যে ভারত সরকারের কর্মকর্তারা সদর্থক আলোচনা করেছেন কীভাবে মন্দিরের কাজের জন্য সহযোগিতা হবে। সেই সঙ্গে দুই দ্বীপপুঞ্জ জাতির জন্য একটি সম্ভাব্য পর্যটন কেন্দ্র হিসবেও রাম মন্দিরকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ভারতীয় সংস্কৃতি ধর্ম বিশ্বাস এবং আস্থা এখানে বহু প্রজন্মের মানুষ বহন করছেন। শুধু মন্দির গড়াই প্রধান লক্ষ্য নয়, তাকে ঘিরে আরও নানা রকম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। ”

    ১০০০০ ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন

    নিউইয়র্কের ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ রাম মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রেম ভান্ডারী উত্তর আমেরিকার ভক্তদের জন্য একটি অযোধ্যা নগরীর পরিকল্পনা করেছেন। এই নগরী হবে ওই দেশের আধ্যাত্মিক এবং ধর্মচর্চার প্রধান ক্ষেত্র। যাঁরা ভারতে যেতে পারবেন না বা শরীরিক ভাবে অক্ষম তাঁদেরকেই এই নির্মিত অযোধ্যা নগরীতে প্রভু রামলালার দর্শন করাবেন। ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিসেসারের কাছে প্রেম ভান্ডারী প্রথমে মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য ২০২৫ সালের মে মাসেই ত্রিনিদাদে অযোধ্যার রামমন্দিরের রাম লালা মূর্তির একটি প্রতিরূপ উন্মোচন করেছিলেন। ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোয় (Trinidad-Tobago)  মন্দির স্থাপনার জন্য অযোধ্যার শ্রীরাম মন্দির (Ram Mandir) সংস্থার সভাপতি অমিত আলাঘ যৌথভাবে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিলেন। রামলালার মূর্তি উন্মোচনের সময় দেশের পোর্ট অফ স্পেনে ১০০০০ ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। আর তার ঠিক কয়েকমাস পরেই এই মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রবাসী হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। উল্লেখ্য এখানে ২০ অক্টোবর হাজার হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি উৎসব পালন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ।

  • Ram Mandir: ‘‘রামমন্দির হল সভ্যতার ধ্বনি ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক’’, বললেন চম্পত রাই

    Ram Mandir: ‘‘রামমন্দির হল সভ্যতার ধ্বনি ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক’’, বললেন চম্পত রাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৫ জুন অযোধ্যায় রাম দরবারের আটটি মন্দিরের উদ্বোধন হয়। এই আবহে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি শ্রী চম্পত রাই অর্গানাইজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাম মন্দিরের আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় তাৎপর্য তুলে ধরেন (Ram Mandir)। তাঁর মতে, ‘‘রামমন্দির হল সভ্যতার ধ্বনি ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক।’’

    এটি ভারতবর্ষের আত্মমর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রতীক

    চম্পত রাই বলেন, ‘‘রাম মন্দিরের তাৎপর্য শুধুমাত্র ধর্মীয় দিকেই নেই এটি একটি সভ্যতার প্রতীক। ভারতের জাতীয় গৌরবের পুনরুত্থান সম্ভব হয়েছে এই মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে। এপ্রসঙ্গে তিনি ইতিহাসও টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘‘১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে রাম মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল এবং আজ আমরা তা পুনরায় স্থাপন করেছি। এটি ভারতবর্ষের আত্মমর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রতীক।’’ তিনি (Champat Rai) বলেন, ‘‘রাম মন্দিরের পুনরুত্থান লক্ষ লক্ষ ভক্তের বিশ্বাস ও মর্যাদার এক জীবন্ত দলিল। তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে মন্দির পরিচালনা করছে। ভক্তদের সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, নির্মাণ পরিকাঠামোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, ভক্তদের বিশ্রামাগার ইত্য়াদি সবই রয়েছে।

    স্থানীয় অর্থনীতির শ্রীবৃদ্ধি (Ram Mandir)

    রাম মন্দিরকে (Ram Mandir) কেন্দ্র করে অযোধ্যার স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি জানান। চম্পত রাইয়ের (Champat Rai) মতে, ২০১৯ সালের আগে প্রতিদিন ২০০০ থেকে ৪০০০ মানুষ অযোধ্যায় আসতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর প্রতিদিন প্রায় চার লক্ষ তীর্থযাত্রী মন্দির পরিদর্শনে আসতে শুরু করেন সেই সময়টাতে। এর ফলে অযোধ্যায় ব্যাপক অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

    বেড়েছে দিন মজুরদের রোজগার

    তাঁর মতে, রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণের পর থেকেই অযোধ্যার স্থানীয় শ্রমিকদের রোজগার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাঁরা দিনমজুরের কাজ করেন, তাঁরা এখন প্রতিদিন প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, রাম মন্দির নির্মাণের ফলে অযোধ্যায় কতটা অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘রাম মন্দিরকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভুল হবে এটি ভারতের জাতীয় গৌরবের প্রতীক।’’

  • Ayodhya: রামলালার পরে রাজা রাম! যোগীর উপস্থিতিতে অযোধ্যায় ৮ মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা

    Ayodhya: রামলালার পরে রাজা রাম! যোগীর উপস্থিতিতে অযোধ্যায় ৮ মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন অর্থাৎ ৫ জুন অযোধ্যার রাম মন্দিরে ফের হল প্রাণ প্রতিষ্ঠা। গর্ভগৃহের পর এবার রাম দরবারে ৮টি মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল (Ayodhya)। এদিনের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

    কোন কোন দেবতার মূর্তি বসল (Ayodhya)

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হয় রাম মন্দিরে। তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, তিনদিন ধরে হয়েছে এই অনুষ্ঠান। এদিন তিথি মেনে সকাল ১১ টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু হয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা। চলে ১১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এরই মধ্যে রাম দরবারে আট দেব-দেবীর মূর্তির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। বৈদিক রীতি মেনে যজ্ঞ, পঞ্চ গব্য ও মন্ত্রোচারণের মাধ্যমে দেবতাদের অভিষেক করা হয়। ২০২৪ সালে গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রামলালা বালক রামের মূর্তি (Ayodhya)। এবার রাম দরবারে পূর্ণবয়স্ক রাজা রামের মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হল। শ্রীরামের পাশাপাশি মা সীতা, সূর্য দেবতা, দেবী দুর্গা, হনুমানজী, সপ্ত ঋষি, অন্নপূর্ণা দেবী সহ একাধিক দেব-দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠাও করা হয় এদিন।

    কী বলছেন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক?

    রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই এনিয়ে বলেন, “মন্দিরের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে (Ayodhya)। কলসও বসানো হয়ে গিয়েছে। দেবতাদের মূর্তি স্থাপিত হয়েছে মন্দিরে। প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে যাবতীয় রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। আজ প্রাণ প্রতিষ্ঠার শেষ দিন।” সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও জানিয়েছেন, মন্দিরে আগের মতোই দর্শন করতে পারবেন তীর্থযাত্রীরা। তবে মন্দিরের দ্বিতীয় তলের মন্দির অর্থাৎ রাম দরবারে দর্শন আপাতত বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার পুণ্যার্থী রাম মন্দিরে আসছেন বলে জানান চম্পত রাই।

    গঙ্গা দশেরা উপলক্ষে রাম জন্মভূমি প্রাঙ্গণে চলছিল উৎসব, এদিন সম্পন্ন হল

    রাম দরবারে রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার এই উৎসবে গোটা অযোধ্যায় এক আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়। প্রসঙ্গত, গঙ্গা দশেরা উপলক্ষে রাম জন্মভূমি প্রাঙ্গণ বিগত তিন দিন ধরেই চলছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এদিন তা সমাপ্ত হয়। আর এই দিনে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হল রাম দরবারের আটটি মূর্তির। বৈদিক মন্ত্র, শঙ্খধ্বনিতে মেতে ওঠে গোটা অযোধ্যা। ৫ জুন সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ মূল পুজো শুরু হয় বৈদিক রীতি মেনে। সকালেই যজ্ঞ বেদীতে দেবতাদের উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান করা হয় (Ayodhya)। এরপরে সকাল ন’টা নাগাদ অনুষ্ঠিত হয় হোম। প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময়ে এক বিশেষ আরতিরও ব্যবস্থা করা হয় এদিন অযোধ্যায়। একেবারে শেষে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রসাদ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাধু-সন্ত বৈদিক পণ্ডিত, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এছাড়াও দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত হাজির ছিলেন এদিন।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সাধু-সন্তরা

    উল্লেখযোগ্যভাবে এই দিনই হল আবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্মদিন (Yogi Adityanath)। সেই উপলক্ষে তিনি ভগবান রামের কাছে আশীর্বাদও চান। আবার এই দিনটি হল সরযূ নদীর ত্রয়োদশী জন্মোৎসব। অর্থাৎ এদিনের তিথির আধ্যাত্মিকতার তাৎপর্যকে অনেক বেশি। রাম দরবারে রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যে সমস্ত সাধুসন্তরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অযোধ্যার প্রাচীন গৌরবকে পুনরুদ্ধারের জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করেন।

    অযোধ্যার উন্নয়ন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী (Yogi Adityanath) হন যোগী আদিত্যনাথ। বিগত আট বছর তিনি উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অযোধ্যার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে তাঁর সরকার। অযোধ্যায় ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, রেলপথের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সরযূ নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন এবং উন্নত পর্যটন ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত, অযোধ্যা নগরীতে বর্তমানে রাম কথা পার্ক, সরযূ ঘাটের উন্নয়ন বেশ চোখে পড়ে। প্রতিদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে সরযূ মাতার আরতিতে অংশ নেন হাজার হাজার ভক্ত। সারা বিশ্বের হিন্দুদের কাছে আধ্যাত্মিকতার মানচিত্রে অযোধ্যা এক বিশেষ স্থান দখল করেছে।

    এদিন জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    প্রসঙ্গত, এদিনের অনুষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য বেশ জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অযোধ্যার রাম মন্দির এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে ব্যাপক নজরদারি চালানো হয়। সেখানে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সন্ত্রাস দমন শাখা, সিআরপিএফ, স্থানীয় পুলিশ মোতায়ন করা ছিল। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে অযোধ্যাকে এদিন দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।

  • Ram Mandir Ayodhya: রাম লালা থেকে রাজাধিরাজ রাম, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত অযোধ্যা

    Ram Mandir Ayodhya: রাম লালা থেকে রাজাধিরাজ রাম, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার প্রাচীন মন্দিরনগরী ফের একবার ভক্তির সুরে মুখর হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ঐতিহাসিক রাম লালার ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’র (Ram Mandir Ayodhya) পর, এবার আসছে আরও এক মহার্ঘ মুহূর্ত—‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’। আগামী ৫ জুন, গঙ্গা দশহরার দিন এই নতুন ধর্মীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে, যেখানে প্রথম তলায় রাজারূপে রামচন্দ্রের প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে। বালক রামের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছিল ১৫ মাস আগে। এবার অযোধ্যায় হবে রামলালার রাজ্যাভিষেক পর্ব। মন্দিরের প্রথম তলায় রামদরবার বা রাজদরবার স্থাপনের পরে, রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    রামমন্দির নির্মাণের কাজ শেষের পথে

    রাজদরবার স্থাপনের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক ভাবে অযোধ্যার রামমন্দির (Ram Mandir Ayodhya) নির্মাণের কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু ৩ দিনের এই প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান (Pran Pratistha)। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাম দরবার’। ৮টি মন্দিরে আট বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে। অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক নেতা এবং ভিআইপি-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শুধু থাকবেন ধর্মগুরুরা। বিতর্ক এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র আগেই জানিয়েছিলেন, নির্মাণকাজ ৫ জুনের মধ্যে শেষ হলেও, মন্দিরের নীচের অংশে ভগবান রামের কাহিনী খোদিত দেওয়ালচিত্রগুলি স্থাপন করার কাজ বাকি থাকবে। ৫ জুন প্রাণ প্রতিষ্ঠার এক সপ্তাহ পর, মন্দিরের নবনির্মিত অংশগুলি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

    রাজা রাম-এর আরাধনায় দ্বিতীয় দফার উৎসব

    শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনের অনুষ্ঠানে (৩-৫ জুন) থাকছে বৈদিক যজ্ঞ, পুজো, শোভাযাত্রা, ও মহা আরতি। শহরজুড়ে রং-বেরঙের পতাকা, গাঁদাফুলের মালা ও রঙ্গোলিতে সেজে উঠেছে পথঘাট। তবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছেন, “এই অনুষ্ঠান কোনও জনসমাগম বা রাজনৈতিক জমায়েত নয়, বরং একটি গভীর আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গ। তাই অযথা ভিড় না করে, কেবল রাম লালার দর্শনে ইচ্ছুকরাই আসুন।” রাজা রাম-এর ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’—৫ জুন বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সম্পন্ন হবে। সেই দিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্মদিনও, তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বালক রাম থেকে রাজা রাম

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রামচন্দ্রের বালক রূপের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মন্দিরের নিচতলায় গর্ভগৃহে। এবার মন্দিরের প্রথম তলায় রাজা রূপে রামের প্রতিষ্ঠা হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবে দেবী সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন ও ভক্ত হনুমান—যিনি সেবা ও ভক্তির চিহ্ন হয়ে থাকবেন। মূল দেবমূর্তির পাশাপাশি, মন্দিরের পরিধিতে (পরিকোটায়) সাতটি প্রধান মন্দিরে বিভিন্ন দেব-দেবীর ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ হবে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবতাদের অবস্থান ঠিক করা হয়েছে। ঈশান কোণে শিব, অগ্নি কোণে গণেশ, দক্ষিণে হনুমান, নৈঋতে সূর্যদেব, ব্যায়ব্য কোণে ভগবতী, উত্তরে অন্নপূর্ণা, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে শেশাবতার লক্ষ্মণ-এর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, বাল্মীকি, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অহল্যা, শবরী ও নিশাদ রাজের নামে সাতটি মন্দিরে ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ সম্পন্ন হবে।

    সোনার শিখর: ভক্তির শিরমণি

    নতুন এই পর্বে সবচেয়ে নজরকাড়া স্থাপত্যিক সংযোজন হল ‘স্বর্ণ শিখর’—রাম মন্দিরের (Ram Mandir Ayodhya) সোনায় মোড়া চূড়া। নগর শৈলীর ঐতিহ্য মেনে নির্মিত এই শিখরটি মন্দিরের আধ্যাত্মিক চূড়া বা ‘মেরু’র প্রতীক। এটি মাইলের পর মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান, ভক্তির দীপ্ত প্রতীক।

    নিরাপত্তার চূড়ান্ত ব্যবস্থা

    উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ১০,০০০-এরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মাল্টি-লেভেল চেকপোস্টের সাহায্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। অযোধ্যার জেলা শাসক নিখিল তিকরাম ফুন্ডে জানিয়েছেন, “যাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য যথাযথ স্থান ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনও ভক্তর কোনও অসুবিধা না হয়।”

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ মন্দির

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর, ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট ভূমি পূজনের মাধ্যমে রাম মন্দির (Ram Mandir Ayodhya) নির্মাণের সূচনা হয়। এরপর থেকে দ্রুতগতিতে মন্দির নির্মাণ চলছে। ৩৮০ ফুট দীর্ঘ, ২৫০ ফুট প্রস্থ ও ১৬১ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে গোলাপি বেলেপাথরে নির্মিত হচ্ছে। ৩৯২টি খোদাইকৃত স্তম্ভ ও ৪৪টি অলঙ্কৃত দরজা রয়েছে এই মন্দিরে। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ পুরোপুরি মন্দিরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “এই নির্মাণ শুধুই আধ্যাত্মিক না, এটি আমাদের জাতীয় গর্ব এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।”

  • Ram Mandir: অযোধ্যায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে রাম দরবারের নির্মাণ কাজ, বসল প্রথম সোনার দরজা

    Ram Mandir: অযোধ্যায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে রাম দরবারের নির্মাণ কাজ, বসল প্রথম সোনার দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় সম্পূর্ণ রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণের দ্রুত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রথম তলায় গড়ে উঠছে রাম দরবার (Ram Darbar)। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রাম দরবারে সোনার দরজা স্থাপন করা হয়েছে। মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক বলেই জানিয়েছে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। রাম দরবারের নির্মাণের মাধ্যমেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা  হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, রাম দরবারে ভগবান রাম, সীতা, লক্ষণ এবং হনুমানের মূর্তি স্থাপন করা হবে। রাম দরবারের কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

    ব্যস্ত নির্মাণ কর্মীরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন (Ram Mandir)

    নির্মাণ কর্মীরা খুবই ব্যস্ত। নিজেদের নাওয়া-খাওয়া ভুলে সদা ব্যস্ত তাঁরা। প্রতিনিয়ত তাঁরা রাম দরবারকে কীভাবে আরও সুন্দর করা যায়, সেই ভাবনাই ভাবছেন। রাম দরবারে (Ram Darbar) প্রতিষ্ঠিত সোনার দরজা কেবলমাত্র একটি দরজাই নয়, তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানাচ্ছে যে, এটি একটি আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণের কাজের বিষয়ে দেশের কোটি কোটি ভক্তের আগ্রহ তুঙ্গে। রাম নগরীর মন্দিরের প্রতিটি আপডেট পেতে তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এই আবহে রাম দরবার নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।

    রাম দরবারের (Ram Mandir) কাজ শেষ হলে আরও বেশি ভক্ত সমাগম হবে

    রাম মন্দির আজ আর কেবল হিন্দু ধর্মের আস্থা বা বিশ্বাসের প্রতীক হয়েই নেই। উপরন্তু এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরম্পরা এবং জাতীয় অস্মিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে রাম মন্দির। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, রাম দরবারের (Ram Darbar) নির্মাণ কাজ শেষ হলে আরও বেশি সংখ্যক লক্ষ লক্ষ তীর্থ যাত্রা এখানে হাজির হবেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে রাম মন্দির নির্মাণের রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর ২০২০ সালের অগাস্টে ভূমি-পূজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হয় রাম মন্দিরের (Ram Mandir)।

LinkedIn
Share