মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী আবহের মধ্যেই রামনবমী (Ram Navami 2026) পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। একদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পুজো ও ধর্মীয় স্লোগান, অন্যদিকে বাম-নকশাল ছাত্র সংগঠনগুলোর পাল্টা স্লোগান ও বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে দিনভর টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল দুই ক্যাম্পাসেই। গেরুয়া শিবিরের বড় শক্তি প্রদর্শন বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশ।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরেই চলল আরাধনা (Jadavpur University)
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের ভেতরে রামনবমী পালনের জন্য গত ২৪ মার্চ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছিল এবিভিপি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর না পাওয়ায়, বুধবার গেটের বাইরেই পুজোর আয়োজন করে এবিভিপি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছিল। ফটকের বাইরে শ্রীরামের ছোট মূর্তি স্থাপন করে চলে উপাসনা। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়: অনুমতিহীন পুজো ও ছাত্র বিক্ষোভ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও (Jadavpur University) পরিস্থিতি ছিল বেশ সংবেদনশীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেছেন, “ক্যাম্পাসের ভেতরে রামনবমী পালনের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি।” তাসত্ত্বেও একদল পড়ুয়া এবং বাইরের কিছু সদস্য ক্যাম্পাসের ভেতরে জমায়েত হয়ে পুজো শুরু করেন।
স্লোগান যুদ্ধ
একদিকে যখন এবিভির ‘জয় শ্রীরাম’ (Jadavpur University) ধ্বনি উঠছিল, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান তুলে পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপাচার্য নিজে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে ক্যাম্পাসের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। নির্বাচনের ঠিক আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের ধর্মীয় আয়োজন এবং তাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংঘাতের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ও শিক্ষামহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঠনপাঠনের পরিবেশ বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
