Tag: Ram Temple

Ram Temple

  • Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামমন্দির প্রকল্পের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ (Ram Mandir Trust) আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ২ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে (Govind Dev Giri)। এর মধ্যে আধ্যাত্মিক নেতা গোবিন্দ দেব গিরিকে ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক, মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ, আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকে ট্রাস্টি এবং নির্মলা যাদবকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Ram Mandir Trust)

    নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী অলোক কুমার বিশেষভাবে গোবিন্দ দেব গিরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর আশা, গিরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ট্রাস্টের কাজকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ট্রাস্টের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে রামমন্দির প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি অযোধ্যায় সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বও ট্রাস্টের উপর রয়েছে। সেই কাজ আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য।

    সাধারণ সম্পাদক পদে গোবিন্দ দেব গিরি

    গোবিন্দ দেব গিরির নিয়োগকে এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্বে তিনি ট্রাস্টকে প্রয়োজনীয় দিশা দিতে পারবেন। অলোক কুমার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, গিরির অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

    রামমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ মহেশ ভাগচন্দকা

    বৈঠকে মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    অশোক সিংঘল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও তিনি হিন্দুত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল্যবান হবে (Govind Dev Giri)।

    কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে সংগঠনটি (Ram Mandir Trust)।

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডে হলেন ট্রাস্টি

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকেও ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    ট্রাস্টে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আইনি ও বিচারিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ, নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ট্রাস্টকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ট্রাস্টের কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।

    নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি, বাড়ল মহিলা প্রতিনিধিত্ব

    ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নির্মলা যাদবের নিয়োগও উল্লেখযোগ্য। তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, এর ফলে ট্রাস্টে প্রতিনিধিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে রামমন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কাজে মহিলাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংগঠনটির বক্তব্য (Ram Mandir Trust)।

    অলোক কুমার মনে করেন, সীতা ও রামের পবিত্র ভূমির সঙ্গে যুক্ত এই বৃহৎ কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নির্মলা যাদবের উপস্থিতি ট্রাস্টের কাজের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা তৈরি করবে।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র

    বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাঁকে অভিজ্ঞ, সম্মানিত এবং দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে সংগঠনটির আশা।

    পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়, সময়সীমা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন কাঠামো

    নতুন নিয়োগগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক, আইনি, প্রশাসনিক, আর্থিক এবং সাংগঠনিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গোবিন্দ দেব গিরির আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মহেশ ভাগচন্দকার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আর্থিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, মদন মোহন পাণ্ডের আইনি জ্ঞান, নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি এবং জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রশাসনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ট্রাস্টের কাজের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Ram Mandir Trust)।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শ্রী রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোধ্যার বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজকেও এগিয়ে (Govind Dev Giri) নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা সংগঠনটির।

    অলোক কুমার সমস্ত নবনিযুক্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির আশা, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অযোধ্যায় চলা কাজ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা রামরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আদর্শগুলিকে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (Ram Mandir Trust)।

     

  • Ayodhya: রামলালার পরে রাজা রাম! যোগীর উপস্থিতিতে অযোধ্যায় ৮ মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা

    Ayodhya: রামলালার পরে রাজা রাম! যোগীর উপস্থিতিতে অযোধ্যায় ৮ মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন অর্থাৎ ৫ জুন অযোধ্যার রাম মন্দিরে ফের হল প্রাণ প্রতিষ্ঠা। গর্ভগৃহের পর এবার রাম দরবারে ৮টি মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল (Ayodhya)। এদিনের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

    কোন কোন দেবতার মূর্তি বসল (Ayodhya)

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হয় রাম মন্দিরে। তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, তিনদিন ধরে হয়েছে এই অনুষ্ঠান। এদিন তিথি মেনে সকাল ১১ টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু হয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা। চলে ১১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এরই মধ্যে রাম দরবারে আট দেব-দেবীর মূর্তির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। বৈদিক রীতি মেনে যজ্ঞ, পঞ্চ গব্য ও মন্ত্রোচারণের মাধ্যমে দেবতাদের অভিষেক করা হয়। ২০২৪ সালে গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রামলালা বালক রামের মূর্তি (Ayodhya)। এবার রাম দরবারে পূর্ণবয়স্ক রাজা রামের মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হল। শ্রীরামের পাশাপাশি মা সীতা, সূর্য দেবতা, দেবী দুর্গা, হনুমানজী, সপ্ত ঋষি, অন্নপূর্ণা দেবী সহ একাধিক দেব-দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠাও করা হয় এদিন।

    কী বলছেন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক?

    রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই এনিয়ে বলেন, “মন্দিরের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে (Ayodhya)। কলসও বসানো হয়ে গিয়েছে। দেবতাদের মূর্তি স্থাপিত হয়েছে মন্দিরে। প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে যাবতীয় রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। আজ প্রাণ প্রতিষ্ঠার শেষ দিন।” সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও জানিয়েছেন, মন্দিরে আগের মতোই দর্শন করতে পারবেন তীর্থযাত্রীরা। তবে মন্দিরের দ্বিতীয় তলের মন্দির অর্থাৎ রাম দরবারে দর্শন আপাতত বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার পুণ্যার্থী রাম মন্দিরে আসছেন বলে জানান চম্পত রাই।

    গঙ্গা দশেরা উপলক্ষে রাম জন্মভূমি প্রাঙ্গণে চলছিল উৎসব, এদিন সম্পন্ন হল

    রাম দরবারে রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার এই উৎসবে গোটা অযোধ্যায় এক আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়। প্রসঙ্গত, গঙ্গা দশেরা উপলক্ষে রাম জন্মভূমি প্রাঙ্গণ বিগত তিন দিন ধরেই চলছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এদিন তা সমাপ্ত হয়। আর এই দিনে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হল রাম দরবারের আটটি মূর্তির। বৈদিক মন্ত্র, শঙ্খধ্বনিতে মেতে ওঠে গোটা অযোধ্যা। ৫ জুন সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ মূল পুজো শুরু হয় বৈদিক রীতি মেনে। সকালেই যজ্ঞ বেদীতে দেবতাদের উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান করা হয় (Ayodhya)। এরপরে সকাল ন’টা নাগাদ অনুষ্ঠিত হয় হোম। প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময়ে এক বিশেষ আরতিরও ব্যবস্থা করা হয় এদিন অযোধ্যায়। একেবারে শেষে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রসাদ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাধু-সন্ত বৈদিক পণ্ডিত, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এছাড়াও দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত হাজির ছিলেন এদিন।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সাধু-সন্তরা

    উল্লেখযোগ্যভাবে এই দিনই হল আবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্মদিন (Yogi Adityanath)। সেই উপলক্ষে তিনি ভগবান রামের কাছে আশীর্বাদও চান। আবার এই দিনটি হল সরযূ নদীর ত্রয়োদশী জন্মোৎসব। অর্থাৎ এদিনের তিথির আধ্যাত্মিকতার তাৎপর্যকে অনেক বেশি। রাম দরবারে রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যে সমস্ত সাধুসন্তরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অযোধ্যার প্রাচীন গৌরবকে পুনরুদ্ধারের জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করেন।

    অযোধ্যার উন্নয়ন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী (Yogi Adityanath) হন যোগী আদিত্যনাথ। বিগত আট বছর তিনি উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অযোধ্যার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে তাঁর সরকার। অযোধ্যায় ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, রেলপথের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সরযূ নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন এবং উন্নত পর্যটন ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত, অযোধ্যা নগরীতে বর্তমানে রাম কথা পার্ক, সরযূ ঘাটের উন্নয়ন বেশ চোখে পড়ে। প্রতিদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে সরযূ মাতার আরতিতে অংশ নেন হাজার হাজার ভক্ত। সারা বিশ্বের হিন্দুদের কাছে আধ্যাত্মিকতার মানচিত্রে অযোধ্যা এক বিশেষ স্থান দখল করেছে।

    এদিন জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    প্রসঙ্গত, এদিনের অনুষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য বেশ জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অযোধ্যার রাম মন্দির এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে ব্যাপক নজরদারি চালানো হয়। সেখানে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সন্ত্রাস দমন শাখা, সিআরপিএফ, স্থানীয় পুলিশ মোতায়ন করা ছিল। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে অযোধ্যাকে এদিন দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।

  • Ram Mandir Ayodhya: রাম লালা থেকে রাজাধিরাজ রাম, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত অযোধ্যা

    Ram Mandir Ayodhya: রাম লালা থেকে রাজাধিরাজ রাম, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার প্রাচীন মন্দিরনগরী ফের একবার ভক্তির সুরে মুখর হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ঐতিহাসিক রাম লালার ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’র (Ram Mandir Ayodhya) পর, এবার আসছে আরও এক মহার্ঘ মুহূর্ত—‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা ২.০’। আগামী ৫ জুন, গঙ্গা দশহরার দিন এই নতুন ধর্মীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে, যেখানে প্রথম তলায় রাজারূপে রামচন্দ্রের প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে। বালক রামের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছিল ১৫ মাস আগে। এবার অযোধ্যায় হবে রামলালার রাজ্যাভিষেক পর্ব। মন্দিরের প্রথম তলায় রামদরবার বা রাজদরবার স্থাপনের পরে, রাজা রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    রামমন্দির নির্মাণের কাজ শেষের পথে

    রাজদরবার স্থাপনের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক ভাবে অযোধ্যার রামমন্দির (Ram Mandir Ayodhya) নির্মাণের কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু ৩ দিনের এই প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান (Pran Pratistha)। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাম দরবার’। ৮টি মন্দিরে আট বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে। অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক নেতা এবং ভিআইপি-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শুধু থাকবেন ধর্মগুরুরা। বিতর্ক এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র আগেই জানিয়েছিলেন, নির্মাণকাজ ৫ জুনের মধ্যে শেষ হলেও, মন্দিরের নীচের অংশে ভগবান রামের কাহিনী খোদিত দেওয়ালচিত্রগুলি স্থাপন করার কাজ বাকি থাকবে। ৫ জুন প্রাণ প্রতিষ্ঠার এক সপ্তাহ পর, মন্দিরের নবনির্মিত অংশগুলি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

    রাজা রাম-এর আরাধনায় দ্বিতীয় দফার উৎসব

    শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনের অনুষ্ঠানে (৩-৫ জুন) থাকছে বৈদিক যজ্ঞ, পুজো, শোভাযাত্রা, ও মহা আরতি। শহরজুড়ে রং-বেরঙের পতাকা, গাঁদাফুলের মালা ও রঙ্গোলিতে সেজে উঠেছে পথঘাট। তবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছেন, “এই অনুষ্ঠান কোনও জনসমাগম বা রাজনৈতিক জমায়েত নয়, বরং একটি গভীর আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গ। তাই অযথা ভিড় না করে, কেবল রাম লালার দর্শনে ইচ্ছুকরাই আসুন।” রাজা রাম-এর ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’—৫ জুন বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সম্পন্ন হবে। সেই দিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্মদিনও, তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বালক রাম থেকে রাজা রাম

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রামচন্দ্রের বালক রূপের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মন্দিরের নিচতলায় গর্ভগৃহে। এবার মন্দিরের প্রথম তলায় রাজা রূপে রামের প্রতিষ্ঠা হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবে দেবী সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন ও ভক্ত হনুমান—যিনি সেবা ও ভক্তির চিহ্ন হয়ে থাকবেন। মূল দেবমূর্তির পাশাপাশি, মন্দিরের পরিধিতে (পরিকোটায়) সাতটি প্রধান মন্দিরে বিভিন্ন দেব-দেবীর ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ হবে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবতাদের অবস্থান ঠিক করা হয়েছে। ঈশান কোণে শিব, অগ্নি কোণে গণেশ, দক্ষিণে হনুমান, নৈঋতে সূর্যদেব, ব্যায়ব্য কোণে ভগবতী, উত্তরে অন্নপূর্ণা, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে শেশাবতার লক্ষ্মণ-এর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, বাল্মীকি, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অহল্যা, শবরী ও নিশাদ রাজের নামে সাতটি মন্দিরে ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ সম্পন্ন হবে।

    সোনার শিখর: ভক্তির শিরমণি

    নতুন এই পর্বে সবচেয়ে নজরকাড়া স্থাপত্যিক সংযোজন হল ‘স্বর্ণ শিখর’—রাম মন্দিরের (Ram Mandir Ayodhya) সোনায় মোড়া চূড়া। নগর শৈলীর ঐতিহ্য মেনে নির্মিত এই শিখরটি মন্দিরের আধ্যাত্মিক চূড়া বা ‘মেরু’র প্রতীক। এটি মাইলের পর মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান, ভক্তির দীপ্ত প্রতীক।

    নিরাপত্তার চূড়ান্ত ব্যবস্থা

    উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ১০,০০০-এরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মাল্টি-লেভেল চেকপোস্টের সাহায্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। অযোধ্যার জেলা শাসক নিখিল তিকরাম ফুন্ডে জানিয়েছেন, “যাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য যথাযথ স্থান ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনও ভক্তর কোনও অসুবিধা না হয়।”

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ মন্দির

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর, ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট ভূমি পূজনের মাধ্যমে রাম মন্দির (Ram Mandir Ayodhya) নির্মাণের সূচনা হয়। এরপর থেকে দ্রুতগতিতে মন্দির নির্মাণ চলছে। ৩৮০ ফুট দীর্ঘ, ২৫০ ফুট প্রস্থ ও ১৬১ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে গোলাপি বেলেপাথরে নির্মিত হচ্ছে। ৩৯২টি খোদাইকৃত স্তম্ভ ও ৪৪টি অলঙ্কৃত দরজা রয়েছে এই মন্দিরে। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ পুরোপুরি মন্দিরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “এই নির্মাণ শুধুই আধ্যাত্মিক না, এটি আমাদের জাতীয় গর্ব এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।”

  • Ayodhya Ram Mandir: ৯৪৪ কেজি রুপো দান! ৫ বছরে সরকারকে ৩৯৬ কোটি টাকা কর দিল অযোধ্যার রাম মন্দির

    Ayodhya Ram Mandir: ৯৪৪ কেজি রুপো দান! ৫ বছরে সরকারকে ৩৯৬ কোটি টাকা কর দিল অযোধ্যার রাম মন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রী-রাম মাহাত্ম্যে ভক্তদের প্রাণকেন্দ্র এখন অযোধ্যা (Ayodhya Ram Mandir)। প্রতিদিন অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামছে। বিশেষ বিশেষ দিনে তো জনসমুদ্র। দেশের কোষাগারকেও ভরিয়ে তুলছে রাম মন্দির। ধর্মীয় পর্যটনের উত্থানের জেরে বিগত ৫ বছরে শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট সরকারকে ৩৯৬ কোটি টাকা কর দিয়েছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই সম্প্রতি এই কথা জানিয়েছেন। এই অর্থ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এর মধ্যে দেওয়া হয়েছে। এই ৪০০ কোটি টাকা করের মধ্যে ২৭০ কোটি টাকা জিএসটি দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৩০ কোটি টাকা অন্যান্য কর (Ram Mandir Tax) হিসাবে দেওয়া হয়েছে। রামমন্দির ট্রাস্টের দাবি, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল দ্বারা অডিট করা হিসাবই প্রকাশ করা হয়েছে।

    ভক্তদের ভিড় রাম মন্দিরে

    ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হয় রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir)। তারপর থেকেই রাম মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লেগেই রয়েছে। বড় বড় উৎসবে নামে অগুনতি পুণ্যার্থীর ঢল। গত বছর অযোধ্যা ১৬ কোটি দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছিলেন, যা রেকর্ড। যার মধ্যে ৫ কোটি রাম মন্দির পরিদর্শন করেছেন। রাম মন্দিরের ট্রাস্টের কর্তা চম্পত রাই বলেন, “অযোধ্যায় ভক্ত ও পর্যটকদের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এটিকে একটি প্রধান ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। মহাকুম্ভের সময় ১.২৬ কোটি ভক্ত অযোধ্যায় এসেছিলেন।” তবে রাম মন্দির তৈরি হওয়ার আগেও কিন্তু বহু মানুষ গিয়েছিলেন রামলালার দর্শন করতে।

    রাম মন্দিরে নিয়মিত আয় ও কর প্রদান

    ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট (Ayodhya Ram Mandir) গত পাঁচ বছরে রাম মন্দিরের নির্মাণের জন্য ২,১৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে, যার মধ্যে ১৮ শতাংশ অর্থ সরকারকে ট্যাক্স (Ram Mandir Tax) হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে। এই অর্থ প্রধানত জনগণের দান, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য দাতাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্দিরের নির্মাণ শুরুর আগে ভারত সরকার মাত্র এক টাকা দান করেছিল। চম্পত রাই আরও জানান, গত পাঁচ বছরে ট্রাস্ট মোট ৩,৫০০ কোটি টাকা দান সংগ্রহ করেছে, যার ৬০ শতাংশই ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়। গত পাঁচ বছরে, ট্রাস্ট সরকারী বিভাগগুলোকে ৩৯৬ কোটি টাকা ট্যাক্স প্রদান করেছে। এর মধ্যে ২৭২ কোটি টাকা জিএসটি হিসেবে, এবং ১৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন ট্যাক্স ক্যাটেগরিতে প্রদান করা হয়েছে।

    আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা

    চম্পৎ রাই জানান, ট্রাস্ট রাজকীয় নির্মাণ সংস্থা (উত্তরপ্রদেশ রাজকীয় নির্মাণ নিগম)-কে  রাম কথা মিউজিয়ামের চারপাশে তিনটি গেট নির্মাণের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ট্রাস্ট সরকারী অ্যাকাউন্টে ৩৯ কোটি টাকা জমা করেছে, আর রয়্যালটি হিসেবে ১৪.৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ৭.৪০ কোটি টাকা শ্রম তহবিল হিসেবে বরাদ্দ করেছে। এছাড়া, ৪ কোটি টাকা বিমা পলিসির জন্য রাখা হয়েছে এবং রাম জন্মভূমি মানচিত্র অনুমোদন করার জন্য আয়োধ্যা বিকাশ প্রাধিকারণের জন্য ৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে, ভক্তরা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ট্রাস্টে ৯৪৪ কিলোগ্রাম রুপো দান করেছেন (যার ৯২ শতাংশ বিশুদ্ধ)। ভারত সরকারের মিন্টিং কর্পোরেশন প্রাপ্ত রুপো দিয়ে বিশাল রুপোর ইট তৈরি করেছে, যেগুলো ব্যাঙ্ক লকারে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, চম্পত রায় এ তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি আরও জানান যে, রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চম্পত রাই জানান, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট স্বচ্ছভাবে এই কর পরিশোধ করেছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। তাঁদের আর্থিক লেনদেন ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ) নিয়মিত পরীক্ষা করেও দেখে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ল্য়ান্ড-মার্ক অযোধ্যা

    ২০১৯ সালে যুগান্তকারী নির্দেশের পর ২০০০ সালে অযোধ্যায় রামলালার মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সেই কাজ করেছিলেন। এরপরই রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। এক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পুরোভাগে। এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রখ্যাত সব সাধু, সন্ন্যাসী, দেশ বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট্যজন। হিন্দুদের বিশ্বাস, অযোধ্য়ায় মন্দিরের জায়গাতেই রামলালার জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে অযোধ্যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ল্য়ান্ড-মার্কে পরিণত হয়েছে। রাম মন্দিরের দৌলতে ভরে উঠছে কোষাগার। এই মন্দির থেকে রাজস্ব এবং কর হিসেবে জমা পড়ছে বিপুল অঙ্কের টাকা।

  • Ayodhya: মহাকুম্ভ শেষ, নেই বাড়তি চাপ, অযোধ্যার রামলালা দর্শনে চালু আগের সময়সূচিই

    Ayodhya: মহাকুম্ভ শেষ, নেই বাড়তি চাপ, অযোধ্যার রামলালা দর্শনে চালু আগের সময়সূচিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ সম্পন্ন হয়েছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। মহা শিবরাত্রির দিন ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল মহাকুম্ভ। চলেছে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক ভক্তের পা পড়ে রামনগরীতে। মহাকুম্ভে স্নান সেরে অযোধ্যায় রামলালার দর্শন করবেন- এই উদ্দেশে অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ শেষ হতেই ভিড় কমেছে অযোধ্যাতেও। প্রসঙ্গত, মহাকুম্ভ যখন চলছিল, তখন অযোধ্যার (Ayodhya) রাম মন্দির (Ram Temple) দর্শনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার থেকেই রাম মন্দির দর্শনের জন্য সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের মতোই করা হয়েছে সময়সূচী।

    রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এবং প্রশাসনের বৈঠক

    শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এবং অযোধ্যার (Ayodhya) প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিগত দিনগুলিতে ব্যাপক ভক্তদের ভিড় হয় অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ram Temple)। চাপ কমাতে দর্শনের সময়সূচিতে বদল করে রাম মন্দির ট্রাস্ট। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকত মন্দির। এরপর গতকাল সোমবার চালু করা হল আগের নিয়ম।

    ভোর ৪:১৫ থেকে ৬টা পর্যন্ত দ্বার বন্ধ থাকবে

    নতুন সময়সূচী অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে ভোর ৪টায় মঙ্গল আরতির পর, স্নানের জন্য ৪:১৫ থেকে ৬টা পর্যন্ত দ্বার বন্ধ থাকবে। এর পরে, সকাল ৬টায় শৃঙ্গার আরতি অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সকাল ৬:৩০ থেকে দর্শন শুরু হবে চলবে সকাল ১১:৫০ পর্যন্ত। এরপর, ভোগের জন্য দুপুর পর্যন্ত দ্বার বন্ধ থাকবে। এরপর দুপুর ১২টা থেকে ১২:৩০ পর্যন্ত আবার দর্শন শুরু হবে।

    দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কখন করা যাবে দর্শন (Ayodhya)

    রামলালার দুপুরের বিশ্রামের জন্য দুপুর ১২:৩০ থেকে ১টা পর্যন্ত দরজা বন্ধ থাকবে। দুপুর ১টা থেকে আবার দর্শন শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৬:৫০ পর্যন্ত চলবে। এরপর সন্ধ্যা ৬:৫০ থেকে ৭টা পর্যন্ত বালভোগের জন্য দরজা বন্ধ থাকবে। সন্ধ্যা ৭টায় আরতির পর ফের দ্বার দর্শনের জন্য দরজা খোলা হবে। দরজা খোলা থাকবে রাত ৯:৪৫ পর্যন্ত। এরপর রাত ৯:৪৫ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাত্রিভোগের জন্য দরজা বন্ধ থাকবে এবং রাত ১০টায় শয়ন আরতি অনুষ্ঠিত হবে। আরতিতে অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীরা রাত ৯:৩০ থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন। রাত ১০টা ১৫ নাগাদ আরতি-পুজোর পর রামলালা শয়নে যাবেন। সকাল পর্যন্ত মন্দির (Ayodhya) বন্ধ থাকবে।

  • Mohan Bhagwat: দেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: দেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যেদিন অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেদিনই সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশে।” কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, সংক্ষেপে আরএসএসের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, “এই দিনটি দেশের উচিত ‘প্রতিষ্ঠা দ্বাদশী’ হিসেবে উদযাপন করা। কারণ এই দেশ বহু শতাব্দী ধরে ‘পরচক্র’ (বহিঃ শত্রুর আক্রমণ)-এর মুখোমুখি হয়েছে।

    কী বললেন ভাগবত? (Mohan Bhagwat)

    গত বছর ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার মন্দিরে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিন ছিল দ্বাদশী তিথি। পঞ্জিকা অনুসারে এ বছর সেই তিথি ছিল ১১ জানুয়ারি। সেদিনই পালিত হয় রামলালার প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সংঘ প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “রাম মন্দির আন্দোলন কারও বিরোধিতা করার জন্য শুরু হয়নি। এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ভারতের ‘স্ব’ কে জাগ্রত করতে, যাতে দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে।”

    জাতীয় দেবী অহল্যা পুরস্কার

    সোমবার ইন্দোরে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে “জাতীয় দেবী অহল্যা পুরস্কার” প্রদান করেন ভাগবত। তার পরেই দেন বক্তৃতা। সেখানেই তিনি বলেন, “গত বছর অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় দেশে কোনও মতবিরোধ ছিল না।” পুরস্কার নেওয়ার পর রাই ঘোষণা করেন, তিনি তাঁর এই সম্মাননাটি রাম মন্দির আন্দোলনের সমস্ত পরিচিত ও অজ্ঞাত মানুষকে উৎসর্গ করছেন, যাঁরা উত্তরপ্রদেশের এই শহরে মহৎ রাম মন্দির নির্মাণে সহায়তা করেছেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে রাই বলেন, “এই মন্দির জাতীয় গর্বের প্রতীক। তিনি এর নির্মাণে একটি মাধ্যম ছিলেন মাত্র (Mohan Bhagwat)।”

    আরও পড়ুন: নুরুল সেজেছিল নারায়ণ! অটো চালিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপনই ধরিয়ে দিল বাংলাদেশিকে

    প্রতি বছর ‘জাতীয় দেবী অহল্যা পুরস্কার’ দেয় শ্রী অহল্যোৎসব সমিতি। বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সংস্থার সভাপতি লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। ভাষণ দিতে গিয়ে মহাজন বলেন, “ইন্দোর শহরে দেবী অহল্যাবাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৃহৎ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষ তাঁর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে (RSS) পরিচিত হতে পারেন (Mohan Bhagwat)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

      

  • Ayodhya Ram Temple: রামলালার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি, অয্যোধ্যা জুড়ে সাজ সাজ রব

    Ayodhya Ram Temple: রামলালার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি, অয্যোধ্যা জুড়ে সাজ সাজ রব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক বছর আগে অয্যোধ্যার রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল রামলালার মূর্তির। সামনেই তার বর্ষপূর্তি। সেই দিনটা ধুমধাম করে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কতৃপক্ষ। সেজে উঠবে গোটা রামনগরী। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছেন, শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে রামলালার মূর্তি অভিষেকের প্রথম বছর ভারতীয় সময় অনুসারে গণনা করে পালিত হবে।

    কীভাবে উদযাপন

    ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি, অযোধ্যা একটি ঐতিহাসিক এবং মহিমান্বিত উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। ভারতবর্ষের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা এসে শ্রী রাম জান্মভূমি মন্দিরে শ্রী রামলালার মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠা (সংকৃতিতে consecration) এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করবেন। চলতি বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে পৌষ শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে ২২ জানুয়ারি প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল রামলালার মূর্তিতে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, পৌষ শুক্লা দ্বাদশী তিথি পড়েছে ১১ জানুয়ারি। এই দিনটিকেই ‘প্রতিষ্ঠা দ্বাদশী’ হিসাবে পালন করা হবে। সেই উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি পূর্ণ থাকবে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক উক্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আধ্যাত্মিক আলোচনায়।

    কী কী আয়োজন 

    মন্দির চত্বরের যজ্ঞ মন্ডপে হবে বিশাল মহাযজ্ঞ। যজ্ঞ চলাকালীন শুক্ল যজুর্বেদের মধ্যদানী শাখার ৪০টি অধ্যায় থেকে ১৯৭৫টি মন্ত্র পাঠ হবে। পুজিত হবেন অগ্নিদেব। জপ করা হবে ১১টি বৈদিক মন্ত্র। সকাল ৮টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ২টো থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে হোমের এই কাজ। যজ্ঞ চলাকালীন সময় এই সব মন্ত্রের সঙ্গেই জপ করা হবে শ্রী রাম মন্ত্রও। ৬ লক্ষ মন্ত্র জপ করা হবে। এছাড়াও রাম রক্ষা স্তোত্র, হনুমান চালিসা, পুরুষ সুক্ত, শ্রী সুক্ত, আদিত্য হৃদ্য স্তোত্র, অথর্বশীর্ষ সহ ইত্যাদি পাঠ করা হবে। এই প্রাচীন সংস্কৃতির আচার-অনুষ্ঠান কেবল পরিবেশকে পবিত্র করবে না, বরং দিনের অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য আধ্যাত্মিক মনোভাব সৃষ্টি করবে।

    রাগ-সঙ্গীতের আসর

    মন্দিরের দক্ষিণ দিকে প্রার্থনা কক্ষে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে রাগ সেবা। বসবে রাগ সঙ্গীতের আসর। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মন্দিরের কলিতে রামলালার সামনে অভিনন্দন গীতি পরিবেশন করা হবে। দ্বিতীয় তলে যাত্রী সুবিধা কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী সংগীত মানস আবৃত্তির আয়োজন করা হবে। শ্রী রামচারিতমানসের সঙ্গীততালপূর্বক পাঠও সংগীতের সাথে শোনা যাবে, যা ভক্তদের শ্রী রামের জীবন এবং মহিমার এক নতুন আঙ্গিকে পরিচয় করিয়ে দেবে।

    আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক শক্তিই ধর্ম এবং সামাজিক উন্নতির ভিত্তি, দাবি বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক মঞ্চের

    অঙ্গদ টিলার বিশেষ অনুষ্ঠান

    অঙ্গদ টিলার ময়দানে দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রামকথা এবং বিকাল সাড়ে ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে মানস বক্তৃতা। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত থাকছে অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। ১১ জানুয়ারী সকাল থেকে শুরু হবে ভগবান রামের প্রসাদ বিতরণ। অঙ্গদ টিলার সকল অনুষ্ঠানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও বাধা থাকবে না। ভক্তরা কোনও বাধা ছাড়াই প্রসাদ খেতে পারবেন, অঙ্গদ টিলার অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন।

    রামমন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে নতুন মন্দির 

    চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ঘটা করে অযোধ্যার রামমন্দিরে রামলালার ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ করা হয়। তারপরই ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের ফটক। উপছে পড়ে ভিড়। রামলালার মন্দিরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবার রামমন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে ৬টি মন্দির নির্মাণের ছবি প্রকাশ করেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মূল মন্দির চত্বরে এই ৬টি মন্দির হল, সূর্য মন্দির, গণেশ মন্দির, শিব মন্দির, দুর্গা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির ও হনুমান মন্দির। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট রামমন্দিরের উদ্বোধনের সময়ই জানিয়েছিল যে, অযোধ্যায় আরও ১৩টি মন্দির নির্মাণ করা হবে। যে ১৩টি নতুন মন্দিরের মধ্যে ৬টি রামমন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে এবং ৭টি মন্দির চত্বরের বাইরে তৈরি করা হবে। রামমন্দিরের কাজ শেষ হওয়ার পর মন্দির প্রাঙ্গনের ভিতরে এই ৬টি মন্দিরের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে বিরাট এলাকা জুড়ে বাল্মীকি, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, শবরী দেবী এবং জটায়ুর মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ayodhya: রাম মন্দিরে হামলার হুমকি খালিস্তানপন্থী নেতা পান্নুনের, অযোধ্যায় জারি সতর্কতা

    Ayodhya: রাম মন্দিরে হামলার হুমকি খালিস্তানপন্থী নেতা পান্নুনের, অযোধ্যায় জারি সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খালিস্তানপন্থী জঙ্গি নেতা গুরপতবন্ত পান্নুনের (Pannun) হুমকির পরেই গোটা অযোধ্যায় (Ayodhya) ব্যাপক সর্তকতা জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, কানাডার খালিস্তানপন্থী সংগঠন শিখ ফর জাস্টিসের নেতা পান্নুন এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হুমকি দেন যে, আগামী ১৬ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে রাম মন্দিরে হামলা চালানো হবে। এরপরেই নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। অযোধ্যা রেঞ্জের আইজি প্রবীণ কুমার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘অযোধ্যা (Ayodhya) আগেই দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনী সর্বদাই প্রস্তুত যে কোনও হামলার মোকাবিলা করার জন্য।’’

    ভিডিও বার্তা আসল নাকি নকল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তিনি (প্রবীণ কুমার) আরও বলেন, ‘‘পুলিশ তবুও পান্নুনের (Pannun) ওই হুমকি বার্তা আসল কী নকল তা খতিয়ে দেখছে।’’ প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের এটিএস তিন জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। যাদের খালিস্তানি যোগ ধরা পড়ে। এরা প্রত্যেকেই রাম মন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক চারদিন আগে অযোধ্যায় রেকি করতে এসেছিলে। প্রসঙ্গত, রাম মন্দির উদ্বোধন করা হয়েছিল গত জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখ।

    পান্নুনের ভিডিও বার্তা (Ayodhya)

    তবে শুধু রাম মন্দির (Ayodhya) নয়, দেশের একাধিক মন্দির উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকিও দেওয়া হয়েছে ওই ভিডিও বার্তায়। জানা গিয়েছে, কানাডার ব্রাম্পটনে এই ভিডিও শ্যুট করা হয়েছে। পান্নুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘অযোধ্যার মাটি কাঁপিয়ে দেওয়া হবে।’’ সম্প্রতি, কানাডায় একাধিক মন্দিরে খালিস্তানিরা হামলা করছে বলে অভিযোগ। সেখানকার বসবাসকারী হিন্দুদের পান্নুন এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এইসব ঘটনার মধ্যে যেন তাঁরা না জড়ান। একই সঙ্গে, কানাডায় বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই জঙ্গি নেতা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ram Temple: কর্মীর সঙ্কট, অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে

    Ram Temple: কর্মীর সঙ্কট, অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার (Ayodhya) রাম মন্দির (Ram Temple) নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের জুন মাসে। তবে জুনে কাজ শেষ হচ্ছে না। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে মন্দির নির্মাণের কাজ। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “বর্তমানে আমাদের শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই মন্দির নির্মাণের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে সময় লাগবে।”

    কর্মী-সঙ্কট (Ram Temple)

    জানা গিয়েছে, মন্দিরটি নির্মাণে প্রায় ২০০ জন কর্মীর সঙ্কট রয়েছে। কমিটি মন্দিরের প্রথম তলায় কিছু পাথর পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করছে। তিনি বলেন, “প্রথম তলার কিছু পাথর দুর্বল ও পাতলা বলে মনে হচ্ছে। নতুন পাথর দিয়ে সেগুলি প্রতিস্থাপন করলে মন্দিরের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রায় ৮.৫ লাখ ঘনফুট লাল বাঁশি পাহাড়পুর পাথর মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছে।”

    কাজ বাকি

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি (Ram Temple) এক বৈঠকে কমিটি অডিটোরিয়াম, সীমানা প্রাচীর তৈরি এবং প্রদক্ষিণ পথ-সহ অন্যান্য স্ট্রাকচার নির্মাণের কাজ কতদূর এগোল, তাও পর্যালোচনা করেছে। সূত্রের খবর, এখনও বাকি রয়েছে রাম দরবারের কাজ। সম্পূর্ণ হয়নি আশপাশের ছ’টি মন্দিরের মূর্তি তৈরির কাজও। মূর্তিগুলি আসবে জয়পুর থেকে। ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলি অযোধ্যায় পৌঁছানোর কথা। রামলালার যে দুটি মূর্তি ট্রাস্ট গ্রহণ করেছে, সেগুলিও প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশ্র বলেন, “শিল্পী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে সমস্ত মূর্তি বছর শেষের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।”

    আরও পড়ুন: “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে, থাকবেও”, রাষ্ট্রসঙ্ঘে সাফ জানাল ভারত

    তিনি জানান, মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে কবে বিগ্রহগুলি স্থাপন করা হবে, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে। ব্যাপক ভিড়ের কারণে যে মন্দিরে সমস্যা হচ্ছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি জানান, দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশদ্বার বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। দৈনিক দর্শনার্থীর আগমন (Ayodhya) সংখ্যা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেই বিষয়েও চলছে আলোচনা (Ram Temple)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Ayodhya Ram Mandir: নিষিদ্ধ স্মার্টফোন, রাম মন্দিরের পুরোহিতদের পোশাকের রং গেরুয়া থেকে হলুদ 

    Ayodhya Ram Mandir: নিষিদ্ধ স্মার্টফোন, রাম মন্দিরের পুরোহিতদের পোশাকের রং গেরুয়া থেকে হলুদ 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) পুরোহিতদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আনল মন্দির কর্তৃপক্ষ। এত দিন মন্দিরের পুরোহিতেরা গেরুয়া রঙের পোশাক পরতেন। এ বার তাঁদের পরতে হবে হলুদ রঙের পোশাক। তবে কেবল রঙেই নয়, বদল আসছে পোশাকের ধরনেও। বুধবার পোশাকবিধি নিয়ে নয়া নির্দেশিকা দিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাম মন্দিরের পুরোহিতরা আর গর্ভগৃহে স্মার্টফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।

    কেন নয়া পোশাক বিধি (Ayodhya Ram Mandir) 

    রাম মন্দির সূত্রে খবর, পুরোহিতদের মধ্যে যাতে অভিন্নতা বজায় থাকে এবং মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) চত্বরে উপস্থিত অন্যান্যদের থেকে তাদের আলাদাভাবে চেনা যায়, তার জন্যই এই নয়া সিদ্ধান্ত। রাম মন্দিরের সহকারী পুরোহিত, সন্তোষ কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, প্রধান পুরোহিত, চার সহকারী পুরোহিত এবং ২০ জন শিক্ষানবিশ পুরোহিত-সহ রাম মন্দিরের সকল পুরোহিতদেরই এখন থেকে মাথার বাঁধতে হবে হলুদ রঙের সাফা, পরতে হবে হলুদ রঙের চৌবন্দি এবং ধুতি। এর আগে, মন্দিরের অধিকাংশ পুরোহিতই গেরুয়া রঙের পোশাক পরতেন। সন্তোষ কুমার তিওয়ারি বলেন, “কয়েকজন পুরোহিত এর আগেও হলুদ পোশাক পরে আসতেন, তবে এটা বাধ্যতামূলক ছিল না।” তাঁর মতে, সনাতন ধর্ম অনুসারে পুরোহিতদের এমন পোশাক পরা উচিত, যা, প্রথমে মাথা গলাতে হয় এবং তারপর হাত গলাতে হয়। এই রীতি মেনেই নতুন পোশাক বিধি জারি করা হয়েছে। 

    আরও পড়ুন: দেশে ফিরলেন বিশ্বজয়ীরা, আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত বিরাট-রোহিতদের

    মন্দিরের ভিতরে ফোন নিষিদ্ধ (Ayodhya Ram Mandir) 

    এতদিন অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) কেবল মাত্র পুরোহিতরাই স্মার্ট ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারতেন। কিন্তু এবার তাঁরাও সেটা করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে ৫ ঘণ্টার শিফটে কাজ করবেন সেখানকার কর্মীরা। এমনই জানানো হয়েছে নয়া নির্দেশিকায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ফোন নিয়ে মন্দির চত্বরে ঢুকতে পারবেন না কোনও পুরোহিত। সম্প্রতি মন্দিরের ভিতরের কিছু ছবি সমাজমাধ্যমে ‘ফাঁস’ হয়ে গিয়েছিল। তার পরেই ফোন নিয়ে কড়াকড়ির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। পুরোহিতদের কাজ শুরু হবে ভোর সাড়ে ৩টেয়। শেষ হবে রাত ১১টায়। পুরোহিতদের এক একটি দলকে দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা মন্দিরের কাজে নিযুক্ত থাকতে হবে, বলে জানিয়েছে রাম মন্দির ট্রাস্ট।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share