Tag: ranchi

ranchi

  • Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে মর্মান্তিক ঘটনা। ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন আদিবাসী নেত্রী তথা সমাজকর্মী নিশা ভগত (Nisha Bhagat)। ৬ নভেম্বরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে রাজ্যের হেমন্ত সোরেন সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হেনস্থা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করার অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মূল্য তাঁকে নিজের জীবন দিয়ে চোকাতে (Tribal Woman Suicide Case) হচ্ছে বলেও দাবি করেন নিশা। ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য নিশার আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায়। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুমলা কেন্দ্র থেকে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। যদিও জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করে আসছিলেন নিশা। আদিবাসীদের জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত জমি মাফিয়াদের পাশাপাশি ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

    সরকারের বিরুদ্ধে নিশার ক্ষোভ (Nisha Bhagat)

    মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ফেসবুক লাইভে কার্যত ভেঙে পড়তে দেখা যায় নিশাকে। সেখানে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মাকে লাগাতার হেনস্থা করার অভিযোগ করেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিশাকে বলতে শোনা যায়, “হেমন্ত সোরেন সরকার এক মহিলাকে অপমান ও অসম্মান করার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। আর সহ্য করতে পারছি না। আমার বাবা-মাকে আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে?”

    তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দালাল হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন নিশা। সেই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কারও দালাল নই। নিজের আদিবাসী সমাজের সুরক্ষার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি।”

    লাইভ সম্প্রচারের সময় বারবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিজের সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে কার্যত একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও ফোন করেন নিশা। নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানানোর পাশাপাশি যাঁরা তাঁকে হেনস্থা করছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন। এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য নিশা সরাসরি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরকার, অজয় তিরকে নামে এক ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের লাগাতার হয়রানিকে দায়ী করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিশার বাড়িতে পৌঁছয়। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিশার বাবার অভিযোগ

    নিশার (Nisha Bhagat) মৃত্যুর পর তাঁর বাবা হান্ডু ভগত পিঠোরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অজয় তিরকে, জ্যোৎস্না কেরকেট্টা-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার কর্তা সুনীল কুমার দাস অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।

    হান্ডুর অভিযোগ, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিশাকে মানসিক ও সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।

    নিশার বাবার আরও অভিযোগ, লাগাতার অপমান, হয়রানি ও চরিত্রহননের কারণে তাঁর মেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে, বাড়ির বাইরে বেরোতেও ভয় পেতেন।

    আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের আন্দোলন

    আদিবাসী সমাজের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন নিশা। তাঁর আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল আদিবাসীদের জন্য পৃথক সারনা ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় বিধির স্বীকৃতি। জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার সুরক্ষিত করা, ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন এবং সাঁওতাল পরগনা প্রজাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পঞ্চায়েত (তফসিলি এলাকায় সম্প্রসারণ) আইন কার্যকর করার (Tribal Woman Suicide Case) দাবিও তুলেছিলেন তিনি।

    আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও তীব্র বিরোধিতা করতেন নিশা। তাঁর মৃত্যুর (Nisha Bhagat) ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগের সূচনা। ২০২৬ ন্যাশনাল ফেডারেশন সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইতিহাস গড়লেন গুরিন্দেভির সিং (Gurindervir Singh)। তিনিই প্রথম ভারতীয় স্প্রিন্টার যিনি ১০.১০ সেকেন্ডের বাধা ভেঙে ‘১০.০’ সেকেন্ডের ঘরে প্রবেশ করলেন। এই নজির গড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা, অনেকেই তুলনা টানছেন কিংবদন্তী উসেইন বোল্ট-এর (Usain Bolt) সঙ্গে। রাঁচির বীরসা মুন্ডা অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে (Birsa Munda Athletics Stadium) যেন গত ২৪ ঘণ্টায় বদলে গেল ভারতীয় স্প্রিন্টের ইতিহাস। সেমিফাইনালেই প্রথমে ১০.১৭ সেকেন্ড সময় করে জাতীয় রেকর্ড ভাঙেন গুরিন্দেভির।

    গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন ক্রীড়ামন্ত্রীর

    গুরিন্দেভির-এর সেমিফাইনালের রেকর্ড মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ১০.১৫ সেকেন্ড দৌড়ে সেই নিজের নামে তুলে নেন অনিমেষ কুজর। ফাইনালে নামার আগে থেকেই তাই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। একদিকে অনিমেষের দীর্ঘ স্ট্রাইড ও দুরন্ত গতি, অন্যদিকে গুরিন্দেভিরের বিস্ফোরক স্টার্ট— দুই ভিন্ন ধাঁচের স্প্রিন্টারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেন পাঞ্জাবের এই তরুণ। শেষ ২০ মিটারে গতি আরও বাড়িয়ে ১০.০৯ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন তিনি। অনিমেষও ১০.২০ সেকেন্ড সময় করেন, যা কয়েক মাস আগেও জাতীয় রেকর্ড হিসেবে গণ্য হত। তবে লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি, বলে জানান গুরিন্দেভির। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দৌড়ের ভিডিওও শেয়ার করেছেন।

    সাফল্যের পথ সহজ ছিল না

    এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একসময় গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন গুরিন্দেভির। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং পেশিশক্তি হারানোর মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর কেরিয়ার প্রায় থমকে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। পরে বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও আধুনিক রিকভারি ব্যবস্থার সাহায্যে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পাঞ্জাবের জালন্ধরের কাছের গ্রাম থেকে উঠে আসা গুরিন্দেভিরের পাশে শুরু থেকেই ছিলেন তাঁর বাবা, যিনি পাঞ্জাব পুলিশের কনস্টেবল। ২০১৭ সালে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে প্রথমবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর দীর্ঘ সংগ্রাম, চোট ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই পেরিয়ে আজ তিনি ভারতের দ্রুততম মানব।

    ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে

    ভারতের ‘ফ্লাইং শিখ’ মিলখা সিং (Milkha Singh)-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্বরেকর্ডধারী উসেইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ড এখনও অনেক দূরের পথ, তবু ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরিন্দেভির ও অনিমেষ— দু’জনেই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনের পথে। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, তাঁরা বদলে দিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্ট নিয়ে ধারণা। এতদিন যেখানে ১০.৩০-১০.৪০ সেকেন্ডকেই বড় সাফল্য মনে করা হত, সেখানে এখন লক্ষ্য ১০ সেকেন্ডের নিচে নামা। দৌড় শেষে গুরিন্দেভিরের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “খুব শিগগিরই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে।” ক্রীড়া মহলে গুঞ্জন, রাঁচির ট্র্যাক শুধু একটি রেকর্ডের সাক্ষী থাকল না, বরং ভারতীয় স্প্রিন্টের নতুন স্বপ্নেরও সূচনা করল।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভার বিকাশ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে এক অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ফলে দেশের ক্রীড়াজগতে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিন ধরেই জাতি গঠনের শক্তি হিসেবে খেলাধুলার বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি ঐক্য প্রচারে, যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ভারতকে একটি আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলাধুলার ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (TOPS)-এর মতো প্রধান কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের ক্রীড়া জগৎকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং ভারতকে খেলার দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ক্রীড়া পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়াই এর প্রমাণ। এই আর্থিক সহায়তার ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের উত্থান মূলত তরুণ প্রতিভা শনাক্তকরণ ও লালন-পালনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। অকৃত্রিম প্রতিভাকে সম্ভাব্য পদকজয়ী খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    লক্ষ্য অলিম্পিক্স

    অলিম্পিক্সের মঞ্চে এখন ভারতীয়দের দাপট বেড়েছে। প্রতিটা অলিম্পিক্সেই সোনা জিতছে ভারতের অ্যাথলিটরা। ভারত সরকারও অলিম্পিক্স ও অলিম্পিক্সের খেলা অ্য়াথলিটদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, অনুশীলনের ব্য়বস্থায় জোর দিয়েছে। আগামী ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আয়োজক হিসেবে নিজেদের নাম দেখতে চায় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব পেলে ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। এখানে অ্য়াথলিটদের জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল পরিকাঠামো দেওয়ার। অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ পেলে, সেই বিষয়ে আরও জোর দেওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, দেশের উন্নতিতে স্পোর্টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁর কাজের ষোল আনা রিটার্ন তিনি পেয়েছেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থেকেও। উঠে এসেছে গুরিন্দেভিরের মতো প্রতিভা। যাদের লক্ষ্য জাতীয় গেমস নয়, অলিম্পিকের পোডিয়াম।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share