মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত (Repo Rate Unchanged) রাখার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তিনদিন ধরে চলা মুদ্রানীতি কমিটির (RBI MPC Meet) বৈঠকের শেষে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ কমানোর ধারায় আপাতত বিরতি পড়ল। তিন দিনের মুদ্রানীতি বৈঠক শেষে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কমিটি তাদের ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত এক বছরে চার বার রেট কমেছে
ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ধারাবাহিক চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে আরবিআই। এর ফলে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমান ৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ডিসেম্বর বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানো হয়েছিল। তার আগে বছরের প্রথমার্ধে টানা তিন দফা কাটের ফলে জুনের মধ্যে রেপো রেট ৫.৫ শতাংশে নেমে আসে। এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবৃদ্ধিমুখী কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এবং সদ্য ঘোষিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে। ওই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে।
মিলে গেল অর্থনীতিবিদদের পূ্র্বাভাস
বৈঠকের আগে অর্থনীতিবিদদের একাধিক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছিল যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই দফায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আপাতত সুদ কমানোর চক্র শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় আকারে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ও বন্ড বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরবিআই প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার থেকে বিক্রি করে। এর ফলে টাকার মূল্যে পতন দেখা যায় এবং রেকর্ড পরিমাণে সরকারি ঋণগ্রহণের ফলে চাপের মুখে থাকা বন্ড বাজার আরও চাপে পড়ে।
মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে সংশোধন
মুদ্রানীতি কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। উপভোক্তা মূল্য সূচক বা কাস্টোমার প্রাইস ইন্ডেক্স (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির অনুমান ২.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৪.০ শতাংশ এবং ৪.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে যথাক্রমে ৬.৯ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) ৫ শতাংশ হারে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) রেট এবং ব্যাঙ্ক রেটও আগের মতোই ৫.৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।
