Tag: RBI

RBI

  • India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক সম্প্রসারণের পথে এগোতে পারে ভারতের (India) দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার। রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টস এবং গুগলের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই (Quick Commerce Market) বাজারের আকার বর্তমানের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত গুণ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন থেকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক কয়েক লাখ কোটি টাকা। ২০২৬ অর্থবর্ষে এই বাজারের বার্ষিক মোট অর্ডারমূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বা ১.১ লাখ কোটি টাকা।

    তবে এই বিপুল বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত করতে হলে প্রতি বছর ৪১ থেকে ৪৮ শতাংশ হারে বাজারের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রতিটি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকেন্দ্রের দৈনিক অর্ডার, পরিচালন ব্যয় এবং লাভের হিসাব।

    মহানগর ও নতুন পণ্যই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি (India)

    সমীক্ষার ফল তুলে ধরে রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টসের অংশীদার কুশল ভাটনগর জানিয়েছেন, পাড়াভিত্তিক সরবরাহকেন্দ্রের বিস্তার, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার এই বাজারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    বর্তমানে মাসে অন্তত একবার কেনাকাটা করেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এর ফলে ভারতের মোট খুচরো বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের অংশীদারি বর্তমানের দেড় শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    এই বৃদ্ধিতে মহানগরগুলির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাজারের অতিরিক্ত বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ আসতে পারে মহানগরগুলি থেকে। বর্তমানে মহানগরের মোট খুচরো কেনাকাটার প্রায় ৬ শতাংশ এই পরিষেবার মাধ্যমে হলেও আগামী দিনে তা বেড়ে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ হতে পারে।

    একই সঙ্গে প্রসাধনসামগ্রী, বৈদ্যুতিন পণ্য এবং পোশাকের মতো পণ্যের বিক্রিও দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান। এই ক্ষেত্রের বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

    উৎসবের মরসুমেও এই বাজারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি ১১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। অনলাইন মাধ্যমে উৎসবের সময় হওয়া মোট কেনাকাটার প্রায় ১৮ শতাংশ আসতে পারে এই দ্রুত সরবরাহ পরিষেবা থেকে।

    বাজারের সিংহভাগ তিন সংস্থার দখলে

    বর্তমানে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার মূলত তিনটি বড় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। মোট অর্ডার মূল্যের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে।

    এই বাজারে প্রায় ৪৬ শতাংশ অংশীদারি নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্লিঙ্কিট। জেপ্টোর অংশীদারি প্রায় ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ এবং সুইগি ইনস্টামার্টের ২২ থেকে ২৭ শতাংশ। অন্য দিকে, ফ্লিপকার্ট মিনিটস এবং অ্যামাজন নাও—দুই সংস্থারই বাজারের অংশীদারি এখনও ৫ শতাংশের কম। তবে দ্রুত পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে (India) তারা।

    ২০২৬ সালের গোড়ার হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রের মাসিক মোট পণ্য বিক্রির মূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন অর্ডারের সংখ্যা প্রায় ৭৮ লাখ।  গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা এবং সারা দেশে দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গুদাম বা সংরক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা ৬,২৮০-রও বেশি।

    এ ছাড়া, বড় সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন এসেছে। আগে অন্য বিক্রেতাদের পণ্য একত্রিত করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও এখন অনেক সংস্থা নিজেরাই পণ্যের মজুত ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজেদের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মোট মুনাফার হার অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে দেশের বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ।

    লাভের মুখ দেখতে দিনে অন্তত ১,২০০ থেকে ১,৫০০ অর্ডার জরুরি

    বাজারের আকার বাড়লেই যে সংস্থাগুলি লাভজনক হয়ে উঠবে, তা নয়। প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রের আয়-ব্যয়ের হিসাবই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কেন্দ্রকে লাভ-ক্ষতির সমতা অর্জন করতে সাধারণত প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি অর্ডার সামলাতে হয়।

    প্রথম সারির মহানগরগুলিতে একটি কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০টি অর্ডার সামলাতে পারে। সেখানে প্রতি অর্ডারে গড় খরচ প্রায় ২৭ টাকা। অন্য দিকে, মহানগরের বাইরের কেন্দ্রগুলিতে দৈনিক গড় অর্ডার প্রায় ৯৫০টি এবং প্রতি অর্ডারের খরচ প্রায় ৩১ টাকা।

    একটি নতুন কেন্দ্র তৈরি করতে ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। নতুন কেন্দ্রগুলিকে প্রথম চার থেকে আট মাস পর্যন্ত লোকসানও গুনতে হয়। তবে দেড় বছর বা তার বেশি সময় ধরে চালু থাকা পরিণত কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রভিত্তিক পরিচালন মুনাফার হার ৫ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    কিন্তু দ্রুত সম্প্রসারণের খরচ সামগ্রিক লাভের উপর চাপ তৈরি করছে। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্লিঙ্কিট ১৮০টিরও বেশি নতুন সরবরাহকেন্দ্র চালু করেছে। এর ফলে সংস্থাটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফার হার কমে ঋণাত্মক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    বিজ্ঞাপন ও অতিরিক্ত পরিষেবায় আয় বাড়ানোর চেষ্টা

    শেষ পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ সামলাতে সংস্থাগুলি এখন বিজ্ঞাপন, সুবিধা-শুল্ক এবং কেন্দ্রের ভিতরে ছোট খাবারের দোকানের মতো বিকল্প আয়ের উপর জোর দিচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি অর্ডারে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত সুবিধা-শুল্ক নেওয়া হচ্ছে।

    জেপ্টোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় গত দুই বছরে ৪৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৬৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি দেখিয়ে দিচ্ছে, পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও দ্রুত সরবরাহ সংস্থাগুলির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে (Quick Commerce Market)।

    তবে সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের বাজার গড়ে তুলতে হলে মোট অর্ডারমূল্যের অন্তত ৩০ শতাংশ বা তার বেশি আসতে হবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভাগগুলি থেকে। সেই সঙ্গে গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা বা তার বেশি হতে হবে (India)।

    তবে বেশি দামের পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের মতো পণ্যে ফেরত দেওয়ার হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে পণ্য ফেরত নেওয়া, পুনরায় মজুত করা এবং সরবরাহের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

    নিয়মকানুনের কড়াকড়ি, আপত্তি খুচরো ব্যবসায়ীদের

    দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রকে খাদ্য ব্যবসায়ী হিসেবে প্রয়োজনীয় রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স নিতে হয়।

    তেলঙ্গানার খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা টিজি সেফের পরিদর্শনের পরে হায়দরাবাদে ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং ফ্লিপকার্টের কয়েকটি কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। মুম্বইয়ের ধারাভিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যার মধ্যে ছিল শীতলীকরণ কক্ষে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব।

    অন্য দিকে, দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অনৈতিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন। সংগঠনটির দাবি, দেশের ৭৫ থেকে ৮০টি শহরে ২ লাখেরও বেশি ছোট মুদির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি সংগঠনটির নিজস্ব দাবি, এর স্বাধীন যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    এ ছাড়া, রাজস্থান ও কর্নাটকে দ্রুত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কর্মীদের নথিভুক্ত করা এবং তাঁদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। পণ্য সংরক্ষণকেন্দ্র থাকা প্রতিটি রাজ্যে পৃথক পণ্য ও পরিষেবা কর নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবসায়ী ছাড়ের হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ ২ অক্টোবর ‘ইউপিআই বর্জন দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছিল। প্রস্তাবিত ছাড়ের হার ছিল ০.৫ থেকে ১.১ শতাংশ। পরে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, চলতি মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বজায় থাকলে পরিবারের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের মতো সুবিধানির্ভর পরিষেবার চাহিদাতেও।

    আগামী দিনে নজর থাকবে যে বিষয়গুলিতে

    বাজারের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ঘিরে এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। ৯০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারমূল্য বলতে কর ও অন্যান্য শুল্ক-সহ মোট অর্ডারমূল্য বোঝানো হয়েছে, নাকি পণ্য ফেরত ও বাতিলের হিসাব বাদ দেওয়ার পরে প্রকৃত বিক্রিমূল্য—তা পরিষ্কার নয়।

    একই ভাবে, দ্রুত সম্প্রসারণ বজায় রেখেও ছোট সংস্থাগুলি পরিচালন মুনাফায় পৌঁছতে পারবে কি না, অথবা দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতে পর্যাপ্ত অর্ডার না থাকলেও ভর্তুকি ছাড়া সরবরাহকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সূচকের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রথমত, নতুন সরবরাহকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক অর্ডার কতটা বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, সংস্থাগুলির পরিচালন মুনাফার হার কোন দিকে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মোট অর্ডারের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের পণ্যগুলির অংশীদারি কতটা বাড়ছে (India)।

    পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের সিদ্ধান্ত, একাধিক রাজ্যে পণ্য মজুত রাখা সংস্থাগুলির জন্য একক নিবন্ধনের সম্ভাবনা নিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যে গিগ কর্মীদের কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত নিয়মও বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজারে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৪২ শতাংশ (Quick Commerce Market)। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে পুরনো সরবরাহকেন্দ্রগুলি কতটা লাভজনক হয়ে উঠছে এবং নতুন কেন্দ্র খোলার খরচ কতটা সামলানো যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বাজার ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কি না।

     

  • NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) এক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে জাল নোট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার এনআইএর শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭.২৯ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট (Fake Currency Case) বৃহত্তর কোনও চক্রের অংশ কি না, এবং সেই চক্র আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কাজ করছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে গ্রেফতার পিএনবির ম্যানেজার (NIA)

    সোমবার জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই মামলায় নাম থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি। সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে ভারতীয় জাল নোট শনাক্ত হওয়ার পর পিএনবির যে তিন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে আসেন, অমিত তাঁদের অন্যতম।

    পিএনবি কর্তার এই গ্রেফতারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্দেহভাজন জাল নোট কোনও ব্যক্তিগত বাহক, গোপন আস্তানা বা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়নি; বরং তা উদ্ধার হয়েছে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢুকল এবং তার কোনও অংশ পরবর্তী কালে বৈধ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না।

    এনআইএ জানিয়েছে, মামলাটি পিএনবির কারেন্সি চেস্টে জাল নোট সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে পুরো “ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ চিত্র” উদঘাটন এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তদন্তে তিন পিএনবি আধিকারিক

    তদন্তে চিহ্নিত তিন পিএনবি আধিকারিক হলেন— সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের তথাকথিত যোগসূত্র সামনে আসার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন তিনজনকেই।

    পরবর্তী কালে এসআইটি (SIT) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিন আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে। তাঁদের যোগাযোগ, গতিবিধি এবং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে ওই সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে তদন্তভার

    ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত করেছে। এর আগে ২৯ অগাস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১৭৮-এর অধীনে মূল এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জাল নোট উদ্ধারের আগে মুদ্রাগুলি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল, সেই গোটা গতিপথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন (Fake Currency Case) তদন্তকারীরা।

    কীভাবে জাল নোট ঢুকল মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায়?

    তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে ১১১ কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রা কারেন্সি-হ্যান্ডলিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) জয়পুর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানে লেখা ছিল— ৫০০ টাকার নোটের ১,৯০০ বান্ডিল এবং ২০০-এর ৮০০ বান্ডিল।

    চালানটির প্যাকিং ও পাঠানোর প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক গৃহপরিচারকের হাতে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা জাল নোটগুলি মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    জাল নোটের অনিয়ম ধরা পড়ার আগে কারেন্সি চেস্ট থেকে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা এবং এটিএম-এ ওই নোটগুলির কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (NIA)। এই তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন হল—সন্দেহমূলক জাল নোটের কতটা ইতিমধ্যেই বাজারে ঢুকে পড়েছে। কারেন্সি চেস্টের বাইরে কত পরিমাণ নোট গিয়েছিল, আদৌ গিয়েছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    নেপালের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত

    তদন্তে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের দিকটিও সামনে এসেছে। তিন অভিযুক্তের যোগাযোগ ও গতিবিধি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বা সীমান্তের ওপারে সক্রিয় (Fake Currency Case) কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    তবে নেপালের সঙ্গে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা আপাতত একে তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবেই দেখছেন। সাহারানপুরের এসএসপি অভিনন্দন এর আগে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। সেই (NIA) কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়।

     

  • Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে পলিমার (প্লাস্টিক-ভিত্তিক) ১০ ও ২০ টাকার নোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিয়মিতভাবে এই নোট চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আরবিআই অ্যাক্ট, ১৯৩৪-এর আওতায় ১০ ও ২০ মূল্যমানের মোট ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) পিস পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে ছাপানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি পিস ১০ টাকার, এবং ১০০ কোটি পিস ২০ টাকার নোট ছাপা হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা এই প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    কাগজের নোট কি তুলে নেওয়া হবে?

    লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই পলিমার নোট বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বর্তমানে এই প্রকল্প একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে?

    ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে উদ্বেগেরও কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পলিমার নোট নিয়মিতভাবে চালু হওয়ার পরেই এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নগদ লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক ব্যবস্থা। ফলে পলিমার নোট চালু হলেও ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উপর তাৎক্ষণিক কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    কীভাবে হবে পরীক্ষা?

    পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পলিমার নোটগুলিকে বিভিন্ন জলবায়ু ও ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হবে।

    মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে, সেগুলি হল—

    • ● নোটের স্থায়িত্ব
    • ● ভাঁজ পড়লে ক্ষয়ক্ষতি
    • ● ছিঁড়ে যাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা
    • ● দৈনন্দিন ব্যবহারে কার্যকারিতা
    • ● সাধারণ মানুষের মতামত

    ভারতের তীব্র গরম, আর্দ্রতা, ধুলো এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিতে নোট কতটা কার্যকর থাকে, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

    পরীক্ষার আগেই শুরু প্রস্তুতি

    কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কয়েক সপ্তাহ আগেই, ১৭ জুলাই, আরবিআইয়ের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। সংস্থাটি ৬৮ হাজার রিম অপাসিফায়েড পলিমার সাবস্ট্রেট শিট কেনার জন্য বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের কাছ থেকে দরপত্রের আহ্বান করে। এই শিটগুলিতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত থাকবে, যাতে টেক্সচার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাবস্ট্রেটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়।

    কেন পলিমার নোট?

    প্রথমদিকে, পলিমার নোট তৈরির খরচ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ২০% থেকে ২৪% বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলির আয়ু ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পুরোনো নোট ধ্বংস করার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।উল্লেখ্য, নোট মুদ্রণের জন্য বার্ষিক ব্যয় বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাই বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো বেশি ব্যবহৃত নোটে পলিমার প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভারতে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

  • RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর থেকেই ভারতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের (Polymer Currency Notes)। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার নোট নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এই পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও চালু করা হতে পারে। সফল হলে ২০২৭ সাল থেকেই দেশজুড়ে বড় পরিসরে পলিমার নোট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত অস্বচ্ছ পলিমার শিট সরবরাহের জন্য বৈশ্বিক আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে।

    বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান (RBI)

    প্রস্তাবিত ক্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার রিম পলিমার শিট। এর মধ্যে ৩৪ হাজার রিম করে দু’টি মূল্যমানের নোটের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিমে ৫০০টি শিট থাকবে। এই পলিমার শিটে স্বচ্ছ জানালা-সহ প্রতিকৃতি, ধাতব সংখ্যা, চৌম্বকীয় লুকোনো সুতো, ছায়া-চিত্র এবং দীপ্তিময় নকশার মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এগুলি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মুদ্রণকেন্দ্রে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈশ্বিক দরপত্রই পলিমার নোটের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ অগাস্ট। দরপত্রের নথিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান কেনাকাটা শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মূল্যমানের নোটের জন্য বিরাট পরিমাণে পলিমার শিট কেনা হতে পারে।

    কঠোর নিরাপত্তা বিধি

    এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা বিধিও রাখা হয়েছে। দরদাতাদের নিশ্চিত করতে হবে, চিন বা পাকিস্তানে তাদের যে কোনও কার্যক্রম ভারতের প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। এছাড়া ওই দুই দেশ থেকে কোনও কাঁচামাল আনা যাবে না এবং চিন বা পাকিস্তানে আগে কাজ করেছেন এমন (RBI) কোনও কর্মীকেও এই প্রকল্পে নিয়োগ করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশের সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার বিভাগের নিবন্ধন কমিটির অনুমোদনও থাকতে হবে। আবেদনকারী সংস্থার অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্কনোট মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার শিট সরবরাহের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি মোট প্রস্তাবিত চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার ৪০০ রিম সরবরাহ করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। আবেদনকারীদের পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য পলিমার শিটের নমুনা জমা দিতে হবে এবং লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ওই উপাদানে কোনও প্রাণিজ চর্বি বা ডিএনএ নেই।

    পলিমার নোট চালুর সুবিধা

    যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে কোন মূল্যমানের নোট ব্যবহার করা হবে তা ঘোষণা করেনি। তবে জুন মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণার পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছিলেন, পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “পলিমার নোট চালুর সুবিধা এবং বাস্তবসম্মত দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮ সালে প্রথম পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট বেশি টেকসই, জাল করা কঠিন এবং (Currency Notes) দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট মুদ্রণের খরচ (RBI) কমানোর পাশাপাশি কমতে পারে পরিবেশের ওপর প্রভাবও।

     

  • RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    সুশান্ত দাস

    ভারত কি ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে? কেন এক বছরে ২২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ? আবার কেনই বা বিদেশে রাখা শত শত টন সোনা দেশে ফিরিয়ে আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)? প্রথম নজরে এই ঘটনাগুলি আলাদা মনে হলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এগুলি আসলে একই কৌশলের অংশ। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    কী ঘটেছে?

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসের পরিমাণ ২৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২২.৫ শতাংশ কমেছে মার্কিন সরকারি বন্ডে ভারতের বিনিয়োগ। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ভারতের সোনার রিজার্ভ ৬৫৮ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮১ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৩৮০ টনেরও বেশি সোনা বিদেশের ভল্ট থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই দুটি পদক্ষেপকে একসঙ্গে দেখলেই ভারতের নতুন রিজার্ভ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কেন মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ কমাচ্ছে ভারত?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর— ঝুঁকি কমানো। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, মার্কিন অর্থনীতি এবং ডলারের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলেছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ হওয়ার নজির এবং বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই কারণেই এখন অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একই ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে।

    কেন সোনা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

    সোনা এমন একটি সম্পদ, যার মূল্য কোনও একক দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অস্থিরতার সময়ও সোনা সাধারণত তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে। তাই একে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনে এটি সহজেই নগদে রূপান্তর করা যায় এবং কোনও বিদেশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর এর অস্তিত্ব নির্ভর করে না।

    বিদেশে সোনা রেখে ঝুঁকি কোথায়?

    অনেক দেশ ঐতিহাসিক কারণে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে তাদের সোনা সংরক্ষণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে বিদেশে রাখা সম্পদের উপর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে দেশের ভল্টে সোনা ফিরিয়ে আনছে। এতে ভারতের সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বও একই পথে…

    ভারতের পাশাপাশি, চিন গত এক বছরে তাদের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস ৭৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৬৫১.১ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছরেও সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ এটি কোনও একক দেশের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

    তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ?

    এর মানে একেবারেই নয় যে, ডলারের যুগ শেষ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মার্কিন ডলারই রয়েছে। ভারতও এখনও ১৮১ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি ধরে রেখেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ডলারের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য সম্পদের ভারসাম্য বাড়াচ্ছে। এটিকে ডি-রিস্কিং বলা যায়, ডি-ডলারাইজেশন নয়।

    ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

    এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—

    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
    • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
    • মূল্যস্ফীতির সময় রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
    • বিদেশে রাখা সম্পদের উপর নির্ভরতা কমবে।
    • দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হবে।

    আগামী দিনে কী নজরে রাখবেন?

    এখন নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে চিন, জাপান, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিও একই পথে এগোয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, তাহলে আগামী দশকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখন আর একটিমাত্র সম্পদের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশল কী?

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিক্রি বা সোনা কেনার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য ‘নিরাপত্তা, বৈচিত্র্য এবং সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভকে এমনভাবে সাজানো, যাতে কোনও একটি দেশের নীতি, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধাক্কা দিতে না পারে। এই কারণেই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত প্রস্তুতি।

  • RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের মধ্যেও দেশে কাগজের নোটের চাহিদা কমেনি। তবে এবার ভারতের কাগজের মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহারের ১০ টাকা এবং ২০ টাকার কাগজের নোটগুলো শীঘ্রই ‘প্লাস্টিক’ বা পলিমার নোটে (Plastic Notes) রূপান্তরিত হতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) তাদের এক দশক পুরনো এই পরিকল্পনাটি পুনরায় বাস্তবায়নের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এই খবরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (RBI)?

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাটনা ও মুম্বইতে অনুষ্ঠিত আরবিআই-এর শেষ দুটি বোর্ড বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত দুটি প্রধান কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্লাস্টিক কারেন্সির দিকে ঝুঁকছে:

    ১. উৎপাদন খরচ হ্রাস:

    সাম্প্রতিক সময়ে কাগজের নোট (Plastic Notes) ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে নোট ছাপানোর খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায়। পলিমার নোটের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

    ২. দীর্ঘস্থায়িত্ব বা শেল্ফ লাইফ:

    সাধারণ কাগজের নোট (Plastic Notes) দ্রুত ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন জরাজীর্ণ ও নোংরা নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে আরবিআই-কে। ১০ এবং ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় বলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। প্লাস্টিকের নোট সহজে ছিঁড়বে না, জলেও নষ্ট হবে না। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন সচল থাকবে।

    এটি কি ক্রেডিট কার্ডের মতো শক্ত হবে?

    না, প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট (Plastic Notes) বলা হলেও এগুলো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো শক্ত কোনও প্লাস্টিক নয়। এটি মূলত একটি অত্যন্ত পাতলা, নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট দিয়ে তৈরি। এটি কাগজের নোটের মতোই হালকা হবে এবং সহজেই ভাঁজ করে পকেটে বা মানিব্যাগে রাখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই এই পলিমার নোটের সফল ব্যবহার চলছে।

    প্রাথমিক পাইলট প্রজেক্ট ও এটিএম-এর প্রস্তুতি

    আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে একবারে এই নোট চালু করা হবে না। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) নির্দিষ্ট কিছু শহরে ১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে ২০১২ সালেও ভারত সরকার কোচি, মহীশূর, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলা—এই পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সে সময় এটিএম (ATM) মেশিনগুলো এই নোট চেনা বা গণনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং আধুনিক এটিএমগুলো যাতে খুব সহজেই এই প্লাস্টিক নোট লেনদেন করতে পারে, তার সম্পূর্ণ পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইউপিআই (UPI)-এর বিপ্লবের পর, কাগজের নোটের এই ‘প্লাস্টিক বা পলিমার’ রূপান্তর ভারতের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী অন্যতম বড় সংস্কার হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • India: মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত

    India: মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সার্ক (SAARC Currency) কারেন্সি সোয়াপ ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় প্রথমবারের মতো মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত (India)। এর জেরে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতি ভারতের আর্থিক সহায়তা আরও জোরদার হল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    ভারতীয় হাইকমিশনের বক্তব্য (India)

    মালের ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই অর্থ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং মলদ্বীপ সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তির প্রথম কিস্তি হিসেবে ছাড়া হচ্ছে। এই চুক্তিটি হয়েছিল মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজুর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে, নয়াদিল্লি সফরের সময়। উল্লেখ্য, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মলদ্বীপের নেওয়া পূর্ববর্তী ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসুবিধার মেয়াদপূর্তির পর। এটি নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরেই। মলদ্বীপের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই ঋণ শোধ সরকারের আর্থিক দায়বদ্ধতা পালনের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে (India)।

    ‘নেবারহুড ফার্স্ট’

    ২০১২ সালে এই ফ্রেমওয়ার্ক চালু হওয়ার পর থেকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মলদ্বীপকে মোট ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (SAARC Currency) বেশি সোয়াপ সাহায্য দিয়েছে। হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, এই সুবিধাটি মলদ্বীপের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (India)। এছাড়া, ভারত তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ (Neighbourhood First) নীতি এবং ‘ভিশন মহাসাগর’ (Vision MAHASAGAR) -এর আওতায় মলদ্বীপকে সাহায্য দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি প্রয়োজনে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার ও প্রথম সাহায্যকারী হিসেবে ফের একবার নিশ্চিত করল ভারতের ভূমিকা (SAARC Currency)।

     

  • RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেক্স: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো (US Treasury Bonds) হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে আরবিআইয়ের কাছে থাকা মার্কিন বন্ডের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪১.৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৫০.৭ বিলিয়ন ডলার কমেছে বিনিয়োগ। সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২১ শতাংশ মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ কমিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সময়ের মধ্যেই ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে (US Treasury Bonds)।

    মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমাল ভারত (RBI)

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সোনার ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক (RBI)। বর্তমানে আরবিআইয়ের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ প্রায় ৮৮০.১৮ মেট্রিক টন। ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বর্তমানে ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৩.৬ শতাংশই সোনা। গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৯.৩ শতাংশ (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআইয়ের এই সোনা কেনার প্রবণতা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলিতে চিন, ব্রাজিল ও সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশ সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর পেছনে সম্ভাব্য মার্কিন ডলারের অস্থিরতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মার্কিন ঋণ পরিষেবা খরচ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লক্ষ্য ডলার-নির্ভরতা কমানো

    অন্যদিকে, একই (RBI) সময়ে ব্রিটেন, বেলজিয়াম, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েছে (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ডলারনির্ভরতা কমানো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মূলত পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ও পুনর্গঠনের কৌশল, যার মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে (RBI) দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে আরবিআই (US Treasury Bonds)।

  • Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়লেও আগামী অর্থবছরগুলোতে ভারতের অর্থনৈতিক (Indian Economy) প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনীতিগুলির তুলনায় ভালো থাকবে বলে জানিয়েছে কেয়ারএজ (CareEdge)। বুধবার প্রকাশিত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থবর্ষ ২০২৬ ও ২০২৭-এ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৭.৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পিছনে চাহিদা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই প্রধান চালিকা শক্তি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাপী যেখানে আগামী পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.১ শতাংশে নামতে পারে, সেখানে ভারতের এই পারফরম্যান্স স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রমী।

    কেন্দ্রের নীতির ফলেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে জোরালো অগ্রগতির ফলে চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হয়েছে। উন্নত চাহিদা পরিস্থিতি ও জিএসটি হ্রাসও এতে সহায়ক হয়েছে। ভারত সরকারের নানা জনকল্যাণমূলক নীতি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতিকে (Indian Economy) শক্তিশালী করেছে বলে মত নানা মহলে। কেয়ারএজ (CareEdge) রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির পক্ষে একাধিক অনুকূল বিষয় কাজ করছে—ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, তুলনামূলকভাবে কম সুদের হার এবং গৃহস্থালির উপর করের চাপ কমা। এই কারণগুলো বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে এবং ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ভোগ ও বিনিয়োগের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

    বিশ্ববাজারে মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে স্থিতি

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক গড়ের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চিনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে কেয়ারএজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ভারতের অনুকূলে রয়েছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬ অর্থবর্ষে গড়ে ২.১ শতাংশে থাকতে পারে, যার প্রধান কারণ খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে দামের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ। তবে ২০২৬ সালে নিম্ন ভিত্তি থাকার ফলে পরের বছর মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়ে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের কাছাকাছি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যেসব বৈশ্বিক কারণ এতদিন মুদ্রাস্ফীতি দমনে সহায়ক ছিল, সেগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং রুপির মৌলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ ফের বাড়তে পারে। তবে ভালো বর্ষা, নিয়ন্ত্রিত পণ্যমূল্য ও জিএসটি সংস্কার মুদ্রাস্ফীতির পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ

    ২০২৫ সালের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সুদ কমানোর চক্র শেষ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিগত রেপো রেট মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ থেকে ৫.২৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা প্রবৃদ্ধিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি এবং অক্টোবর মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নেমে আসার প্রেক্ষিতে। আগামী বছরে আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর একটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর সুযোগ থাকলেও বড়সড় শিথিলতার পথে হাঁটার সম্ভাবনা কম। সীমিত হারে সুদ কমিয়ে তারপর বিরতি নেওয়াই সম্ভাব্য কৌশল, যাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডলার-রুপির তুলনা

    এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ দুর্বল থাকা এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এর কারণ। এর জেরে আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ কিছুটা কমিয়ে রুপিকে ধীরে ধীরে মৌলিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিচ্ছে, যদিও অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। বাস্তব কার্যকর বিনিময় হার (REER) অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষে রুপি প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের ঝুঁকি সীমিত বলে মনে করছে কেয়ারএজ। যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কমার সম্ভাবনা, দুর্বল ডলার ও নিয়ন্ত্রিত চলতি হিসাব ঘাটতি রুপির উপর চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি, ব্লুমবার্গ গ্লোবাল অ্যাগ্রিগেট সূচকে ভারতের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবর্ষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৮৯–৯০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

  • Indian Economy: ২০২৬ সালে ৬.৬% প্রবৃদ্ধিতে চিনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত, পূর্বাভাস আইএমএফের

    Indian Economy: ২০২৬ সালে ৬.৬% প্রবৃদ্ধিতে চিনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত, পূর্বাভাস আইএমএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবোমা। তার কারণে বেশ কয়েকমাস ধরে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। এর ফলে গোটা বিশ্বে অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ (IMF)। তবে গোটা বিশ্বে অর্থনীতি ধাক্কা খেলেও, ভারতের (Indian Economy) অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে তারা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)–এর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬.৬ শতাংশে। এর ফলে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির আসন ধরে রাখবে ভারত। আইএমএফ জানিয়েছে, শক্তিশালী দেশীয় চাহিদা, উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধার এবং সেবাখাতের জোরালো সম্প্রসারণ ভারতের এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি। তুলনামূলকভাবে, ২০২৬ সালে চিনের প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল

    আইএমএফ জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের (Indian Economy) অপ্রত্যাশিতভাবে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক মন্দাভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দিতে সাহায্য করেছে। এই প্রেক্ষিতে আইএমএফ তার পূর্ববর্তী ৬.৪ শতাংশ পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশে উন্নীত করেছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিয়ের-অলিভিয়ার গৌরিনচাস বলেন, “ভারতের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতের উদ্যোগ, পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য বিনিয়োগ এবং বিদেশে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে।” তবে আইএমএফ-এর তরফে সতর্ক করা হয়েছে যে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এখনও স্থিতিশীল নয়। বাণিজ্য নীতি, বিনিয়োগে মন্দা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ভারতের প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়ে ৬.২ শতাংশ করা হয়েছে।

    মার্কিন শুল্ক-সংঘাত প্রভাব তেমন ফেলেনি

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে তার খুব একটা প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে (Indian Economy) পড়বে না বলেই মনে করছে আইএমএফ (IMF)। চলতি অর্থবর্ষে প্রথম কোয়ার্টারে বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারতের জিডিপি গ্রোথ। তবে আইএমএফ-এর তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কমে ৬.২ শতাংশ হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) গ্রোথ বেড়েছে ৬.৫ শতাংশ হারে। মার্কিন শুল্ক সত্বেও ভারত সরকারের তরফে জিডিপি পূর্বাভাস ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ হবে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফও এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। এমন পূর্বাভাসের ফলে বোঝা যাচ্ছে, ঘরোয়া বাজারের চাহিদার উপরেই আস্থা রেখে চলেছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

    চিনকে ছাপিয়ে যাবে ভারত

    আইএমএফ (IMF) মনে করছে, চলতি বছর চিনের (China) থেকে অনেক বেশি হবে অর্থনীতি বৃদ্ধির হার হবে ভারতের (India)। চলতি বছর চিনের অর্থনীতি বৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধি অনেকটা কমে যেতে পারে। আইএমএফ (IMF)-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধি হবে ৩.২ শতাংশ হারে। ২০২৬ সালে তা ৩.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নত অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি থাকবে মাত্র ১.৬ শতাংশের মতো।

    ভারতের চ্যালেঞ্জ

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের (Indian Economy) জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। ইনফোমেরিকস রেটিংসের অধিকর্তা মনোরঞ্জন শর্মা বলেন, “ভারতকে এখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।” আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে ভারত তার দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কতটা টেকসই ও সর্বস্তরে বিস্তৃত করতে পারে। কাঠামোগত সংস্কার, শ্রমবাজারের আধুনিকীকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই হবে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।

    ভারত একটি প্রধান চালিকাশক্তি

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই বলেছেন, এমন সময়ে যখন বিশ্বের বহু বড় অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়ছে, ভারত বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশটিকে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। জর্জিয়েভা আরও বলেন, “ভারত সাহসী সংস্কার ও ধারাবাহিক নীতিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করছে।” আইএমএফের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের দ্রুততম-বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখছে।

    প্রবৃদ্ধি আগামি দিনেও মজবুত থাকবে

    আরবিআই জানিয়েছে, স্থিতিশীল দেশীয় চাহিদা, অনুকূল মৌসুমি বৃষ্টি, শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি ব্যয়ের বৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে—যা গত দুই বছরের মধ্যে দ্রুততম। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি প্রবৃদ্ধি পুরো বছর জুড়েই মজবুত থাকবে, যদিও বিশ্বের অস্থিরতা কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।” তবে নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, আইএমএফ ও আরবিআই উভয়ই মনে করছে যে ভারতের দেশীয় অর্থনীতি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। শহর ও গ্রামে চাহিদা বাড়ছে, ভোগব্যয় সম্প্রসারিত হচ্ছে, এবং সরকারের জিএসটি সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির ভিতকে আরও শক্ত করছে।

LinkedIn
Share