Tag: Recruitment Exam

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন শনিবার পড়ল ১৫ দিনে। দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পর আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে রবিবার ফের আলোচনায় বসার (Reforms Protest) সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেন সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

    অচলাবস্থা কাটেনি (Jharkhand)

    শনিবার সরকার চার দফায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় অংশ নেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চ এবং আদিবাসী ছাত্র সংঘ। এর আগে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিল সরকার। পাঁচ দফা আলোচনার পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। এরপর রবিবার দুপুর ১২টায় ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ষষ্ঠ দফায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    সরকারের নতুন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং মূল দাবিগুলি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। সংস্কার মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “এটি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল। সরকার ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে আন্দোলনের দিক থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু সরকারের জানা উচিত, সমস্ত ছাত্র একজোট।” শনিবার জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠকে পাসওয়ান আরও দাবি করেন, শুক্রবার রাতে পাঁচ সদস্যের সরকারি কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সংস্কার মঞ্চ তাদের সমস্ত দাবি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, চলমান আন্দোলনে কোনও ভূমিকা না থাকা সংগঠনগুলির সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করে সরকার আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

    বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক

    শনিবার সরকারি কমিটি প্রথমে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে মাহাতোর অনশন এদিন সপ্তম দিনে পড়ে (Reforms Protest)। এর পর জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, আদিবাসী ছাত্র সংঘ এবং ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে সরকারি কমিটি। বৈঠকে প্রত্যেক সংগঠনের কাছ থেকে তাদের দাবিপত্র চাওয়া হয়। সরকারের দাবি, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা যে সমস্ত উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেছেন, সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানান, আলোচনায় ছাত্র প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবি ও উদ্বেগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে রবিবার দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত দফার আলোচনা হবে।” মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদব জানান, ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি

    ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিলের দাবি (Jharkhand)। জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ছ’দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের অন্যতম দাবি, সন্দেহের আওতায় থাকা ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের সমস্ত পরীক্ষা ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধ তদন্ত দফতরের মাধ্যমে তদন্ত করা। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার আদলে ঝাড়খণ্ডে একটি পৃথক পরীক্ষা সংস্থা গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। আদিবাসী ছাত্র সংঘের নেতা কার্তিক ওরাঁও নিয়োগ পরীক্ষায় আদিবাসী ও আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে যোগ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যেসব পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেগুলি বাতিল করার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। সংস্কারের বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মতামত জানতে একটি বৈদ্যুতিন ডাকের ঠিকানাও চালু করেছে সরকার। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে (Reforms Protest)।

    বিধানসভা অভিযানের হুঁশিয়ারি

    সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রবিবারের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১০ অগস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। শনিবার আন্দোলনস্থলে আলাদা মঞ্চ তৈরি করে সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি। তবে সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, একে পৃথক কোনও আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। শুক্রবার বিরসা চকে বিধানসভা অভিযানের সময় কালি ছোড়ার ঘটনায় আক্রান্ত হওয়া সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও শনিবার কিছু সময়ের জন্য আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি চতুর্দশ লোকসেবা কমিশন পরীক্ষা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। সংগঠনের রাঁচি শাখার প্রধান বিজয় কুমার বলেন, “বৃহত্তর আন্দোলনের যে দাবিগুলি রয়েছে, আমাদেরও একই দাবি। ১০ অগাস্টের মিছিলে আমাদের সদস্যরা অংশ নেবেন, তবে সংগঠনের পতাকা নিয়ে নয়।”

    বিধানসভা অভিযানের ডাক এবিভিপির

    এদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে তাদের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ কর্তা অজয় আর্যন জানান, ওই মিছিল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় (Jharkhand)। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে  ১১ অগাস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই শহিদ নির্মল মাহাতোর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা আন্দোলনস্থল থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মিছিল করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিও ফের তুলে ধরেন। এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাক্তন কমিটি-প্রধান এল (Reforms Protest) খিয়াংতেকে ২৮ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত চার দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে (Jharkhand)।

     

LinkedIn
Share