Tag: Religious intolerance

  • Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জাপানি সংস্কৃতি উদ্‌যাপনের একটি উৎসবে হামলার অভিযোগ একদল ইসলামপন্থী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে (Turkey Muslims)। গত ৪ অক্টোবর ‘কোনোহাফেস্ট’ নামের দু’দিনের এই উৎসবে হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মারধর, বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর এবং সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীদের মুখে শোনা যায় ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও হিংসা ও ভাঙচুরের জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎসব বন্ধ করে দিতে (Istanbul) বাধ্য হন আয়োজকেরা। ঘটনায় কয়েক জন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও খবর।

    ইস্তাম্বুলের উমরানিয়ে এলাকায় ৩ ও ৪ অক্টোবর আয়োজিত হয়েছিল এই উৎসব। জাপানের জনপ্রিয় সংস্কৃতি, অ্যানিমে, মাঙ্গা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল উৎসবের মূল আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে বহু দর্শকের পাশাপাশি পরিবার ও শিশুরাও উপস্থিত ছিল। আচমকা হামলার জেরে উৎসবের পরিবেশ দ্রুত বদলে যায় আতঙ্কে।

    আয়োজকদের দাবি (Turkey Muslims)

    আয়োজকদের দাবি, উৎসব শুরুর আগেই এর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়েছিল। ‘উমরানিয়ে এনজিও প্ল্যাটফর্ম’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার ছড়িয়ে উৎসব বাতিলের দাবি তোলে। পরিবারগুলিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রচারপত্রে লেখা হয়েছিল, “আমরা আর নীরব থাকব না! আমরা সমস্ত পরিবারকে আহ্বান জানাচ্ছি।” বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, এই উৎসব শিশুদের কাছে খারাপ উদাহরণ তৈরি করছে এবং তাদের মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

    পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা উৎসবস্থলের কাছে জড়ো হয়ে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের পোশাক, পরিবেশনা এবং সংশ্লিষ্ট জীবনযাপন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তাঁদের আরও দাবি, জাপানি জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে তুর্কি সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ভবিষ্যতেও যাতে এই ধরনের অনুষ্ঠান না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়।

    বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন ব্যানারে তুরস্কের ইতিহাস, শালীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে স্লোগান লেখা ছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—“আদর্শ খুঁজলে নিজের ইতিহাসের দিকে তাকান”, “আমাদের নায়ক সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ”, “প্রদর্শনবাদ নয়, শালীনতার পক্ষে” এবং “আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুকরণের হাতে তুলে দেব না”।

    বিক্ষোভকারীরা তুরস্ক সরকারের ‘পরিবার ও জনসংখ্যার দশক’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচিতে (Turkey Muslims) পরিবারকেন্দ্রিক নীতি ও ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কের ১৫টি প্রদেশে পরিচালিত ‘আমার পরিবার সুরক্ষিত’ অভিযানকেও সমর্থন জানিয়েছিল ওই গোষ্ঠী। এই অভিযানে অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের দাবিতে সরব এলজিবিটিআই-প্লাস গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব

    বিবৃতি পাঠের পর বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে উৎসবের দিকে এগিয়ে যান। এরপর অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্টল ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। কয়েক জন সামান্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। যদিও ততক্ষণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয় উদ্যোক্তাদের।

    এই ঘটনা তুরস্কের জনজীবনে ইসলামি রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের নীতির ফলে কিছু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতি বিরূপ মনোভাব আরও বেড়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা কোনোহাফেস্টের বিরোধিতাকে তুর্কি ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও, অভিযোগ, ঘটনাটি কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উৎসবে উপস্থিত মানুষজন এবং তাঁদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও সরাসরি হামলার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

    এই ঘটনা তুরস্কে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামাজিক টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত। দেশটির তরুণদের মধ্যে জাপানি অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম এবং চরিত্রভিত্তিক পোশাক পরার প্রতিযোগিতা বা কসপ্লের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েছে। বিভিন্ন সম্মেলন, বিষয়ভিত্তিক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আগ্রহ প্রকাশ পায়।

    তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে উদ্বেগ

    রক্ষণশীল ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যেসব গোষ্ঠীর জীবনযাপন ও কার্যকলাপের সংঘাত তৈরি হয়, তাদের প্রতি আচরণ নিয়ে তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বিভিন্ন সময়ে বিরূপ মনোভাবের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ (Turkey Muslims)।

    ঐতিহাসিক খ্রিস্টান উপাসনালয় হায়া সোফিয়া এবং চোরা কমপ্লেক্সকে মসজিদে রূপান্তরিত করার বিষয়ে এরদোয়ান সরকারের সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এই সিদ্ধান্তগুলি তুরস্কের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনোহাফেস্টে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। গ্রেফতার বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনও তথ্য মেলেনি।

    পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিংসার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের সহনশীলতা এবং ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনযাপনের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (Istanbul)।

    একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতেই এই হামলার অভিযোগ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিপজ্জনক দিকটি সামনে এনেছে। ধর্মের চরমপন্থী ব্যাখ্যা যখন অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেয়, তখন তা সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে (Turkey Muslims) বলেই মত সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Hindus Under Attack: বিরাম নেই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণের, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: বিরাম নেই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণের, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack), নির্যাতন ও বিদ্বেষমূলক কার্যকলাপ ভারতে আজ প্রায় নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে (Roundup Week)। বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপকতাকে উপেক্ষা করেছে, যা মূলত উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিন্দুরা আজ ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন বিদ্বেষের মুখোমুখি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, গত ৩ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়কালের সাপ্তাহিক ছবিটা।

    ‘কলমা’ পাঠ করার নির্দেশ (Hindus Under Attack)

    সম্প্রতি মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনায়, বছর একত্রিশের জাইব জুবায়ের আনসারি নাকি দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ‘কলমা’ পাঠ করতে বলেছিল। তারা তা না পারায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি উদ্বেগজনক। কারণ এতে আইএসআইএসের (ISIS) প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল এবং তার বাড়ি থেকে আইএসআইএস ও ‘লোন উলফ’ (lone wolf) শব্দযুক্ত নোট উদ্ধার হয়েছে। যদিও আইএসআইএসের প্রভাব একেবারে নিচুস্তরে দেখা যাচ্ছে, তবুও তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    ‘ম্যান্ডি বিতর্ক’

    এ বছরের বিষু উৎসবের দিন (১৫ এপ্রিল ২০২৬) কেরলের চেরথালার মেহর ম্যান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস (Mehr Mandi and Grills) নামক একটি রেস্তোরাঁ, যার অন্যতম মালিক ছিলেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের এক স্থানীয় নেতার ছেলে মহম্মদ শেমির, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি (Hindus Under Attack) পোস্টার আপলোড করে যেখানে ভগবান কৃষ্ণকে চিকেন ম্যান্ডির প্লেটের পাশে বসে থাকতে দেখানো হয়। পোস্টটি ভাইরাল হয়। এটি ‘ম্যান্ডি বিতর্ক’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে, এই চিকেন ম্যান্ডির পোস্টারটি ডিজাইনারের ভুল ছিল না, যদিও, এমনই দাবি করা হচ্ছিল। বিবেক কুমারের হৃদয়বিদারক কাহিনি থেকে জানা যায়, সে যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত, তখন তাকে অপহরণ করা হয়। জোরপূর্বক করানো হয় সুন্নত। আট বছর পর উদ্ধার হওয়ার আগে পর্যন্ত তাকে কোরআন পড়তে বাধ্য করা হয় (Roundup Week)।

    উদ্বেগজনক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু

    বোকারো একটি উদ্বেগজনক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে এক আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রীড়াবিদ অভিযোগ করেছেন, এক ব্যক্তি তাঁকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে, নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করে, জোরপূর্বক বিয়ে করতেও বাধ্য করে এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাপ দেওয়া হয়। ওই মহিলা ছিলেন হিন্দু ক্রীড়াবিদ। পরে তিনি যোগ দেন সিআইএসএফে। তাই বিষয়টি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগেরও বিষয় হয়ে উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    হিন্দুবিদ্বেষ

    অধিকাংশ ঘৃণামূলক অপরাধ নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ দ্বারা পরিচালিত। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরের মধ্যেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী মনোভাব রয়ে গিয়েছে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণামূলক অপরাধের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও আচরণের ধারা বিশ্লেষণ করে। দীপাবলির সময় ধীরে ধীরে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ কমাবে বলে মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ (Roundup Week) ও নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তির অভাব দেখলে দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) চলছে অবাধে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে তা ধীরে ধীরে গণহত্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপকতাকে উপেক্ষা করেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে। যার জেরে নজিরবিহীনভাবে চড়ছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার পারদ। ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ, এই সময়ে দেশ-বিদেশে কী কী ঘটনা ঘটেছে, তা একবার দেখে নেওয়া যাক, যাতে বিশ্বব্যাপী মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

    হৃষিকেশ কীর্তন ফেস্ট (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক এই সপ্তাহের ছবিটা। হৃষিকেশ কীর্তন ফেস্ট, ২০২৬ থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ভারতীয় অনুষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে একজন বিদেশি কর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি করছেন। অভিযোগ, স্থানীয় দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দিয়ে বিদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছিল। দেরাদুন র’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে এটি ৩,৭৮,০০০-এরও বেশি ভিউ পায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। মাডিকেরি তালুকের নাপোকলু গ্রামে জনৈক গৌতমকে আক্রমণ করে একদল মুসলিম যুবক। হিন্দু যুবকেরা একটি পিকআপ গাড়িতে করে বললামাভাট্টিতে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দু সমাবেশ সম্পর্কে মাইকিং করছিলেন। অভিযোগ, কিছু ইসলামপন্থী যুবক মাইক ব্যবহারের বিরোধিতা করে এবং নাপোকলু শহরের পোনাড সুপারমার্কেটের কাছে কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় গৌতমকে চিকিৎসার জন্য মাডিকেরির জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (Roundup Week)।

    সংবাদমাধ্যমগুলির প্রবণতা

    এদিকে, ভারতের প্রধান ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলির এক দশকের প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১২টি বড় সংবাদমাধ্যম হোলি উৎসবকে বিপদ, রোগ, পরিবেশগত ক্ষতি এবং জনশৃঙ্খলার ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, এই একই পর্বে রমজানকে প্রায় একচেটিয়াভাবে পবিত্র, স্বাস্থ্যকর, শান্ত ও দান-ধ্যানের মাস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বৈপরীত্য কেবল তথ্য বা বিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি একটি বর্ণনাগত পক্ষপাতকে ইঙ্গিত করে (Hindus Under Attack)।

    হোলিকা দহন উপলক্ষে উত্তেজনা

    জনৈক চন্দ্রশেখরকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনি সম্পর্কিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কর্নাটকের কপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী শহরে উত্তেজনা ছড়ায়। রাজকোটের ভাগবতীপাড়া এলাকায় হোলিকা দহন উপলক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই মুসলিম যুবক মোটরসাইকেলে করে আগুনের কাছে বিপজ্জনকভাবে স্টান্ট করছিল। এতে উৎসবে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। পুথিলা পরিবার সংগঠনের কর্মীদের অভিযোগ, পুত্তুরে চলচ্চিত্র “দ্য কেরালা স্টোরি ২”-এর বিনামূল্যে প্রদর্শনী বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে এসেছে হুমকিমূলক ফোন। আয়োজকদের মতে, ফোনকলগুলিতে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, দেওয়া হয় হুমকিও (Hindus Under Attack)।

    হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    গত ৪ মার্চ দেরাদুনের গান্ধী গ্রাম এলাকায় হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এক মুসলিম ব্যক্তি বছর পঁয়ষট্টির এক হিন্দু মহিলাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘটনাটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই উত্তেজনা ছড়ায়। দাবি ওঠে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে অব্যাহত হিন্দুদের ওপর আক্রমণ। ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ধারাবাহিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

    দেশছাড়া করার কৌশল

    মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মনিন্দার অভিযোগে গণআক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশছাড়া করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (Hindus Under Attack)। ভোলায় কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক হিন্দু বোবা মহিলাকে সারারাত ধরে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় নাম জড়ায় মোহাম্মদ রাকিব, মোহাম্মদ শাকিল ও মোহাম্মদ রাসেলের। রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি একটি অটোরিকশায় উঠেছিলেন। চালক রাকিব তাঁকে বাড়ি না নিয়ে গিয়ে শশীগঞ্জ গ্রামের একটি নির্জন সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    চাঁদা আদায়কারীদের হামলা

    চট্টগ্রামে চাঁদা আদায়কারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন আকাশ দাস। তিনি ধোপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল দাসের ছেলে। চট্টগ্রামের চান্দনাইশ উপজেলায় ডাকাতদের গুলিতে নিহত হন বছর সত্তরের চন্দন দে (Hindus Under Attack)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামে মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন, যাঁদের মধ্যে এক মহিলাও ছিলেন। বস্তুত, বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে নিহিত। ইসলামি দেশগুলিতে এই ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও একটি সূক্ষ্ম হিন্দু-বিরোধী মনোভাব দেখা যায়।

    এই সূক্ষ্ম বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়, যদি না আইন ও সামাজিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা প্রবণতার কথা উল্লেখ করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে এটি পরিবেশগত সিদ্ধান্ত বলে মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর (Roundup Week) বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, সবসময় যার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মেলে না (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share