Tag: Republic Day 2026

  • Republic Day 2026: অপরাধী শনাক্ত করতে স্মার্ট চশমা! প্রজাতন্ত্র দিবসের নিরাপত্তায় পুলিশের চোখে এআই-হাতিয়ার

    Republic Day 2026: অপরাধী শনাক্ত করতে স্মার্ট চশমা! প্রজাতন্ত্র দিবসের নিরাপত্তায় পুলিশের চোখে এআই-হাতিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026) উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হচ্ছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎসবকে (Republic Day Parade Security) সুরক্ষিত রাখতে দিল্লিজুড়ে মোতায়েন করা হবে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর ৭০টিরও বেশি কোম্পানি।

    ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম যুক্ত স্মার্ট চশমা

    এই প্রথমবার নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত স্মার্ট চশমা (AI Smart Glasses), যাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (Facial Recognition System) ও থার্মাল ইমেজিং (Thermal Imaging) প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই স্মার্ট চশমাগুলি সরাসরি পুলিশি অপরাধী ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে ভিড়ের মধ্যেই সন্দেহভাজন বা ঘোষিত অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। নয়াদিল্লির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবেশ কুমার মহলা জানান, এই ‘ওয়্যারেবল ডিভাইস’গুলি পুলিশকর্মীদের মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং অপরাধ সংক্রান্ত ডেটাবেসে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকলে ডিভাইসের পর্দায় সবুজ বক্স দেখা যাবে, আর অপরাধের ইতিহাস থাকলে লাল বক্স ভেসে উঠবে।

    ১০ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন

    নিরাপত্তা বলয়ে থাকছে বহুস্তরীয় ব্যারিকেডিং এবং ছয় স্তরের তল্লাশি ও দেহ তল্লাশি ব্যবস্থা। হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার মধ্যে বহু ক্যামেরায় এফআরএস প্রযুক্তি রয়েছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধাসহ মোবাইল নজরদারি গাড়িও বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হবে। মহলা বলেন, “যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে মক ড্রিলও চালানো হচ্ছে। মোট মোতায়েন বাহিনীর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার পুলিশকর্মী বিশেষভাবে নয়া দিল্লি এলাকায় থাকবেন। সমস্ত জেলার ডিসিপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনও কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকর্মীদের।

    বিভিন্ন পয়েন্টে উচ্চক্ষমতার এআই ক্যামেরা

    এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি, উত্তর ও মধ্য দিল্লি জুড়ে প্রায় ৪,০০০টি ছাদভিত্তিক নিরাপত্তা পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। কুচকাওয়াজের রুট ও সংলগ্ন এলাকায় বসানো হচ্ছে প্রায় ৫০০টি উচ্চক্ষমতার এআই ক্যামেরা। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দর্শনার্থীকে নিরাপত্তা স্টিকার প্রদান করা হবে। ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি)রা ইতিমধ্যেই রুট সার্ভে এবং অ্যান্টি-সাবোতাজ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং জনপ্রিয় বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    ভাড়াটে ও গৃহকর্মী যাচাই অভিযান

    প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহর জুড়ে ভাড়াটে ও গৃহকর্মী যাচাই অভিযান চলছে। পাশাপাশি অটোচালক, ট্যাক্সিচালক, দোকানদার ও স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের নিয়ে ‘চোখ ও কান’ সচেতনতা বৈঠক করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত পুলিশের নজরে আনতে পারেন। এছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যাতে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রস্তুতি আরও জোরদার করা যায়।

  • S-400 Air Defence System: প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথমবার প্রদর্শিত হবে এস-৪০০! কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজে তিন সেনার যৌথ শক্তি

    S-400 Air Defence System: প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথমবার প্রদর্শিত হবে এস-৪০০! কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজে তিন সেনার যৌথ শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষের সময় ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (S-400 Air Defence System) প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে (Republic Day Parade 2026) প্রদর্শিত হতে চলেছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি কার্তব্য পথের (Kartavya Path) কুচকাওয়াজে এটি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে সেনা। ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের ট্যাবলোতে এস-৪০০ সিস্টেমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন এয়ার কমোডোর মনীশ সভরওয়াল।

    ‘ট্রাই-সার্ভিসেস ট্যাবলো – অপারেশন সিঁদুর’

    ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সন্ত্রাসী পরিকাঠামো লক্ষ্য করে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযানে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল। গত বছরের অগাস্ট মাসে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং নিশ্চিত করেছিলেন যে, ওই অভিযানের সময় ভারতের এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাকিস্তানের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিল। এ বছরের ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের ট্যাবলোর (Tri-Services tableau) থিম রাখা হয়েছে ‘ট্রাই-সার্ভিসেস ট্যাবলো – অপারেশন সিঁদুর’, যার মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ অপারেশনাল সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সমন্বয় তুলে ধরা হবে। মেজর জেনারেল নভরাজ ধিল্লোঁ জানিয়েছেন, টানা চতুর্থবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভবনিশ কুমার।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’ ট্যাবলোর থিম

    এয়ার কমোডোর মনীশ সভরওয়াল জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ট্যাবলোতে একটি প্রতীকী দৃশ্যের মাধ্যমে দেখানো হবে কীভাবে একটি সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই ট্যাবলোতে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স উপাদানও প্রদর্শিত হবে, যা বিশ্বের সর্বাধিক দূরত্ব থেকে পাকিস্তান বায়ুসেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো (নজরদারি অ্যাওয়াক্স বিমান) ধ্বংস করেছিল। এয়ার কমোডোর বলেন, “এর মাধ্যমে আবারও দেশের সংকল্পকে তুলে ধরা হবে—যদি আমরা সবাই একসঙ্গে লড়াই করি, তবে বিজয় অনিবার্য।”

    কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন মোট ৬,০৫০ জন সামরিক কর্মী

    এবারের কুচকাওয়াজে মোট ৬,০৫০ জন সামরিক কর্মী অংশ নেবেন। পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্ল্যাটফর্ম যেমন ‘ভৈরব’, ‘শক্তিবাণ’, আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিকল (UGV) এবং অ্যাডভান্সড টাওড আর্টিলারি গান সিস্টেম (ATAGS) প্রদর্শিত হবে। এর পাশাপাশি, লাদাখ স্কাউটস, কাইটস, জান্সকার পোনি এবং ব্যাকট্রিয়ান উটও প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কার্তব্য পথে মোট ৩০টি ট্যাবলো চলবে। এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক, দফতর ও পরিষেবার ট্যাবলো থাকবে।

    এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল থিম

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল থিম হবে — “স্বাধীনতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম” এবং “সমৃদ্ধির মন্ত্র: আত্মনির্ভর ভারত”। এই ট্যাবলোগুলির মাধ্যমে জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি স্মরণ করা হবে এবং একই সঙ্গে আত্মনির্ভরতার পথে ভারতের অগ্রগতি ও দেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রের মন্ত্রকগুলির ট্যাবলোতে সংস্কৃতি, উন্নয়ন, পর্যটন ও আত্মনির্ভরতার নানা দিক প্রদর্শিত হবে, যা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনকে আরও বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।

  • Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যতের এক ঝলক তুলে ধরতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। ২৬ জানুয়ারি (Republic Day 2026) কর্তব্য পথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রাইফেল-মাউন্টেড রোবট। সাম্প্রতিক মহড়ায় দেখা গিয়েছে এই উন্নত চতুষ্পদ যন্ত্রগুলো। এই ধরনের অস্ত্র ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেই রীতি বদলের সূচনা করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মনির্ভরতার বার্তা দিতে দেশে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। সেই ধারা মেনেই এ বার ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্যপথে সামরিক উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নতুন কয়েকটি নমুনার সঙ্গে দেশবাসী পরিচিত হবেন।

    যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রোবট

    রাইফেল-মাউন্টেড রোবটগুলি সাধারণত মাল্টি-ইউটিলিটি লেগড ইকুইপমেন্ট (MULEs)। যুদ্ধ সহায়তা ও নজরদারির জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলি অস্ত্র, সেন্সর এবং নজরদারি সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই ১০০টি এমন রোবোটিক মডিউল নিজেদের অপারেশনাল ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটিকে স্বয়ংক্রিয়তা ও মানববিহীন যুদ্ধক্ষেত্র সহায়তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ধরনের চতুষ্পদ রোবট আগে অসামরিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছিল— ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট সম্প্রচারে চলমান ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রোবটগুলি। এবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নজরদারি, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধের জন্য অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে সেনাবাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও শত্রুপ্রবণ এলাকায় এই রোবটের কার্যকারিতা অপরিসীম।

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র

    একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। ভারত থেকে পাকিস্তান, ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র,—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ।

    অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল

    প্রযুক্তির এই প্রদর্শনীকে আরও জোরালো করবে ডিআরডিও-র তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (LRAShM)। আগামী ২৬ জানুয়ারি অর্থাৎ, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ভারতের নতুন দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রর নকশা ও প্রস্তুত করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও। অত্যাধুনিক এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর হাইপারসনিক গতি। অর্থাৎ, শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি বেগে উড়তে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। আর সেই কারণেই শত্রুপক্ষের রেডারে ধরা পড়ে না এই মিসাইল। বর্তমানে এই ক্ষেপণাত্র ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম। তবে, আগামীতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যাতে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করছে ডিআরডিও। এই ক্ষেপণাত্র বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহন করতে পারে। যাতে এই একই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের বর্ম ভেদ করতে পারে। এ ছাড়াও এই মিসাইল মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়তে পারে। ফলে আকাশের দিকে লক্ষ্য রাখা বিভিন্ন রেডার এড়িয়ে যেতে পারে। এই মিসাইলের এরোডায়নামিক দক্ষতা একে অনেক দূর পর্যন্ত গ্লাইড করতে বা উড়তে সাহায্য করে। এর প্রদর্শন ভারতের হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    কৌশলগত দিক থেকেও এই মিসাইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মিসাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। কারণ, এই মিসাইল সর্বোচ্চ দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ডিআরডিও দুই ধরনের মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। একটি হল হাইপারসনিক ইন্টার কন্টিনেন্টাল গ্লাইড মিসাইল ও হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। লং-রেঞ্জ অ্যান্টি শিপ মিসাইলের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রমাণ করে মিসাইল নিয়ন্ত্রণ কৌশল, মিসাইলের গতিপথের নকশা ও মিসাইল প্রযুক্তি তৈরিতে ভারত এখন গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে।

    কর্তব্য পথে আত্মনির্ভর ভারত

    ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ (Republic Day 2026) ভারত উদযাপন করবে তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। প্রথা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে থাকে বর্ণাঢ্য সামরিক প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশজুড়ে দেশাত্মবোধক কর্মসূচি। এ বছরের থিম বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে—‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই থিম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয় সংগীতের ভূমিকা এবং দেশের সামষ্টিক চেতনায় তার চিরস্থায়ী প্রভাবকে শ্রদ্ধা জানায়। সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র। বাড়ছে যুদ্ধ বিমান, যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা। উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। একদিকে যেমন বিদেশি সংস্থা বিনিয়োগ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা সেক্টরে তেমনই ভারতের ডিআরডিও সহ সংস্থাগুলোও কাজ করে চলেছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতাই হয়ে উঠেছে ভারতের মন্ত্র। এবার তারই ছবি ফুটে উঠবে দিল্লির কর্তব্য পথে।

LinkedIn
Share