Tag: Republican Party

  • Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষতির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি (Elon Musk)। টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও কিংবা অন্য কোনও অঙ্গরাজ্যের ব্যালটেও ছিল না তাঁর নাম। তবু এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল (US Midterm Elections)।

    গত কয়েক বছরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছিলেন মাস্ক। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে আমেরিকার কী পরিণতি হতে পারে, তা নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তাঁর অনুগামীদের।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে সেই অর্থ, প্রভাব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কোনও কিছুই কাজে আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনই রিপাবলিকানদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক কৌশলকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মাস্ক বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পেল না রিপাবলিকান শিবির।

    মাস্কের কাছে এই পরাজয় শুধু বিব্রতকর নয়। আমেরিকার ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাঁর রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—সব কিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ব্যর্থ মাস্ক (Elon Musk)

    রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাস্কের আর্থিক অবদান ছিল নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। এই নির্বাচনী পর্বে ব্যক্তিগতভাবে অর্থদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শীর্ষে।

    এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রচার সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়।

    আমেরিকা পিএসি, সেনেট লিডারশিপ ফান্ড-সহ একাধিক রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ঢেলেছিলেন মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন (Elon Musk) ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

    টেক্সাসের সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নিজের বাসস্থান এবং একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম এই অঙ্গরাজ্যে সরিয়ে এনেছেন তিনি। টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে সেখানে। ফলে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচন তাঁর কাছে নিছক একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেই ব্যবস্থাকে নিজের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করতে পারবেন কি না, তারও পরীক্ষা ছিল এই নির্বাচন। কিন্তু ভোটারদের রায় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

    কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয়ী হন জেমস টালারিকো। এর ফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। জয়ের পর ভাষণে টালারিকো সেই ধনকুবের অর্থদাতাদের প্রসঙ্গ তোলেন, যাঁরা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভোটাররা গলিয়াথকে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ এই ফল ঠেকাতেই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। যাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তিনিও যে নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফল কিনে নিতে পারবেন না, তা এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল।

    মাস্কের রাজনৈতিক বোঝা

    মাস্কের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার সম্পর্কও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মাস্ক। সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধি দফতর বা ডিওজিই-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের একাংশের কাছে মাস্ক ছিলেন এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা ও জবাবদিহির ধারণাকে সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ধনকুবের কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Elon Musk)।

    প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরেও সেই বিতর্কের ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মাস্ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি ছেড়ে দেননি।

    সমস্যা হল, এত দিনে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

    একজন ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর সমস্ত গ্রাহক একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যখন বারবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই মতবিরোধ তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    মাস্কের বিপদের কারণ

    মাস্কের জন্য নির্বাচনের ফল অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্পেসএক্সের ব্যবসার বড় অংশ সরকারি চুক্তি ও অংশীদারিত্বের উপর নির্ভরশীল। টেসলার ব্যবসাও সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তাঁর উদ্যোগগুলির জন্যও প্রয়োজন অনুকূল সরকারি নীতি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতার কারণে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস মাস্কের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে সরকারি দফতরে মাস্কের পূর্ববর্তী ভূমিকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য সংঘাতও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে যে ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকত, এবার সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের তদন্তের নিশানায় থাকতে পারেন মাস্ক-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

    অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, অবিলম্বে তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে কিংবা সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

    যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর বিপুল আর্থিক স্বার্থ নির্ভর করে, সেখানে এই অনিশ্চয়তা মাস্কের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় (US Midterm Elections)।

    এক্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেও লাভ হল না

    মাস্কের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সের ভূমিকা।২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণ করার সময় বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং মতাদর্শগত সেন্সরশিপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক্স তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

    রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আক্রমণ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    বিশেষ করে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল যথেষ্ট তীব্র। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে, এমন নীতির সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টালারিকোর জয় আটকানো যায়নি। এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এক্সের মাধ্যমে বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম মাস্ক?

    কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন অনুগামী থাকা মানেই যে তাঁদের প্রত্যেককে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব, এমন নয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিক হলেই সেই মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই (Elon Musk)। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে মাস্কের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ উল্টে তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেন এমন অনেক মানুষই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত নন। বারবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে নিজের অনুগামী ও গ্রাহকদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে তাঁর। এই নির্বাচনের ফল থেকে অবশ্য বলা যায় না যে, এক্সের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এটুকু স্পষ্ট, শুধুমাত্র এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভোটের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসাতেও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    মাস্কের রাজনৈতিক সমস্যার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিপুল পরিকাঠামোসমৃদ্ধ তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এক্সএআই এবং তাঁর বৃহত্তর প্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, জমি, বিনিয়োগ এবং সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশকর্মী কিংবা ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বড় তথ্যকেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জলসম্পদের উপর চাপ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

    নির্বাচনের আগে বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা ক্রমশ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই জনমতকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের পথে আরও বেশি বাধা তৈরি করতে পারে। মাস্ক হয়তো ভেবেছিলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।

    মাস্কের মস্ত বড় ভুল

    মাস্কের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ হল নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পক্ষেত্রের প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা।

    টেসলাকে বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। স্পেসএক্সকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ব্যবসা এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়।

    অর্থ দিয়ে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন চালানো যায়, জনসভার আয়োজন করা যায়, প্রচারকর্মী নিয়োগ করা যায় এবং নির্বাচনী সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করা যায় না।

    মাস্ক সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর বিপুল সম্পদ, এক্সের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রিপাবলিকান রাজনীতির অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেও রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো আটকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনী অর্থের নিরিখে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পরাজয়ের পর এক্সে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কৌতুকের ছলে বলেছেন, তাঁর তথাকথিত মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্রও নাকি কাজ করেনি। পাশাপাশি মহাকাশেই তথ্যকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এই রসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ছে না নির্বাচনী বিপর্যয়ের বাস্তবতা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় পরাজিত মাস্ক?

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই নির্বাচন কার্যত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছিল। তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তাঁর পছন্দের একাধিক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাকি সময়ে তাঁর পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। তবে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা যে ইলন মাস্কের, তা বলাই যায়।

    ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কোনও সাংবিধানিক দায়িত্ব মাস্কের ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় কয়েকশো মিলিয়ন ডলার, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনপরিসরে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিকে রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন তিনি। বস্তুত, সেই বাজিতে হেরে গেলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে বিপুল সম্পদ কিংবা শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিকানা থাকলেই সাধারণ আমেরিকানদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

    মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন মাস্ক, বিপুল সংখ্যায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জোরে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্পব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সাফল্যের ভিত গড়েছেন, তিনিই এবার বুঝতে পারলেন, ধনকুবেরের চেকবই (US Midterm Elections) দিয়ে গণতন্ত্রের ফল বদলে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। আর মাস্কের কাছে এটি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে (Elon Musk)। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে খরচ হওয়া বিপুল অর্থের ক্ষতির থেকেও এই উপলব্ধি তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত হারিয়েছে (Indian Americans) দলটি। নয়া এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন আবারও বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকদের ৬২ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান (US Midterms Survey)। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন মাত্রই ১৯ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি করেছে কার্নেগি (Carnegie) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত ওই সমীক্ষার ফলে ফলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সমাজে ভারতীয়-আমেরিকানদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

    ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে (Indian Americans)

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক তাঁদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকি ভোটাররা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটদানে আগ্রহী নন।

    ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ছিল। সেই সময় ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ২২ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে দলটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক ভোটদানের প্রবণতা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অসন্তোষ

    ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ।

    সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ অভিবাসন নীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং এমনকি মার্কিন-ভারত সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একসময় এই সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শক্তিশালী দিকগুলির অন্যতম।”

    কার্নেগি ও ইউগভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। সমীক্ষার লেখকরা হলেন সুমিত্রা বদ্রিনাথন, দেবেশ কাপুর, অ্যানাবেল মিলার, অ্যান্ডি রবাইনা এবং মিলান বৈষ্ণব (US Midterms Survey)।

    তবে সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের আইএএএস (IAAS) সমীক্ষাগুলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দ পরিমাপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের সমীক্ষায় মূলত কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটদানের ইচ্ছা বা প্রবণতা যাচাই করা (Indian Americans) হয়েছে।

    রিপাবলিকান-বিরোধী মনোভাবও প্রভাব ফেলছে ভোটে

    ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়লেও এর পিছনে শুধু দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে না। রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ পার্টিজানশিপ’ বা বিরোধী দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে ভোটদান বলা হয়।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন না বলেই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিচ্ছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানো ভোটারদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাই তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ।

    সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “দলের প্রতি সমর্থন কিছুটা ফিরে আসায় ডেমোক্র্যাটরা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এই পুনরুদ্ধার দলের প্রতি ভোটারদের রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, তা কেন ভোটের বাক্সে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত হল না, সেই বিষয়টি দলটির বিবেচনা করা উচিত।”

    কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

    বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতেও ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয়-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বর্তমানে ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৪০ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলাদের মধ্যেও। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ভারতীয়-আমেরিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা। তাঁদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর, মাত্র ১২ শতাংশ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে (US Midterms Survey) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। ২০২৪ সালে রিপাবলিকানদের দিকে যে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই প্রত্যাবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি (Indian Americans) তাঁদের আস্থার উপর।

     

  • Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    সুশান্ত দাস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিল মার্কিন সেনেট। ৫০-৪৮ ভোটে সেনেট একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো বন্ধ করা। ঘটনাটিকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ১৯৭৩ সালে ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ— হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সেনেট— কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করল। যদিও এই প্রস্তাব অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

    মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু গত কয়েক দশকে একাধিক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়েছেন সরাসরি কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়াই। ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সেই কারণেই ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এই ভোট কেবল ইরান যুদ্ধ নিয়ে নয়; এটি মূলত প্রেসিডেন্ট বনাম কংগ্রেস— কার হাতে যুদ্ধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে, সেই সাংবিধানিক প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: ‘অর্থহীন ও ভুল সময়ের সিদ্ধান্ত’

    সেনেটে ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশাল-এ (Truth Social) তিনি এই প্রস্তাবকে “ভুল সময়ের এবং অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে “সাহায্য ও মানসিক সমর্থন” জোগাচ্ছে এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলছেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, তিনি এই ভোটকে কেবল প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    রিপাবলিকান শিবিরেই ফাটল

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা হলেন— লিসা মার্কাওস্কি, সুজান কলিন্স, র‌্যান্ড পল, বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান John Fetterman ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে।

    যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ

    ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হল যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের আবেদন জানিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

    এর ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—

    • ● যুদ্ধ কতদিন চলবে?
    • ● শেষ লক্ষ্য কী?
    • ● মার্কিন করদাতাদের অর্থ কতটা ব্যয় হবে?
    • ● আর এই সংঘর্ষ কি আরেকটি “অনন্ত যুদ্ধ”-এ পরিণত হতে চলেছে?

    ট্রাম্পের নতুন ইরান চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ

    যুদ্ধের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ইরান চুক্তিও বিতর্কের কেন্দ্রে।খবরে বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী অংশের মতে, যুদ্ধ করে আবার ইরানকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার যুক্তি ভোটারদের কাছে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।

    ফলে ট্রাম্প এখন দুই দিক থেকেই চাপের মুখে—

    • ● যুদ্ধপন্থীরা চুক্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
    • ● যুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য কতটা বিপজ্জনক?

    রাজনৈতিকভাবে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) যত এগিয়ে আসছে, ততই রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    ১. স্বাধীন ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে

    মার্কিন নির্বাচনে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বা নির্দলীয় ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাঁদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাহলে বহু সুইং স্টেটে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    ২. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘর্ষ

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। তিনি বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকাকে আর বিদেশি যুদ্ধের জালে জড়াবেন না। কিন্তু ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরোধীরা সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারবে— “যে নেতা অন্তহীন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিই কি নতুন যুদ্ধ শুরু করলেন?” এই প্রশ্ন রিপাবলিকান ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশকে বিচলিত করতে পারে।

    ৩. রিপাবলিকান ঘাঁটিতেই বিভাজন

    র‌্যান্ড পলের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই বিভাজন যদি আরও বাড়ে, তাহলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    ৪. যুদ্ধের ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে

    মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ এবং বাজেট ঘাটতির মতো অর্থনৈতিক ইস্যুগুলি ইতিমধ্যেই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ব্যয় অনুমোদনের প্রশ্ন উঠলে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে বড় নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    কংগ্রেস কি সত্যিই ট্রাম্পকে থামাতে পারবে?

    বাস্তবিক অর্থে এখনই নয়। এই প্রস্তাব মূলত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এটিকে উপেক্ষা করতে পারেন অথবা ভেটো দিতে পারেন।

    তবে কংগ্রেসের হাতে আরও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে—

    • ● যুদ্ধের অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া,
    • ● প্রতিরক্ষা বাজেটে শর্ত আরোপ করা,
    • ● নতুন আইন পাস করার চেষ্টা করা।

    ফলে যুদ্ধ বন্ধ না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।

    ট্রাম্পে বাড়ছে অনাস্থা!

    সেনেটের ৫০-৪৮ ভোট শুধু একটি প্রতীকী প্রস্তাব নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রকাশ্য অনাস্থার বার্তা। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষ একসঙ্গে কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরানোর আহ্বান জানাল। তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামবে না, কিন্তু রাজনৈতিক অভিঘাত গভীর। রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল, যুদ্ধের বাড়তি খরচ, ইরান চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন— সব মিলিয়ে ট্রাম্প এমন এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই— ইরান যুদ্ধ কি ট্রাম্পের জন্য নতুন বিদেশনীতি সংকট, নাকি সেটাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে উঠবে?

LinkedIn
Share