Tag: rg kar case

  • TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (TMC) তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। সম্প্রতি এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

    নতুন করে মামলা দায়ের (TMC)

    গত রবিবার আরজি করের নিহত  চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। স্মরণসভা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হবে। নতুন করে মামলা দায়ের করে সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এর পরের দিন, সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিহত চিকিৎসকের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

    শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনা

    আরজি করকাণ্ডের পর ঘোলা থানার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনাকে ঘিরে আগেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। ওই ঘটনায় নির্মল ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে (TMC)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৎপরতা দেখানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সৎকারের তালিকায় দেহটির ক্রম ছিল তিন নম্বরে। কিন্তু রাতারাতি সেই ক্রম বদলে এক নম্বরে করে দ্রুত দেহ সৎকার করা হয়। এমনকী শ্মশানের নির্ধারিত খরচও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে (Nirmal Ghosh)।

    সৎকারের প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙা হয়েছিল!

    এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই দিনের ঘটনাক্রম, শ্মশানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন (TMC)। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই নির্মলের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার ঠিক এক মাসের মাথায় গ্রেফতার হলেন নির্মল স্বয়ং। তবে তীর্থঙ্করের গ্রেফতারির কারণ ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলা। আর আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নির্মলকে (TMC)।

     

  • RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। ৮ এবং ৯ অগাস্টের রাতে আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Incident) যে ভবনে নির্যাতিতা কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সকল কর্মী, চিকিৎসক, নিরাপত্তা কর্মীকে তলব করল সিবিআই। সেই রাতের কোনও ঘটনা আগের বার তদন্তকারীদের কোনও ভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতেই আবার জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে, জেলবন্দি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও প্রয়োজনে জেরা করতে পারেন তদন্তকারীরা।

    নতুন করে এসআইটি তৈরি

    আর জি কর কাণ্ডে নতুন করে এসআইটি তৈরি হয়েছে। অপরাধস্থল, আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকরা। আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ মোট সাতজন ও নিরাপত্তারক্ষীদের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা ও তদন্তের অনেক দিক নিয়ে নতুন তদন্তকারীরা খুশি নন বলে সূত্রের খবর। তাতেই মামলায় যুক্ত সকলকে ফের জেরা করা হবে বলে খবর। ডাকা হচ্ছে ঘটনার দিন অভয়ার সঙ্গে ডিনার করা বন্ধুদেরও। নিরাপত্তারক্ষী থেকে সেই সময় উপস্থিত থাকা চিকিৎসকদেরও ডাকা হবে বলে জানা যাচ্ছ। ফের খতিয়ে দেখা হবে সিসিটিভি ফুটেজ।

    এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি

    সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল। অভিযোগ করেছিল, এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভিত্তিতেই আবার শুরু হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের বারে আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। তাঁরা ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক-সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ঘটনার রাতে ওই বিল্ডিংয়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা হয়। কিন্তু সেই তদন্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ ছিল যে, বেশ কয়েক জন কর্মীর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র ছিল, যেগুলিকে গুরুত্ব দেয়নি সিবিআইয়ের সেই সময়কার তদন্তকারীর দল। তাঁদের দাবি, ওই বিল্ডিংয়ের যত জনের বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য’ ছিল এক নার্সের বক্তব্য। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই নার্স তাঁর মোবাইলে ওই রাতের ‘উল্লেখযোগ্য’ কিছু ঘটনা রেকর্ড করা রয়েছে, যে বয়ান গুরুত্ব দেয়নি সীমার নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।

    যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন

    অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বারবার দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। আদালতের তরফ থেকেও সেই রাতে ডিনারে কারা উপস্থিত ছিলেন ও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাকে সরিয়ে তদন্তভার দেওয়া হয় সন্দীপনী গর্গকে। দিন কয়েক আগে তদন্তের জাল গোটাতে দিল্লি থেকে ৪ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল পৌঁছয় হাসপাতালে। জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে সিনিয়র আধিকারিকদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, সেই জায়গাই ফের খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। আদালতে নির্যাতিতার মায়ের আবদনের ভিত্তিতেই এই সিবিআইয়ের দলকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হচ্ছে।

    কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি

    নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। তাতে গুরুত্ব দেয়নি সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আবার ঘটনার দিন ওই বিল্ডিংয়ে থাকা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল। চলতি এবং আগামী সপ্তাহ জুড়ে ওই কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতর থেকেও পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানেও এই কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত আদালত

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না, যা যা করা দরকার, সিবিআই তা করছে না। এই মামলায় সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলটি গত ৬ অগাস্ট আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত সময় চায়। তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথম শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) গ্রেফতার করে। পরে ওই মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। তারা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করে এবং শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই বা পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল সিবিআই।

  • RG Kar Incident: আরজি কর মামলায় দায়ের নতুন এফআইআর, তথ্যপ্রমাণ লোপাটে নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের নামে অভিযোগ

    RG Kar Incident: আরজি কর মামলায় দায়ের নতুন এফআইআর, তথ্যপ্রমাণ লোপাটে নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের নামে অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৃতদেহ কেন দ্রুত দাহ করা হয়েছিল? কেন নিহতের পরিবারের সই ছাড়াই দাহ করা হয়েছিল? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর আর জি কর কাণ্ডে (RG Kar Incident) এবার নতুন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। রাজ্যে সরকার বদলের পরই আরজি করের ফাইলস (RG Kar Files) নতুন করে খুলেছে। তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিবিআইও (CBI)। গত রবিবার চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। নয়া এফআইআরে (RG Kar New FIR) অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এফআইআর-এ কাদের নাম

    নতুন এফআইআর-এ নাম রয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্য়ায়ের। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বেআইনি ভাবে বাধাদান, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। তিনি জানান, দাহকার্যের সিরিয়াল ৩ নম্বরে থাকলেও রাতারাতি তা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। এই গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডের পেছনে সরাসরি প্রভাবশালী যোগের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

    রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠিত হবে, যা সম্পূর্ণ নতুন একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের শীর্ষ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিবিআই এবং আদালতের নিজস্ব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই পৃথক তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত অস্পষ্ট প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই খুলেছে ‘আরজি কর ফাইলস’ (RG Kar Incident)। সাসপেন্ড করা হয়েছিল তদন্তে যুক্ত থাকা তিন আইপিএস আধিকারিককে। এবার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড অবস্থায় থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)।

    কী ঘটেছিল , নতুন করে তদন্ত শুরু

    গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

    অপরাধের পর তথ্য আড়াল করা, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা এবং হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’-কে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছিল। এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তদন্তে গাফিলতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার। বিশেষ করে সেমিনার হলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল কি না, তা নিয়ে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অপরাধের পরবর্তী সময়ে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’ এবং রাতদখলের রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

  • ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (RG Kar Case) আর্থিক দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেল ইডি (ED)। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তারা জানায়, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ জুলাই।

    মিলল সরকারের অনুমোদন 

    এর আগে ইডি এই মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করেছিল। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণে এত দিন বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন হাতে আসায় এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ হল চওড়া।তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এটিই ইডির (ED) প্রথম চার্জশিট। এর আগে এই একই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই-ও।

    প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ!

    ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিকল্পিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছিল। সেই অর্থ নগদে তোলা বা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উৎস এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সন্দীপের বড় ভূমিকা রয়েছে (RG Kar Case) বলে দাবি ইডির। সরকারি অনুমোদন মেলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও (ED) দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG kar Case) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্যাতিতার পরিবারের তোলা অভিযোগ ও দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে (CBI) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই লক্ষ্যে সিবিআই-এর একজন জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরুর নির্দেশ

    আদালত জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের তদন্ত শুরু করবে সিট। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ এবং প্রমান লোপাট সহ সব বিষয়ের তদন্ত হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের বীভৎসতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুন, বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নবগঠিত বিশেষ দলটিকে আদালতে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিশদ রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

    পুনরায় পরিদর্শনে যাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা (RG kar Case)

    আদালতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

    • ঘটনাস্থল পুনঃপরিদর্শন: সিবিআই-এর (CBI) বিশেষ তদন্তকারী দলকে পুনরায় আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনাস্থলে যেতে হবে।
    • পরিবারের সঙ্গে সংযোগ: নির্যাতিতার (RG kar Case) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও আশঙ্কার জায়গাগুলি বিশদভাবে শুনতে হবে।
    • তথ্য পুনর্মূল্যায়ন: মামলার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী কেস ডায়েরি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

    উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে (RG kar Case) ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং আলোকচিত্রসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল। গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয় যে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) সমস্ত নথিসহ সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

    মঙ্গলবার শুনানির সময় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সিবিআই-কে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে—তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা অকুস্থলে প্রবেশ করছে? এর পরেই সেমিনার রুমসহ আরজি কর হাসপাতালের সংবেদনশীল অংশগুলি অবিলম্বে সিল করার জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    মামলার প্রেক্ষাপট

    প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট তারিখে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG kar Case) কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। তবে মূল তদন্তের কিছু ফাঁকফোকর ও অন্যান্য রহস্য উদঘাটনের দাবি তুলে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

    আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের তিনটি পৃথক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি থেকে একে একে সরে দাঁড়ায়। গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির ওপর জোর দিয়ে এটি ছেড়ে দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত আবেদনের শুনানি একটি নতুন ডিভিশন বেঞ্চে হবে। সেই নির্দেশানুসারেই বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন (CBI) রয়েছে।

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Case) সংঘটিত নৃশংস অপরাধের তদন্তে প্রমাণকে সুরক্ষিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রমাণের সপক্ষে থাকা সমস্ত উপাদান যেন কোনোভাবেই নষ্ট বা বিকৃত না হতে পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে (CBI) অবিলম্বে ঘটনাস্থল সম্পূর্ণভাবে সিল (Seal) করতে হবে।

    চিকিৎসক পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং এই বর্বরোচিত ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তকে নিশ্চিত করতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নির্দেশনাসমূহ (RG Kar Case)

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানির সময় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে।

    ঘটনাস্থল সংরক্ষণ

    আরজি করে (RG Kar Case) যে নির্দিষ্ট সেমিনার রুম বা প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই আধিকারিকরা ছাড়া আর কেউ যেন সেই চত্বরে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেই।

    তথ্যপ্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা নিরসন

    ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে হাসপাতালের (RG Kar Case) পরিকাঠামো পরিবর্তন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, আদালতের (Calcutta High Court) এই কঠোর নির্দেশের ফলে তার ওপর আইনি সিলমোহর পড়ল। আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, তা দেখাই এখন প্রথম কাজ।

    তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন (Status Report) আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিকতা

    আর জি করের (RG Kar Case) এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এই প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ এবং সিবিআই-কে ঘটনাস্থল সুরক্ষার কড়া নির্দেশ আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই আইনি পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথামতোই আবার খুলল আরজি কর ফাইল (RG Kar Case)। কাজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর কাণ্ডে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসার। শুক্রবার নবান্ন থেকে শুভেন্দু জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল ফের খোলা হবে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা, “মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। পুলিশ অফিসাররা তিলোত্তমার মা-কে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। নির্যাতিতার পরিবারকে এইভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।” শুভেন্দু আরও বলছেন, “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও আমাদের অফিসাররা তাদের বক্তব্য নিয়ে আসবে।” এখানেই না থেমে এবার একেবারে সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। সেই সময়ের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”

    যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না

    তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য। বিচার খুব তাড়াতাড়ি আসবে। গোটা বিশ্বের মানুষ এর বিচার চায়। সবার চাওয়া কখনও বিফলে যাবে না। বিচার আসবেই।” মেয়ের স্মৃতিচারণা করতে করতে ফের একবার গলা ধরে আসে তাঁর। বলেন, “যেদিন রাত দখল হয়েছিল সেদিন সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ শুধু উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলেছিল। সেদিন টিভিতে আমাকে দেখানো হয়েছিল আমি তখন মেয়ের ছবিটা জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম তোর যে এত শক্তি, যে তুই সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলি।”

    কে কোন দায়িত্বে ছিল 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অ্যাজ আ হোম মিনিস্টার, আমি চার্জ নেওয়ার পর মাননীয় চিফ সেক্রেটারি এবং মাননীয় হোম সেক্রেটারির কাছে লিখিত চেয়েছিলাম আরজি করের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু বিষয় নিয়ে। কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা সেটা হ্যান্ডল করেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আপাতত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময়ে যা ঘটেছিল, তা মিসহ্যান্ডেলিং করা, যথাযথ ভাবে এফআইআর করে পদক্ষেপ করার মতো প্রাথমিক যে বিষয়গুলো ছিল, সেখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল দু’জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।’’ ২০২৪ সালের অগাস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় আইপিএস বিনীত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। অভিষেক গুপ্ত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে। আইপিএস ইন্দিরা তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

LinkedIn
Share