Tag: rg kar incident

  • RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। ৮ এবং ৯ অগাস্টের রাতে আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Incident) যে ভবনে নির্যাতিতা কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সকল কর্মী, চিকিৎসক, নিরাপত্তা কর্মীকে তলব করল সিবিআই। সেই রাতের কোনও ঘটনা আগের বার তদন্তকারীদের কোনও ভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতেই আবার জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে, জেলবন্দি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও প্রয়োজনে জেরা করতে পারেন তদন্তকারীরা।

    নতুন করে এসআইটি তৈরি

    আর জি কর কাণ্ডে নতুন করে এসআইটি তৈরি হয়েছে। অপরাধস্থল, আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকরা। আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ মোট সাতজন ও নিরাপত্তারক্ষীদের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা ও তদন্তের অনেক দিক নিয়ে নতুন তদন্তকারীরা খুশি নন বলে সূত্রের খবর। তাতেই মামলায় যুক্ত সকলকে ফের জেরা করা হবে বলে খবর। ডাকা হচ্ছে ঘটনার দিন অভয়ার সঙ্গে ডিনার করা বন্ধুদেরও। নিরাপত্তারক্ষী থেকে সেই সময় উপস্থিত থাকা চিকিৎসকদেরও ডাকা হবে বলে জানা যাচ্ছ। ফের খতিয়ে দেখা হবে সিসিটিভি ফুটেজ।

    এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি

    সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল। অভিযোগ করেছিল, এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভিত্তিতেই আবার শুরু হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের বারে আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। তাঁরা ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক-সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ঘটনার রাতে ওই বিল্ডিংয়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা হয়। কিন্তু সেই তদন্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ ছিল যে, বেশ কয়েক জন কর্মীর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র ছিল, যেগুলিকে গুরুত্ব দেয়নি সিবিআইয়ের সেই সময়কার তদন্তকারীর দল। তাঁদের দাবি, ওই বিল্ডিংয়ের যত জনের বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য’ ছিল এক নার্সের বক্তব্য। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই নার্স তাঁর মোবাইলে ওই রাতের ‘উল্লেখযোগ্য’ কিছু ঘটনা রেকর্ড করা রয়েছে, যে বয়ান গুরুত্ব দেয়নি সীমার নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।

    যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন

    অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বারবার দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। আদালতের তরফ থেকেও সেই রাতে ডিনারে কারা উপস্থিত ছিলেন ও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাকে সরিয়ে তদন্তভার দেওয়া হয় সন্দীপনী গর্গকে। দিন কয়েক আগে তদন্তের জাল গোটাতে দিল্লি থেকে ৪ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল পৌঁছয় হাসপাতালে। জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে সিনিয়র আধিকারিকদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, সেই জায়গাই ফের খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। আদালতে নির্যাতিতার মায়ের আবদনের ভিত্তিতেই এই সিবিআইয়ের দলকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হচ্ছে।

    কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি

    নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। তাতে গুরুত্ব দেয়নি সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আবার ঘটনার দিন ওই বিল্ডিংয়ে থাকা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল। চলতি এবং আগামী সপ্তাহ জুড়ে ওই কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতর থেকেও পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানেও এই কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত আদালত

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না, যা যা করা দরকার, সিবিআই তা করছে না। এই মামলায় সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলটি গত ৬ অগাস্ট আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত সময় চায়। তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথম শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) গ্রেফতার করে। পরে ওই মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। তারা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করে এবং শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই বা পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল সিবিআই।

  • RG Kar Incident: আরজি কর মামলায় দায়ের নতুন এফআইআর, তথ্যপ্রমাণ লোপাটে নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের নামে অভিযোগ

    RG Kar Incident: আরজি কর মামলায় দায়ের নতুন এফআইআর, তথ্যপ্রমাণ লোপাটে নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের নামে অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৃতদেহ কেন দ্রুত দাহ করা হয়েছিল? কেন নিহতের পরিবারের সই ছাড়াই দাহ করা হয়েছিল? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর আর জি কর কাণ্ডে (RG Kar Incident) এবার নতুন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। রাজ্যে সরকার বদলের পরই আরজি করের ফাইলস (RG Kar Files) নতুন করে খুলেছে। তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিবিআইও (CBI)। গত রবিবার চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। নয়া এফআইআরে (RG Kar New FIR) অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এফআইআর-এ কাদের নাম

    নতুন এফআইআর-এ নাম রয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্য়ায়ের। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বেআইনি ভাবে বাধাদান, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। তিনি জানান, দাহকার্যের সিরিয়াল ৩ নম্বরে থাকলেও রাতারাতি তা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। এই গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডের পেছনে সরাসরি প্রভাবশালী যোগের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

    রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠিত হবে, যা সম্পূর্ণ নতুন একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের শীর্ষ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিবিআই এবং আদালতের নিজস্ব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই পৃথক তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত অস্পষ্ট প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।

  • RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই খুলেছে ‘আরজি কর ফাইলস’ (RG Kar Incident)। সাসপেন্ড করা হয়েছিল তদন্তে যুক্ত থাকা তিন আইপিএস আধিকারিককে। এবার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড অবস্থায় থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)।

    কী ঘটেছিল , নতুন করে তদন্ত শুরু

    গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

    অপরাধের পর তথ্য আড়াল করা, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা এবং হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’-কে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছিল। এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তদন্তে গাফিলতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার। বিশেষ করে সেমিনার হলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল কি না, তা নিয়ে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অপরাধের পরবর্তী সময়ে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’ এবং রাতদখলের রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

  • Kasba Gangrape: গণধর্ষণকাণ্ডে শহরে বিজেপির তথ্যানুসন্ধানী দল, বুধে কসবা অভিযানের ডাক শুভেন্দুর

    Kasba Gangrape: গণধর্ষণকাণ্ডে শহরে বিজেপির তথ্যানুসন্ধানী দল, বুধে কসবা অভিযানের ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কসবা (Kasba Gangrape) সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা চার সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধানী দল গঠন করেছেন। এই দল সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করবে। সোমবারই সেই দলের সদস্যরা একে একে কলকাতায় পৌঁছতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে শহরে এসে গিয়েছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান সাংসদ বিপ্লব দেব। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিং ও মীনাক্ষী লেখী এবং রাজ্যসভার সাংসদ মননকুমার মিশ্র। তাঁদের স্বাগত জানানোর দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অন্যদিকে গণধর্ষণকাণ্ডে আগামী ২ জুলাই কসবা অভিযানের ডাক দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

    পুলিশকে তোপ শুভেন্দুর (Kasba Gangrape)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই দল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ খবর করবেন। মমতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে নির্যাতিতা (Kasba Gangrape) ও তাঁর পরিবারকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছে দিয়েছে। এনিয়ে কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নিশানা করে নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “নির্যাতিতাকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন? বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দিচ্ছেন না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ২ জুলাই বুধবার যুব মোর্চার নেতৃত্বে ‘কসবা অভিযান’-এর ডাক শুভেন্দুর

    অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২ জুলাই বুধবার যুব মোর্চার নেতৃত্বে ‘কসবা অভিযান’-এর ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এনিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “যদি পুলিশ অনুমতি না দেয়, তবে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। আমরা কসবায় ঢুকবই, হাজার হাজার মানুষ নিয়ে যাবো।” তিনি আরও বলেন, “কোনও শক্তি আমাদের আটকাতে পারবে না। যেমন মহেশতলা বা ধুলিয়ানে ঢুকেছি, এখানেও ঢুকব। সত্য প্রকাশ করেই ছাড়ব।” কসবা-কাণ্ডের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ ও ধরনা।

    গণধর্ষণকাণ্ডে প্রথম থেকেই রাস্তায় বিজেপি (BJP)

    প্রসঙ্গত কসবাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই রাস্তায় নেমেছে বিজেপি। শনিবার রাতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা কসবাকাণ্ডের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেফতার হন। গড়িয়াহাটে পুলিশের সঙ্গে চলে ব্যাপক ধস্তাধস্তি। এই প্রেক্ষিতে রবিবারই, কসবা কাণ্ডের প্রতিবাদে মশাল মিছিল সংগঠিত করে বিজেপি। গোলপার্ক থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত এই মিছিলে দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী অংশ নেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    রাজ্যজুড়ে ‘কন্যাসুরক্ষা যাত্রা’র ডাক বিরোধী দলনেতার

    কসবা ল’ কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ অন্য কোনও ইস্যুতে না গিয়ে কেবল কসবা-কাণ্ডকে ঘিরেই চলবে তাদের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজ্যজুড়ে এই ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনে গতি আনতেই এই কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সোমবার সকালেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আইন কলেজের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে তিনি একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করছেন, ‘কন্যাসুরক্ষা যাত্রা’। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার বিকেলে তিনি গোলপার্ক থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। এনিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আর বাড়িতে বসে থাকলে হবে না। পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি, আরজি কর এবং কসবার ঘটনার প্রতিবাদে কন্যাসুরক্ষা যাত্রা চলতে থাকবে।”

    ৯ অগাস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিতে অভয়ার বাবা-মাকে আর্জি শুভেন্দুর

    উল্লেখযোগ্যভাবে, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রীর উপর নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে গত বছর ‘ছাত্র সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে নবান্ন অভিযান সংগঠিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন ফের বলেন, “আরজি করের নির্যাতিতার বাড়িতে আমি যাব কিছু দিন বাদে। তখন নির্যাতিতার বাবা-মাকে বলব, আগামী ৯ অগাস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিন। সব নাগরিক সেখানে সামিল হবেন। রাজনীতি সরিয়ে রেখে আমিও যোগ দেব।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। কসবাকাণ্ডে এমনিতেই দলীয় যোগ উঠে আসায় বেশ কোণঠাসা তৃণমূল। এই আবহে মমতা সরকারকে চাপে ফেলতে এই ইস্যুতে লাগাতার কর্মসূচি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির (BJP)।

    আইনজীবীদের জনস্বার্থ মামলা

    এদিকে, সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে কসবা কাণ্ডে (Kasba Gangrape) দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। তিন আইনজীবী, সৌম্যশুভ্র রায়, সায়ন দে এবং বিজয় কুমার সিংহল, বিচারপতি সৌমেন সেনের এজলাসে মামলার অনুমতি চান। তাঁরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মূলত দুইটি বিষয়ে—এক, ঘটনার তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখা; দুই, রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিচারপতি সেন তাঁদের মামলার আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LinkedIn
Share