মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বিপ্লবী নায়ক। কাঁপন ধরিয়ে ছিলেন ব্রিটিশ শাসকের বুকে। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে সেই তিনিই হয়ে উঠলেন যোগী ও দার্শনিক। আধ্যাত্মিকতার আলো জ্বেলে দিলেন অসংখ্য মানুষের প্রাণে। প্রথম জীবনের দুর্ধর্ষ বিপ্লবী অরিবিন্দ ঘোষ (Aurobindo Ghosh), পরে তিনিই ঋষি অরবিন্দ। ১৫ আগস্ট (15 August), ভারতের স্বাধীনতা দিবস তাঁরও জন্মতারিখ। থিয়েটার রোডের মামার বাড়িতে (এখন অরবিন্দ ভবন) অরবিন্দর জন্ম ১৮৭২ সালের ১৫ আগস্ট। তা হলেও, জেলের অ্যাডমিশন রেজিস্টারে শ্রীঅরবিন্দর ঠিকানা ঘোষপাড়া, কোন্নগর, হুগলি। বিংশ শতকের শুরুতেই বিপ্লবী নেতা অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলা সহ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ওঠে বিপ্লববাদের ঢেউ।
আগামী প্রজন্মের প্রেরণা ঋষি অরবিন্দ
স্বাধীনতা সংগ্রামী দার্শনিক ঋষি অরবিন্দের ১৫৩-তম জন্ম বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় আজ পালিত হচ্ছে। দেশকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে অরবিন্দ ঘোষ যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। বন্দেমাতরম সংবাদপত্র সম্পাদনের পাশাপাশি বহু জাতীয়তাবাদী পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার কাজ করেছেন তিনি। আলিপুর বোমা মামলায় এক বছর জেল বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান আধ্যাত্মিক জীবনে। হয়ে ওঠেন ঋষি অরবিন্দ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ঋষি অরবিন্দের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাহ (Amit Shah on Rishi Aurobindo) বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঋষি অরবিন্দের চেতনা এবং আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত ও আলোকিত করে।
বিপ্লবী অরবিন্দ, আলিপুর বোমা মামলা
অরবিন্দের বাবা ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণধন ঘোষ। মা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। দার্জিলিংয়ের ইংরেজি স্কুলে লেখাপড়ার সূত্রপাত তাঁর। এরপর পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে থাকার সময়ই ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারতে ফেরার পর। ১৮৯০-তে কংগ্রেসের নরমপন্থী আন্দোলের কট্টর সমালোচনার মধ্য দিয়ে। সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদী মতবাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভারতীয় যুব সমাজকে নিজের লেখা, বক্তব্যের মাধ্যমে বিপ্লবী মতাদর্শে দীক্ষিত করার কাজ করেছেন তিনি। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনে উজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তিনি দেশের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন তিনি। দেশমাতৃকার মুক্তিই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অরবিন্দ জাতীয়তাবাদকে ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ততদিনে বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গীতার নিষ্কাম কর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ১৯০৮-এ আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। ১৯০৯ সালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান অরবিন্দ।
জেলের অভ্যন্তরেই নারায়ণ দর্শন
জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক ভাবাদর্শে আধ্যাত্মিকার সংস্পর্শ ঘটে। তাঁর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। আধ্যাত্মিকতার টানে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি যেন এক অন্য মানুষ! ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চলে যান সুদূর পণ্ডিচেরিতে। গোটা বিশ্বের সামনে আর্বিভূত হন এক মহান ভারতীয় যোগী ও দার্শনিক। । ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম। ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। ভারতের স্বাধীনতার বয়স তখন আড়াই বছর।
