Tag: River Erosion Control

  • Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার যৌথভাবে কাজ করার পথে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে গঙ্গার ভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করবেন সাধারণ মানুষ। তবে নদীভাঙন পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের গতি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ড্রেজিংয়ে জোর, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গঙ্গা অববাহিকার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদী এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা নদীখাত থেকে পলি তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নদীর গতিপথ ও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চ্যানেল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ঝাড়খণ্ড সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল।

    সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড সীমানায় ড্রেজিং ও চ্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে আগে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ফরাক্কা ব্যারেজের গেট পরিবর্তন এবং নদীর পাড় বাঁধানোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    গঙ্গা ও ফুলহারের দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার, বাড়ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসা। প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে গঙ্গা তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ছ’কিলোমিটার সরে এসেছে। গত ১৫-২০ বছরে ফুলহার নদীর গতিপথও প্রায় দু’কিলোমিটার সরে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ মিটারে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছ’-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এর আগে আরও কম সময়ের মধ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করা না হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেও দুই নদীর মিলিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    দুই নদী মিশে গেলে তার প্রভাব শুধু মালদার নদীতীরবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আশঙ্কা, এর ফলে ফরাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিপদের মুখে পড়তে পারে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরও। পাশাপাশি মালদহ শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে।

    রতুয়া-মানিকচক বাঁচাতে ১৫৫০ কোটির প্রকল্প

    এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা মোকাবিলায় মালদার রতুয়া ও মানিকচক এলাকার নদীভাঙন রোধে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত প্রকল্পের প্রস্তাব আগেই কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে নবান্ন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের আর্থিক অংশ প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে।

    প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে আইআইটি রুরকি এবং আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৪৫ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ দ্রুত শুরু করা জরুরি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পলি জমা এবং জলপ্রবাহের চরিত্র বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

    তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ কবে থেকে পুরোদমে শুরু হবে এবং কোন পর্যায়ে কতটা কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    ‘এক বছরের মধ্যে সুফল পেতে শুরু করবেন’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

    দিল্লির বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করবেন এক বছর পর থেকে। এখন ছ’মাস হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে চোখে দেখতে পাবেন। আর পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা দেখতে পাবেন।”

    এরপর রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আবার দ্বিতীয় টার্মে যখন বিজেপি আসবে, তখন বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গোটা ভারতবর্ষের জিডিপি থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-সহ সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে, যেটা স্বাধীনতার আগে ছিল।”

    সব মিলিয়ে, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙন রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদ, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘোষিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share