Tag: RSS Shakha Expansion

  • RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা আরও জোরদার করতে ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংঘ সূত্রের খবর, বর্ধমানে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। রাজ্যে সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আগামী এক (Mohan Bhagwat) বছরের কর্মসূচি নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিয়েছে আরএসএস। সেই আবহেই সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতদিন রাজ্যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চললেও এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোথায় সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে সংগঠনের অগ্রাধিকার কী হবে, ভাগবতের বৈঠকে সেই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য (RSS)

    আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বর্তমানে বাংলায় তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কাঠামো ভেঙে পাঁচটি সম্ভাগে সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের কথা সামনে এসেছে। চার-পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি করে সাংগঠনিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সংঘ সূত্রের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে প্রান্তের সংখ্যা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১১০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলার সাংগঠনিক বিন্যাসে।

    কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে শাখা বিস্তারেও (RSS) বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংঘ। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে স্বয়ংসেবক হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের পরিধি বাড়াতে সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে চাইছে আরএসএস। সেই লক্ষ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, ২ ও ৩ অক্টোবর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

    কলকাতায় নতুন পরিকাঠামো

    এদিকে, বাংলায় সংগঠনের কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে আরএসএস। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল। নতুন ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ, সংঘের পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পরিকাঠামো।

    এতদিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই বাংলায় সংঘের মূল সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। নতুন ভবনটি অতিরিক্ত সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও থাকার ক্ষেত্রেও এই ভবন কাজে আসবে (Mohan Bhagwat) বলে খবর।

    ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবতের (RSS) সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর করা, দায়িত্ব বণ্টন, শাখা বিস্তার এবং আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ওই সফরে। রাজ্যের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্বয়ংসেবকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • RSS: হিন্দুত্ব শুধু ভাবনা নয়, এটা জীবনপদ্ধতি, বললেন দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    RSS: হিন্দুত্ব শুধু ভাবনা নয়, এটা জীবনপদ্ধতি, বললেন দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) বিস্তার মানেই জাতীয় ভাবনার বিস্তার—এমনটাই মন্তব্য করলেন সংঘের অখিল ভারতীয় সর কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে। পানিপথে তিন দিনব্যাপী অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে সংঘের সাংগঠনিক বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায় ছয় হাজার নতুন শাখা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে শাখার সংখ্যা ৮৮ হাজারেরও বেশি হয়েছে। শাখা পরিচালিত হওয়া স্থানের সংখ্যাও বেড়ে ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক মিলন ও মণ্ডলীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ” হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি”।

    আন্দামান থেকে অরুণাচল বেড়েছে সংগঠন

    দত্তাত্রেয় হোসাবালে (Dattatreya Hosabale) বলেন, “সংগঠনের (RSS) বিস্তার শুধু সংখ্যায় নয়, ভৌগোলিক ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্দামান, অরুণাচল প্রদেশ, লেহ এবং দূরবর্তী আদিবাসী এলাকাতেও এখন সংঘের শাখা চলছে।” সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলেও তিনি জানান। আন্দামানে নয়টি দ্বীপ থেকে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ একটি হিন্দু সম্মেলনে অংশ নেন। একইভাবে কম জনঘনত্বের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে ২১টি হিন্দু সম্মেলনে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দেন।

    হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি

    তিনি (Dattatreya Hosabale) আরও বলেন, সংগঠনের বিস্তারের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সংঘ (RSS)। “পঞ্চ পরিবর্তন” ধারণার মাধ্যমে সামাজিক মান ও মূল্যবোধ উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ভারতীয়তা বা হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি। হোসাবালে জানান, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে মহান ব্যক্তিত্বদের অবদানকে সম্মান জানানো উচিত। সেই ভাবনা থেকেই ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর উদ্‌যাপন করা হয়েছে। আগামী বছরে সন্ত রবিদাসের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    গো-সেবা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা

    তিনি জানান, আগামী বছরে সংঘের (RSS) পক্ষ থেকে মোট ৯৬টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হবে, যার মধ্যে ১১টি আঞ্চলিক এবং একটি নাগপুরে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে গো-সেবা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নাগরিকদের বাড়ির ছাদে সবজি চাষ এবং দেশি গরুর গোবর থেকে তৈরি সার ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহার কমানো ও জল সংরক্ষণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ‘সবুজ বাড়ি’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান ৪৬টি প্রান্তের পরিবর্তে ছোট ইউনিট ‘সম্ভাগ’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সম্ভাগের সংখ্যা ৮০-এর বেশি হতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে হোসাবালে বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের কেবল জাতপাতের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসাও করেন এবং বলেন, সংঘ বিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে।

    স্বয়ংসেবক কারা?

    তিনি আরও জানান, সংঘ (RSS) কোনও সম্প্রদায় বা উপাসনা পদ্ধতির বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার সংঘ প্রতিষ্ঠার সময় এমনই ভাবনা পোষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এম এস গোলওয়ালকরও বলেন, সব মানুষের পূর্বপুরুষ এক এবং উপাসনার পদ্ধতির ভিন্নতা বিভেদ সৃষ্টি করে না। তৃতীয় সরসংঘচালক বালাসাহেব দেওরসও মত দেন, যারা ভারতকে মাতৃভূমি হিসেবে মানেন এবং ভারতীয়তার চেতনায় জীবনযাপন করেন, তারাই হিন্দু। দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেন, সমাজের কল্যাণে যে কেউ কাজ করলে তাকে সংঘের স্বয়ংসেবক হিসেবেই দেখা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংঘের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও তিনি জানান। তিনি জানান, গুরু তেগবাহাদুরের ৩৫০তম শহিদ দিবস উপলক্ষে সারা দেশে দুই হাজারের বেশি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।

LinkedIn
Share