Tag: RSS

RSS

  • Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: NEET ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে এবার সরব হলেন আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar)। ‘‘এই আন্দোলনের পিছনে দেশীয় ও বিদেশি- উভয় ধরনের শক্তির মদত রয়েছে, এই শক্তিগুলি চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত দেশে পরিণত হোক।’’ বিস্ফোরক অভিযোগ প্রবীণ নেতার।

    নিটকে হাতিয়ার করে রাজনীতি

    আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar) বলেন, ‘‘প্রথমে বিরোধী দলগুলি নিট পরীক্ষার অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলেছিল। কিন্তু পরে তারা মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা শুরু করে। দেশে ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।’’

    ‘ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা’

    আরএসএসের (RSS) এই প্রবীণ নেতার (Indresh Kumar) অভিযোগ, দেশের ভিতরে ও বাইরে এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতের অগ্রগতি চায় না। যুব সমাজের বোঝা উচিত, এই আন্দোলনের পিছনে এমন কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি রয়েছে, যারা চায় না ভারত উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি হয়ে উঠুক। বরং তারা ভারতের ক্ষতি করতে চায়।

    যুব সমাজের প্রতি বার্তা

    আন্দোলনরত যুবকদের উদ্দেশে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান ইন্দ্রেশ কুমারের (Indresh Kumar)। তিনি বলেন, ‘‘দেশের উন্নয়নের কাজে অংশ নেওয়াই হওয়া উচিত যুব সমাজের লক্ষ্য। যদি ভালো কিছু করতে না পারেন, অন্তত ক্ষতি করবেন না। অন্য কেউ ভালো কাজ করলে তাকে নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। এ ধরনের মানসিকতা দুর্ভাগ্যজনক। আজ ভারত উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে উঠছে। সেই অগ্রগতির পথে যুব সমাজের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।’’

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

    যুবকদের ভগত সিং, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনায়ক দামোদর সাভারকর, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো জাতীয় নেতাদের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান আরএসএসের (RSS) প্রবীণ এই নেতা (Indresh Kumar)।

    সরকারের বার্তা: দ্রুত বিচার হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে প্রতিদিন শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং পরীক্ষার্থীরা সময়মতো ন্যায়বিচার পাবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, অযথা রাজনৈতিক সংঘাত না বাড়িয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।

  • ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভকে ঘিরে ছাত্র ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ঘটনায় জড়িত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এবিভিপি (ABVP at CJP Protest) তাদের বিবৃতিতে জানায়, নিট ইউজি (NEET-UG) এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে তারা সমর্থন করে। তবে যন্তর মন্তরে যে বিশৃঙ্খলা, জনজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, কিছু “অসামাজিক” এবং “রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী” গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    এবিভিপির দাবি

    সংগঠনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি সংলাপ, সহমর্মিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি, অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল?

    গত ২০ জুলাই নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে সিজেপির (ABVP at CJP Protest) ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ হাজার হাজার ছাত্র অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কিছু ছাত্রছাত্রীকে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ হাইকোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছোড়ে। পুলিশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়। বর্তমানে সিজেপির আন্দোলন এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিট ইউজি (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

  • Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসকে (RSS) “সভ্যতাগত শক্তি” বলে উল্লেখ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি বলেন, “এই সংগঠনের অস্তিত্ব বা কাজের মূল্যায়নের জন্য কোনও সরকারি স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন হয় না।” নয়াদিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি ভবনে আরএসএসের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আরএসএস অ্যাট ১০০: আ সেঞ্চুরি অব সার্ভিস, ইউনিটি অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস’ বইটির আবরণ উন্মোচন করেন রাজনাথ। সেখানেই তিনি জানান, আরএসএসের প্রত্যেক সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা করেছেন এবং সংগঠনটি বরাবরই “দেশ সবার আগে” এই আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করেছে। বইটির লেখক শ্যাম জাজু ও অনুপম ত্রিবেদী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন, দিল্লি বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্ত, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের সভাপতি রামবাহাদুর রাই, আরএসএসের প্রান্ত সংঘচালক পবন জিন্দল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান (Rajnath Singh)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, আরএসএসের প্রতিটি সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটি সব সময় “দেশ সবার আগে, সর্বদা সবার আগে” এই ভাবনা অনুসরণ করেছে। সেই কারণেই আজ আরএসএস বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার আরএসএসের নিবন্ধন নিয়ে করা মন্তব্যেরও জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, “এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন গঠনের অধিকার দিয়েছে।” রাজনাথ বলেন, “একজন মায়ের ভালোবাসার জন্য কোনও লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। একজন গুরুর দেওয়া মূল্যবোধ কোনও সরকারি সিলমোহরের ওপর নির্ভর করে না। মা গঙ্গার প্রবাহিত হওয়ার জন্য কোনও অনুমতির দরকার হয় না। সূর্যের আলো ছড়াতে কোনও নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। ঠিক তেমনই আরএসএস (RSS) একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।”

    “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”

    তিনি বলেন, “বিশ্বে এমন খুব কম সংগঠনই রয়েছে, যারা এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় পরিসরে কাজ করেও কখনও ভাঙনের মুখে পড়েনি।” তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে সংগঠনের নেতৃত্বের গুণমান এবং সেই আদর্শ, যার মূল বক্তব্য হল “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”। তিনি বলেন, “আরএসএস কখনও নিজেদের কাজের প্রচার করে না। সংগঠনের অন্যতম প্রধান নীতি হল খ্যাতি বা প্রচারের প্রতি অনাসক্ত থাকা।” আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সংগঠনটি এই উপলক্ষকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে না দেখে আত্মসমালোচনা এবং আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে আরএসএস পাঁচটি অঙ্গীকার বা ‘পঞ্চ প্রাণ’ গ্রহণ করেছে।” তাঁর বক্তব্য, এই পাঁচটি অঙ্গীকারের লক্ষ্য হল মূল্যবোধসম্পন্ন, সক্ষম, স্বনির্ভর, পরিবেশ-সচেতন এবং কর্তব্যপরায়ণ সমাজ গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, এই পাঁচটি অঙ্গীকারই উন্নত ভারতের পাঁচটি ভিত্তিস্তম্ভ (Rajnath Singh)।

    শক্তিশালী প্রহরী

    রাজনাথ জানান, দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আরএসএসের ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই সংগঠন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে মহারাজা হরি সিংকে বোঝানোর জন্য এমএস গোলওয়ালকরকে পাঠানো হয়েছিল। আবার ১৯৫৪ সালে দাদরা ও নগর হাভেলি মুক্ত করার আন্দোলনেও আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গোয়া মুক্তি আন্দোলনেও স্বয়ংসেবকদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আরএসএসকে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার এক শক্তিশালী প্রহরী বলেও (RSS) অভিহিত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৯৫০ সালে সরকার যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করেছিল, তখন আরএসএস তার বিরোধিতা করেছিল।” রাজনাথ আরও বলেন, “১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আরএসএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যে কোনও ব্যক্তি যদি একবার আরএসএসের একটি শাখায় গিয়ে তাদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তাহলে তিনি সংগঠনটির অনুরাগী হয়ে উঠবেন।”

    সঙ্কটের সময় সবার আগে

    ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, “১৯৩২ সালে সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস অ্যান্ড বেরারের সরকার আরএসএসকে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই সময় প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্শি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছিলেন, ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনও সম্প্রদায়ের বিরোধী হতে পারে না (Rajnath Singh)।” বামপন্থী প্রচারের কারণে অনেকের মধ্যে আরএসএস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, এই বই পড়লে সেই ভুল ধারণা দূর হবে এবং মানুষ সংগঠনটিকে নতুনভাবে বুঝতে পারবেন (RSS)। তিনি বলেন, “১৯২৫ সালে ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার যে বীজ রোপণ করেছিলেন, আজ তা বিশাল বটগাছে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি কোনওটি হয়, তবে সেটি আরএসএস। গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি সংস্কৃতি, ধর্ম এবং ভারতীয় পরিচয় রক্ষায় কাজ করে চলেছে। শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বয়ংসেবকেরা দেশের যে কোনও সঙ্কটের সময় সবার আগে এগিয়ে এসেছেন।”

    উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপরাষ্ট্রপতিও। তিনি জানান, আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত বোধ করছেন। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “আরএসএসের যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে সংগঠিত স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং নিজের স্বার্থের আগে সমাজসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূল্য কতটা গভীর।” তিনি আরও বলেন, “আরএসএস ধারাবাহিকভাবে চরিত্র গঠন এবং নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে (Rajnath Singh)।” এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আরএসএসের ইতিহাস, সংগঠনের আদর্শ, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া অঙ্গীকার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবির কথা তুলে ধরা হয় (RSS)। পাশাপাশি সংগঠনটিকে দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত করে তার ভূমিকার প্রশংসাও (Rajnath Singh) করেন দুই শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী।

     

  • RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শেষ হল আরএসএসের (RSS) তিন দিনব্যাপী সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক (Prant Pracharak Baithak)। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবালে। শুক্রবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে মোট ২২৬ জন পদাধিকারী অংশ নিয়েছিলেন। সংঘের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের পর দেশের বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। এ বছর দেশজুড়ে মোট ৮৩টি সংঘ শিক্ষা বর্গ এবং ১২টি কার্যকর্তা বিকাশ বর্গের আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ৮৪২ জন স্বয়ংসেবক। শাখা পরিচালনা, সংঘের কর্মপদ্ধতি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার জাগরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের আলোচ্যসূচি (RSS)

    বৈঠকে শাখা স্তরে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক সংখ্যক নতুন শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়নের পাশাপাশি বাকি নির্ধারিত কর্মসূচির পরিকল্পনাও বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে, তাঁদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং পঞ্চস্তরীয় সামাজিক রূপান্তরের উদ্যোগে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের সফরসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির প্রসঙ্গ

    বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত একাধিক বিষয়ও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল। বিশেষ করে জনশুমারিকে ঘিরে তথ্য, জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা থেকে (RSS) উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ, মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সন্ত শিরোমণি রবিদাস মহারাজের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বৈঠকে অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনায় অনিয়মের ঘটনায় উপস্থিত সকলেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তীর্থ ক্ষেত্র ন্যাসের আবেদনের ভিত্তিতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এবং পুলিশের তরফে যে তদন্ত চলছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে (Prant Pracharak Baithak)। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘটনা ঘটবে না, যাতে রামমন্দিরের প্রতি দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্তের গভীর (RSS) বিশ্বাসে টোল পড়ে।

     

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অগাস্টের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো কানাডা (Canada) সফরে যেতে পারেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যাঁরা তাঁর সফরের আয়োজন করছেন, তাঁদের একটি সূত্রের খবর ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে তিনি শুধুমাত্র টরেন্টো সফর করবেন। কানাডা সফরের আগে ভাগবত পাঁচ দিনের জন্য আমেরিকা সফরে যাবেন। সফরের শেষ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। তার পরেই ভাগবত রওনা দেবেন টরন্টোর উদ্দেশে।

    আরএসএস কর্তার সফরসূচি (Mohan Bhagwat)

    টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন আরএসএস কর্তা। পাশাপাশি একাধিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি, তাই আয়োজকদের তরফে কেউই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। কানাডা সফর শেষে ভাগবত যাবেন ব্রিটেন সফরে। আয়োজকদের দাবি, আরএসএসের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলিতে, বিশেষ করে কানাডায়, আরএসএস সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা সংশোধন করাই আরএসএস কর্তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সফরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী। সেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mohan Bhagwat) বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    ভারত-কানাডা সম্পর্ক

    উল্লেখ্য, এটি ভাগবতের প্রথম কানাডা সফর। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শন কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দশকেরও বেশি সময়। এবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।আয়োজকদের একাংশের দাবি, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) আমলে অবনতি ঘটেছিল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তাই আরএসএস কর্তার কানাডা সফরের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। তার (Canada) পরেই উন্নতি হয় ভারত-কানাডা সম্পর্কের। তাই এবার ভাগবতের সফর (Mohan Bhagwat) বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

     

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

  • Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “হেডগেওয়ারের (Amit Shah) ‘নেশন ফার্স্ট’, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বদেশি ভাবনায় গড়ে ওঠা সংগঠিত সমাজের ধারণা আজও ভারতের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।” এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজ্য ড. হেডগেওয়ারজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”

    হেডগেওয়ারের অবদান (Amit Shah)

    হেডগেওয়ারের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জাতি গঠন ও সামাজিক ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তাঁর মতে, হেডগেওয়ার ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র গঠনের। শাহ বলেন, “হেডগেওয়ার এমন একটি সংগঠিত সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যা অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যমুক্ত হবে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে। তাঁর সেই স্বদেশি-ভিত্তিক চিন্তাধারাই বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”।

    কী বললেন শাহ?

    হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের এক অক্ষয় উৎস হল তাঁর জীবন (Amit Shah)।” এদিকে, এদিনই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ইচলকরঞ্জিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এক সময় ভারতে একটি গুলিও তৈরি হত (RSS) না। আজ আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, এবং আত্মনির্ভর ভারতের শক্তি নিয়ে বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি জানান, মোদি সরকারের আমলে আধুনিক এবং আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে (Amit Shah)।

     

  • RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু সমাজের নেতৃত্ব, চিন্তাবিদ, শিল্পোদ্যোগী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীদের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’ (WHC) এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতে। ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মেগা সম্মেলন বসবে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে। বিশ্বমঞ্চে হিন্দু সমাজের জাগরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ২০২৬ সালটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি তথা ‘শতাব্দী বর্ষ’। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ২০২৬ বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের মূল ভাবনা বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— “সমানং ব্রতং সহ চিত্তম” (Shared Commitment: Collective Resolve)। অর্থাৎ, বৈশ্বিক স্তরে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্য, অভিন্ন সঙ্কল্প এবং সম্মিলিত প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

    দায়িত্বে অজয় পিরামল (WHC)

    এবারের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের চেয়ারম্যান (WHC) বা সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা পিরামল গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী অজয় পিরামল। তাঁর সঙ্গে কো-চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শ্রী বিশদ মফাতলাল এবং শ্রী মহেশ ভাগচন্দকা। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই মূল অধিবেশনের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে পৃথক কনফারেন্স বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রগুলি হল:

    • ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম (অর্থনৈতিক মঞ্চ)
    • হিন্দু এডুকেশন কনফারেন্স (শিক্ষা)
    • হিন্দু মিডিয়া কনফারেন্স (গণমাধ্যম)
    • হিন্দু পলিটিক্যাল কনফারেন্স (রাজনীতি)
    • হিন্দু উইমেন কনফারেন্স (মহিলা নেতৃত্ব)
    • হিন্দু ইয়ুথ কনফারেন্স (যুব সমাজ)
    • হিন্দু অর্গানাইজেশনাল কনফারেন্স (প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি)

    বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব

    সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের মুম্বই অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৪,৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শিকাগো এবং ২০২৩ সালে ব্যাংককে এই সম্মেলন হয়। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলিতে সব মিলিয়ে ৬০টি দেশের প্রায় ৬,৫০০ প্রতিনিধি এবং বহু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, আধ্যাত্মিক গুরু ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছিলেন। চার বছর অন্তর আয়োজিত এই মঞ্চটি ‘যথা ধর্মস্ততো জয়ঃ’ অর্থাৎ যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয় আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করে।

    ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে

    সম্মেলনের মূল রূপকার ও চিন্তাবিদ স্বামী বিজ্ঞানানন্দ বলেন, “গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজ (WHC) নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও গ্রহণযোগ্যতা বিপুলভাবে বাড়িয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হতে এবং সনাতন সভ্যতার মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে। আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ উদযাপনের এই ক্ষণটি সমস্ত হিন্দুর জন্য নিজেদের সভ্যতার শেকড়ে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।”

    বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন

    চেয়ারম্যান অজয় পিরামল জানান, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস এমন এক অনন্য মঞ্চ যেখানে সনাতন চিন্তাধারার সঙ্গে বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের মেধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনে এই সম্মেলন অনুঘটকের কাজ করে। ডিসেম্বরের এই মেগা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। সংশ্লিষ্টমহলের মতে, আগামী দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে এই বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) ২০২৬।

  • RSS: “পরিবারই হল সেই পাঠশালা, যেখানে একজন শিশু প্রথম সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার শিক্ষা পায়”, বললেন দত্তাত্রেয় হোসবলে

    RSS: “পরিবারই হল সেই পাঠশালা, যেখানে একজন শিশু প্রথম সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার শিক্ষা পায়”, বললেন দত্তাত্রেয় হোসবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিকতা বা প্রগতির নামে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বিসর্জন না দিই— এই ভাষাতেই দেশবাসীকে সতর্ক করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে (Dattatreya Hosabale)। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় পরিবারের গুরুত্ব এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

    পরিবারই সংস্কৃতির রক্ষাকবচ (Dattatreya Hosabale)

    আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় (Dattatreya Hosabale) হোসবলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করে বলেন, “ভারতীয় সভ্যতায় পরিবার শুধুমাত্র এক ছাদের তলায় বসবাসকারী কিছু মানুষের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে বর্তমানে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ চরম আকার ধারণ করছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবারই হল সেই পাঠশালা যেখানে একজন শিশু প্রথম সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিকতার শিক্ষা পায়।”

    আধুনিকতা বনাম পশ্চিমীকরণ

    হোসবলে (Dattatreya Hosabale) স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি আধুনিকতার বিরোধী নন। তবে ‘আধুনিক হওয়া’ এবং ‘পাশ্চাত্যকরণ’—এই দুটির মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা বোঝা জরুরি। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং নতুন চিন্তাধারাকে গ্রহণ করা আধুনিকতা, কিন্তু নিজের শিকড় ভুলে বিজাতীয় জীবনধারা আপন করে নেওয়া যা পরিবারের ভাঙন ধরায়, তা কখনোই কাম্য নয়।”

    সামাজিক দায়িত্বের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ

    বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি (Dattatreya Hosabale) আরও বলেন, “ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন সমাজ বা পরিবারের স্বার্থকে বিঘ্নিত না করে। সমাজ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে গোটা সামাজিক কাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।”

    মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষার আহ্বান

    অনুষ্ঠানে তিনি (Dattatreya Hosabale) অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান যাতে তাঁরা সন্তানদের মধ্যে শৈশব থেকেই ভারতীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সুস্থ সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে।

    দত্তাত্রেয় হোসবলের (Dattatreya Hosabale) এই বার্তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিশ্বায়নের যুগে ভারতীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার যে চ্যালেঞ্জ, তার মোকাবিলায় তাঁর এই বক্তব্য নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share