Tag: RSS

RSS

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে বিভেদ তৈরি করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থায় চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) এক কর্মী সমাবেশে এমনই অভিযোগ করলেন সঙ্ঘের সহ-সরকার্যবাহ অতুল লিমায়ে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই শক্তিগুলির (Social Divide) মোকাবিলা করতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচারের জন্য নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ইন্দোরে ‘চরৈবেতি একত্রীকরণ’ নামে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লিমায়ে বলেন, কোনও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিক কর্তব্য পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র, সংবিধান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা থাকা প্রয়োজন।

    কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু শক্তি এখন সমাজের মানসিকতায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো মতপার্থক্যকে বড় করে দেখানো হচ্ছে, নানা বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” লিমায়ের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করাই এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, ছাপা সংবাদমাধ্যম, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র, শিল্পকলা এবং সাহিত্যের মাধ্যমেও জনজীবনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করেছে।

    ধর্মান্তরণ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ (RSS)

    সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে লিমায়ে ধর্মান্তরণ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং বিদেশি অর্থসাহায্যে পরিচালিত এমন কিছু আন্দোলনের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন, যেগুলি তাঁর মতে সামাজিক জীবনে বিভাজন তৈরি করছে। সীমান্তবর্তী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আরএসএসের এই নেতার বক্তব্য, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিগুলিকে প্রতিহত করতে হলে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রসার ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে নিজস্ব বক্তব্য ও জনমত গড়ে তোলার উপরেও জোর দেন তিনি।লিমায়ে বলেন, “আমাদের নিজস্ব বয়ান তৈরি করতে হবে। তার জন্য শিক্ষাক্ষেত্র ও বৌদ্ধিক পরিসরে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও আলোচনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় হতে হবে।” তাঁর দাবি, শিক্ষাজগৎ, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা এবং উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থা তৈরি করতে আরএসএসের (RSS) স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান তিনি।

    ইন্দোরে আরএসএসের বার্ষিক বৈঠক

    এমন এক সময়ে ইন্দোরে আরএসএসের কর্মীদের এই সমাবেশ হল, যখন সংগঠনটির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক সংস্থা অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের বার্ষিক বৈঠক আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের এই শহরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তিনদিনের ওই বৈঠকে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত-সহ সারা দেশ থেকে প্রায় ৪৫০ জন পদাধিকারী যোগ দেবেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে (Social Divide)। সঙ্ঘের (RSS) কর্মকর্তাদের মতে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পর্যালোচনা হবে এই বৈঠকে। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মাদক সমস্যার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। ২৬ অক্টোবর পাটনায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়্গে। সেই সময় শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পদ ছাড়বেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, ‘‘মোদির বাবাও চলে যাবেন।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রোতাদের কোনও মন্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সভাপতির আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত ছিল। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে থাকা নেতার বক্তব্যে এমন ভাষার ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অতীত মন্তব্যও বিতর্কে (Mallikarjun Kharge)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের অতীতের একাধিক মন্তব্যও নতুন করে চর্চায় এসেছে। ২০০৭ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধীর “মওত কা সওদাগর” (মৃত্যুর সওদাগর) মন্তব্য, ২০১৭ সালে মণিশঙ্কর আইয়ারের “নীচ আদমি” মন্তব্য এবং ২০২২ সালে খাড়্গের মোদিকে “রাবণ”-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পাটনায় খাড়্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের খতিয়ান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসএসের আদর্শ নিয়ে খাড়্গের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

    আরএসএসের আদর্শ নিয়েও খাড়্গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শের অবসান না ঘটলে ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান একটি সংগঠনের আদর্শকে সামগ্রিকভাবে বিপদের উৎস হিসেবে তুলে ধরে। তাঁদের মতে, এই ধরনের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

    ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবা, ত্রাণকাজ এবং নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগঠনটির কার্যকলাপে উল্লেখ করা হয়।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও সংগঠনের মতাদর্শের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার আহ্বান গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মতাদর্শগত বিরোধিতার জবাব যুক্তি, তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া উচিত (Mallikarjun Kharge)।

    খাড়্গের সমালোচনা

    বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমারের যোগদান নিয়েও খাড়্গের সমালোচনা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলগুলির জোট এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেই তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

    সব মিলিয়ে, খাড়্গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধিতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং মতাদর্শগত সংঘাতের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই (PM Modi) প্রশ্নও সামনে এসেছে। আরএসএস-সহ যে কোনও সংগঠনের কাজকর্ম ও মতাদর্শের সমালোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন—এমনটাই মত সমালোচকদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও মতাদর্শকে নির্মূল করার আহ্বান বিতর্কের নিষ্পত্তি না করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Mallikarjun Kharge)।

     

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী নভেম্বরে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আরএসএস (RSS)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক। সেখানে সঙ্ঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। শতবর্ষ উদযাপনের অগ্রগতি, সংগঠনের প্রসার এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) নিয়ে (Indore Meet) বিরোধীদের সমালোচনা এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ (RSS)

    তিনদিনের এই বৈঠক, যা ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ নামে পরিচিত, শুরু হবে ২ নভেম্বর। প্রতি বছর এই বৈঠক হলেও এবারের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী বছরের মার্চে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে এই বৈঠক হচ্ছে। প্রতিনিধি সভাই আরএসএসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মঞ্চ এবং প্রতি তিন বছর অন্তর সেখানে নির্বাচন হয়।

    সঙ্ঘের এক পদাধিকারী জানিয়েছেন, “শতবর্ষ উদযাপন এবং সেই উপলক্ষে নেওয়া জনসংযোগ কর্মসূচির প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করব। তবে প্রতিনিধি সভা এবং নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচনের আগে এই বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।”

    আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আরএসএস ‘প্রান্ত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক কাঠামো চালু করছে। এর ফলে প্রান্ত প্রচারকদের বদলে সম্ভাগ প্রচারক নিয়োগ করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় প্রচারকের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৮৫ হবে। এদিকে, রাজ্যস্তরের কেন্দ্রের সংখ্যা ১১ থেকে কমে ৯ করা হবে।

    নভেম্বরের বৈঠকের পর রাজ্যস্তরে নতুন কার্যকারিণী, সম্ভাগ সঙ্ঘচালক এবং ক্ষেত্র সঙ্ঘচালকদের নির্বাচন হবে। তাঁরাই পরবর্তীতে নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন দত্তাত্রেয় হোসেবল দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন। প্রতিটি মেয়াদ তিন বছরের এবং একজন ব্যক্তি কতবার এই পদে থাকতে পারবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন জনসংখ্যা নীতি এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে (RSS)।

    মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের প্রচার বিভাগের প্রধান সুনীল আম্বেকর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির মতো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি সমাজে এমন আইন থাকতে পারে না, যেখানে এক শ্রেণির মানুষ চারটি বিয়ে করতে পারবেন, অথচ একই কাজের জন্য অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এসআইআর নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে আম্বেকর বলেন, “যদি নির্বাচনী তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও নাম থাকে, তবে আইনসম্মত উপায়ে সেই অসঙ্গতি দূর করার ব্যবস্থা থাকতে হবে (Indore Meet)।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার পথ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যদি ভুল ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তা সঠিক নয়।”

    উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না। আবার বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। এই আবহেই আরএসএসের (RSS) আসন্ন বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

     

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা আরও জোরদার করতে ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংঘ সূত্রের খবর, বর্ধমানে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। রাজ্যে সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আগামী এক (Mohan Bhagwat) বছরের কর্মসূচি নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিয়েছে আরএসএস। সেই আবহেই সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতদিন রাজ্যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চললেও এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোথায় সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে সংগঠনের অগ্রাধিকার কী হবে, ভাগবতের বৈঠকে সেই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য (RSS)

    আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বর্তমানে বাংলায় তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কাঠামো ভেঙে পাঁচটি সম্ভাগে সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের কথা সামনে এসেছে। চার-পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি করে সাংগঠনিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সংঘ সূত্রের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে প্রান্তের সংখ্যা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১১০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলার সাংগঠনিক বিন্যাসে।

    কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে শাখা বিস্তারেও (RSS) বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংঘ। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে স্বয়ংসেবক হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের পরিধি বাড়াতে সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে চাইছে আরএসএস। সেই লক্ষ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, ২ ও ৩ অক্টোবর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

    কলকাতায় নতুন পরিকাঠামো

    এদিকে, বাংলায় সংগঠনের কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে আরএসএস। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল। নতুন ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ, সংঘের পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পরিকাঠামো।

    এতদিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই বাংলায় সংঘের মূল সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। নতুন ভবনটি অতিরিক্ত সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও থাকার ক্ষেত্রেও এই ভবন কাজে আসবে (Mohan Bhagwat) বলে খবর।

    ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবতের (RSS) সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর করা, দায়িত্ব বণ্টন, শাখা বিস্তার এবং আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ওই সফরে। রাজ্যের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্বয়ংসেবকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানিকতলার কেশব ভবন থেকে নিউ টাউনের নবনির্মিত কেশব স্মৃতি ভবনে আরএসএসের কার্যালয় স্থানান্তরকে বাংলায় হিন্দু সমাজ ও চেতনার জাগরণের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করলেন সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল (Hosabale)। শনিবার নতুন কার্যালয়ের (Keshav Smriti Bhavan) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণকে কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর জাগরণের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন কার্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোসেবল বলেন, “কার্যালয় বসবাসের জায়গা নয়। সংঘের প্রচারকরা কার্যকর্তাদের বাড়িতে থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে না। সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনযাপন, আচরণ, নিষ্ঠা ও আদর্শই সেই ভবনকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত করে। সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে তামিলনাড়ুর একটি ঘটনার উল্লেখ করেন হোসেবল। তিনি জানান, বোমা হামলায় তামিলনাড়ুতে সংঘের একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজ্য সরকার সেটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংসেবকরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা আগের চেয়ে বড় একটি ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

    কেশব রাও দীক্ষিতের স্মৃতিতে নতুন ভবন (Keshav Smriti Bhavan)

    মানিকতলার পুরনো কেশব ভবনটি নির্মিত হয়েছিল আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে। নিউ টাউনের নতুন ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রবীণ সংঘ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিতের স্মরণে। সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং এই রাজ্যেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

    অনুষ্ঠানে কেশব রাও দীক্ষিত এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রয়াত সংঘ প্রচারক শ্যামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করেন হোসবালে। তিনি বলেন, তাঁদের জীবন এবং কাজ আজও সংঘের স্বয়ংসেবকদের অনুপ্রাণিত করে। কোনও পদ বা দায়িত্বের কারণে নয়, বরং সংগঠন ও সমাজের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেই তাঁরা মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

    সংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে সংঘের শাখা, স্বয়ংসেবক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। তবে কার্যালয় নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    প্রত্যাশা নয়, লক্ষ্য সমাজসেবা

    হোসেবল বলেন, সংঘের কোনও প্রচারক পদ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন না। তাঁর কথায়, “একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক কখনও ভাবেন না, তিনি কোন দায়িত্ব বা পদ পাবেন। তিনি এই ভাবনা নিয়েই কাজ করেন যে, তিনি কয়েক দিন থাকুন বা না থাকুন, দেশের উন্নতি হওয়া উচিত।”

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারকদের পাঠানোর ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রচারকরা নিজেদের কর্মস্থলকেই কর্মভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা সমাজের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।

    সংঘের কার্যালয়গুলি সম্পর্কে হোসবালে বলেন, সেগুলিকে কেবল প্রচারকদের আবাসস্থল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কার্যালয় শুধু প্রচারকদের বসবাসের জন্য নয়। এটি (Keshav Smriti Bhavan) কাজের জায়গা।”

    তিনি জানান, সেখানে কর্মরত স্বয়ংসেবকদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সাধনার মাধ্যমেই একটি কার্যালয় অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের কার্যালয়গুলির ইতিহাস সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং স্বয়ংসেবকদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “কোনও কার্যালয় বা ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণা দেয় না। সেখানে যাঁরা থাকেন, কাজ করেন এবং আসেন, সেই স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তারাই ভবনটিকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগান।”

    সংঘের কাজের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা

    আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা ও নিষ্ঠা বলে মন্তব্য করেন হোসবালে। তিনি জানান, সংগঠনের স্বয়ংসেবকরা কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন।

    “তন সমর্পিত, মন সমর্পিত অউর ইয়ে জীবন সমর্পিত”—অর্থাৎ মাতৃভূমির জন্য শরীর, মন ও জীবন উৎসর্গ করার আদর্শই সংঘের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

    হোসেবলের বক্তব্য, স্বয়ংসেবকদের অবদান কেবল কার্যালয় নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের নিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজসেবা, সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

    গত এক শতাব্দীতে সংঘের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বীকার করেন, এখনও বহু সমস্যা ও প্রতিকূলতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “সব প্রশ্নের সমাধান হয়নি এবং সব সমস্যাও দূর হয়ে যায়নি। এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে (Keshav Smriti Bhavan)।”

    তবে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করলে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোসেবলের কথায়, “সংকল্প যত বড় হয়, সমস্যা তত ছোট হয়ে যায় (Hosabale)।”

    বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কেশব স্মৃতি ভবনকে এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, যা স্বয়ংসেবক ও সমাজকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করবে। ডাঃ হেডগেওয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবকদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংঘের কাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেন।

    রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে হোসেবল

    এদিন কলকাতার আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে রাম-শরদ কোঠারি স্মৃতি সংঘ আয়োজিত ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন দত্তাত্রেয় হোসেবলে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কলকাতার বাসিন্দা দুই ভাই রামকুমার ও শরদকুমার কোঠারি ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রামমন্দির আন্দোলনের সময় নিহত হন। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

    এবারের অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার বিদ্যাসাগর শিশু শিক্ষা নিকেতনের (Hosabale) প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র হেমব্রম, ওড়িশার পরিবেশকর্মী রমেশচন্দ্র মিশ্র এবং ঝাড়খণ্ডের ধ্যান ফাউন্ডেশনকে সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় (Keshav Smriti Bhavan)।

     

  • RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে দিল্লিতে। ২৯ নভেম্বর রাজধানীতে এক বিরাট সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস। সেখানে ভাষণ দেবেন (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমাবেশে ‘গণবেশ’ পরে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ স্বয়ংসেবক। সমাজের বিভিন্ন স্তরের আরও ৫০ হাজার আমন্ত্রিত ব্যক্তিও উপস্থিত থাকবেন। যদিও অনুষ্ঠানের জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Mohan Bhagwat)। এর আগে ২০ অক্টোবর নাগপুরের রেশিমবাগে অনুষ্ঠিত হবে সংঘের বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসব। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্ত। উৎসবে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরএসএস। ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। চলতি বছরের বিজয়া দশমী উৎসব সেই শতবর্ষ উদ্‌যাপনের পরবর্তী বছরের বার্ষিক আয়োজন। সংঘ সূত্রের খবর, দিল্লির সমাবেশের মধ্যে দিয়েই দেশজুড়ে চলা স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির ইতি টানা হবে। সেখানে সংগঠনের একশো বছরের যাত্রাপথের পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে ভাগবত বক্তব্য রাখতে পারেন।

    শতবর্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি (RSS)

    শতবর্ষ উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল আরএসএস। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সংঘের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া গৃহসম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংগঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গ্রাম ও শহরে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল সংঘ। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সংঘের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছিলেন, সংগঠনের কাঠামো অনুযায়ী দেশের ৫৮ হাজার ৯৬৪টি মণ্ডল এবং ৪৪ হাজার ৫৫টি বস্তিতে হিন্দু সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬০টি ব্লক ও শহরে সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠক এবং সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত ৯২৪টি জেলায় বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র উপর। সামাজিক সম্প্রীতি, কুটুম্ব প্রবোধন বা পারিবারিক সচেতনতা, নাগরিক কর্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বদেশি তথা আত্মনির্ভরতা—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। জাতপাতের বিভাজন কমানোর লক্ষ্যেও সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    দেশে-বিদেশে ভাগবতের জনসংযোগ

    শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মোহন ভাগবত। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো সফর করেছেন (RSS) তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ অগাস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনের বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিলেন ভাগবত। সেখানে সংঘের একশো বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ আগস্ট মুম্বইয়ে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ভাগবত। দিল্লির যন্তরমন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে সংঘ সূত্রের দাবি, মুম্বইয়ের কর্মসূচি কয়েক মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দিল্লি বা অন্য শহরের তরুণদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

    সংঘের বিজয়া দশমী উদযাপন

    সংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগপুরের বিজয়া দশমী উৎসবের পর নভেম্বরের শেষ দিকে দিল্লির সমাবেশের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের কর্মসূচি শেষ হবে (Mohan Bhagwat)। সংগঠনের সূত্রের দাবি, সারা বছর ধরে বিভিন্ন শহরে আয়োজিত স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবেই দিল্লির সভাকে দেখা হচ্ছে (RSS)। প্রসঙ্গত, বাংলায় বিজয়া দশমী হলে, উৎসবটি তামাম ভারতে পরিচিক দশেরা নামে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। প্রতি বছর নবরাত্রির শেষে পালিত হয় এই উৎসব। যেহেতু আরএসএসের প্রতিষ্ঠাদিবস এটি, তাই বিজয়া দশমীই হল তাদের অন্যতম প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই দিনটিতে নাগপুরের রেশিমবাগ মাঠে জাঁকজমক সহকারে বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস। অনুষ্ঠানে সংঘচালক স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পুজো করা হয় অস্ত্র এবং শাস্ত্র। স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে রুট মার্চে অংশ নেন। গত বছর বিজয়া দশমীতে সংঘ পা দিয়েছে শতবর্ষে। সেই উপলক্ষেই বছরভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

     

  • ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড়সড় পালাবদল। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ছাত্র সংসদে প্রভাব ধরে রেখেছিল এসএফআই। তাদের সরিয়ে এ বার সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিল এবিভিপি (ABVP)। নির্বাচনে ছ’টি প্রধান পদেই জয়ী হয়েছে এবিভিপি। কলেজটি (Kerala Tripunithura College) দীর্ঘদিন ধরেই এসএফআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

    জানা গিয়েছে, চেয়ারপার্সন পদে জয়ী হয়েছেন স্নিগ্ধা এম হরি। ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন আদিত্য টি এ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিগ্নেশ ভট্ট। ম্যাগাজিন সম্পাদক হয়েছেন বিগ্নেশ ডি এবং আর্টস ক্লাব সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন অঞ্জলি টি। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন নিবেদ্যা কে এন। দ্বিতীয় স্নাতক প্রতিনিধি এবং দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর প্রতিনিধি পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে শিবানি আর এবং অবনী সি বি।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজটিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের প্রভাব ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বার সেই দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবিভিপির এই ফলাফল ত্রিপুনিথুরার ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জয়ী এবিভিপি (ABVP)

    ফল প্রকাশের পর এবিভিপির তরফে এই জয়কে এসএফআইয়ের কথিত “ছাত্রবিরোধী নীতির” বিরুদ্ধে ছাত্রদের রায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংগঠনের এক প্রতিনিধির দাবি, ত্রিপুনিথুরার এই ফল কেরলের অন্যান্য কলেজে এবিভিপির সংগঠনগুলিকেও উৎসাহিত করবে।

    এবিভিপির আরও অভিযোগ, আগের এসএফআই-নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদগুলি সংস্কৃত ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। ছাত্রদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এসএফআইয়ের কার্যকালে পর্যাপ্ত ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে এবিভিপি।

    পুরসভায়ও পালাবদল

    ত্রিপুনিথুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই ফলকে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রিপুনিথুরা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজেপি। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ২১টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়; বাম গণতান্ত্রিক জোট পেয়েছিল ২০টি এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১২টি আসন। পরে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদও দখল করে (ABVP) বিজেপি।

    তবে পুরসভা নির্বাচন এবং কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন পৃথক বিষয়। তাই কলেজের এই ফলকে বৃহত্তর জনমতের সরাসরি প্রতিফলন বলা বোধহয় ঠিক হবে না। সরকারি সংস্কৃত কলেজটি মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় (Kerala Tripunithura College)।

    ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজে দীর্ঘদিনের এসএফআই-প্রভাবের পর এবিভিপির এই জয় কেরলের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিসর দখলের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিল (ABVP) বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

     

LinkedIn
Share