Tag: rural employment

  • 100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক গতি বাড়াতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, আগামী ১ জুন থেকে বাংলায় ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বা মনরেগা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। তবে আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদে

    নবান্ন সূত্রের খবর, এই দুই জেলাতেই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা, কাজের খতিয়ানে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলায় প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ বাদে বাকি সমস্ত জেলাতেই দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু করতে হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এলেই যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায় এবং প্রকল্পে গতি আনা সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।

    বিতর্কের সূত্রপাত ২০২২ সালে

    উল্লেখ্য, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড, বেআইনি নিয়োগ এবং কাজের হিসাবপত্রে অসংখ্য অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। এর পরেই কেন্দ্র ‘৭ নম্বর ধারা’ প্রয়োগ করে বাংলার জন্য মনরেগার সমস্ত তহবিল এবং বকেয়া অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন তৃণমূল সরকার অবশ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, বাংলার গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। বকেয়া টাকার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনেও নামে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে রাজধানীতে ধরনা কর্মসূচিও হয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, আগের খরচের পূর্ণ হিসাব এবং দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।

    উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এখন ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর তত্ত্ব সামনে এনে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার মনে করছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় থাকলে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। সেই লক্ষ্যেই ১ জুন থেকে পুনরায় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার ‘কর্মশ্রী’ নামে একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করেছিল। সেখানে জব কার্ড হোল্ডারদের ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার ফের কেন্দ্রীয় মনরেগা প্রকল্প চালু করার উপরেই জোর দিচ্ছে।

    নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক…

    শুধু ১০০ দিনের কাজ নয়, প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতেও বড় পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করা হবে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

  • VB G Ram G Bill: লোকসভায় ‘ভিবি-জিরামজি’ বিল পেশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজের, কী এটা?

    VB G Ram G Bill: লোকসভায় ‘ভিবি-জিরামজি’ বিল পেশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজের, কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১০০ দিনের কাজের মেয়াদবৃদ্ধি এবং প্রকল্পের নামবদল সংক্রান্ত বিল (VB G Ram G Bill) পেশ করা হল লোকসভায়। মঙ্গলবার বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রের কৃষি এবং গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। এত দিন ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (সংক্ষেপে মনরেগা)। বিলে এই প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। সংক্ষেপে ‘জিরামজি’। মঙ্গলবার লোকসভায় বিলটি পেশ করেন গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই বিলটির মাধ্যমে বর্তমান গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন মনরেগা-কে প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিল উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই এতে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাতিলের অভিযোগে সরব হন বিরোধীরা (Lok Sabha)।

    নয়া বিল (VB G Ram G Bill)

    বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল অনুযায়ী, যেসব গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শারীরিক শ্রমে স্বেচ্ছায় কাজ করতে ইচ্ছুক, সেই পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই বিল ক্ষমতায়ন, প্রবৃদ্ধি, সমন্বয় এবং সর্বব্যাপী বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়, যাতে বিকশিত ভারত @২০৪৭–এর জাতীয় লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

    বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা

    বিল অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি ‘স্যাচুরেশন’ ভিত্তিতে “বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা” তৈরি করবে এবং সেগুলি জুড়ে দেওয়া হবে পিএম গতি শক্তি প্রকল্পের সঙ্গে। এর ফলে, সমস্ত গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজ একত্রিত হয়ে “বিকশিত ভারত ন্যাশনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্ট্যাক”-এর আওতায় আসবে, যা গ্রামীণ গণপরিকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করবে। এছাড়াও, বিলটি জল-নিরাপত্তা, গ্রামীণ এলাকার মূল পরিকাঠামো, জীবিকা-সংক্রান্ত প্রকল্প এবং চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলার ব্যবস্থাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষিকাজের ব্যস্ত বপন ও ফসল কাটার মরসুমে পর্যাপ্ত কৃষিশ্রমিক নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করতে পারবে।

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এই আইনের একটি কেন্দ্রীয় দিক (Lok Sabha)। গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনে সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশের সভা, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর বিশ্লেষণ, বায়োমেট্রিক প্রমাণ এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করা হবে (VB G Ram G Bill)। এছাড়া, কাজের আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না দেওয়া হলে বেকারভাতা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন মজুরি হার বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান এমজিএনরেগা মজুরি হারই কার্যকর থাকবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প  হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে উত্তর-পূর্ব ও হিমালয়ান রাজ্যগুলির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থ ভাগাভাগির অনুপাত হবে ৯০:১০ এবং অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে ৬০:৪০।

    এই ঐতিহাসিক আইনটির লক্ষ্য হল সমন্বয়ভিত্তিক ও সর্বাঙ্গীণ কভারেজে কেন্দ্রিত একটি গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা (Lok Sabha)। এর মাধ্যমে পরিবর্তিত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের পথ পুনর্গঠন, বৈষম্য হ্রাস এবং উন্নত জীবিকা-নিরাপত্তার মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলিকে ক্ষমতায়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (VB G Ram G Bill)।

LinkedIn
Share