Tag: Russia

Russia

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

  • India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে ভারতের (India) গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি বছরের অগাস্টে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ভারতের শোধনাগারগুলি থেকে (Diesel Supplier)। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভারত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল পরিবহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ ছিল ভারতীয় জ্বালানি। ফলে ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    রাশিয়ার রফতানি কমতেই বাড়ল ভারতের গুরুত্ব (India)

    ভারত থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়ার রফতানিতে বড়সড় পতন। অগাস্টের প্রথম ২৫ দিনে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি নেমে এসেছে দৈনিক গড়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং পাঁচ বছরের ঋতুভিত্তিক গড়ের তুলনায় পতন হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

    এদিকে, ইউরোপের বাইরে থেকে ইউরোপে মার্কিন সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি অগাস্টে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ইউরোপের মোট আমদানিতে এর অংশও বেড়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলের শীর্ষে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

    ভারতের শোধনাগারগুলির সুবিধা

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধনকারী দেশ। দেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে।

    দেশের জটিল এবং রফতানিমুখী শোধনাগারগুলির অন্যতম সুবিধা হল, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের শোধনাগারের মতো বড় পরিশোধনাগারগুলিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যে বাজারে দাম বেশি, সেখানে দ্রুত পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত (India)।

    তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত তরল হাইড্রোকার্বন আমদানি কমেছে। এক বছর আগে যেখানে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল, অগাস্টে তা কমে প্রায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে। লোহিত সাগরের পথ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ

    বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ডিজেল ইউরোপে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ইউরোপের দিকে জ্বালানি পরিবহণের প্রচলিত পথগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী জ্বালানি পরিবহণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের গুরুত্ব বেড়েছে।

    তবে এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতীতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। ফলে এই জলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    ইউক্রেনের হামলায় চাপে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো

    রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ার পিছনে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার শোধনাগার এবং জ্বালানি রফতানির পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)।

    অগাস্টের ২১ তারিখে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পাম তেল শোধনাগারের প্রযুক্তিগত ইউনিটগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। এর পর শোধনাগারটির কার্যক্ষমতা কমে প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মে মাসে হামলার পর থেকে তুয়াপসে বন্দর থেকেও কোনও ডিজেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি।

    ফলে রাশিয়ার সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাচ্ছে (Diesel Supplier) ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং রাশিয়ার রফতানি সংকট যতদিন চলবে, ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে (India)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের (SCO Summit) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হল। বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী (PM Modi) ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    দুই ‘হুজুরের গপ্পো’ (SCO Summit)

    ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

    এর আগে জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন (SCO Summit) তিনি।

    আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে সওয়াল

    পেজেশকিয়ান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বৈঠকের আগেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। একই সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।”

    এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালানোর পর পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। বরং এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের দেশগুলির ওপর পড়ে। তাই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি (PM Modi)।

    বৈঠকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ নেতাই এতে উপস্থিত থাকবেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বে একটি অভিন্ন পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

    মোদির আঞ্চলিক কূটনীতিতে আর্মেনিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধশিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে দিল্লি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি। এর ফলে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে (SCO Summit)।

    পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদি

    এদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলেই খবর।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করতে পারেন। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ায় দু’দিনের সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই আলোচনার পর এবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে (PM Modi)।

    মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। আসন্ন বৈঠকটি চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে (SCO Summit)।

    ইরান, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের দিকটিও সামনে আনছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত একদিকে যেমন নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাও বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময়েও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসছে (SCO Summit)।

     

  • Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে হরমুজ প্রণালী ও বসফরাস প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যপথ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি বিকল্প রেলপথ (Russia-India Train Proposal) তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে স্থলপথে ভারত পর্যন্ত সরাসরি পণ্য পরিবহনের নতুন একটি করিডর তৈরি হতে পারে। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে (TASS) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুসনুলিন বলেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ভবিষ্যতে বিকল্প স্থলপথ খোঁজার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

    কোন পথে যেতে পারে রেললাইন?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত সম্ভাব্য রুটটি তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছতে পারে। খুসনুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করে এমন যে কোনও বিকল্প পথই বিবেচনা করা যেতে পারে।

    বাধা হতে পারে পাকিস্তান

    এই পরিকল্পনার (Russia-India Train Proposal) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হতে পারে পাকিস্তান। রাশিয়া থেকে প্রস্তাবিত এই স্থলপথ ভারত পর্যন্ত পৌঁছতে গেলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রেলপথ তৈরি ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় এই সহযোগিতা আদায় করা কতটা সম্ভব, সেটিই হতে পারে প্রকল্পটির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    এখনও পরিকল্পনার স্তরেই

    রাশিয়ার এই প্রস্তাব এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রকল্প নয়। এখনও নির্দিষ্ট রুট, নির্মাণ ব্যয় কিংবা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প করিডর নিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ধরনের রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দুই দেশকে সরাসরি স্থলপথে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি বোঝাতে বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী রেলপথগুলির অন্যতম চিন-স্পেনের ইউই-মাদ্রিদ (Yiwu–Madrid) রেলপথের উদাহরণ দেওয়া যায়। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি একাধিক দেশ পেরিয়ে চিন ও স্পেনকে যুক্ত করেছে।

    কেন হরমুজ নিয়ে এত উদ্বেগ?

    রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাতের পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনরিরি গার্ড কোর (IRGC) পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েল-সমর্থক দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি ও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    বসফরাস প্রণালী নিয়েও সমস্যা

    রাশিয়ার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল বসফরাস। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী কৃষ্ণসাগরকে মারমারা সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাশিয়ার পণ্য রফতানি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই পথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই খুসনুলিনের প্রস্তাব শুধু নতুন একটি রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথ বন্ধ বা ব্যাহত হলে যাতে বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, সেই লক্ষ্যেই স্থলপথে এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে মস্কো। অন্য দিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকাও। ৮৬-১১ ভোটে বিল পাশ হয়েছে সেনেটে। সেখানে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়ার সুবিধা অনেক। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে যেমন স্থলপথ ব্যবহার করা যাবে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নির্ভরতা কমবে। নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও এশিয়ার বাজারের বাণিজ্য করতে কোনও অসুবিধা হবে না।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে ভারতের জন্যও তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের করিডর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে যদি সত্যিই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থলপথে রেল যোগাযোগ তৈরি হয়, তাহলে পর্যটকদের যাতায়াতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প স্থলপথ তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন পথ যোগ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো একাধিক দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে এমন বিশাল রেলপথ তৈরি করা প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও কূটনৈতিক—তিন দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন। তাই আপাতত রাশিয়ার প্রস্তাবকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ‘প্ল্যান-বি’ (Plan B) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতমুখী এই বিকল্প রেল করিডরের ধারণা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Russia: ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য উরাল অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ছাড় ঘোষণা রাশিয়ার, কেন জানেন?

    Russia: ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য উরাল অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ছাড় ঘোষণা রাশিয়ার, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (Russia) প্রধান রফতানিযোগ্য উরাল অপরিশোধিত তেলের দামে মিলছে উল্লেখযোগ্য ছাড়। বাজার সূত্রের (Urals Crude) দাবি, ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য বর্তমানে উরাল অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ১০ মার্কিন ডলারেরও বেশি কম দামে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এই মূল্যছাড় আরও বেড়েছে। এর ফলে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির কাছে রাশিয়ার তেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বস্তুত, রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা সংলগ্ন অঞ্চলের খনিতে এই তেল পাওয়া যায় বলে সেই নামেই তেলের নাম।

    মিলছে বেশি ছাড় (Russia)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার তেলের প্রতি তুলনামূলক দুর্বল চাহিদা এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় রফতানিকারীরা বিক্রি ধরে রাখতে বেশি ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের সামনে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পরিবহণ ব্যয়, শোধনাগারের লাভের হার, বিমা, অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক হিসেবের ওপর। গত কয়েক বছরে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের ছবিটা বদলে যাওয়ায় ভারত রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম দামের কারণে ভারতীয় শোধনাগারগুলি নিয়মিতভাবে কিনছে রুশ তেল।

    ভারতের পৌষমাস

    বাজার (Urals Crude) বিশ্লেষকদের মতে, উরাল অপরিশোধিত তেলের বর্তমান মূল্যছাড় ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে একাধিক সুবিধা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কম দামে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ, শোধন প্রক্রিয়ায় লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি, বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরও বেশি নমনীয়তা, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। যদিও ভারতীয় সংস্থাগুলি রাশিয়ার তেলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গেও মূল্য এবং পরিবহণ ব্যয়ের তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে (Russia)। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্রেন্টকে মূল্য নির্ধারণের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। আর, উরাল হল রাশিয়ার প্রধান রফতানি-উপযোগী অপরিশোধিত তেলের মিশ্রণ। এই দুইয়ের মধ্যে মূল্য ব্যবধান যত বাড়ে, ততই উরাল তেল কিনে শোধনাগারগুলির লাভের সম্ভাবনা বাড়ে, বিশেষ করে যখন শোধিত জ্বালানির চাহিদা থাকে স্থিতিশীল।

    ভারতের ডাবল লাভ

    ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ শোধন করে ডিজেল, পেট্রোল এবং বিমান জ্বালানিতে রূপান্তর করছে। এর একাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হলেও, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রফতানি করা হয় বিদেশেও। ফলে কম দামে রাশিয়ার তেল পাওয়া ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং (Russia) ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে উরাল তেলের মূল্যছাড়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা, ওপেক প্লাসের উৎপাদন নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রতিযোগী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের ওপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে (Urals Crude) রাশিয়ার ছাড়ে তেল ভারতের জ্বালানি আমদানির কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ধরে (Russia) রাখবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

  • Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়া (Russia)। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের তেল শোধনাগারগুলির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এই সমস্যা থেকে (Gasoline Supplies) বেরতে ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশ হিসেবে পরিচিত রাশিয়াকে এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্প সূত্রে খবর, সমুদ্রপথে ভারতের পাঠানো পেট্রোলের চালান ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে, তেমনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর চাপও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জের (Russia)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রধান কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একের পর এক তেল শোধনাগারের ক্ষতি। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে একাধিক রিফাইনারির উৎপাদন কমে গিয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহে। এই পরিস্থিতির জেরে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির সূত্র মেনে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু এলাকায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে (Gasoline Supplies)। হঠাৎ করে সৃষ্টি হওয়া এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে জ্বালানি জোগাড়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে মস্কো।

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র

    গত এক দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশের আধুনিক রিফাইনারিগুলিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। সেই তেল পরিশোধনের পর তৈরি হওয়া পেট্রোলিয়াম পণ্যই এখন আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি রাশিয়াতেও (Russia) রফতানি হচ্ছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ফের সেই দেশেই পেট্রোল হিসেবে পাঠাচ্ছে ভারত। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল ভারতের বন্দর থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। একাধিক ট্যাঙ্কার বর্তমানে রাশিয়ার বন্দরের পথে রয়েছে। এও জানা গিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েক লাখ টন করে পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনাও করছে রাশিয়া।

    ইউক্রেনের সামরিক কৌশল

    সম্প্রতি, ইউক্রেন তাদের সামরিক কৌশলে বড়সড় (Gasoline Supplies) পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘর্ষের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে টার্গেট করে হামলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সে দেশের তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র, ফুয়েল ডিপো এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার (Russia) সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করা। এরই প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে। যার জেরে পুতিনের দেশে দেখা গিয়েছে ঘোরতর তেল সঙ্কট। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও স্বীকার করেছেন, ড্রোন হামলার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে,  এবং চেষ্টা চলছে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার।

    রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার এই পেট্রোল আমদানির প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। ভারতীয় পরিশোধিত জ্বালানির রফতানির চাহিদা বাড়তে পারে, ভারত-রাশিয়া সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পেট্রোল বাণিজ্যের রুটেও আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। ভবিষ্যতে রাশিয়ার শোধন ক্ষমতা আরও কমে গেলে আঞ্চলিক জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি।

    জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত ও রাশিয়ার (Russia) মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাড় মূল্যে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড আমদানিতে ভারত বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। এবার সেই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল, কারণ এবার পাল্টা পরিশোধিত পেট্রোল ভারত থেকে রফতানি হচ্ছে রাশিয়ায়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে এই আমদানির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ইউক্রেনের হামলার তীব্রতা এবং রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রিফাইনারিগুলি কত দ্রুত মেরামত করা যায়, তার ওপর। যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে রাশিয়াকে আরও দীর্ঘ সময় ভারত-সহ অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে পরিশোধিত জ্বালানি পেতে। অন্যদিকে, শোধনাগারগুলির উৎপাদন স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে আমদানি কমে আসতে পারে। তবে আপাতত জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (Gasoline Supplies)। উল্লেখ্য, রাশিয়ার ১১টি টাইম জোনজুড়েই জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই চালু করতে হয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা, ফিলিং স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ গাড়ির সারি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চড়া দরে বিকোচ্ছে গ্যাসোলিন। ক্রেমলিন (Russia) জানিয়েছে, রাশিয়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং গ্রহণযোগ্য মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিয়েও আলোচনা করছে।

     

  • India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত, রাশিয়া এবং চিনের (India-China Relation) মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করল বেজিং। চিনের মতে, ইউরেশিয়ার এই তিন প্রধান শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, রাশিয়া-ভারত-চিন (RIC) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে বেজিং নয়াদিল্লি ও মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত।

    ভারত-রাশিয়া-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুই নেতা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান এবং সংলাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। লিন জিয়ান বলেন, “চিন, রাশিয়া এবং ভারত—তিনটিই উদীয়মান অর্থনীতি। এই তিন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যও সহায়ক।” তিনি আরও বলেন, “তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চিন প্রস্তুত।”

    আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হয়েছে এবং তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। ভারত-চিন সম্পর্ককে তিনি “জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধানে বাইরের হস্তক্ষেপ বিশেষ সাহায্য করবে না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত-সহ একাধিক ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও বেজিং নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই সহনশীল ভূমিকা সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় অভিমত পুতিনের।

    সীমান্ত পরিস্থিতি ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’

    ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে লিন জিয়ান জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে দেখা। লিন জিয়ান বলেন, “দুই দেশকে সঠিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য একে অপর সুযোগ, হুমকি নয়।” লিনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পথে এগোনো উচিত দুই দেশের।

    ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট 

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে চিনের মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ মেটানোর এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”

    মতপার্থক্য দূর হওয়ার পথে

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক জোটের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আরআইসি কাঠামোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও নানা মতপার্থক্য থাকলেও, বেজিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    জিয়ানের এই মন্তব্য চিন-ভারত সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিকৃত’ মানচিত্র নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। গালওয়ান ক্ষতের উপর নুন ছিটিয়েছে করাচির সঙ্গে বেজিংয়ের সখ্যতা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটেনি। এই আবহে জিয়ানের এই মত, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ— সেরকমটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

    চিনকে বিশ্বাস করা যায়!

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানকে পদদলিত করে ৬২-তেই যুদ্ধে নেমেছিল চিন। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফ নেমেছে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছাড়াও নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্যপদ গ্রহণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার — একাধিক বিষয়ে ভারতের সামনে প্রাচীর তুলেছে চিন। ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে।

    ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’

    ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য সম্প্রতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। অতিমারিও এখন অতীত। কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই তিন দেশ পৃথক বলয় তৈরি করলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়বে। ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’ বা ‘রিক ট্রয়িকা’ বিশ্বকে চাপে রাখবে।

LinkedIn
Share