Tag: Russian crude oil

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

LinkedIn
Share