Tag: Safe Harbor

  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

LinkedIn
Share