Tag: Salary

Salary

  • West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি (West Bengal) কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী ও কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতনস্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সপ্তম বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা (West Bengal)

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যৌথভাবে এই ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার কমিশন কোন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। একই সঙ্গে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন ২৭০০ ক্যালোরির যে পুরনো মানদণ্ড ছিল, তার বদলে নয়া এই ভিত্তি গ্রহণের বিষয়টি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম বেতনের হিসাবের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব

    সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যপরিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ে বছরে ৩ শতাংশ হারে। সেই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়া বেতনস্তর তৈরির বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতনস্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। একই বেতনস্তরে সর্বভারতীয় সমতা তৈরির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা কার্যত অচল বেতনস্তর একত্রিত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো আরও সরল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    ডিএ-র সংজ্ঞা ও নিয়মিত দেওয়ার ভাবনা

    ডিএর (মহার্ঘ ভাতা) ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে ডিএর সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ডিএ দেওয়ার জন্য স্থায়ী নির্দেশ জারির সুপারিশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও কমিশনকে মতামত দিতে বলা হয়েছে (West Bengal)। সপ্তম বেতন কমিশন কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সেই বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি এবং অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও নিয়ম নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতাগুলির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করতে পারবে কমিশন। বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও রয়েছে।

    অবসরকালীন সুবিধায়ও একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

    অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়েও কমিশনের কার্যপরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত। অবসর নেওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে পেনশনের যে অংশ এককালীন গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের বর্তমান নিয়ম পর্যালোচনা করা হবে। ১১ বছর পর সেই পেনশন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ফলে অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন সুপারিশ আসতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

    কর্মজীবনে অগ্রগতির কাঠামো বদলের সম্ভাবনা

    সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবনে পদোন্নতি ও আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে (7th Pay Commission)। বর্তমানে ৮, ১৫ এবং ২৪ বছরের তিনটি ধাপে যে কর্মজীবন অগ্রগতি ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছরের পাঁচটি ধাপ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কার্যপরিধিতে রয়েছে।

    কারা রয়েছেন সপ্তম বেতন কমিশনে?

    প্রসঙ্গত, সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের প্রবীণ ফেলো পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক পার্থ প্রতীম পাল। কমিশনের সদস্য-সচিব পদে রয়েছেন আইএএস আধিকারিক দেবীপ্রসাদ করনম।

    কোন কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবে কমিশন?

    সরকারি নির্দেশিকায় (West Bengal) বলা হয়েছে, সুপারিশ তৈরির সময় কমিশন শুধু রাজ্য সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো, দেশের অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশও বিবেচনায় রাখা হবে।কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো, ডিএ, বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পদোন্নতির নীতি, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা খতিয়ে দেখবে। নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের প্রাথমিক বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেই পদ্ধতিও কমিশন সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে ডিএ-সহ—সরকারি চাকরির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও পরিষেবাগত বিষয়ই কমিশনের পর্যালোচনার আওতায় আসছে (7th Pay Commission)।

    ২০২৭ সালে কার্যকর করার লক্ষ্য

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। এখন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী দিনে বেতন, ডিএ এবং অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর বার্তা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তির পর সেই প্রক্রিয়াও আরও এক ধাপ এগোল (West Bengal)।

    কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমাদের পরামর্শ দিয়েছিল যে যাঁরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বেতন চাইছেন, তাঁরা দিল্লি চলে যান। আমরা দিল্লির সরকারকেই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর আজ প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের বেশির ভাগ দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই বিজ্ঞপ্তি দেখে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে বর্তমান রাজ্য সরকার যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের সাথী (7th Pay Commission) হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আবেদন থাকবে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে (West Bengal)। কারণ, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।”

     

     

  • West Bengal University: দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বেতন হচ্ছে না, সমস্যায় ছাত্রছাত্রীরাও

    West Bengal University: দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বেতন হচ্ছে না, সমস্যায় ছাত্রছাত্রীরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের (West Bengal University) উপাচার্যের নিযুক্তি খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সমস্যায় পড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ সঞ্চারী মুখোপাধ্যায় এবং তিনি একমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অপারেট করার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর হাত দিয়েই বেতন হত বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মচারীদের। অবশ্য স্থায়ী সরকারি কর্মী বলতে দুটি পদ এখনও পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বরাদ্দ হয়েছে। একজন ফিনান্স অফিসার, অপরজন উপাচার্য। বাকি যাঁরা আছেন, তাঁরা সকলেই চুক্তিভিত্তিক। কিন্তু তাঁদের মাসের শেষে বেতন দিতে গিয়েই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার আর অধিকার অন্য কারও নেই। অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে আর উপাচার্যের পদেও নেই সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কাছে দরবার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা এবং জেলাশাসক, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক। 

    এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নেই

    উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, ২০১৮ সালে জেলা সফরে এসে গঙ্গারামপুরে একটি জনসভায় ভাষা দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (West Bengal University) কথা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ২০২১ সালে বালুরঘাটে একটি ভাড়াবাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কাজকর্ম শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ বা অধ্যাপক-অধ্যাপিকা নিযুক্তি অথবা অন্যান্য কর্মীদের নিযুক্তির কাজ থমকে রয়েছে। ফলে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে এসে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন, তাঁরাও সমস্যায় পড়ছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী অধ্যাপক-অধ্যাপিকা না থাকায় ক্লাস নিয়মিত হয় না। ক্লাসঘর নেই, বিভিন্ন কলেজে বা স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। সব মিলিয়ে খাতায়কলমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব থাকলেও দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয় আসলে কাগুজে বাঘ, মন্তব্য করছেন বিরোধীরা। বেতন না হলে কতদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়েও সন্দিহান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা তাঁদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন, বলেছেন চরম অব্যবস্থার কথাও।

    কী আশ্বাস দিলেন জেলাশাসক?

    জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের (West Bengal University) কাজকর্ম সাধারণত জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হয় না। তবুও স্থানীয় বিষয় হিসেবে এটা আমার কাছে এসেছে। আর্থিক বিষয়গুলি যিনি দেখেন, তাঁকে আমি ডেকে পাঠিয়েছিলাম। তাঁর কাছ থেকেই পুরো ব্যাপারটা জেনে নিলাম, কী হয়েছে। আসলে উপাচার্য নতুন নিয়োগ হয়নি। এটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অপারেট করা হত। চেকে সই করার ক্ষমতা একজনেরই থাকায় সমস্যা বেড়েছে। এটা নিয়ে আমি উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি। উপাচার্য নিয়োগ যেহেতু খুব তাড়াতাড়ি হবে না, তাই এর মধ্যে সমস্যা মেটানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।

    সহযোগিতার আশ্বাস সুকান্তর

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্য সরকারের উচিত দ্রুত (West Bengal University) উপাচার্য নিয়োগ করা। যদি রাজ্য সরকার চায়, আমার সাহায্য নিতে পারে। আমি সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি। যদি রাজ্যপালের কাছ থেকে তাড়াতাড়ি অনুমোদন বের করে আনতে হয়, সে ব্যবস্থাও করা যাবে। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Municipality Corruption: স্বজনপোষণের ঠেলায় পুরসভায় উপচে পড়ছে অস্থায়ী কর্মী, বেতন দিতে নাভিশ্বাস

    Municipality Corruption: স্বজনপোষণের ঠেলায় পুরসভায় উপচে পড়ছে অস্থায়ী কর্মী, বেতন দিতে নাভিশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঠিক সময়ে বেতন দিতে নাভিশ্বাস উঠছে। কোনও মাসেই নাকি সময়ে বেতন হয় না, এমনই জোরালো অভিযোগ ঘিরে তেড়েফুঁড়ে উঠলেন হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মচারীরা। বুধবার একপ্রস্থ বিক্ষোভ দেখানোর পর বৃহস্পতিবারও পুরসভা চত্বরে চেয়ারম্যানের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বুধবার চেয়ারম্যান অমিত রায় পুরসভায় ঢুকতে গেলে বাধাপ্রাপ্ত হন। তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে হাতাহাতিও হয়। আসলে বেতন ঠিক সময়ে হবে কী করে? প্রতিটি দফতরেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক নেওয়া হয়েছে (Municipality Corruption)। পুরসভার দেওয়ালে কান পাতলে এমনই অভিযোগ শোনা যায়।

    কী বলছেন চুঁচুড়ার বিধায়ক?

    চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের বক্তব্য, বাম আমল থেকে যেসব অস্থায়ী কর্মী এখানে কাজ করত, তাদের সরানো হয়নি। আবার জনসংখ্যা বাড়ছে, তার সঙ্গে কাজের চাপও বাড়ছে। তাই বাড়তি কিছু লোকও নিতে হয়েছে অস্থায়ী হিসেবে।”

    বর্তমানে চিত্রটা কী? 

    পুরসভা সূত্রে খবর, এখানে প্রায় ২২০০ অস্থায়ী কর্মী (Municipality Corruption)! আর ন্যূনতম মজুরি মাথাপিছু ২৭০ টাকা প্রতিদিন। প্রায় ৬০০ জনের মজুরি রাজ্য পুর উন্নয়ন সংস্থা থেকে আসে। বাকি ওই বিপুল বোঝা পুরসভাকেই টানতে হয়। কিন্তু সেই অর্থে এই পুর এলাকায় কোনও শিল্প না থাকায় পুরকরও তেমন ওঠে না। তাই মাঝে মধ্যেই অনিয়মিত হয়ে পড়ে অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি। 

    ‘অস্থায়ী কর্মচারীদের অধিকাংশই তৃণমূলের ক্যাডার’, অভিযোগ বিজেপির

    বিরোধী দল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীদের (Municipality Corruption) তৃণমূল আমলেই যে যেরকম পেরেছে ঢুকিয়ে গেছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ অভিযোগ করেন, এদের মধ্যে অধিকাংশই তৃণমূল পার্টির ক্যাডার। অর্ধেক লোক কাজ করে না, বাড়িতে বসে সারা মাসের মজুরি তুলে নেয়। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। এখানে বেশিরভাগ চোর। আমরা চাইছি অবিলম্বে চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করিয়ে এখানে অ্যামিনিস্ট্রেটর বসানো হোক। 

    প্রায় ২ ঘণ্টা অবস্থানের পর অস্থায়ী কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনায় বসেন চেয়ারম্যান অমিত রায়। আগামী সোমবারের মধ্যেই মজুরির বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এরপর অবস্থান ওঠে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • New Labour Codes: সপ্তাহে তিন দিনের ছুটি, আর কী পরিবর্তন আসল নতুন শ্রমবিধিতে

    New Labour Codes: সপ্তাহে তিন দিনের ছুটি, আর কী পরিবর্তন আসল নতুন শ্রমবিধিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু আলোচনার-পর্যালোচনার পর নয়া শ্রমবিধি (New labour codes) প্রকাশ করল কেন্দ্র। জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই লাগু  হবে এই নতুন শ্রমবিধি। এই শ্রমবিধি কার্যকর হলে বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, অবসরকালীন কিছু সুযোগ-সুবিধাও আসতে পারে এই নতুন নিয়মে। এই সবকিছু ভালোর মধ্যে একটিই নেতিবাচক দিক, তা হল নয়া শ্রমবিধিতে কমে যেতে পারে টেক-হোম বেতন। অর্থাৎ সব কেটে-কুটে যে টাকা আপনি বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন, তা কমে আসবে। 

    সূত্রের খবর, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন শ্রমবিধি কার্যকর হতে পারে। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি আইনের  চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করেছিল। একইভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন কোড ২০২০, কোড অন সোশ্যাল সিক্যুরিটি ২০২০, অক্যুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশন কোড ২০২০ – এই চার বিধি নিয়ে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২৩ টি রাজ্য এই আইনগুলির খসড়া গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার চায় সমস্ত রাজ্য একসঙ্গে এই চারটি পরিবর্তন কার্যকর করুক।

    আরও পড়ুন: জুলাইয়েই ডিএ বাড়াতে পারে কেন্দ্র, কত হবে বেতন?        

    নতুন শ্রমবিধি কার্যকর হলে কর্মচারীদের মূল বেতন হবে তাদের মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ। নতুন নিয়মে পিএফে বেশি টাকা রাখতে হবে কর্মীকে। অবসরের সময় তা অত্যন্ত লাভজনক। নতুন শ্রমবিধিতে কর্মীদের গ্র্যাচুইটিও বাড়বে। অবসরের পরে তাতেও লাভবান হবেন তাঁরা। তবে, এই নতুন নিয়মে টেক হোম স্যালারি কমতে পারে।  

    সরকার খসড়ায় চার দিনের কর্ম সপ্তাহের প্রস্তাব করেছে। মানে সপ্তাহে চারদিন কাজে যেতে হবে আর তিনদিন ছুটি পাবেন কর্মীরা। তবে যে বাড়তি একদিন ছুটি পাওয়া যাচ্ছে তা পুষিয়ে দিতে হবে, বাকি দিনগুলিতে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করে। সরকারের প্রস্তাব, একজন কর্মচারীকে সপ্তাহে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা কাজ করতে হবে।   

    নতুন শ্রমবিধির পরিবর্তনগুলি এক নজরে:

    পাঁচ দিনের বদলে কর্মীদের চার দিন কাজ করতে হবে।

    সপ্তাহে তিন দিন ছুটি পেলে কর্মীকে বাকি চার দিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে।   

    কর্মচারীদের মূল বেতন হবে তাঁদের  মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ। পিএফে কর্মীদের অবদান বাড়বে।

    নতুন নিয়মে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ -কে মান্যতা দেওয়া হয়েছে।

    গ্র্যাচুইির পরিমাণ বাড়বে।

    আরও পড়ুন: তবে কি ক্রেডিট কার্ডের নয়া নিয়ম কার্যকর হবে অক্টোবর মাসে?

    তবে দিনে ১২ ঘণ্টার কাজ হলে, সেক্ষেত্রে বিপদে পড়তে পারে কোম্পানিগুলি। বেশি টাকা গুনতে হতে পারে তাদের। কারণ ফ্যাক্টরি অ্যাক্টের আওতায় যে কোম্পানিগুলি রয়েছে কোনও কর্মী দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তাদের ‘ওভার টাইম’- এর টাকা দিতে হবে।

    স্পেন, জাপান, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলিতে ইতিমধ্যেই সাপ্তাহিক তিন দিন ছুটির নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে।  

     

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share