Tag: Samik Bhattacharya

Samik Bhattacharya

  • Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

    পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”

    প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন

    সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তোষণমূলক নীতির মাধ্যমে রাজ্যের সামাজিক সংহতি দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। এমনভাবেই রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বাজারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র শেষদিনে এক জনসভা থেকে তিনি সাফ ঘোষণা করেন, আগামী দিনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে নয়, বরং ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই সরকার পরিচালনা করবেন। তৃণমূলের পরাজয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেও দাবি করেন তিনি।

    নো এসআইআর, নো ভোট

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বিচারাধীন’ বা এসআইআর (SIR) তালিকা কোনওভাবেই সরানো যাবে না—এই দাবিতে অনড় থাকল বিজেপি। সোমবার কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানালেন, “নো এসআইআর, নো ভোট— এটাই আমাদের অবস্থান।” শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্ডা অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি চান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ভোটার লিস্টে থাকুক। মৃত ব্যক্তি এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্যই এই লড়াই।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভাতার বা বর্ধমানের সাধারণ মানুষের জন্য লড়ছেন না, তাঁর লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থরক্ষা করা।

    পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা-গোষ্ঠী হিংসা কেন

    বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, গুজরাটে গত ২০ বছরে কোনও দাঙ্গা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশেও হিন্দু-মুসলিম বা শিয়া-সুন্নি বিবাদ বন্ধ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে প্রতিনিয়ত অশান্তি ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, “তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া অনেক ঘটনা চেপে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সব দেখছেন।” সোমবারের বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে বিচারব্যবস্থাকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপির মতে, প্রকৃত উন্নয়ন বা ক্ষমতায়নের বদলে তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি ঘটাতে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।

    রাজ্যে মানুষ ভালো নেই

    কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানো প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আমরা ওনাকে (জ্ঞানেশ কুমার) আসতে বলেছিলাম। আশা করি উনি ভালো সংবর্ধনা পেয়েছেন। এখানকার মানুষ কেমন আছেন এবং পরিস্থিতি কী, সেটা নিশ্চয়ই উনি বুঝতে পেরেছেন।” বিজেপির অভিযোগ, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দলের দাবি, এ বিষয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। বিজেপির বক্তব্য, এই সমস্ত ইস্যু এখন কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় প্রশ্ন। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য তারা রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং উন্নয়নমুখী একটি রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

    তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে না

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামাও বাজিয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ভাতার বাজারের কামারপাড়া মোড়ে আয়োজিত সভায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরাতে পারবে না। ২৬-এর নির্বাচন আসলে তৃণমূলের বিসর্জন।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স ছেড়ে নবান্নে প্রশাসন নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসে আবার পুরোনো কেন্দ্র থেকেই কাজ শুরু করবে। সোমবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভাজনমূলক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন শমীক। তিনি বলেন, “পরাজয়ের হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। অতীতে কোনও নেতা এভাবে মঞ্চ থেকে দুই সম্প্রদায়কে আক্রমণের ভয় দেখাননি।”

    বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা

    বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের গুন্ডাদের হামলার জেরে বহু বিজেপি কর্মীকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। অপরাধী আর তৃণমূল এখন সমার্থক হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, ভীমপুর, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, তারকেশ্বর এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, “জেলা জেলায় নতুন নতুন ফতোয়া জারি হচ্ছে। এই সরকারের আমলে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না বিচারপতি থেকে শিল্পপতি পর্যন্ত।” ভোটের আগে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েনের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, এটি পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের মানুষের জন্য লজ্জার। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হল নির্বাচন। তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আসতে হয়েছে। ২০১১ সালে গণতন্ত্র ফেরানোর স্লোগান দিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। আজ তাদের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

  • BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পয়লা মার্চেই এ রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিজেপির (BJP) পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra)। চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই হাইভোল্টেজ জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এই যাত্রা পরিচালিত হবে। যাত্রা ছুঁয়ে যাবে ২৩০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রকে। এহেন আবহে ৬৪টি বড় জনসভারও পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। ছোট জনসভা হবে ২৮০টির বেশি। পরিবর্তন যাত্রা হবে ৫০০০ কিলোমিটারজুড়ে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই যাত্রার মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে।

    রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন (BJP)

    এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনই বলে দিচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সরাসরি মাঠে নেমে মসনদ দখলের এক হাই-ভোল্টেজ অভিযান। এর লক্ষ্য জনসংযোগ, কর্মীদের চাঙা করা এবং রাজ্যজুড়ে অপরাজেয় সাংগঠনিক একটি শক্তি গড়ে তোলা। যাত্রার শেষে মেগা জনসভা হবে ব্রিগেডে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগের মতে, পরিবর্তন অনিবার্য করবে পরিবর্তন যাত্রা। এই যাত্রার মাস্টারস্ট্রোক একদিকে যেমন শাসকদলকে চাপে ফেলবে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী ভোটকে একছাতার তলায় আনবে। পরিবর্তন যাত্রার এই ১০ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সংবাদমাধ্যমের নজর বিজেপির দিকে থাকবে, যা গেরুয়া শিবিরকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে টিভির পর্দার মাধ্যমে (BJP)।

    পরিবর্তন যাত্রা

    পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন যাত্রা আরও একটি বিশেষ কাজ করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বর্তমানে বাংলার রাজনীতির মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছে তৃণমূল এবং অন্যদিকে বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে তৃণমূল-বিরোধী ভোট এককাট্টা হবে এবং তা পদ্ম ঝুলিতে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে পারে একমাত্র বিজেপি-ই। অন্যদিকে কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে ভোট কেটে তৃণমূলের সুবিধা করা। তাই বিরোধী ভোট এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে আসবে বলেই মনে করছেন অনেকে (Parivartan Yatra)।

    পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রা

    আসুন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রাগুলি সম্পর্কে ফের একবার জেনে নিই। রাম জন্মভূমি আন্দোলন নয়ের দশকের শুরুতে বিজেপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। একাধিক পরিবর্তন যাত্রায় বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়। একটা প্রান্তিক সংসদীয় দল থেকে বিজেপি জাতীয় শক্তিতে পরিণত হয়। এই আন্দোলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দলের সংগঠন ও সমর্থক বাড়াতে সাহায্য করে। অযোধ্যা মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চললেও, শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পথ খুলে যায়। বিজেপির মতে, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফল (BJP)।

    ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’

    ২০২২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’ শুরু করেছিল। এটা ছিল বড় ধরনের প্রাক-নির্বাচনী প্রচার। মাত্র ১০ দিনে ১৮২টি কেন্দ্র ও প্রায় ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল সেই যাত্রা। এর ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৯ থেকে বেড়ে ১৫৬ হয়। ভোটের হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৫২.৫ শতাংশ। গুজরাটের ইতিহাসে সেই প্রথম কোনও দল ৫০ শতাংশের গণ্ডি অতিক্রম করে (Parivartan Yatra)।

    ‘বিকাশ যাত্রা’

    ২০২৩ সালের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘বিকাশ যাত্রা’ এবং সেপ্টেম্বরে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ করেছিল। সব মিলিয়ে এই দুই যাত্রা অতিক্রম করেছিল ১০,৬৪৩ কিমি পথ। যাত্রা পৌঁছেছিল ২৩০টির মধ্যে ২১০টি আসনে। এর ফলে নির্বাচনে বিজেপির আসন ১০৯ থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়। ভোটের হার ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪৮.৬ শতাংশ। মহিলাদের ভোট বাড়ে ৭–৮ শতাংশ। আদিবাসী আসন ১৬ থেকে ২৪ হয়। মালওয়া-নিমার অঞ্চলে আসন ২৭ থেকে বেড়ে হয় ৪৭টি (BJP)।

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’

    ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়ে পরাজয়ের পর বিজেপি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করে। দলের দাবি, এটি ছিল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তৃণমূলস্তরের কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ। ১৬ দিনে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়। নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ৫৪ হয় এবং ভোটের হার ৩৩ শতাংশ থেকে ৪৬.৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।

    ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’

    ২০১৮ সালের পরাজয়ের পর বিজেপি রাজস্থানে ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ আয়োজন করেছিল। চার দফায় ২০ দিনে প্রায় ৯০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়েছিল সেবার (Parivartan Yatra)। নির্বাচনে বিজেপির আসন ৭৩ থেকে বেড়ে হয়েছিল ১১৫টি। ভোটের হার ৩৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪১.৬ শতাংশ। ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলা দখলের চূড়ান্ত রণকৌশল। রাম জন্মভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন নজির প্রমাণ করে যে, যখনই বিজেপি এই ধরনের বৃহৎ আকারের যাত্রা করেছে, তখনই তা সফল হয়েছে। অতীতের রেকর্ড বলছে, বিজেপির এই যাত্রাই (Parivartan Yatra) বদলে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের ভাগ্য। বঙ্গে বিজেপির ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিনা, এখন সেটাই দেখার (BJP)।

     

  • Samik Bhattacharya: “তৃণমূল ও দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক”, মমতাকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    Samik Bhattacharya: “তৃণমূল ও দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক”, মমতাকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কলকাতায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে নথি উদ্ধারের বাধা দিয়ে দেশজুড়ে যখন শোরগোল ফেলেছেন। সাংবিধানিক পদে বসে নথি ছিনতাই করেছেন বলে অভিযোগ বিজেপির। অপরদিকে আবার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। এযেন উলট পুরাণ। একদিকে কয়লা পাচার তদন্তের বাধা দলনেত্রীর, অপর দিকে দলের সাংসদরা দুর্নীতির তদন্ত চাইছেন। দলের সাংসদ এবং দলনেত্রীর কর্মকাণ্ড পরস্পর বিপরীত মুখী। এই ইস্যুতে তীব্র তোপ দেগেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছেন কয়লা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতার জড়িত।”

    তৃণমূলের প্রতিবাদে মানুষ হাসবে (Samik Bhattacharya)

    শুক্রবার দিল্লিতে অমিত শাহের দফতরের বাইরে তৃণমূল সদাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ এবং অন্যান্য নেতার বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পুলিশ, শতাব্দী, মহুয়া এবং ডেরেককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় দুর্নীতির সমর্থক তৃণমূল নেত্রী এবং সাংসদদের তোপ দেগে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূল নেতারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে পারে না, জনতা টিএমসিপিকে বুঝে গিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে মানুষ হাসবে। ইডি যখন তদন্ত করছে সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ফাইল ছিনতাই করে নিচ্ছেন। কোনও রাজনৈতিক অভিযান নয়। তৃণমূলের নেতারা কয়লা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তৃণমূল এবং দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক।”

    অপ্রত্যাশিত আচরণ

    আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির তল্লাশি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিজেক খুন করেছেন। ঠিক এই ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি বলেন, “গতকাল ইডির অভিযানকে ঘিরে গোটা দেশ তথা রাজ্য দেখেছে যে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোথায় নেমে যেতে পারেন। সংবিধানের শপথ নেওয়া কোনও মুখ্যমন্ত্রীর থেকে কোনও সমাজ কোনও সংবিধান কোনও দেশ এই আচরণ প্রত্যশা করে না। তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির সমর্থক।” রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আজ উনি (মমতা) যে কাজ করলেন, তাতে তিনি নিজের ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন। নিজেই নিজেক খুন করেছেন।’

    দুর্নীতিকে সমর্থন করেন তা মুখ্যমন্ত্রী

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্নধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি ইডির বিরুদ্ধে ময়দানে নামেন। শুধু তাই নয় সেখান থেকে অভিযানকে প্রভাবিত করতে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিস্ক তুলে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিজপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “এইট-বি থেকে শ্যামবাজার, টালা থেকে টালিগঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করতেই পারেন। তবে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকে বন্ধ করতে কখনই পারেন না। তৃণমূল কংগ্রেস যে দুর্নীতিগ্রস্থ এবং দুর্নীতিকে সমর্থন করেন তা মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন। ইডির তাল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কার্যত ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবাদিক পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সরিয়ে নিয়েছেন। এইকাজ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার অধিকার নেই।”

    আগেও মমতা তদন্তে বাধা দিয়েছেন

    ইডির ব্যাখ্যা ও বিবৃতি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। তবে মমতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এই প্রথম বাধা নয়। আগেও সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি করতে গেলে মমতা ধর্মতলায় ধরনায় বসেছলেন। একই ভাবে নারদ মামলায় ববি হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের করা আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। তবে বিজেপির বক্তব্য, তারা শুরু থেকেই তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে রয়েছে। এই ঘটনা এবং শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইডির বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাদের একটি প্রেস রিলিজে স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে। মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে কলকাতা ও দিল্লির একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। আই প্যাক এর অফিস, প্রতীক জৈনের বাসভবন-সব মিলিয়ে প্রায় ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ইডির এই অভিযান। তবে এই অভিযানকে কোনও রকম ভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় যেন না ভাবা হয়।

  • SIR: ‘মঙ্গলগ্রহ হোক বা আন্টার্কটিকা যেখানে খুশি মিছিল করুন মমতা, এসআইআর হচ্ছেই’: শমীক

    SIR: ‘মঙ্গলগ্রহ হোক বা আন্টার্কটিকা যেখানে খুশি মিছিল করুন মমতা, এসআইআর হচ্ছেই’: শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের মিছিলকে শমীকের কটাক্ষ। মঙ্গলবার এসআইআর-এর (SIR) প্রতিবাদে কলকাতায় মেগা মিছিল করেছে তৃণমূল। সেই মিছিলে হাঁটবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে মিছিলে আবার পা মেলাবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি রাজ্যের ভোটার সংখ্যার বৃদ্ধিকে গুরুতর সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, এরাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের তুলানায় ভোটার তালিকায় নাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক ভাবে হয়েছে।

    দুর্নিতিকে ভোলাতেই এসআইআর বিরোধী আন্দোলন (SIR)!

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর (SIR) বিরোধিতার মিছিলকে তোপ দেগে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কালীঘাট থেকে নামতে পারেন, দিঘা থেকে নামতে পারেন, মঙ্গলগ্রহে মিছিল করতে পারেন, আন্টার্কটিকা থেকে করতে পারেন। মুম্বইয়ের জুহু বিচে করতে পারেন। যেখানে যেমন খুশি মিছিল করতে পারেন কিন্তু এসআইআর তো হবেই। এসআইআর বিরোধী মিছিলের একটাই উদ্দেশ্য সীমাহীন দুর্নীতি, তৃণমূলের অবাধ লুটপাট, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, বগটুইয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা আরও নানা অপকর্মকে ঢাকতে চাওয়া। সব কিছুর মূলে মমতা নিজেই।”

    মানুষ চায় একটাই নির্ভুল তালিকা

    জনসংখ্যার তুলনায় ভোটারদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘটনাকে কটাক্ষ করে শমীক (Samik Bhattacharya) বলেন, “২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ছিল ৮.০২ কোটি। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৫৬ কোটি। মোট বৃদ্ধি ২.৫৪ কোটি (৩১.৭%)। তবে ভোটার তালিকার সংখ্যার গল্প আলাদা। ২০০২ সালে ভোটার ছিল প্রায় ৪.৫৮ কোটি, ২০২৫ সালে হয়েছে ৭.৬৪ কোটি। যার বৃদ্ধির পরিমাণ ৩.০৬ কোটি (৬৭%)। ভোটার সংখ্যা, জনসংখ্যার বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। যদি ধরে নিই বাংলাদেশে গত ২০ বছরে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। ধরে নিলাম এই কমে যাওয়া পুরো সংখ্যাটাই ভারতে এসেছে তবুও এতো বাড়তি ভোটারকে বিশ্লেষণ করা যায় না। তবে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটা নাগরিকের অধিকার। মানুষ চায় একটা নির্ভুল তালিকা (SIR), সঠিক ভোট আর প্রকৃত গণতন্ত্র।”

LinkedIn
Share