Tag: Saraswati Puja

Saraswati Puja

  • Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিষবৃক্ষে ফলতে শুরু করেছে বিষময় ফল! তার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল-শাসিত (TMC) রাজ্যের একাধিক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে বার্ষিক হিন্দু উৎসব সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি শহরে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বাধা সৃষ্টি হয় সরস্বতী পুজোয়।

    তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মন্দিরে তালা (Saraswati Puja)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলঘরিয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা চৌক সোসাইটি মন্দিরটিতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় হিন্দু মহিলারা সরস্বতীর আরাধনা করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট টিএমসি কাউন্সিলরও। পুলিশ জানিয়েছে, টিএমসির বিবদমান দুই গোষ্ঠী কোনও সমঝোতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত তারা তালা ভাঙবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরটি সকলের জন্য একটি সাধারণ উপাসনাস্থল হোক। এখানে একটি মাত্র তালা থাকবে, যার দুটি চাবি থাকবে, একটি ওদের কাছে, অন্যটি আমাদের কাছে।” আর এক মহিলা বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার।”

    পুজো বন্ধ কলেজ-স্কুলেও

    এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সরস্বতী পুজোর আয়োজন করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া টিএমসি নেতার নাম দাউদ আলম মোল্লা। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ওই ছাত্রী বলেন, “দাউদ আলম মোল্লা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে আমায় হুমকি দিয়েছে যে সে আমার এলএলএম (LLM) নষ্ট করে দেবে।” উল্লেখ্য, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী (TMC), কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ শব্বির আলি সরস্বতী পুজোর আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।

    এদিন, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে টিএমসির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তলব করা হয়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার ওসি এবং এসডিপিও কলেজ চত্বরে পৌঁছন (Saraswati Puja)। পুজোয় অংশ নিতে আসা হিন্দু ভক্তদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, শাসক দলের দুষ্কৃতীরা কলেজ ক্যাম্পাসকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরের আর একটি ঘটনায়, স্কুল চত্বরে সরস্বতী পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকায় পুজোর অনুমতি নাকচ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের দেবী সরস্বতীর পুজো করতে বাধা দিচ্ছেন।

    ফুটপাতে পুজোর আয়োজন!

    শেষ পর্যন্ত হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে, ফুটপাতে পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য করা হয় (Saraswati Puja)। প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তারা বলেছে, এই স্কুলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় এখানে পুজো করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে থাকা হিন্দুদের অবস্থা আর বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই (TMC)।” তিনি এও বলেন, “পুলিশ দেবী সরস্বতীকেও স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল দিতে হয়েছে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইট-বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গ কি এখন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে?” তিনি এও লেখেন, “এই ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়, যদি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে।” উপরোক্ত চারটি ঘটনা স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই যেমন দেখা যায়, হিন্দুদের অধিকার সংক্রান্ত বহু খবরই মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই সরস্বতী পুজো ব্যাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা (TMC) কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না (Saraswati Puja)।

  • Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বসন্ত পঞ্চমী। আজ সরস্বতী পুজো। চারদিকে চলছে বাগদেবীর আরাধনা। সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja 2026) হলুদ রঙের পোশাক পরার চল রয়েছে। এই দিন কিশোর ছেলেদের হলুদ পাঞ্জাবি ও কিশোরীদের হলুদ শাড়ি পরতে দেখা যায়। তবে ঠিক কোন কারণে হলুদ পরা হয়? সে কারণই আমরা জানব। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে (Saraswati Puja) আরাধিত হন দেবী সরস্বতী। অনেকে মনে করেন, এই দিন থেকেই আগমন ঘটে বসন্ত ঋতুর। তাই একে বসন্ত পঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে হলুদ রঙের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয় (Saraswati Puja 2026)

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয়। এতে দেবী সরস্বতী সন্তুষ্ট হন বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হলুদ রঙ জীবনে আনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঠিক এই কারণেই মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা হয়। অন্যদিকে এর বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। মনে করা হয়, হলুদ রঙ মানসিক চাপ দূর করে মনে গভীর শান্তি আনে। এর পাশাপাশি হলুদ রঙ আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

    হলুদ রঙে থাকে পজিটিভ এনার্জি

    সরস্বতী পুজোর সময়ে সর্ষে ফুলে (Saraswati Puja 2026) ছেয়ে যায় চারিদিকে। তাই কেউ কেউ বলেন, হলুদ ফুল দিয়ে ঘর সাজালে পজিটিভ এনার্জি থাকে। একইসঙ্গে হলুদ রঙকে সুখ, আশা, জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও রোদের প্রতীক বলে মানা হয়। বসন্ত ও বন্ধুত্বের রঙও হল হলুদ।

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। হলুদ রঙের অর্থ কোনও কিছুর নতুন সূচনা। হলুদ রঙ শুভ ও মঙ্গলদায়ক শক্তির দিকে আমাদের আকর্ষণ করে। হলুদ রঙ আশার রঙ হিসেবেও পরিচিত অনেকের কাছে। একে জীবনের এবং শুভবুদ্ধির রঙ বলে মানা হয়। বসন্তের শুরুতে এই রঙ মনে নতুন আশার সঞ্চার (Saraswati Puja 2026) ঘটায় আবার সুস্বাস্থ্যেরও প্রতীকও হলুদ রঙ।

  • Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে… ’’

    আজ বসন্ত পঞ্চমী। ধুমধাম করে ঘরে-ঘরে, স্কুল-কলেজে, পাড়ায়-পাড়ায় পালিত হচ্ছে সরস্বতী পুজো। সকাল থেকেই চলছে বাগদেবীর আরাধনা। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পালা। তবে, সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja 2026) গুরুত্ব বর্তমানে দেবী আরাধনার মধ্যেই আটকে নেই। পুজো পুজো ভাব প্রায় ১ মাস আগেই শুরু হয়ে যায়, বালক বা বালিকারা এইসময় মনে করে সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিনই কুল খাওয়া শুরু করতে হয়। এর আগে কুল খেলে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। যেমনটা আমরা সবাই ছেলেবেলায় বা মেয়েবেলায় ভাবতাম। বয়ঃসন্ধিকালে এই পুজোর দিন মনে প্রেমভাব জাগ্রত হয় না এমন কিশোর-কিশোরী খুঁজে পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজে আলপনা, চিত্রপ্রদর্শনী, পুষ্পাঞ্জলি, পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে সরস্বতী পুজো।

    সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীগুলি…

    গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত‍্যের “নবরত্ন” সভার কথা নিশ্চয় সবাই শুনেছি। এখানে অন‍্যতম শ্রেষ্ঠরত্ন ছিলেন মহাকবি কালিদাস। ঋক বৈদিক যুগ থেকেই সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) প্রচলন শুরু হলেও, দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক আখ্যান মূলত কালিদাসের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু কীভাবে? আসুন জেনে নিই।

    কালীদাস ও সরস্বতী

    প্রথম জীবনে খুবই বোকা ছিলেন কালিদাস। বিভিন্ন কাহিনী অনুযায়ী তিনি থাকতেন উজ্জ্বয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে। কথিত আছে উজ্জ্বয়িনীর রাজকন্যার কাছে তর্কে পরাস্ত হয়ে তাঁকে জব্দ করতে চাইছিলেন পরাজিত পণ্ডিতদের দল। পণ্ডিতরা ভাবলেন রাজকন্যার সঙ্গে একজন বোকার বিয়ে যেভাবেই হোক দিতে হবে। এতেই জব্দ করা যাবে রাজকন্যাকে।

    পথে যেতে যেতে এক জায়গায় পণ্ডিতরা দেখলেন, একজন লোক একটি গাছের ডালের ডগায় বসে তার গোঁড়ার দিকটা কুড়ুল দিয়ে কাটছে। কিন্তু কাটার পর ডালটা যে তাকে নিয়েই মাটিতে পড়বে, সেটা বোঝার মতো জ্ঞান তার নেই। ইনিই কালিদাস। এরপর কোনওভাবে রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হল লোকটির। চরম প্রতিশোধ নিলেন পণ্ডিতরা। বিছানায় মশারির দরজা খুঁজে না পেয়ে কালিদাস ঝাঁপ দিলেন রাজকন্যার গায়েই। এবার রাজকন্যা বুঝে গেলেন, দেশের পণ্ডিতরা তাঁর সঙ্গে এক নির্ভেজাল বোকার বিয়ে দিয়েছে!

    কালিদাস স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। মনের জ্বালায় শুরু হল কালিদাসের অনিশ্চিত পথ চলা। চলতে চলতে একটি সরোবরের ধারে এসে বিশ্রাম। ঠিক করলেন, এখানকার জলে ডুবেই প্রাণ বিসর্জন দেবেন। কিন্তু তার আগেই অবাক হয়ে কালিদাস দেখলেন, সরোবরের ঘাটের পাথরের ওপর গর্ত। মেয়েরা জল নিতে এসে ওই পাথরের ওপরেই কলসি রাখে আর তাতেই ক্ষয়ে গেছে কঠিন পাথর। দেখে কালিদাস ভাবলেন, শক্ত পাথর যদি ক্ষয় হতে পারে, তবে তার বুদ্ধি হবে না কেন! ওখানেই শুরু হলো কালিদাসের সরস্বতী তপস্যা। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja) কালিদাসকে দেখা দিয়ে শ্রেষ্ঠ কবি হবার বর দিলেন। বর পেয়েই সরস্বতীর (Saraswati Puja) বরপুত্র মুখে মুখেই রচনা করে ফেললেন সরস্বতী বন্দনা।

    বীরভূমের নানুরে “সরস্বতী তলা”

    অনেকেই বলেন, তাঁর সাধনস্থল বীরভূম জেলার নানুরের “সরস্বতী তলা।” কেউ বলেন, তাঁর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ব‍র্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকার সমুদ্র উপকূল। তাই তিনি মেদিনীপুরের কাঁথির লোক। আরেকটি মতবাদ প্রচলিত আছে, বীরভূম জেলার নানুরের কাছে বেলুটি গ্রামে মহাকবি কালিদাসের আবির্ভাব ও সরস্বতী সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটে। এখানে আজও রয়েছে কালিদাসের স্মৃতিবিজড়িত “সরস্বতী তলা।”

    আরও পৌরাণিক কাহিনিি

    অপর একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর দিনেই জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ছিলেন ব্রহ্মা। যখন তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন কোনও কিছু অনুপস্থিত রয়েছে। ধরাধামে শব্দ সঞ্চারের জন্য তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে পৃথিবীতে জল ছিটিয়ে দেন। আর ঠিক সেই সময়তেই পৃথিবী কাঁপিয়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja 2026)। দেবীর হাতে ছিল বীণা, জপমালা ও বই। তখনই দেবীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সারাবিশ্ব জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। তাই বসন্ত পঞ্চমীর দিন সরস্বতীর বিশেষ পুজো করা হয়। বসন্ত পঞ্চমী জীবনের নতুন শুরুর প্রতীক বলে মনে করা হয়। বসন্ত ঋতুতে ফসল পাকতে শুরু করে। হালকা শীতের মনোরম আবহাওয়ায় প্রকৃতি রঙে ভরে ওঠে, চারিদিক রঙিন ফুলে ঢেকে যায়। গাছে গাছে নতুন পাতা, রঙিন ফুল ও ফল ধারণ করে। এই দিনটিকে নতুন জিনিস শুরু করার জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।

  • Saraswati Puja 2026: শুক্রবার সরস্বতী পুজো, দেখে নিন পঞ্চমী তিথি এবং অঞ্জলির সময়সূচি

    Saraswati Puja 2026: শুক্রবার সরস্বতী পুজো, দেখে নিন পঞ্চমী তিথি এবং অঞ্জলির সময়সূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদ্যা, জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী হিসেবে আরাধিত হন মা সরস্বতী (Saraswati Puja 2026)। দেবী শ্বেতপদ্মে অধিষ্ঠান করেন, তাঁর এক হাতে থাকে পুস্তক, অন্য হাতে দেখা যায় বীণা। হাতে বীণা থাকার কারণে দেবী সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেবী সরস্বতী হলেন বৈদিক দেবী। বৈদিক যুগে অবশ্য চারহাতের দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই চার হাতে পুস্তক, জপমালা, জলের পাত্র এবং বীণা ধারণ করে থাকে দেবী। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুস্তক হল বিদ্যা, জপমালা হল জ্ঞান, জলের পাত্র হল সৃষ্টি এবং বীণা হল সঙ্গীতের প্রতীক। এক কথায় বলতে গেলে, দেবী সরস্বতীকে অপার্থিব সম্পদের দেবী মানা হয়। বসন্ত পঞ্চমীর পবিত্র তিথিতে অভ্র, আবির, আমের মুকুল, যবের শীষ এবং দোয়াত-কলম সহযোগে দেবী সরস্বতীর পুজো করা হয়।

    কবে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja 2026)?

    মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে হয় দেবী সরস্বতীর (Saraswati Puja 2026) আরাধনায় মেতে ওঠেন সকলে। ঠিক এই কারণেই সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি এই দিনটি বসন্ত পঞ্চমী হিসেবেও পালিত হয় দেশজুড়ে। শুধু বাংলাই নয়, ওড়িশা, উত্তর ভারত, নেপাল, ভুটানেও এই পুজো ধুমধাম করে পালিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন জ্ঞান, বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী।

    উদয় তিথি অনুযায়ী, চলতি বছর সরস্বতী পুজো পড়েছে ২৩ জানুয়ারি। অর্থাৎ আগামিকাল, শুক্রবার সরস্বতী পুজো। আর মাত্র কিছু ঘণ্টার অপেক্ষা। বাংলা তারিখ অনুযায়ী দিনটি ৯ মাঘ। দেখে নিন পঞ্জিকা অনুসারে কখন পড়েছে বসন্ত পঞ্চমী তিথি।

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে–

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    ইংরেজি– ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার।
    বাংলা– ৮ মাঘ, বৃহস্পতিবার।
    সময়– রাত ২টো ৩০ মিনিট।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    ইংরেজি– ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার।
    বাংলা– ৯ মাঘ, শুক্রবার।
    সময়– রাত ১টা ৪৭ মিনিট।

    গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে –

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    ইংরেজি– ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার।
    বাংলা– ৮ মাঘ, বৃহস্পতিবার।
    সময়– রাত ১টা ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    ইংরেজি– ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ।
    বাংলা– ৯ মাঘ, শুক্রবার।
    সময়– রাত ১২টা ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড।

    পুজোয় কী কী লাগে?

    ভোরে স্নান সেরে উপোস করে বাগদেবীর অঞ্জলি দেওয়াই হল রীতি। এই পুজোয় সাধারণত তিনবার পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়। বিদ্যা, বুদ্ধি এবং জ্ঞানের আশীর্বাদ চান পড়ুয়ারা। সরস্বতী পুজোয় খুব বেশি জাঁকজমক না থাকলেও কিছু কিছু জিনিস দরকার হয়। যেমন- বই, খাতা, দোয়াত, কলম, আমের মুকুল, গাঁদা ফুল অথবা পলাশ ফুল, আবির এবং বাদ্যযন্ত্র। বাসন্তী রঙের ফুলই এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ।

    সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

    ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
    বীণা-পুস্তক রঞ্জিত হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে।।
    নমঃ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
    বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
    এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।

    বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য

    মা সরস্বতীর (Saraswati Puja) পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, পেন এবং বাদ্যযন্ত্রের পুজোও করা হয় এই বিশেষ দিনে। অনেক বাড়িতেই শিশুদের প্রথম হাতেখড়ির অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় এই দিন। তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম বিদ্যাচর্চা শুরু হয় এই দিন থেকেই। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। এছাড়া বসন্তের আগমনের বার্তা বয়ে আনে হলুদ রং। দেবীভাগবত পুরাণ থেকে জানা যায়, পরম কুস্মন্দের প্ৰথম অংশে দেবী সরস্বতীর জন্ম। বিষ্ণুর জিহ্বাগ্র থেকে তাঁর উৎপত্তি । সরস্বতী বাক, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

  • Indian jujube: সরস্বতী পুজোর পরেই শুরু হয়েছে কুল খাওয়া! জানেন শরীরে কী প্রভাব পড়ছে?

    Indian jujube: সরস্বতী পুজোর পরেই শুরু হয়েছে কুল খাওয়া! জানেন শরীরে কী প্রভাব পড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্কঃ বাঙালির বাণীবন্দনা পর্বের পরেই শুরু হয় কুল! সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) পরেই বাজারে পাওয়া যায় অঢেল কুল। কেউ আচার বানিয়ে খেতে পছন্দ করেন, আবার কেউ ফল হিসেবে খান। কেউ কেউ আবার নুন মাখিয়ে বিকেলে কুলমাখা খান! বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ফলের শরীরে গভীর প্রভাব রয়েছে! কেউ‌ কেউ কুল থেকে একাধিক উপকারিতা লাভ করতে পারেন, আবার কুল বিপদও ডেকে আনতে পারে। তাই কুল (Indian jujube) খাওয়ার আগে এই ফল সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

    কুল থেকে কী উপকার পাওয়া যায় (Indian jujube)?

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বাঁচাবে সর্দি-কাশির হাত থেকে! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। এই সময়ে আবহাওয়ার রকমফের হয়। তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করে। আর তার ফলে অনেকেই সর্দি-কাশিতে ভোগেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফল খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। সর্দি-কাশিতে ভোগান্তি কম হবে।

    কুল (Indian jujube) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার!

    কুলের (Indian jujube) পুষ্টিগুণ প্রচুর। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই এই ফল খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ থেকে সাধারণ জীবাণু বাহিত অসুখ, সবকিছুই মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। তাই কুল খেলে শরীর সুস্থ থাকবে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফল হিসেবে নিয়মিত কাঁচা কুল (Indian jujube) খেলে এর দুটো‌ বড় উপকার পাওয়া যেতে পারে। কুল রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত কুল খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্যও তাই এই ফল উপকারী। আবার ওজন কমাতেও এই ফল খুব সাহায্য করে। এই ফল প্রাকৃতিক ভাবে শরীরে ডিটক্স করে। তাই ওজনেও নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্থুলতা রুখতে কুল খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    চামড়ার জন্য খুবই উপকারী কুল!

    ত্বকের সমস্যা মোকাবিলায় কুল (Indian jujube) বাড়তি সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার রকমফেরে‌ বছরের এই সময়ে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়। ফলে ত্বক রুক্ষ্ম হয়ে যায়। কুল এক্ষেত্রে খুবই উপকারী। ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফল নিয়মিত খেলে চামড়া মসৃণ থাকে। রুক্ষ্মতা কমে।

    কাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে কুল?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুল (Indian jujube) কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেই এর বিপদ নির্ভর করছে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নুন মিশিয়ে কুল খান। নিয়মিত বাড়তি নুন খাওয়া শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিশেষত যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই নুন মেশানো কুল খুবই বিপজ্জনক। তাই কুল ফল হিসাবে শুধু খেলে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এর উপকার পাওয়া যাবে।‌ না হলে এই ফল থেকেও নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Saraswati Puja Nadia: নজিরবিহীন! পুলিশ প্রহরায় স্কুলে সরস্বতী পুজো, নদিয়ায় মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Saraswati Puja Nadia: নজিরবিহীন! পুলিশ প্রহরায় স্কুলে সরস্বতী পুজো, নদিয়ায় মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নজিরবিহীন, পুলিশি প্রহরায় বাগদেবীর আরাধনা! রাজ্যের এমনই অবস্থা যে বিদ্যার দেবীর আরাধনাও করতে হয় পুলিশ প্রহরার মধ্য দিয়ে। সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নদিয়ার হরিণঘাটা থানার নগরউখড়া এলাকায় একটি সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অঞ্জলি দিতে দেখা যায় তাঁকে। সেখানেই কলকাতার যোগেশচন্দ্র ল কলেজে পুলিশি প্রহরায় সরস্বতী পুজো নিয়ে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।

     

    সেনা দিয়ে সরস্বতী পুজো!

    নগরউখড়ায় একটি প্রাথমিক স্কুলে সরস্বতী পুজো করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে বিতর্ক হয়েছিল। সেই নগরউখড়ারই একটি সরস্বতী পুজোয় এদিন যোগ দেন শুভেন্দু। পুলিশি প্রহরায় কলকাতার কলেজে পুজো নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “এটাও বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়েছে। ওপারের যশোরে সেনা দিয়ে পুজো হচ্ছে। আর এপারে পুলিশ দিয়ে পুজো হচ্ছে। তাও হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে।” এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, বিজেপি সরকার গঠন হলে জিহাদিমুক্ত বাংলা হবে। উল্লেখ্য সোমবার , হরিণঘাটার দাসপোলডাঙা প্রাথমিক স্কুলে বাণীবন্দনাতেও হাজির রইল পুলিশ। নামানো হল র‍্যাফও। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে কচিকাঁচাদের বাগদেবীর আরাধনায় স্কুলে যেতে হল ।

     

    পুজোর জন্য পুলিশি প্রহরা

    ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। এই স্কুলে আগে কখনও সরস্বতী পুজো হয়নি। এ বছরই প্রথম বিদ্যালয়ে বাগদেবীর আরাধনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, হরিণঘাটা দাসপোলডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো হবে এই খবর পেয়েই নাকি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। হরিণঘাটার দাসপোলডাঙা প্রাথমিক স্কুলে সরস্বতী পুজো করা যাবে না বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বদলির হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এই ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে যিনি হুমকি দেন, তিনি তৃণমূলের বুথ সভাপতি আলিমুদ্দিন মণ্ডল। যদিও এর আগে অভিযুক্তর দলীয়-যোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। এরপরই সতর্ক হয় জেলা প্রশাসন। তাই সোমবার বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পুজোর জন্য বসাতে হয় পুলিশি প্রহরা। সোমবার যখন স্কুলে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা চলছে, তখন বাইরে লাঠিধারী পুলিশকে পাহারা দিতে হয় । অশান্তি রুখতে নামাতে হয় র‍্যাফ। নিরাপত্তার খাতিরে হরিণঘাটার স্কুলের গেট বন্ধ করে হয় বাণীবন্দনা। বাইরেই দাঁড়াতে হয় পড়ুয়াদের অভিভাবকদের। বাইরে থেকেই তাঁরা উলুধ্বনি দেন। পুজো শেষ হয় নির্বিঘ্নেই।

  • Saraswati Puja: বাংলাদেশে পুজোর আগে ভাঙা হল সরস্বতী প্রতিমা, গ্রেফতার সেই ‘পাগল’

    Saraswati Puja: বাংলাদেশে পুজোর আগে ভাঙা হল সরস্বতী প্রতিমা, গ্রেফতার সেই ‘পাগল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবী দুর্গার পর এবার সরস্বতী (Saraswati Puja)। বাংলাদেশে (Bangladesh) ফের আঘাত সনাতন ধর্মের ওপর। ফরিদপুরের একটি মন্দিরে সরস্বতী প্রতিমা ভেঙে ফেলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, এই ব্যক্তি গত বছরও একই কাণ্ড ঘটিয়েছিল।

    দুষ্কর্ম করেছে আগেও (Saraswati Puja)

    সেবার সে ভেঙে দিয়েছিল ইসকনের সরস্বতী মূর্তি। তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল শেখ হাসিনার সরকার। দেশে পালাবদল ঘটেছে। এখন ক্ষমতায় রয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকার। সেবার তাকে ‘পাগল’ তকমা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তার কঠিন শাস্তি হবে বলেই আশ্বাস পুলিশের।

    কী বলছেন ছাত্ররা

    ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সরস্বতী পুজো। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার কালীমন্দিরে গিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে ওই ব্যক্তি। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র সমর মণ্ডল বলেন, “সোমবার সরস্বতী পুজো। এলাকার এক মৃৎশিল্পীকে দিয়ে প্রতিমাটি বানানো হচ্ছিল। আমরা এই মন্দিরের পাশের একটি ছাত্রাবাসে থাকি। এখানে আমরা অনেকে মিলে সরস্বতী পুজো করতে চেয়েছিলাম। অনেক বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করেছিলাম। কিন্তু প্রতিমাটি এমন সময় ভাঙা হল যে নতুন করে মূর্তি গড়িয়ে পুজোর আর সময় নেই (Saraswati Puja)।” ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শৈলেন চাকমা বলেন, “এই ঘটনায় মন্দির কমিটির একজন বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পেশ করা হবে।”

    পুলিশ সূত্রে খবর, বছর তিরিশের আটক যুবকের নাম মিরাজউদ্দিন। রাজবাড়ি সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজেদপুর গ্রামে তার বাড়ি। সে ফরিদপুর শহরে ইজিবাইক চালায়। শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড় এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকে সে। মন্দিরের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাতে এক ব্যক্তি মন্দিরের সামনে ইজিবাইক রেখে মন্দিরের বারান্দায় গিয়ে সরস্বতী প্রতিমাটি ধাক্কা দিয়ে ফেলে ভেঙে দেয়। মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্য রামচন্দ্র মালো বলেন, “ওই একই ব্যক্তি গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ইসকন মন্দিরের সরস্বতী প্রতিমা ভেঙে দিয়েছিল। তখন তাকে পাগল বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।”

    হাসিনার জমানায়ও হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইউনূসের আমলে তা তুঙ্গে উঠেছে। তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতাদেরও অনেকেই। তারও পরেও যে বাংলাদেশ আছে বাংলাদেশেই (Bangladesh), এই ঘটনাই তার প্রমাণ (Saraswati Puja)।

  • Saraswati Puja 2025: জানেন হলুদ পোশাক কেন পরা হয় সরস্বতী পুজোতে?

    Saraswati Puja 2025: জানেন হলুদ পোশাক কেন পরা হয় সরস্বতী পুজোতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রীতি অনুযায়ী সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja 2025) হলুদ রঙের পোশাক পরার চল রয়েছে। চলতি বছরে ৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে সরস্বতী পুজো। পঞ্চমী পড়েছে আজ রবিবার ২ ফেব্র‌ুয়ারি বেলা ১২টা ৩৪ মিনিটে। অন্যদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে পঞ্চমী ছাড়বে। সেই কারণে অনেকেই আজ রবিবারেও সরস্বতী পুজো করবেন। এদিন ছেলেদের হলুদ পাঞ্জাবি ও মেয়েদের হলুদ শাড়ি পরতে দেখা যায়। তবে ঠিক কোন কারণে হলুদ পরা হয়? সে কারণই আমরা জানব। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে (Saraswati Puja) আরাধিত হন দেবী সরস্বতী। অনেকে মনে করেন, এই দিন থেকেই আগমন ঘটে বসন্ত ঋতুর। তাই একে বসন্ত পঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে হলুদ রঙের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয় (Saraswati Puja 2025)

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হলুদ রঙ জীবনে আনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঠিক এই কারণেই মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা হয়। অন্যদিকে এর বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। মনে করা হয়, হলুদ রঙ মানসিক চাপ দূর করে মনে গভীর শান্তি আনে। এর পাশাপাশি হলুদ রঙ আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

    হলুদ রঙে থাকে পজিটিভ এনার্জি (Saraswati Puja 2025)

    সরস্বতী পুজোর সময়ে সর্ষে ফুলে (Saraswati Puja 2025) ছেয়ে যায় চারিদিকে। তাই কেউ কেউ বলেন, হলুদ ফুল দিয়ে ঘর সাজালে পজিটিভ এনার্জি থাকে। একইসঙ্গে হলুদ রঙকে সুখ, আশা, জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও রোদের প্রতীক বলে মানা হয়। বসন্ত ও বন্ধুত্বের রঙও হল হলুদ।

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। হলুদ রঙের অর্থ কোনও কিছুর নতুন সূচনা। হলুদ রঙ শুভ ও মঙ্গলদায়ক শক্তির দিকে আমাদের আকর্ষণ করে। হলুদ রঙ আশার রঙ হিসেবেও পরিচিত অনেকের কাছে। একে জীবনের এবং শুভবুদ্ধির রঙ বলে মানা হয়। বসন্তের শুরুতে এই রঙ মনে নতুন আশার সঞ্চার (Saraswati Puja 2025) ঘটায় আবার সুস্বাস্থ্যেরও প্রতীকও হলুদ রঙ।

  • Saraswati Puja: ঠিক কবে সরস্বতী পুজো? জানুন বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য

    Saraswati Puja: ঠিক কবে সরস্বতী পুজো? জানুন বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদ্যা, জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী হিসেবে আরাধিত হন মা সরস্বতী (Saraswati Puja)। দেবী শ্বেতপদ্মে অধিষ্ঠান করেন, তাঁর এক হাতে থাকে পুস্তক, অন্য হাতে দেখা যায় বীণা। হাতে বীণা থাকার কারণে দেবী সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেবী সরস্বতী হলেন বৈদিক দেবী। বৈদিক যুগে অবশ্য চারহাতের দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই চার হাতে পুস্তক, জপমালা, জলের পাত্র এবং বীণা ধারণ করে থাকে দেবী। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুস্তক হল বিদ্যা, জপমালা হল জ্ঞান, জলের পাত্র হল সৃষ্টি এবং বীণা হল সঙ্গীতের প্রতীক। এক কথায় বলতে গেলে, দেবী সরস্বতীকে অপার্থিব সম্পদের দেবী মানা হয়। বসন্ত পঞ্চমীর পবিত্র তিথিতে অভ্র, আবির, আমের মুকুল, যবের শীষ এবং দোয়াত-কলম সহযোগে দেবী সরস্বতীর পুজো করা হয়।

    কবে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)?

    মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে হয় দেবী সরস্বতীর (Saraswati Puja) আরাধনায় মেতে ওঠেন সকলে। ঠিক এই কারণেই সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি এই দিনটি বসন্ত পঞ্চমী হিসেবেও পালিত হয় দেশজুড়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন জ্ঞান, বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী। তবে চলতি বছরে কবে পালিত হবে সরস্বতী পুজো? তা নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে অনেকের মনেই। দেখে নিন পঞ্জিকা অনুসারে কবে পড়েছে বসন্ত পঞ্চমী? দেবী সরস্বতীর আরাধনা করার সঠিক দিন কবে?

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে:

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    বাংলা– ১৯ মাঘ, রবিবার।

    ইংরেজি– ২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।

    সময়– সকাল ৯টা ১৬ মিনিট।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    বাংলা– ২০ মাঘ, সোমবার।

    ইংরেজি– ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার।

    সময়– সকাল ৬টা ৫৩ মিনিট।

    গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে:

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    বাংলা– ১৯ মাঘ, রবিবার।

    ইংরেজি– ২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।

    সময়– বেলা ১২টা ১২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    বাং– ২০ মাঘ, সোমবার।

    ইং– ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার।

    সময়– সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড।

    অন্যান্য পঞ্জিকা কী বলছে?

    অন্যদিকে, দৃকপঞ্জিকা অনুসারে ২ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে পঞ্চমী পড়ছে। ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ৬টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত পঞ্চমী থাকবে। এর পরেই পড়ে যাচ্ছে মাঘ শুক্লা ষষ্ঠী। প্রসঙ্গত, উদয়া তিথি অনুসারে ৩ ফেব্রুয়ারি হল বসন্ত পঞ্চমী (Saraswati Puja)। কিন্তু সেদিন যেহেতু খুব সকালেই পঞ্চমী ছেড়ে যাচ্ছে, তাই ২ না ৩ ফেব্রুয়ারি, কবে সরস্বতী পুজো করবেন, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই। বেণীমাধব শীলের গার্হস্থ্য পঞ্জিকা বলছে, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা ৩৪ মিনিটে পঞ্চমী পড়ছে। সোমবার ৯টা ৫৯ মিনিটে পঞ্চমী ছাড়ছে। তবে শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা, সকালে পঞ্চমী ছেড়ে গেলেও বসন্ত পঞ্চমী তিথি যেহেতু ৩ ফেব্রুয়ারি, তাই সেদিনই পুজো করতে বলছেন সবাই।

    বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য (Saraswati Puja)

    মা সরস্বতীর (Saraswati Puja) পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, পেন এবং বাদ্যযন্ত্রের পুজোও করা হয় এই বিশেষ দিনে। অনেক বাড়িতেই শিশুদের প্রথম হাতেখড়ির অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় এই দিন। তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম বিদ্যাচর্চা শুরু হয় এই দিন থেকেই। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। এছাড়া বসন্তের আগমনের বার্তা বয়ে আনে হলুদ রং। দেবীভাগবত পুরাণ থেকে জানা যায়, পরম কুস্মন্দের প্ৰথম অংশে দেবী সরস্বতীর জন্ম। বিষ্ণুর জিহ্বাগ্র থেকে তাঁর উৎপত্তি । সরস্বতী বাক, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

    পৌরাণিক আখ্যান

    পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, বসন্ত পঞ্চমীর দিনেই জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ছিলেন ব্রহ্মা। যখন তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন কোনও কিছু অনুপস্থিত রয়েছে। ধরাধামে শব্দ সঞ্চারের জন্য তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে পৃথিবীতে জল ছিটিয়ে দেন। আর ঠিক সেই সময়তেই পৃথিবী কাঁপিয়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja 2025)। দেবীর হাতে ছিল বীণা, জপমালা ও বই। তখনই দেবীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সারাবিশ্ব জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। তাই বসন্ত পঞ্চমীর দিন সরস্বতীর বিশেষ পুজো করা হয়। বসন্ত পঞ্চমী জীবনের নতুন শুরুর প্রতীক বলে মনে করা হয়। বসন্ত ঋতুতে ফসল পাকতে শুরু করে। হালকা শীতের মনোরম আবহাওয়ায় প্রকৃতি রঙে ভরে ওঠে, চারিদিক রঙিন ফুলে ঢেকে যায়। গাছে গাছে নতুন পাতা, রঙিন ফুল ও ফল ধারণ করে। এই দিনটিকে নতুন জিনিস শুরু করার জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।

  • Malda: সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলে হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ

    Malda: সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলে হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরস্বতী পুজো করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি। প্রথমে শুরু হয় বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে, পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, লাঠিচার্জের অভিযোগ তোলেন বিজেপি সমর্থক গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হবিবপুর থানার শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীর্ষি এলাকায়। ের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা।

    স্থানীয়দের বক্তব্য (Malda)

    এলাকায় (Malda) সরস্বতী পুজোকে ঘিরে মারধরের প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি সমর্থক উত্তম মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “আমরা এলাকায় পুজো করছিলাম। আচমকা তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের উপর আক্রমণ করে। আমাদের পুজোর সামগ্রী ফেলে দেয় তারা। এরপর আমাদেরকে মারধর করে। ঘটনায় পুলিশে খবর দিলে হবিবপুর থানার পুলিশ এসে উলটে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    বিজেপির অভিযোগ, এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ মদতে পুলিশ এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদেরকে মালদা (Malda) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত। তিনি বলেন, “পুলিশ দোষীদের না ধরে বিজেপি সমর্থক গ্রামবাসীদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। পুলিশ অফিসার বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী স্থানীয় তৃণমূল নেতার নির্দেশে এই কাজ করেছেন। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।” পরে অবশ্য গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে হবিবপুর থানা ও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

    তৃণমূলের বক্তব্য

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সরস্বতী পুজো হয়ে থাকে একটি জমিতে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী দেব মন্ডল দাবি করেন ওই জমিটি তাঁর। আর এই নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। ঘটনায় বিবাদ থামাতে হবিবপুর (Malda) থানার পুলিশ পৌঁছে সামাল দেয় গ্রামবাসীদের। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিপ্লব মন্ডল বলেন, “সরস্বতী পুজো করে গায়ের জোরে অশান্তি তৈরি করেছে বিজেপি।” আবার জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি বলেন, “সারা বাংলায় তৃণমূলের উন্নয়নের কাজে বিজেপি উস্কানি দিয়ে চলেছে। সরস্বতী পুজোর দিনে এই সংঘর্ষ কাম্য নয়। পুলিশকে আরও সংযত হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share