Tag: sarsanghchalak

  • Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    Rajnath Singh: ‘‘আরএসএস একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই’’, বললেন রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসকে (RSS) “সভ্যতাগত শক্তি” বলে উল্লেখ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি বলেন, “এই সংগঠনের অস্তিত্ব বা কাজের মূল্যায়নের জন্য কোনও সরকারি স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন হয় না।” নয়াদিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি ভবনে আরএসএসের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আরএসএস অ্যাট ১০০: আ সেঞ্চুরি অব সার্ভিস, ইউনিটি অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস’ বইটির আবরণ উন্মোচন করেন রাজনাথ। সেখানেই তিনি জানান, আরএসএসের প্রত্যেক সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা করেছেন এবং সংগঠনটি বরাবরই “দেশ সবার আগে” এই আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করেছে। বইটির লেখক শ্যাম জাজু ও অনুপম ত্রিবেদী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন, দিল্লি বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্ত, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের সভাপতি রামবাহাদুর রাই, আরএসএসের প্রান্ত সংঘচালক পবন জিন্দল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান (Rajnath Singh)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, আরএসএসের প্রতিটি সরসংঘচালক সমাজে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটি সব সময় “দেশ সবার আগে, সর্বদা সবার আগে” এই ভাবনা অনুসরণ করেছে। সেই কারণেই আজ আরএসএস বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার আরএসএসের নিবন্ধন নিয়ে করা মন্তব্যেরও জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, “এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন গঠনের অধিকার দিয়েছে।” রাজনাথ বলেন, “একজন মায়ের ভালোবাসার জন্য কোনও লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। একজন গুরুর দেওয়া মূল্যবোধ কোনও সরকারি সিলমোহরের ওপর নির্ভর করে না। মা গঙ্গার প্রবাহিত হওয়ার জন্য কোনও অনুমতির দরকার হয় না। সূর্যের আলো ছড়াতে কোনও নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। ঠিক তেমনই আরএসএস (RSS) একটি সভ্যতাগত শক্তি, যার কোনও স্বীকৃতি বা শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।”

    “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”

    তিনি বলেন, “বিশ্বে এমন খুব কম সংগঠনই রয়েছে, যারা এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় পরিসরে কাজ করেও কখনও ভাঙনের মুখে পড়েনি।” তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে সংগঠনের নেতৃত্বের গুণমান এবং সেই আদর্শ, যার মূল বক্তব্য হল “সব কিছুই দেশের, কিছুই আমার নয়”। তিনি বলেন, “আরএসএস কখনও নিজেদের কাজের প্রচার করে না। সংগঠনের অন্যতম প্রধান নীতি হল খ্যাতি বা প্রচারের প্রতি অনাসক্ত থাকা।” আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সংগঠনটি এই উপলক্ষকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে না দেখে আত্মসমালোচনা এবং আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে আরএসএস পাঁচটি অঙ্গীকার বা ‘পঞ্চ প্রাণ’ গ্রহণ করেছে।” তাঁর বক্তব্য, এই পাঁচটি অঙ্গীকারের লক্ষ্য হল মূল্যবোধসম্পন্ন, সক্ষম, স্বনির্ভর, পরিবেশ-সচেতন এবং কর্তব্যপরায়ণ সমাজ গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, এই পাঁচটি অঙ্গীকারই উন্নত ভারতের পাঁচটি ভিত্তিস্তম্ভ (Rajnath Singh)।

    শক্তিশালী প্রহরী

    রাজনাথ জানান, দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আরএসএসের ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই সংগঠন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে মহারাজা হরি সিংকে বোঝানোর জন্য এমএস গোলওয়ালকরকে পাঠানো হয়েছিল। আবার ১৯৫৪ সালে দাদরা ও নগর হাভেলি মুক্ত করার আন্দোলনেও আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গোয়া মুক্তি আন্দোলনেও স্বয়ংসেবকদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আরএসএসকে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার এক শক্তিশালী প্রহরী বলেও (RSS) অভিহিত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৯৫০ সালে সরকার যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করেছিল, তখন আরএসএস তার বিরোধিতা করেছিল।” রাজনাথ আরও বলেন, “১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আরএসএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যে কোনও ব্যক্তি যদি একবার আরএসএসের একটি শাখায় গিয়ে তাদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তাহলে তিনি সংগঠনটির অনুরাগী হয়ে উঠবেন।”

    সঙ্কটের সময় সবার আগে

    ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, “১৯৩২ সালে সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস অ্যান্ড বেরারের সরকার আরএসএসকে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই সময় প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্শি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছিলেন, ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনও সম্প্রদায়ের বিরোধী হতে পারে না (Rajnath Singh)।” বামপন্থী প্রচারের কারণে অনেকের মধ্যে আরএসএস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, এই বই পড়লে সেই ভুল ধারণা দূর হবে এবং মানুষ সংগঠনটিকে নতুনভাবে বুঝতে পারবেন (RSS)। তিনি বলেন, “১৯২৫ সালে ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার যে বীজ রোপণ করেছিলেন, আজ তা বিশাল বটগাছে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি কোনওটি হয়, তবে সেটি আরএসএস। গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি সংস্কৃতি, ধর্ম এবং ভারতীয় পরিচয় রক্ষায় কাজ করে চলেছে। শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বয়ংসেবকেরা দেশের যে কোনও সঙ্কটের সময় সবার আগে এগিয়ে এসেছেন।”

    উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপরাষ্ট্রপতিও। তিনি জানান, আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত বোধ করছেন। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “আরএসএসের যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে সংগঠিত স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং নিজের স্বার্থের আগে সমাজসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূল্য কতটা গভীর।” তিনি আরও বলেন, “আরএসএস ধারাবাহিকভাবে চরিত্র গঠন এবং নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে (Rajnath Singh)।” এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আরএসএসের ইতিহাস, সংগঠনের আদর্শ, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া অঙ্গীকার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবির কথা তুলে ধরা হয় (RSS)। পাশাপাশি সংগঠনটিকে দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত করে তার ভূমিকার প্রশংসাও (Rajnath Singh) করেন দুই শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী।

     

  • Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এদিন তিনি সৌরাষ্ট্র–কচ্ছ অঞ্চলের রাজকোটে অনুষ্ঠিত ‘প্রমুখজন বিচার গোষ্ঠী’তে ভাষণ দেন। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    সংঘের কার্যপ্রণালী (Mohan Bhagwat)

    ভাগবত বলেন, “অবহেলা, বিরোধিতা ও বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, আরএসএস যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একমাত্র হিন্দু সমাজের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা জাতির জন্য কাজ করেন, তাঁরা সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, আরএসএস তাঁদের নিজেদের স্বয়ংসেবক হিসেবেই মনে করে।” সংঘের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে ভাগবত বলেন, “আরএসএস কাউকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। সংঘের কাজের ভিত্তি হল সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক স্নেহ ও আত্মীয়তার অনুভূতি। শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যবোধ সঞ্চার করা হয় এবং স্বয়ংসেবকদের প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের বিবেক ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণের সিদ্ধান্ত নেন।”

    হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা

    হিন্দুত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা। সংঘ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে একই দার্শনিক ভিত্তিতে কাজ করে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এই কারণেই এখানে সব পথ, সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয় এবং সম্মান করা হয়।” সরসংঘ চালক বলেন, “‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, এই ভারতীয় নীতি সত্যিকারের বিশ্বায়নের প্রতীক। অন্য দেশগুলি বিশ্বকে বাজার হিসেবে দেখে (RSS), আর আমরা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখি (Mohan Bhagwat)।” প্রশ্নোত্তর পর্বে সরসংঘচালক বলেন, “জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা ‘সাদা খাতা’র মতো এবং তারা গভীরভাবে সৎ। সমাজকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভু হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে, এবং তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।”

    মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তির প্রয়োজন

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবেশী এক দেশে হিন্দু–মুসলিম বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, এমন বিভাজনমূলক চিন্তা ভারতে ছড়াতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের মনে বেশি বিদ্যমান, আর মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তি গড়ে উঠলেই দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।” রাজকোটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার শেষে সেগুলি টবে রোপণ করা হলে মাটিতে মিশে গিয়ে উদ্ভিদে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে পশ্চিম ক্ষেত্র সংঘচালক জয়ন্তিভাই ভাদেশিয়া, সৌরাষ্ট্র প্রান্ত সংঘচালক মুকেশভাই মালাকান-সহ (RSS) শিল্পপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন (Mohan Bhagwat)।

  • Mohan Bhagwat: “হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্যই হল বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্যই হল বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা স্বেচ্ছায় ভবিষ্যতের দায়িত্ব গ্রহণ করি বা না করি, শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব অনিবার্যভাবেই যুবসমাজের কাঁধেই এসে পড়বে। আমরা যদি কেবল নিজেদের জন্যই কাজ করি, তাহলে কি আমি ও আমার পরিবার নিরাপদ থাকতে পারব? যখনই জাতির ওপর সঙ্কট নেমে এসেছে, তখনই সমাজ জেগে উঠেছে। হুন, মুঘল, পাঠান এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজত্বকালের প্রতিটি পর্যায়েই ইতিহাসে এই ছবি বারংবার দেখা গিয়েছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। শিলিগুড়িতে আয়োজিত যুব সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে কথাগুলি বলেন আরএসএস (RSS) প্রধান।

    সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ধারা (Mohan Bhagwat)

    তিনি বলেন, “সমাজে থাকা বৈষম্য ও সংকীর্ণ স্বার্থপরতা দূর করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ধারা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কারা? আমাদের আপনজন কারা? এই আত্মপরিচয়-বোধ পুনর্জাগ্রত করতেই দয়ানন্দ সরস্বতী এবং রামকৃষ্ণ–বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় কাজ শুরু হয়েছিল।” আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেবি হেডগেওয়ার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “অল্প বয়সেই ডক্টরজি নাগপুরের একটি বিদ্যালয়ে বন্দেমাতরম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনার সুযোগে হেডগেওয়ার অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং বিপ্লবী আন্দোলনকে পশ্চিম ভারতেও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠে।”

    ডক্টরজির প্রশ্ন

    আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে ডক্টরজি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে ব্রিটিশরা ভারত শাসনের অধিকার লাভ করেছিল? বীর সাভারকর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং লোকমান্য তিলকের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের মতো ডক্টরজিও উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজ গঠন ছাড়া জাতীয় পুনর্জাগরণের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। জাতির সর্বাঙ্গীণ অগ্রগতির লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। সংঘ প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “স্বয়ংসেবকরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করতে করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছেন। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের উচিত ভারতের জন্য বাঁচা, ভারতকে জানা (RSS) এবং ভারতকে গ্রহণ করা। সংঘ হল ভারতের মহান ব্যক্তিত্বদের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সারবত্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। আমরা বলি, বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান।”

    স্বয়ংসেবকদের অনুরোধ

    স্বয়ংসেবকদের অনুরোধ করে ভাগবত বলেন, “প্রত্যেকে যেন বাড়িতে সংবিধানের একটি করে কপি রাখেন এবং তা মনোযোগ দিয়ে পড়েন।” তিনি বলেন, “সংঘে আসুন, সংঘকে পর্যবেক্ষণ করুন, যাচাই করুন এবং যদি সব কিছু যথাযথ মনে হয়, তবে সংঘের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন। আসুন, আমরা সবাই জাতীয় পুনরুত্থানের এই মহান অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হয়ে উঠি।” প্রসঙ্গত, আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই যুব সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছিল। এটি জাতীয় স্তরে আয়োজিত ধারাবাহিক কর্মসূচিরই একটি অংশ (Mohan Bhagwat)।

  • Veer Savarkar: “সাভারকর ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, বিভাজনের নয়”, আন্দামানে বললেন ভাগবত

    Veer Savarkar: “সাভারকর ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, বিভাজনের নয়”, আন্দামানে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাভারকরের গান ‘সাগর প্রাণ তলমলে’র ১১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রী বিজয়া পূরমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে (Veer Savarkar) এক মহীরুহ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, সাভারকরের অসাধারণ প্রতিভা, স্পষ্ট চিন্তাধারা ও দেশের প্রতি গভীর নিষ্ঠার প্রতিফলনই এই কথাগুলি। সাভারকরের স্মৃতিচারণ উপলক্ষে আন্দামানে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “সাভারকরের ব্যক্তিত্ব ছিল সব অর্থেই পরিপূর্ণ। সঙ্গীত, কবিতা, নাটক, সাহিত্য রচনা ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছিল। আর এই সব প্রতিভাই তিনি উৎসর্গ করেছিলেন ভারত মায়ের সেবায়।”

    ‘সাগরা প্রাণ তলমলালা’ (Mohan Bhagwat)

    ‘সাগরা প্রাণ তলমলালা’ সাভারকরের (Veer Savarkar) এক ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক কবিতা। এরই ১১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, “সাভারকরের সাহিত্যকর্ম, বিশেষ করে তাঁর কবিতাগুলি, তাঁর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দান করে।” তিনি বলেন, “ভাষা, বিকাশ ও সাংস্কৃতিক চিন্তায় সাভারকরের অবদান তাঁকে এক বিশাল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যাঁর ভাবনা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।” সাভারকরের জীবনকে প্রভাবের দিক থেকে আকাশছোঁয়া বলে বর্ণনা করে ভাগবত জানান, তাঁর উত্তরাধিকার আজকের দিনে কখনও কখনও শোনা বিভাজনমূলক ভাষার সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, “দেশকে খণ্ডিত করে এমন ভাষার কোনও স্থান নেই। সংকীর্ণ মানসিকতার (RSS) পরিচয় বা সংঘাতের আশ্রয় না নিয়ে ভারতকে একটি জাতি হিসেবে দেখতে হবে, এটিই ছিল সাভারকরের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু (Mohan Bhagwat)।”

    ভাগবতের বক্তব্য  

    ভাগবত বলেন, “সাভারকর জাতির একটি সুস্পষ্ট ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন, যাকে তিনি অভিন্ন বংশপরম্পরা ও পবিত্র ভৌগোলিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সভ্যতামূলক ভাবনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।” তিনি এও বলেন, “ঔপনিবেশিক শাসনকালেও এবং স্বাধীন ভারতের সময়েও সাভারকর বহু কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কখনওই সেই তিক্ততাকে দেশের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের ওপর প্রাধান্য দিতে দেননি।”

    ‘বীরগ্যালাক্সি’ 

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতীকদের মধ্যে সাভারকরকে (Veer Savarkar) স্থান দিয়ে সরসংঘচালক বলেন, “১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী এক বিশাল ‘বীরগ্যালাক্সি’ গড়ে তুলেছিলেন, যার মধ্যে সাভারকর ছিলেন উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।” তিনি বলেন, “আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে দুই মহীরুহ ব্যক্তিত্বের ছাপ আজও স্পষ্ট। এঁরা হলেন বীর সাভারকর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। এঁরা দুজনেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক গভীর ছাপ রেখে গিয়েছেন, যা কোনওদিন মুছে ফেলা যাবে না (Mohan Bhagwat)।”

    ‘সাগর প্রাণ তলমলে’র ১১৫তম বার্ষিকী

    এদিকে, ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “হিন্দু সমাজের ভেতরে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অনাচারের বিরুদ্ধে সাভারকর (Veer Savarkar) সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং সমাজের বিরোধিতার মুখেও তিনি (RSS) নিজের কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অস্পৃশ্যতা দূর করতে সাভারকর এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম করেছিলেন। হিন্দু সমাজের সমস্ত অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। স্বাধীনতার আগে যাঁদের এখানে সেলুলার জেলে আনা হত, তাঁদের পরিবার কার্যত ভুলেই যেত।” তিনি বলেন, “এই কারাগার থেকে কেউ কখনও ফিরে আসবে, এমনটা কেউ ভাবতেন না। আজ এই স্থানটি ভারতবাসীর কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে, কারণ বীর সাভারকর তাঁর জীবনের কঠিন সময়টি এখানেই কাটিয়েছিলেন।” তিনি জানান, দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্য থেকেই এখানে এনে কাউকে না কাউকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

    শাহি মন্তব্য

    শাহ বলেন, “এই জায়গাটি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। কারণ আজাদ হিন্দ ফৌজ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে মুক্ত করেছিল। বসুই এখানে দু’টি দ্বীপের নামকরণ করেছিলেন ‘শহিদ’ ও ‘স্বরাজ’। পরে একে সরকারি স্বীকৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।” সাভারকর সম্পর্কে শাহ বলেন, “তিনি জন্মগত দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, কবি ও লেখক। খুব কম লেখকই গদ্য ও পদ্য—উভয় ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আমি তাঁর সাহিত্য পড়েছি, এবং আজও বলতে পারি না তিনি বেশি বড় কবি না লেখক, কারণ দু’টিতেই (RSS) তিনি ছিলেন অসাধারণ। পরবর্তী সময়ে তিনি একজন মহান ভাষাবিদ হয়ে ওঠেন। বহু নতুন শব্দ সৃষ্টি করে তিনি আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে বীর সাভারকর (Veer Savarkar) ৬০০-রও বেশি শব্দ উপহার দিয়েছেন।”

  • RSS: “শিক্ষার উচিত মূল্যবোধ এবং জাতীয় উন্নয়নের গঠনে ভূমিকা রাখা”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “শিক্ষার উচিত মূল্যবোধ এবং জাতীয় উন্নয়নের গঠনে ভূমিকা রাখা”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “শিক্ষার উচিত নয় কেবলমাত্র বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা, তার উচিত মূল্যবোধ, চরিত্র এবং জাতীয় উন্নয়নের গঠনেও ভূমিকা রাখা।” এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএসের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পালিত হল বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে যোগ দেন ভাগবত।

    সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে

    তিনি বলেন, “আমাদের কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের সমগ্র সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি এবং সম্পদের উচিত সকলের অগ্রগতিতে অবদান রাখা।” এদিনের কর্মসূচিতে ভাগবত আহ্বান জানান, সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি ও সমন্বিত শিক্ষার। আরএসএস কর্তা বিভিন্ন মতাদর্শের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। বলেন, “যাঁরা আমাদের মতের সঙ্গে একমত নন, তাঁদেরও আমাদের সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।”

    শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি (RSS) বলেন, “বিদ্যা ভারতী শুধুমাত্র শিক্ষার জন্য নয়, এটি জীবনের মূল্যবোধ এবং চরিত্র গঠনে কাজ করে। বিশ্ব এখন ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই আমাদের মানবতার সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া উচিত।” প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত এর ব্যবহার পরিচালনা করার জন্য নৈতিক কাঠামোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি সমাজের প্রতিটি দিককে গঠন করছে। আমরা যখন অগ্রগতিকে গ্রহণ করছি, তখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এটি মানবকল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে আমরা বর্জন করব।”

    ভারতীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনের উল্লেখ করে ভাগবত সমষ্টিগত সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতি সবসময় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে লালন করে এসেছে। আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক পরিবর্তন ব্যক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই শুরু হয়।” প্রসঙ্গত, আরএসএসের সহযোগী বিদ্যা ভারতী আয়োজন করেছে পাঁচ দিনের সর্বভারতীয় পূর্ণকালীন কর্মী প্রশিক্ষণ (Mohan Bhagwat) কর্মসূচি। এটি হচ্ছে ভোপালের শারদা বিহার আবাসিক স্কুল ক্যাম্পাসে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মোহন ভাগবত (RSS)।

LinkedIn
Share