Tag: Saudi Arabia

Saudi Arabia

  • Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রচলিত পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় নতুন উৎসের দিকে ঝুঁকেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া (Petroleum Supplier)। আর সেই সুযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পেছনে ফেলে কেনিয়ার সবচেয়ে বড় শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

    জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জির উদ্ধৃত বেলজিয়ামের পণ্যবাজার-তথ্য সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে ভারত এখন শীর্ষে। এর আগে এই বাজারে (Kenya) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির।

    কেনিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর জ্বালানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল কেনিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সেই নির্ভরতার জায়গায় এখন বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকল কেনিয়া (Petroleum Supplier)

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরামকো, আবুধাবির আদনক এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মতো বড় উপসাগরীয় জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমেম শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহ করত কেনিয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রফতানি পরিকাঠামো থাকায় সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ভারত।

    কেনিয়ার জ্বালানি বাজার দাপাচ্ছে ভারতের ‘সিক্কা’

    তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি সরবরাহ জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে অগাস্টে নেমে প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। কেনিয়ার জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ অবশ্য বছরের গোড়াতেই পাওয়া গিয়েছিল। ‘বিজনেস ডেইলি আফ্রিকা’র পর্যালোচনা করা সরকারি নথি অনুযায়ী, ভারতের সিক্কা বন্দর থেকে পাঠানো ৮ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার লিটার কেরোসিন গত ১৯ মার্চ কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে খালাস করা হয়। এর পর এপ্রিল মাসে সিক্কা বন্দর থেকে আরও ১৫ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার লিটার কেরোসিন ও ডিজেল পাঠানো হয়েছিল।

    পরিশোধন ক্ষমতায় ভারতের সুবিধা

    ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। তবে বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা গড়ে তোলার ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলকে প্রক্রিয়াজাত করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করতে পারে দেশটি। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিশোধনকারী দেশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ভারতেই!

    দেশে বর্তমানে ২২টি চালু তেল শোধনাগার রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সবের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সও ভারতে অবস্থিত। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই বিশাল পরিশোধন কমপ্লেক্স ভারতের জ্বালানি রফতানির সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে (Petroleum Supplier)।

    আফ্রিকায় ভারতীয় জ্বালানির বড় বাজার

    কেনিয়ার বাজারে ভারতের উত্থান আফ্রিকায় ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। আনাস আলহাজ্জির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আফ্রিকায় ভারতের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক বছরের এই একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

    ইউরোপের জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে তৃতীয় কোনও দেশে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধের ফলে ভারতীয় জ্বালানির কিছু চালান ইউরোপের পরিবর্তে আফ্রিকা-সহ অন্য বাজারের দিকে যাচ্ছে (Kenya)। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রফতানিকারী দেশ রাশিয়াও নিজেদের পরিশোধন ক্ষমতায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর ভারত থেকে কিছু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি শুরু করেছে। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগারগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

    কেনিয়ায় ভারতের রফতানি বাড়ল ১৫১ শতাংশ

    কেনিয়ার সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্যও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কেনিয়ায় ভারতের পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই হিসাব শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নয়, সব ধরনের পণ্য রফতানিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

    তবে সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধিতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জুলাই মাসে ভারতের বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের ৪১৩ কোটি ডলারের রফতানি বেড়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে হয়েছে ৬৯২ কোটি ডলার।

    নাইরোবিতে ভারতের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩১ কোটি ডলার। এর মধ্যে কেনিয়ায় ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০১ কোটি ডলার এবং কেনিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ২৯ কোটি ডলার (Petroleum Supplier)। কেনিয়ায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অন্যতম।

    বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে

    কেনিয়ার শীর্ষ পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের উঠে আসা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের তেল পরিশোধন শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারত এখনও ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের বিশাল পরিশোধন ক্ষমতার কারণে সেই অপরিশোধিত তেলকে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে বিদেশের বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

    কেনিয়ার পরিস্থিতি আরও দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে খুব দ্রুত দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহের পথ বদলে দিতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহের ভূমিকা এতদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সেই ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি করেছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি।

    এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

    আফ্রিকার দিকে ভারতীয় জ্বালানি রফতানির এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের নতুন বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রচলিত রফতানি বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ায় আফ্রিকার বাড়তে থাকা চাহিদা ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার তৈরি করছে। এর ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিকারী হিসেবে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kenya)।

    অন্যদিকে, কেনিয়ার জন্য ভারত থেকে বেশি জ্বালানি আমদানি করার অর্থ হল সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার সময়ে এটি দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহণ খরচ, অপরিশোধিত তেলের দাম, তেল শোধনাগারের অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহ আগের মাত্রায় ফিরে আসে কি না, তার ওপর (Petroleum Supplier)।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে বোমা তৈরির তথ্য-সম্বলিত হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধারের ঘটনায় আরও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিসর (Jai Shri Ram Kurta)। তদন্তের সূত্র এবার পৌঁছেছে বলরামপুরে। অযোধ্যা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। ঘটনার পর প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে নাইট শিফট শেষ হওয়ার পর হাতে লেখা ওই নোটটি পাওয়া যায়। কর্মীরা নোটটি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    বলরামপুরে সরফরাজের বাড়িতে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশের একটি দল বলরামপুরের সিটি কোতয়ালি এলাকার পুরাইনিয়া তালাবে সরফরাজের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও সরফরাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সরফরাজ মিশুকে স্বভাবের ছিল। এলাকায় কোনও বিবাদ বা ঝামেলায় তাঁকে কখনও জড়াতে দেখা যায়নি।

    বাড়িওয়ালার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    তদন্তের সময় সরফরাজ গত ছ’মাস ধরে যে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল, সেখানেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যান। ঘর থেকে গেরুয়া রঙের একটি কুর্তা উদ্ধার হয়েছে, যাতে “জয় শ্রী রাম” লেখা ছিল। হলুদ রংয়ের একটি ধুতিও পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালার দাবি, সরফরাজ ওই গেরুয়া কুর্তা ও হলুদ ধুতি পরে একাধিকবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কয়েকজনের সঙ্গে সরফরাজ সরযূ নদীতে স্নানও করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা বা কোথা থেকে এসেছিলেন, তা জানেন না বলে জানান বাড়িওয়ালা। এরপরেই তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—সরফরাজ কেন হিন্দু ধর্মীয় পোশাক পরে অযোধ্যায় যাতায়াত করতেন? তাঁর ওই সফরের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, নাকি সেগুলি ছিল নিছকই ব্যক্তিগত সফর—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হলুদ ধুতিটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘর থেকে হাতে লেখা একটি কবিতাও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Jai Shri Ram Kurta)।

    কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

    ১ অগাস্ট সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মর্নিং শিফটে কর্মরত পড়ুয়ারা রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমের ভেতরে হাতে লেখা একটি কাগজ দেখতে পান। ওই কাগজে বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল বলে খবর। পড়ুয়ারা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন।অনলাইনে প্রকাশিত নোটটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কাগজে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, সালফার, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং কার্বলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক রাসায়নিকের উল্লেখ রয়েছে। আগুন ধরানো, তাপ ও বিস্ফোরণের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করা হাতে আঁকা কিছু চিত্রও রয়েছে, যেগুলি বিস্ফোরক যন্ত্রের নকশার মতো দেখতে।নথিতে ব্যাখ্যামূলক টীকা এবং একটি মোটামুটি আঁকা রেখাচিত্রও রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর উদ্দেশ্যেই নোটটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নোটটি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

    সরফরাজের দাবি

    দর্শন নগর থানার পুলিশ সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাঁর সঙ্গে নাইট শিফটে কাজ করছিলেন অভিষেক। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুলতানপুরের বাসিন্দা আর এক সহকর্মী সুভাষ অবশ্য ওই দিন সকালেই নিজের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সরফরাজ দাবি করেন, নাইট শিফটে তাঁর ঘুম আসছিল না। সেই সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপে ভগত সিংকে নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, সেই সিনেমায় বোমা তৈরির কিছু পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল। তিনি সেগুলি একটি কাগজে লিখে রেখেছিলেন, এবং পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, পরে সাফাইকর্মী ও সকালের শিফটে কর্মরত কর্মীদের হাতে কাগজটি আসে (Jai Shri Ram Kurta)। সরফরাজের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারনেট অনুসন্ধানের তথ্য পান। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত একাধিক ছোট ভিডিওর সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এসব অনুসন্ধান নিছকই কৌতূহলবশে করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    সরফরাজের বন্ধুদেরও খোঁজ

    সরফরাজের রুমমেটের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বস্তিতে নিজের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সরফরাজ যখন অযোধ্যায় যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যে বন্ধুরা থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সরফরাজ সবার ছোট। তাঁর দাদা বলরামপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর এক ভাই শ্রাবস্তীতে একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র চালান। অন্য এক ভাই সৌদি আরবে কাজ করেন, এবং পরিবারে আর্থিক সাহায্য করেন। প্রায় দেড় বছর আগে সরফরাজের বাবা মারা যান। তাঁর মা ও অবিবাহিত বোন বলরামপুরে থাকেন। বিবাহিত এক বোন মুম্বইয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সরফরাজ প্রায় প্রতি শনিবার বাড়িতে ফিরতেন, সোমবার ফিরতেন অযোধ্যায়।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও করছেন তদন্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)।

     

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেশ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ (Abraham Accords) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার এই আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প একে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, জানিয়ে দেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হতে পারে। তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডন এবং বাহরিন-সহ বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে ওই অ্যাকর্ডসে সই করার আহ্বান জানান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (Donald Trump)

    দীর্ঘ ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা সুন্দরভাবে এগোচ্ছে! এটি সবার জন্যই একটি দারুণ চুক্তি হবে, না হলে কোনও চুক্তিই হবে না।” সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনও সমঝোতায় পৌঁছনো না যায়, তাহলে আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে এবং গোলাগুলি আগের চেয়ে আরও বড় ও মারাত্মক হবে।” ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সৌদি আরব এবং কাতারের অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া উচিত। পরে অন্যান্য দেশগুলোরও একে অনুসরণ করা উচিত। তাঁর ইঙ্গিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফলভাবে চুক্তি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ইরানও এই কাঠামোর অংশ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বর্তমান সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ‘বিস্ফোরণ’ নিয়ে এসেছে। তিনি সদস্য দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, মরক্কো, সুদান এবং কাজাখাস্তানের নাম করেন (Abraham Accords)।

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্প বলেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস তাদের পক্ষে খুবই উপকারী হয়েছে। সবার জন্যই আরও ভালো হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত শক্তি, ক্ষমতা ও শান্তি নিয়ে আসবে।” তিনি জানান, ওই দেশগুলির অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তারা ইরানকেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হিসেবে দেখতে সম্মানিত বোধ করবেন। ট্রাম্প একে এই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলির একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের আরও দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে ইজরায়েল এবং একাধিক আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। জানা গিয়েছে, শনিবার ট্রাম্প (Donald Trump) কয়েকটি আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি আরও বিভিন্ন দেশকে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়াতে চান। ট্রাম্পের এহেন প্রস্তাবের পর ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে কিছু সময়ের জন্য নীরবতা নেমে আসে, চুপ করে (Abraham Accords) যান সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের প্রধানরা। কারণ এই দেশগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই (Donald Trump)।

     

  • UAE: ওপেক গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এল আরব আমিরশাহি, পোয়া বারো ভারতের, কীভাবে জানেন?

    UAE: ওপেক গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এল আরব আমিরশাহি, পোয়া বারো ভারতের, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বদলে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি। শুধু তাই নয়, এটি (Strait of Hormuz) জন্ম দিয়েছে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যেও নয়া সম্ভাবনার। ১ মে থেকে আবুধাবি আর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল কার্টেলের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার অধীনে থাকবে না। নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করতে পারবে।

    ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন (UAE)

    এর ফলে কৌশলগত ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন ব্যবহার করে ভারতের কাছে তেল রফতানি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে। এভাবে তেল এলে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে হরমুজ প্রণালী। যেহেতু ইউএই অবিলম্বে দৈনিক ১০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাই ভারতের জন্য এটি একটি ইতিবাচক খবর। ভারত এবং ইউএইর মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ভিত্তিক গভীর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ইউএই ইতিমধ্যেই ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশের জায়গা নিয়ে নিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে অশান্তির সময় ভারত ফুজাইরাহ পথ ব্যবহার করে তেল আমদানি বাড়িয়েছে। এখন ওপেকের কোটা না থাকায় ইউএই ভারতের কাছে আরও বেশি তেল, এমনকি তুলনামূলকভাবে সস্তা দরে তেলও পাঠাতে পারবে। ভারত তার পেট্রোল, ডিজেল ও পেট্রোকেমিক্যাল চাহিদার জন্য এই সব আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল (UAE)।

    ওপেকের সদস্যপদে ইতি

    মঙ্গলবার ঘোষিত আবুধাবির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছরের ওপেক সদস্যপদে ইতি ঘটল। ইউএইর রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ডাব্লুএএম (WAM) জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও জাতীয় স্বার্থের গভীর পর্যালোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল মাজরুইয়ের মতে, “এটি দীর্ঘমেয়াদি বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিনির্ভর একটি পরিবর্তন (Strait of Hormuz)।” এডিএনওসি (ADNOC) প্রধান সুলতান আল জাবের একে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন, যা দেশের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বহু বছর ধরে ওপেক ইউএইর উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে সীমাবদ্ধ রেখেছিল, যদিও দেশটির তেলক্ষেত্র ও পরিকাঠামো তার চেয়ে অনেক বেশি সামলাতে সক্ষম। ইউএই মনে করেছিল, এই কোটা তাদের বাড়তে থাকা ক্ষমতার তুলনায় খুবই কম। কারণ বর্তমানে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৪.৮–৫ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি (UAE)।

    ভারতের জন্য নিরাপদ রফতানি পথ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন ভারতের জন্য একটি নিরাপদ রফতানি পথ। এই নয়া সুযোগের মূল আকর্ষণ হল হাবশান-ফুজাইরাহ্ তেল পাইপলাইন, যা আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (ADCOP) নামেও পরিচিত। এটি আবুধাবির হাবশান তেলক্ষেত্র থেকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ্ বন্দরের ৩৮০–৪০৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পাইপলাইনটি ২০১২ সালে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এড়ানো। ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইনের ক্ষমতা দৈনিক ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল, যা ১.৮ মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে (UAE)। ফুজাইরাহ্ থেকে ট্যাঙ্কারগুলি মুরবান ক্রুড নিয়ে সরাসরি আরব সাগরে চলে যায়, ফলে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হয় না। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২০ শতাংশই চলাচল করে এই প্রণালী দিয়ে (Strait of Hormuz)।

    বাড়ানো হল ফুজাইরাহ্ দিয়ে আমদানি

    ভারতের জন্য এই পথ ইতিমধ্যেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। হরমুজে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফুজাইরাহ্ দিয়ে আমদানি বাড়িয়েছে। এখন ইউএই ওপেক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ায় এই পথে আরও বেশি তেল পাঠানো সম্ভব হবে।ফুজাইরাহ্ বর্তমানে বড় তেল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, বাঙ্কারিং সুবিধা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর রয়েছে। উপসাগরের বাইরে এর অবস্থান হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনায়ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত ও ইউএইর মধ্যে একটি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রয়েছে, যা শুধু তেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি।

    অপরিশোধিত তেল আমদানি

    ইউএই ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯–১০ শতাংশ সরবরাহ করে এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সাম্প্রতিক চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলএনজি চুক্তি, এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলির ইউএইর তেলক্ষেত্রে অংশীদারিত্বও রয়েছে। ইউএইর ওপেক ত্যাগ এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলি, যারা ইতিমধ্যেই মার্বান (Murban) গ্রেডের সঙ্গে পরিচিত, তারা আরও স্থিতিশীল সরবরাহ ও সম্ভবত ভালো মূল্য পেতে পারে (UAE)। আজকের যুদ্ধ ও অস্থিরতার যুগে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ইউএইর মতো নির্ভরযোগ্য অংশীদার ভারতের জন্য বিশেষ মূল্যবান। ফুজাইরাহ্ পথ ভারতের হরমুজ প্রণালী নির্ভরতার ঝুঁকি কমায় এবং বহুমুখী আমদানির সরকারি নীতি সমর্থন করে।

    ওপেকের পক্ষে বড় ধাক্কা

    আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত বহুদিনের অসন্তোষের ফল। আবুধাবি এডিএনওসির মাধ্যমে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ওপেক নিয়মের কারণে তাদের অনেক সময় ক্ষমতার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম উৎপাদন করতে হয়েছে। এটি ওপেকের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা তাদের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদককে হারাল। এখন ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১১-য়। স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক সরবরাহে তাদের প্রভাব কিছুটা কমবে। যদিও ইউএই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে তারা ধীরে ধীরে ও দায়িত্বশীলভাবে উৎপাদন বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এই নীতিগত পরিবর্তন ইউএইকে ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির চাহিদার একটি দেশের জন্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সাহায্য করবে (UAE)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আবুধাবি সম্ভবত তাদের অবশিষ্ট তেল মজুত দ্রুত নগদীকরণ করতে চায়, যতদিন (Strait of Hormuz) ভারত-সহ এশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

     

  • Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘পবিত্র জেহাদ যুদ্ধে’র (Holy Jihad Battle) অংশ হিসেবে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান চালাল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই হুথিরাই (Yemens Houthis) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে এখনও অবধি সর্বশেষ অংশগ্রহণকারী।

    হুথির বিবৃতি জারি (Holy Jihad Battle)

    এক বিবৃতিতে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “আমাদের বাহিনী পবিত্র জেহাদ যুদ্ধের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে দক্ষিণের দখল করা প্যালেস্তাইনে জায়োনিস্ট শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই অভিযান ইরানে আমাদের মুজাহিদিন ভাইদের এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আল্লাহর রহমতে এটি সফলভাবে তার লক্ষ্য পূরণ করেছে।” প্রসঙ্গত, এই বিবৃতিটি জারি করা হয় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেওয়ার মাত্র একদিন পর। ওই বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা প্রথম সামরিক হামলায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইজরায়েলের সামরিক টার্গেটে আঘাত হেনেছে। এই আক্রমণ ইরান ও লেবাননের মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    আরও ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

    হুথিদের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জেরে আরও প্রসারিত হল ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরিধি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। হুথিরা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের ভাষায় “আগ্রাসন” বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। এ থেকে স্পষ্ট, এটি এককালীন কোনও পদক্ষেপ নয়, বরং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা বাড়তে পারে (Holy Jihad Battle)। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। হাজার হাজার মেরিন ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছে এবং আরও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করতে চায় এবং স্থলযুদ্ধ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে, তবুও এই সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ কৌশলগত নমনীয়তা নিশ্চিত করতে করা হয়েছে।” বস্তুত, এই ঘটনাটি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে (Yemens Houthis)।

    যুদ্ধের ক্ষত

    একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সামরিক ঘটনার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যার মধ্যে (Holy Jihad Battle) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাও রয়েছে। ইসলামাবাদ তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো। তবে দ্রুত কোনও সমাধানের লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল (Yemens Houthis) সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা (Holy Jihad Battle)।

     

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

LinkedIn
Share